জীবনের বাঁকে বাঁকে

সাবেক ক্রিকেটার সাঈদ আনোয়ারের হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য

আজ হোস্টেলের বাইরে সবুজ খোলা চত্বরে মাগরিবের ছালাত আদায় করতে গেলাম। ছালাত পর বরাবরের মত তাবলীগ জামাআতের একজন ঘোষক বয়ানে অংশগ্রহনের দাওয়াত দিলেন। সুন্নাত পড়ে উঠতে গিয়েও বসে গেলাম। কারণ বক্তার ইখলাছপূর্ণ বাচনভঙ্গি। একটু পরই বুঝতে পারলাম ইনি বিখ্যাত সাবেক পাকিস্তানী ক্রিকেটার সাঈদ আনোয়ার। প্রায় আধা ঘন্টা বক্তব্য রাখলেন। এত আবেগময়, হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য অনেকদিন শুনিনি। সবগুলো কথা অন্তর ছূঁয়ে গেল। ইসলামকে যারা নতুন ভাবে চিনেছেন, তারা যে ইসলামের সৌন্দর্য অনেক গভীরভাবে অনুভব করেন, সেটাই প্রকাশ পেল বার বার।

প্রথমেই বললেন, “আমার বক্তব্য রেকর্ড করার কোন প্রয়োজন নেই। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অফিসের বস যখন কোন কাজের নির্দেশ দেন, তখন কি কেউ তা রেকর্ড করেন? তারপরও সেটা মনে থাকে কেন? কারণ আপনি প্রকৃত হক্ব আদায় করে শোনেন। আমি আপনাদের কাছে সেটাই কামনা করছি”। তারপর একজন মুসলমানের দ্বীনের প্রভাব কেমন থাকা উচিৎ, মসজিদের সাথে আমাদের কেমন সম্পর্ক থাকা উচিৎ সে বিষয়ে অসাধারণ কিছু উদাহরণ পেশ করলেন। একপর্যায়ে আরবদের প্রশংসা করে বললেন, “আরব ভাইদের মত ছালাতের প্রকৃত হক্ব আদায় করা, খুশু-খুযু রক্ষা করে ছালাত আদায় করা আমি আর কোথাও দেখি না। চার ইমামের তিন ইমামই বলেছেন তা’দীলে আরকান তথা ধীরে সুস্থে ছালাত আদায় না করলে ছালাত আদায় হবে না। কেবল ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, আদায় হবে, তবে মাকরূহ হবে। অথচ মানুষ আজ ইমাম আবু হানিফার এই কথা ধরে নিয়ে ঢপাঢপ ছালাত আদায় করে। আমি বলি, যে ছালাত মাকরূহ হয় সে ছালাত কি আসলে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়? সেটা কি আসলে কবুলযোগ্য ছালাত? তাহলে কেন আমরা এভাবে পড়ি? রুকু ও সিজদার মধ্যবর্তী দোআ, দুই সিজদার মধ্যবর্তী দোআ- এসব তো আমরা ভুলেই গেছি”।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, “একজন ছাত্রের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বিষয় হল অকারণ রাত জাগা। এশার পরবর্তী সময়টা যারা অকারণে জেগে থাকে আর দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকে তার মধ্যে দুনিয়া-আখেরাতের কোন কল্যাণ নেই, তার কাজে বরকত হয় না”। বরকতের একটা মজার উদাহরণ দিলেন যে, কুকুর একসাথে অনেক বাচ্চা দেয়, কিন্তু তারপরও এদের বংশবৃদ্ধি সেই মাত্রায় হয় না। কারণ তারা সারা রাত জেগে থাকে আর দিনে ঘুমায়। ফলে তাদের মধ্যে বরকত নেই। আর ছাগল সেই তুলনায় বাচ্চা দেয় কম, কিন্তু এদের উপর বরকত এত বেশী যে সারা দুনিয়ার প্রতিদিন লক্ষ-কোটি ছাগল জবাই হলেও ছাগলের পালের কোন কমতি দেখা যায় না। এটাই হল বরকত।

আরও দেখুন:  যে যেভাবে দিন কাটায়, তার শেষ মুহূর্তটাও তেমনই হওয়ার কথা...

পরিশেষে সম্মিলিত মুনাজাতের ধার না ধারলেন না। সালাম দিয়ে সোজা গাড়িতে উঠে চলে গেলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ে মানুষটার মধ্যে খুলুছিয়াতের যে চর্চা দেখতে পেলাম, তাতে মুগ্ধ হলাম। আমার মনে হল, গতানুগতিক তাবলীগ জামাতের মধ্যে বিশুদ্ধ আক্বীদা-আমল নিয়ে চরম গাফিলতি দেখা যায়, উনি তেমনটি নন। বক্তব্যের মধ্যে কয়েকবারই বিশুদ্ধ আমল এবং ইত্তিবায়ে রাসূলের (ছা.) কথা জোর দিয়ে বললেন। যাকে একসময় ক্রিকেটার হিসাবে দেখেছিলাম, তাঁকে আজ চোখের সামনে এত হৃদয়গ্রাহীভাবে দ্বীনের দাওয়াত দিতে দেখে মনটা অদ্ভূত ভাললাগায় ভরে গেল। আল্লাহ উনাকে সঠিক দ্বীনের উপর কবুল করুন…আমীন।

———–
– Ahmad Fisabeelillah

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

৫টি মন্তব্য

  1. কিছু মানুষ আছে যারা সবসময় সবকিছুর মধ্যে নেগেটিভ জিনিস খোঁজার চেষ্টা করে এবং এটা তাদের আনন্দ দেয়!!! এই সাইট আমি মাঝে মাঝে পড়ি। অনেক কিছুই শিখতে পারি এখান থেকে। আল্লাহ্‌ আপনাকে আরও ভালো ইসলাম বোঝার তৌফিক দিন, আমীন।

  2. হাস্যকর কথাবার্তা!!!

    # “আমার বক্তব্য রেকর্ড করার কোন প্রয়োজন নেই। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অফিসের বস যখন কোন কাজের নির্দেশ দেন, তখন কি কেউ তা রেকর্ড করেন? – উনি এখন নিজেকে ইসলামের বস ভাবতে শুরু করলেন তাহলে?

    # কুকুর আর ছাগলের সংখ্যা ভিত্তিক তত্ত্ব দিলেন তার যৌক্তিকতা কতটুকু? পৃথিবীতে কত কোটি মানুষ ছাগল লালন পালন করে আর কত কোটি মানুষ কুকুর লালন পালন করে তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না? ছাগল মানব সভ্যতার শুরু থেকেই গৃহ পালিত হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উনি এখন ছাগল কুকুরের সংখ্যা দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান এর বয়ান দেন!!

    i don’t understand why all those people are related with ‘tableeg-e-jamat’ all of them are such a blunt?

মন্তব্য করুন

Back to top button