জীবনের বাঁকে বাঁকে

কাছে আসার সাহসী গল্প

ছেলেটির নাম তমাল। পড়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে। খুব শান্ত-শিষ্ট। নিয়মিত ক্লোজ-আপ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজে। এভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।

সেদিন ছিল ভার্সিটির ফার্স্ট-ইয়ার রিসেপশন প্রোগ্রাম। একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে সে আর অন্য কিছু ভাবতে পারল না। একদিন করিডোরে সাহস করে বলেই ফেলল- “আমি তোমায় ভাল…।” কিন্তু নাহ। যাকে এতবেশি ভাল লাগল তার কাছেই এত্তবড় অপমান? মুখের উপর না?

অন্যদিকে নিশিতার (মেয়েটির নাম) অনুশোচনা হতে লাগল। ভাবতে গিয়ে বালিশ ভিজে গেল। এ আমি কী করলাম? একবারও ভাবতে গেলাম না তমাল ভাইয়া ক্লোজ-আপ দিয়ে দাঁত মাজে কিনা? ছিঃ নিজের ওপর গেন্না আসছে। এক বান্ধবী মারফত জানতে পারা গেল আসল ব্যাপার। ক্লোজ-আপ টুথপেস্টের গন্ধে তারা একে অন্যের কাছে চলে আসল। কিন্তু এরপর…

[এখানেই থেমে গেলে মুভি বা ছোটগল্প হয়। কিন্তু জীবনটা সিনেমা বা নাটকের গল্প মনে করার পর কী হয়? জীবন আরেকটু বড়। এখানে “শেষ হয়েও হইল না শেষ” বলে হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ নিতান্তই কম। চলুন আমরা গল্পের বাকী অংশটুকুও পড়ে নিই…]

… একদিন.. নিশিতার ফোন ধরছে না তমাল। আগেই সন্দেহ ছিল সে নিশ্চয়ই নতুন কারো পাল্লায় পড়েছে। এরকম তো সে ছিল না! নিজেই তো নিশিতাকে প্রোপোস করেছে। গত বসন্তেও লাল-গোলাপটা হাতে দিয়ে বলেছিল- পৃথিবীর সব একদিকে আর একদিকে তুমি। কিন্তু?

নাহ! ম্যাসেজের রিপ্লাইও দিচ্ছে না তমাল। কাকে কী দিয়ে নিশিতা বোঝাতে যাবে তার পেটের বাচ্চাটা তমালের!

অবশেষে তমালের ফোন। নাহ! এতক্ষণ ভুল বুঝেছে নিশিতা। যে প্রেম স্বর্গ থেকে আসে সে প্রেম তো অমর। ফোনটা রিসিভ করতেই কর্কশ কন্ঠে একটা ধমক শোনা গেল।

– এত ফোন করছ কেন? হয়েছেটা কী?

– একটু কথা ছিল।

– বল।

– চল না বিয়ে করে ফেলি।

আরও দেখুন:  দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন, আল্লাহ সবকিছু সহজ করে দেবেন

– আমার পক্ষে এখন সম্ভব না।

– কিন্তু আমার গর্ভে যে তোমার সন্তান!

– বললাম তো আমার পক্ষে সম্ভব না।

– এ কি বলছ? আমি এখন মুখ দেখাবো কী করে?

– ধূর…

ফোনটা কেটে গেল। আকাশ ভেঙ্গে পড়ল মাথায়। এরপর আর ফোন ধরল না তমাল। তমালের বাসার লিটন ভাইয়াকে ফোন দিয়ে ব্যাপারটা ক্লিয়ার হওয়া দরকার। লিটনের ফোনে ফোন দিল নিশিতা।

– কে?

– ভাইয়া, আমায় চিনতে পারছেন না? আমি নিশি।

– ও! বল, কী বলবে।

– তমাল কোথায়?

– তমাল? তমাল তো গতকালই বাসা ছেড়ে দিয়েছে।

– কোথায় গেছে বলতে পারেন?

– নাহ! ওকে তো ফোনেও পাচ্ছি না।

তমাল পাশেই ছিল। লিটনকে অনেক রিকুয়েস্ট করে মিথ্যে কথা বলিয়েছে এতক্ষণ।

নিশিতা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। এই ক্যালেংকারির কথা কেউ জানলে মুখ দেখাবে কী করে নিশি? বাবা-মায়ের কাছে মুখ দেখানোর পথ বন্ধ হয়ে গেল। মাথার ওপরেই ফ্যানটা ঝুলছিল। ঝুলতে দেরি হল না নিশির। পৃথিবী তার মতই চলছে। নিশি নিথর!!

 

[অনেক “কাছে আসার সাহসী গল্পের” পরিণতি এর চেয়েও ভয়াবহ। এরকম অনেক নিশি আর তমাল তাদের দুনিয়া আর আখিরাত দুটোই প্রেম নামক ঝালমুড়ির লোভে হারিয়ে ফেলে। মিডিয়া এন্ডিং নিয়ে কোন কথা বলবে না। খায়েশের পুজকরা দশ তলা থেকে লাফ দিলেও এরা তালিয়া বাজিয়ে বলবে- “তোমাকে ভালবাসি। সুতরাং লাফ দাও”। লাফ দেওয়ার পরেই বোঝা যাবে এই ভালবাসার মানে কী।]

 

#HujurHoye

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button