জীবনের বাঁকে বাঁকে

খেলাপ্রিয় তৌহিদি জনতা

দৃশ্য-১.

তখন আমি গ্রামের মাদরাসায় হিফজ পড়ি। অনাবাসিক ছিলাম। বাবা বা ভাইয়ারা কেউ রাতে গিয়ে নিয়ে আসতেন আবার ভোররাতে দিয়ে আসতেন। একদিন ভোররাতে মাদরাসায় যাওয়ার সময় আমি লক্ষ করলাম, আমার ভাইয়ার বয়েসি কয়েকজন যুবক বেশ উৎফুল্ল অবস্থায় রাস্তায় হাঁটছেন, কীসব বিদেশি শব্দ বলে বলে আনন্দ প্রকাশ করছেন। সম্ভবত খেলোয়াড়দের নাম ওগুলো। তাদের দুজনের বাড়ি মাদরাসার পাশেই। আমি ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে তাদের কাউকে না দেখে কিছুটা বিস্মিত হলাম।

কয়েকদিন পর তাদের একজনকে মাদরাসার এক উস্তাদ ফজরের সালাত আদায়ের জন্য তাবলিগ করলেন, ভদ্রলোক কাঁচুমাচু ভঙ্গি করে বলল, ‘হুযুর, কী করব, উঠতে পারি না একদিনও। এলার্ম দিই, তাও পারি না।’

হুযুর চুপ হয়ে গেলেন। একটু পর মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন, ‘দুনিয়ায় রাতজেগে ফুটবলে যে লাথি দেখতে আমাদের ভালো লাগে, পরকালে যেন ফজর না পড়ার শাস্তিস্বরূপ কেউ আমাদের এই রকম লাথি খেতে দেখে আনন্দ না পায়।’

এটা বলে হুযুর মাথা নিচু করে চলে এলেন মাদরাসায়।

দৃশ্য-২.

২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপ হয়েছিল আমাদের রমযান মাসে। আমি যে মসজিদে তারাবি পড়িয়েছিলাম সেবার, দুটি জামাত হতো সেখানে। মসজিদের নিচ তলায় নিয়মতান্ত্রিক মাসব্যাপী জামাত, দোতালায় ১০ দিনে খতম। আমরা তিনজন হাফিজ ১০ দিনের খতম আঞ্জাম দিতাম।

প্রায়দিন দেখা যেত, মসজিদভরা মুসল্লি; তাকবির বলে সালাত শুরু হবার পর কখনো সিজদায় কখনো দ্বিতীয় রাকাতে আচমকা ‘গো-ল’ অথবা অন্য কোনো শব্দে শোর উঠত, অমনি হুড়মুড় করে মসজিদ খালি হয়ে যেত। সালাম ফিরিয়ে দেখতাম মাত্র এক অথবা দেড় কাতার মুসল্লি আছেন। এদেরও কেউ কেউ সালাম ফেরানো মাত্র ভোঁ-দৌড়।

একজনকে কথায় কথায় বললাম, ‘খেলা দেখার জন্য তো নামাযের মধ্যখান থেকে দৌড় দেওয়া ঠিক না!’

তিনি বললেন, “কী করব ‘হাফেস সাব’, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না।”

আরও দেখুন:  খলীফা ওমর (রাঃ)-এর অনুশোচনা

আমি বললাম, ‘দেখছেন, আপনি আল্লাহর সামনে আছেন; কিন্তু আপনার রিমোট হাফপ্যান্ট পরে মাঠে দৌড়তে থাকা লোকদের কাছে। তারা রিমোটের বোতাম চাপলেই আপনি অনায়াসে নামায ছেড়ে দেন! আল্লাহকে সিজদা দেওয়ার চাইতে আল্লাহর নাফরমানি করা লোকগুলোর একটা বলের পেছনে দৌড়ানো আপনার কাছে বেশি প্রিয়!’

দৃশ্য-৩.

একবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কাকে যেন হারিয়ে মহা উল্লাসে ফেটে পড়ল। ফেসবুকে আমি তখন নতুন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সেঞ্চুরি করে কিংবা ভালো খেলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠে সিজদা দিয়েছেন। আমি ফেসবুকে ঢুকে জানতে পারলাম ব্যাপারটা। পুরো ফেবুপাড়ায় রিয়াদের সিজদা আর মুসলমানিত্বের প্রশংসা চলছে।

এই রকম একজন—আমার পূর্ব পরিচিত ব্যক্তিকে ইনবক্সে জিগ্যেস করলাম, ‘গতকাল পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েছেন?’

তিনি বললেন, ‘না, ভাই। কেন?’

বললাম, ‘না এমনিই! রিয়াদ ভালো খেলে একটা সিজদা দেওয়ায় তার ইসলাম প্রিয়তা নিয়ে আপনি যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, ভাবলাম আপনার সঙ্গে নামায-রোযা নিয়ে কিছু আলাপসালাপ করব; কিন্তু এখন দেখছি সে সুযোগ আপনি রাখেননি!’

ম্যোরাল: দৃশ্যগুলো বারবার ঘুরে ফিরে আসে, যেমন আসে দুনিয়াজুড়ে মুসলিম নিধন এবং নির্যাতনের দৃশ্য।

সিয়ান

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

  1. আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন আপনি
    আমি একটি ইসলামী অ্যাপস তৈরি করেছি আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রমোট করতে চাই প্রয়োজনে আমি আপনাকে পেমেন্ট করবো অ্যাপস নাম Allor poth.com
    https://play.google.com/store/apps/details?id=com.allorpoth.com.myapplication

মন্তব্য করুন

Back to top button