জীবনের বাঁকে বাঁকে

জাস্ট ফ্রেন্ড, প্রেম, অতঃপর…

আমার এক বান্ধবী ছিল, ছোটোবেলায় হঠাৎ করেই একটা ছেলের সাথে ফোনে কথা বলা শুরু করল। তখন ছিল টিএনটির যুগ। ও বলতো, ছেলেটা ওর ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’।

সে সময় আমিও কিন্তু ইসলামিক জীবনের কিছুই জানতাম না। কিন্তু একটা ব্যাপার মনে হতো, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে কখনও জাস্ট ফ্রেন্ড হতে পারে না। ফাজলামো করে বলতাম, “ও যদি তোর জাস্ট ফ্রেন্ড-ই হয়, তো তোরা তুই করে বলিস না কেন?”

ওদের তুমি-তুমির সেই সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়াতে একটুও সময় লাগল না। কিন্তু ব্যাপারটা কত গভীরে গিয়েছিল, এটা আমার বোকা বান্ধবীটা কাউকে বুঝতে দেয় নি। যেদিন লন্ডন চলে আসবো, সে রাতে সারারাত ও আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করলো। আমি ওকে গালি দিব, না সান্ত্ববা দিব বুঝতে পারছিলাম না।

আমার বান্ধবীটা প্রেগনেন্ট হয়ে গিয়েছিল।

প্রেমের ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। আপনি কখনও ধারণাই করেন নি, একটা প্রায় অচেনা, অপরিচিত মানুষের সাথে আপনার এত গভীর সম্পর্ক হতে পারে! একসাথে বিছানায় যাওয়ার কথা তো কল্পনাতেও মাথায় আসে নি কখনও! কিন্তু এটাই প্রেমের সূত্র। একবার প্রেমে পড়ার পর, বেশিদিন এর রশি টেনে রাখা যায় না। রেখা টেনে টেনে চলা যায় না। হঠাৎ করেই সম্পর্কটা নতুন দিকে মোড় নেয়। নিজের গণ্ডি আর সীমানাগুলোকে নিজের হাতেই প্রতিদিন নতুন করে ভাঙতে আর গড়তে হয়।

আমি কে? আমি কী চাই? এ প্রশ্নগুলো তখন খুবই ধোঁয়াশা লাগে।

এমন অনেক মেয়ের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছি যারা বিয়ের আগে দৈহিক সম্পর্ক করেছে। মজার ব্যাপার হলো, এরা কেউই দৈহিক সম্পর্কের নিয়তে প্রেম করা শুরু করে নি। ভালোবাসার সম্পর্কে এমন একটা অধ্যায় আসে, যখন অন্যপক্ষের ইচ্ছাপূরণ করাটাও জরুরি হয়ে যায়। আবার অনেক সময়, সেই অধ্যায়ে নিজেকে বেঁধে রাখাও কঠিন। মানুষ তখন নিজ হাতেই নিজের পুরোনো আদর্শটা মুছে ফেলে উন্মত্ততায় মেতে ওঠে। কারণ সেই মুহূর্তের জন্য ব্যাপারটা বেশ উপভোগ্য।

আরও দেখুন:  বৈজ্ঞানিক ভাবে মানুষের আত্মা বা রূহের ব্যাখ্যা যেভাবে দেওয়া যায়

এই মেয়েগুলো গর্ভধারণ না করার সবরকম ব্যবস্থাই নেয়। এরপরেও কিন্তু অনেককিছুই জাস্ট “হয়ে যায়”। না, না, ইচ্ছা করে না! তবু হয়। কারণ জীবনের সবকিছু আমাদের হাতে নেই, আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।

আরেকটা ব্যাপার, এই অবৈধ প্রেমের সম্পর্কগুলোতে কেউ তার ভালোবাসার মানুষটাকে ঠিক যতটা চায়, এই প্রেমের ফলস্বরূপ যে সন্তানগুলো পেটে আসে, সে বাচ্চাগুলোকে ঠিক ততোটাই জীবন থেকে সরাতে চায়।

মর্নিং আফটার পিল, অ্যাবরশন, আর নতুবা ডাস্টবিন হয় এদের পরিণতি।

আমার দেখা কাপলগুলোর বেশিরভাগই টেকে নি। বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে খুব হাতেগোণা কয়েকজন। সেটাও তাদের প্রথম প্রেম ছিল না।
আর যাদেরটা বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাদের অনেকের সংসার শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেছে।

তবু মানুষের মনে কিছু কিছু স্মৃতি রয়ে যায়। গর্ভপাত করা বাচ্চাটাকে কোনো কোনো মা সারাজীবনেও ভুলতে পারে না। দুঃস্বপ্নে তারা ‘মা, মা’ ডাক শোনে।

কোনো কোনো মেয়ে এখনও মেনে নিতে পারে না, যে তারা বিয়ের আগেই একটা ছেলের সাথে শুয়েছিল, যদিওবা নিজের ইচ্ছাতেই, কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে আচরণটা মেলাতে পারে না। আজীবন তারা একটা বোঝা বয়ে নিয়ে বেড়ায়।

প্রিয় মানুষের সাথে বিচ্ছেদ বা ধোঁকা কাউকে কাউকে মানসিকভাবে মেরে ফেলে। তারা হয়তো হাসিখুশি চলছে, কিন্তু হৃদয়ে গভীর ক্ষতটা এখনও রয়ে গেছে।

প্রেমের শাস্তি যতসম্ভব এই দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ মানসিক শাস্তি।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের জীবনটা সহজ করতে চেয়েছিলেন। অবৈধ প্রেমের বদলে হালাল বিয়ের সুযোগটা সবসময় ছিল, আছে, থাকবে। আল্লাহ তো মানুষের জন্য জোড়া তৈরি করেই রেখেছেন! সময় হলেই ভাগ্যে থাকা মানুষটা এসে আপনাকে ধরা দেবে। তবু যে কেন মানুষ খালি খালিই নিজের উপর কষ্ট টেনে আনে জানিনা..।

– Anika Tuba

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button