মুক্তবাসিনী

বিষোপঢৌকন

7th Anniversary

হাদীসে ইরশাদ হয়েছে- আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

اِذَا خَطَبَ اِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِيْنَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوْهُ اَنْ لاَ تَفْعَلُوْهُ تَكُوْنَ فِتْنَةٌ عَرِيْضَةٌ فِى الاَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيْضٌ

‘তোমাদের নিকট কেউ বিয়ের পয়গাম দিলে তার দ্বীন ও চরিত্র যদি পছন্দনীয় হয়, তাহলে তার সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তা না করো, তাহলে জমিনে ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং দীর্ঘস্থায়ী ফাসাদের কারণে সমাজে অশান্তি দেখা দেবে।’ [তিরমিযী : ১০৮৪]

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يَا عَلِىُّ ثَلٰثٌ لاَ تُؤَخِّرْهَا اَلصَّلٰوةُ اِذَا اَتَتْ وَالْجَنَازَةُ اِذَا حَضَرَتْ وَالاَيْمُ اِذَا وُجِدَتْ لَهَا كُفُوٌ

(আমাকে উদ্দেশ্য করে) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হে আলী! তিনটি কাজে কখনও বিলম্ব করবে না। এক. সালাতের সময় হলে তা আদায় করা। দুই. লাশ উপস্থিত হলে জানাযার সালাত। তিন. উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী পেলে বিয়ে দেয়া। [তিরমিযী : ১/৪৩]

আল্লাহর এই বিধান সকলের জন্যই পালনীয় ও নিরাপদ। একজন পুরুষের জন্য যেমন নারীর প্রয়োজন, তেমনি একজন নারীর জন্যও একজন পুরুষ প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজন পূরণের জনই বিয়ে। অতএব, উপযুক্ত পাত্র কিংবা পাত্রী পাওয়া গেলে বিলম্ব না করে এই জরুরী চাহিদা পূরণ করা একটি নিরাপদ পন্থা। অবশ্য উপযুক্ততার ক্ষেত্রে দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তো উপযুক্ত পাত্র কিংবা পাত্রীর ব্যবস্থা হওয়ার পর বিয়েতে বিলম্ব করা উচিত নয়। এই বিধানে ব্যত্যয় ঘটলে জীবনে আসবে লাঞ্ছনা, ব্যর্থতা আর গ্লানি। শেষে চরম পরাজয়। এবারের ঘটনাটা এই বিধান লঙ্ঘনের পরিণতি ও পরিণাম সম্পর্কে। পড়ুন নিচের ঘটনাটি :

১৯৯৮ইং সালে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে প্রথম ঢাকায় আসা। মিরপুরের এক বিখ্যাত মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া। সে বছর নবীনদের মধ্যে ছিলেন আজকের ঘটনার নায়ক, মুখলিস ভাইও। আমি সিরাজগঞ্জের আর তিনি টাঙ্গাইলের। আমরা দুইজনেই নবীন। মুখলিস ভাই এক সময় সিরাজগঞ্জের এক মাদরাসায়ও লেখাপড়া করেছেন বেশ কিছুদিন। তাই আমার সঙ্গে বেশ সম্পর্ক হলো তার। দেখতে সুদর্শন, যাকে বলে হ্যান্ডসাম। মেধাও কম নয়। প্রথম থেকেই তা বোঝা গেল। ক্লাশে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা নিয়ে ব্যঘ্র-সিংহের যে লড়াই হয়, তাতে তিনি ছিলেন আমার নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশ্য আল্লাহর ফযলে আমিই আগে থেকেছি সব সময়। শোকর আল্লাহর! আমি অনুমতি নিয়েই তার জীবনের ঘটনাটি লিখছি। এবার আসল কথায় আসি।

আমরা প্রায় তিন বছর সহপাঠী ছিলাম। তিন বছর একসঙ্গে লেখাপড়া করার পর তিনি লালবাগের এক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। তখন থেকে বেশ কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ। এরপর লালবাগ থেকে চলে এলেন তেজগাঁওয়ে। ভর্তি হলেন নতুন এক প্রতিষ্ঠানে। এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। একটি অসুস্থতা বিরাট এক ঘটনার জন্ম দিল। তিনি কানের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অপারেশন করার পরামর্শ দিলেন। অপারেশনের জন্য ভর্তি হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।

সময়মতো অপারেশন করা হলো। যে ডাক্তার অপারেশন করলেন, তার বোন তখন নার্সিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। নাম সানজিদা। পিতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর। বিপুল বৈভব। উত্তরায় সাততলা বাড়ির মালিক। ব্যবসা-বাণিজ্য সুপ্রসারিত। পিতার এই অপরিমিত সম্পত্তিতে অংশীদার মাত্র সানজিদা আর তার একমাত্র ভাই।

সানজিদা মুখলিস ভাইয়ের প্রেমে পড়লেন। বড় অদ্ভুত কারণে! রোগীর দেহে ইনজেকশন পুশ করলে দেখা গেল মুহূর্তের মধ্যে দেহ থেকে রক্ত ইনজেকশনের সুঁইয়ের মধ্যে উঠে আসছে। ব্যস, সুঠাম ও সুদর্শন একটা মানুষের দেহের এমন অবাক ব্যাপার সানজিদার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। তিনি রোগীর প্রেমে পড়ে গেলেন! শুরু হলো লুকোচুরি খেলা। গোপনে রোগীর গতিবিধি খেয়াল রাখতেন তিনি, রোগী কী করে গভীরভাবে তা পর্যবেক্ষণ করতেন কেবলই  মনের টানে।

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে চলে এলেন মুখলিস ভাই। বিদায়ক্ষণে সানজিদা উপস্থিত ছিলেন না। হাসপাতালে এসে রোগীকে দেখতে না পেয়ে মনটা আকাশসম শূন্যতায় হাহাকার করে উঠল তার। এরপর কী করতে হবে নিমিষেই তা ঠিক করে ফেললেন তিনি। ক্লাস করছেন মুখলিস ভাই। অপ্রত্যাশিতভাবে দারোয়ান এসে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল, একজন মহিলা আপনাকে খুঁজছে।

সহপাঠী ও শিক্ষকের সামনে হকচকিয়ে গেলেন মুখলিস ভাই। ঢাকার তার কোনও আত্মীয়-স্বজন নেই। বাড়ি থেকেও কোনও মহিলা আসবে এমন সম্ভাবনা উত্তর আকাশে চাঁদ উদিত হওয়ার মতোই অসম্ভব ব্যাপার। তাই অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকালেন দারোয়ানের দিকে। কিন্তু দারোয়ান তাকে তাড়া দিয়ে বলল, মহিলাটি অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে!

শিক্ষক অনুমতি দিলেন। ধীরপায়ে অতিথির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন মুখলিস ভাই। গেটে এসে বড্ড অবাক হলেন তিনি। প্রাইভেট কার নিয়ে অপেক্ষা করছেন সানজিদা! কী জন্য এসেছেন তা ঠাওর করতে পারলেন না মুখলিস ভাই। ডাক্তার তো কখনও পাওনা ছাড়া রোগীর বাড়িতে আসে না! এ ধরনের কোনও হিসাব আছে কিনা সানজিদার সঙ্গে, তাও মনে মনে ভেবে নিলেন তিনি। কিন্তু এখানেও হিসাব মিলানো গেল না। অগত্যা আগন্তুকের মুখেই আগমনের হেতু জানার জন্য অপেক্ষা করতে হলো তাকে।

আগন্তুকের সম্বোধন আর ভাষার অভিমান দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মুখলিস ভাই। অভিভূত হবেন, না শিহরিত হবেন, না পায়ের তলা থেকে রাস্তার পিচগুলো সরে যাচ্ছে তা পরখ করবেন, এর কোনোটাই ঠাহর করতে পারলেন না। সানজিদার অভিমান মেশানো অভিযোগ, তাকে না বলে হাসপাতাল থেকে চলে আসা হলো কেন? এতে তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন! এরপর ভাইয়ের কাছ থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে অনেক কষ্টে এখানে আসতে হয়েছে! তার অভিমানের জবাবী ভাষা মুখে এল না তার। মনের অজান্তে কেবল গোটা শরীরটা একবার শিহরিত হলো।

এরপর থেকে শুরু হলো দুজনের এক রেখায় পথচলা। উত্তরা থেকে নিজে ড্রাইভ করে সানজিদা দেখতে আসতেন মুখলিস ভাইকে। ভালোবাসার মানুষের জন্য গাড়িতে করে নিয়ে আসতেন মায়ের হাতের তৈরি নানারকম সুস্বাদু খাবার। শুধু দেখতে আসা নয়, মা-বাবার সম্মতিতে তাকে বাড়িতেও নিয়ে যান সানজিদা।

মা-বাবার আদরের কন্যা সানজিদা। তাই তারা কন্যার মতের বাইরে যান না। তাদের এক কথা, মেয়ে যাকে নিয়ে সুখে থাকবে বলে মনে করে, তাকেই তারা বিনাবাক্যে মেনে নেবেন। তাছাড়া মুখলিস ভাইয়ের দসাসই চেহারা তাদের ও সানজিদার বান্ধবীদেরকেও মুগ্ধ করে। তাই সানজিদার উৎসাহ বহুগুণে বেড়ে যায়।

মুখলিস ভাই এখন উত্তরায় মেজর সাহেবের পরিবারের নিয়মিত সদস্য। সানজিদার মা তাকে পুত্রবত স্নেহ করেন। বাবা ছাড়া মুখে সম্বোধনই রোচে না। মধুর হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সানজিদা-মুখলিসের মনের আদান-প্রদান এগিয়ে চলে। মুখলিস ভাইয়ের পড়াশোনা পাঠ এখনও চুকেনি। তার সহপাঠী ও শিক্ষকরাও জানে তার এই ব্যাপারটি। অনেকে তাকে দেখে ঈর্ষা করে। এমন বড়লোক ঘরের সুন্দরী মেয়ে তার বধূ হতে যাচ্ছে, ঈর্ষাকাতর হওয়ার মতোই ব্যাপার বটে!

এরই মধ্যে সানজিদা মুখলিস ভাইকে নিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোর বেরিয়ে এসেছেন। প্রাইভেটকারযোগে সানজিদা, তার ভাই এবং ভাইয়ের হবু স্ত্রী আর মুখলিস ভাই এই চারজন মিলে চলতো এই সফর। সফরের সময় মুখলিস ভাইয়ের পকেটে হাজার হাজার টাকা ঢুকিয়ে দিতেন সানজিদার মা তথা মুখলিস ভাইয়ের ভাবি শাশুড়ী। এমন সব ভালোবাসা আর স্নেহসিক্ত মধুর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিনগুজরান হচ্ছিল মুখলিস-সানজিদার।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও আমি এর কিছুই জানতাম না। অপারেশন করার পর তাকে দেখতে গিয়ে শুনলাম এসব ঘটনা। পুরান ইতিহাসের সঙ্গে নতুন ইতিহাস যোগ করে মুখলিস ভাই বললেন, বর্তমানে সম্পর্ক স্থগিত আছে। কারণটা সঙ্গত। কাহিনীটা এই :

আর্থিকভাবে মুখলিস ভাই বেশ দুর্বল। তাই বিয়ের প্রশ্নে সানজিদাদের পরিবার থেকে আপত্তি থাকার কথা থাকলেও আপত্তি উঠলো মুখলিসের পরিবার থেকে। তারা সংসারসমুদ্রের ছোট্ট ডিঙির মাঝি হয়ে এতো বড় জাহাজের নাবিক হবেন কী করে? তাই তাদের সন্দেহ দূর হয় না। মনে হয় এ এক কল্পজগত। ঘুমের মধ্যে তাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়ে চলেছে সানজিদার পরিবার!

কিন্তু তা স্বপ্নজগতের কোনও ঘটনা ছিল না। এ ছিল বাস্তবজীবনের এক প্রেমনাট্য। তবু মুখলিসের বড় ভাই সম্পর্কের গভীরতা যাচাই করতে চাইলেন। বিয়ে প্রায় পাকাপাকি। কথা ছিল বিয়ের পর মুখলিস ভাই সানজিদাদের বাড়ির সামনের প্রায় এক বিঘা খালি জায়গা আছে, তাতে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। তার ভাই সেই কথাটা তুললেন। বললেন, বিয়ের আগে কথাটি পুনরায় পাকাপাকি করে নাও এবং জায়গাটা আগে ওয়াক্ফ করে দিতে বলো তাদেরকে।

কথাটা সানজিদার পরিবারকে জানালেন মুখলিস ভাই। সানজিদার পরিবারের লোকেরা কথাটা শুনে মর্মাহত হলেন। তাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগল এতে। বিশেষ করে সানজিদার মামা মারাত্মক ক্ষিপ্ত ও আহত হলেন। আমাদেরকে অবিশ্বাস! তার মুখে ছিল কেবল এই একটিমাত্র বাক্য। মনা কষাকষি থেকে সম্পর্কের পতন এবং বর্তমানে তা স্থগিত।

শেষের কাহিনী শুনে ব্যথিত হলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন আরেক সহপাঠী। তার নামও মুখলিস। মোমেনশাহী বাড়ি তার। দুজনে চোখে চোখ রেখে কথা সেরে নিলাম। মুখলিস ভাই কথাপ্রসঙ্গে যতটুকু ঠিকানা বলেছিলেন, তাকেই সম্বল বানিয়ে আমরা রাস্তায় নেমে পড়লাম। দিনটি ছিল ১৬ই ডিসেম্বর ২০০৫ইং সালের বৃহস্পতিবার। বিজয় দিবসের সরকারী ছুটি থাকায় আমরা ছুটলাম উত্তরার দিকে। উদ্দেশ্য সানজিদাদের বাড়ি খুঁজে বের করে তাদের মধ্যকর অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করা। আধাপাকা আধাকাঁচা  ঠিকানা- সাততলা সাদা বিল্ডিং, অবসরপ্রাপ্ত মেজর এতটুকু পরিচয় সম্বল করে আমরা দুজন নিকুঞ্জ থেকে শুরু করে উত্তরা পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুজি করলাম। কিন্তু ব্যর্থ হলাম। নিরাশ হয়ে একবার মুখলিস ভাইকে ফোনও দেয়া হলো কৌশলে পুরো ঠিকানাটা নেয়ার জন্য। কিন্তু তিনি হয়ত চান নি আমরা ঠিকানা উদ্ধার করে কিছু একটা করি। তাই আমাদের উদ্দেশ্য টের পেয়ে ঠিকানা দেয়া থেকে বিরত থাকলেন, তথ্য দিলেন না। আমরা সারাদিন খোঁজাখুঁজি করে ক্লান্তি আর ফলাফল শূন্যতাকে সঙ্গী করে নিজ নিজ স্থানে ফিরে গেলাম।

সানজিদার মামা বা তার পরিবারের লোকেরা সহজেই বিয়ের আয়োজন নাকচ করে দিতে পারলেও দুজন যুবক-যুবতীর মনের আদান-প্রদান তো আর বন্ধ রাখতে পারেন না। তাই আমরা ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলেও প্রেম তার আপন পথে ঠিক-ঠিক মতোই ধাবমান হলো পুনরায়। আবার সম্পর্কের পুনস্থাপন হলো। হৃদ্যতা হলো আগের মতোই। কারণ, সানজিদার মানসিকতা দেখে তার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিলেন, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে তারা তাদের মেয়ের মন ভাঙবেন না।

তাই সঙ্গত কারণেই বিয়ের কথাটা আবার উঠল। তবে সানজিদার বিয়ের আগে তার বড় ভাইয়ের বিয়ের আয়োজনটা তারা সম্পন্ন করতে চাইলেন। পাত্রী আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তার মামাতো বোন। সেও কোটিপতির মেয়ে। বাবা গুলশানের বিশাল মার্কেট আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। মহা ধুমধামের সঙ্গে আয়োজন করা হলো বিয়ের। দাওয়াত পড়ল মুখলিস ভাইয়েরও। এত বড় আয়োজনে তিনি কী আর সাধারণভাবে শরীক হতে পারেন! তাছাড়া কিছুদিন পর যেখানে তাকেও বরবেশে যেতে হবে! তাই তিনি তার সাধ্যের বাইরে গিয়েও অনেক কিছু করলেন। প্রাইভেটকার ভাড়া করলেন। মূল্যবান গিফ্ট ক্রয় করলেন এবং বিয়ের দিন সানজিদাদের বিয়ে বাড়িতে হাজির হলেন।

বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে তিনি যা ভেবেছিলেন, দেখলেন তার চেয়ে অনেক বেশি আড়ম্বরতা। সানজিদাদের পারিবারিক স্ট্যাটাস এত সমৃদ্ধ যে, তা মুখলিস ভাইয়ের ভীতির কারণ হয়ে গেল। ঢাকার বিখ্যাত বিখ্যাত ব্যবসায়ী আর এক নামে চেনা প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই শুধু অতিথি নন, বাঘা বাঘা যত মন্ত্রী-মিনিস্টার আছেন তারাও আজকের বিয়ের অতিথি! এত রথ-মহারথীর মধ্যে কুচকে গেলেন মুখলিস ভাই। পার্থিব সম্পদের বিচারে এই বিত্তশালীদের মহাসমুদ্রে তাকে ছোট্ট একটি পুসকরনির মতো ক্ষুদ্র বলে মনে হলো। তিনি তৎক্ষণাত সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন। মন চালাচালির জগত থেকে ফিরে এলেন বাস্তবতার জগতে। ইশারা-ইঙ্গিতে কথাটা জানালেন সানজিদাকে। কিন্তু সানজিদা প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখলিস ভাইয়ের অর্থবিত্ত দেখবেন না। অর্থবিত্ত তো আর তার কম নেই। বাবার সম্পত্তির বৃহৎ অংশটাই তার জন্য লিখে দেয়া আছে। তার ভাই তাতে মোটেই আপত্তি করেননি। বরং একমাত্র ছোটবোনকে খুশি রাখতে তিনিও সব দাবি ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত।

তাই মুখলিস ভাইয়ের আশঙ্কা বা তার নারাজির কথা কানে তুললেন না সানজিদা। এক্ষেত্রে ঘটল উল্টো ঘটনা। মানুষ যেখানে বিত্তশালীকে ম্যানেজ করে সেক্ষেত্রে বিত্তশালীই বিত্তহীনকে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করতে লাগলেন।

কিন্তু মুখলিস ভাইকে আমরা দেখেছি, তার মধ্যে একরোখা ভাব আছে অনেকটা। কোনও কিছুর সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে টলানো বেশ মুশকিলই বটে। তার এই স্বভাবের বলি হলেন সানজিদা। এতে কপাল পুড়ল তার, যিনি অনেক ভালোবেসেছিলেন তাকে।

আমরা প্রথম থেকেই মুখলিস ভাইকে বলে এসেছি, এটা কোনও শর‘ঈ কাজ নয়। দুইজন বেগানা নারীপুরুষের এভাবে সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। যেহেতু বিয়ের কথা হচ্ছে আর তারাও পারিবারিকভাবে রাজি, তাই বিলম্ব না করে কাজটা সম্পন্ন করে ফেলুন। অন্তত শরীয়তের বিধান লঙ্ঘন হওয়ার হাত থেকে তো বাঁচা গেলো!

কিন্তু ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, বিলম্ব হতেই থাকল। এক পর্যায়ে আমরাও সৎ পরামর্শ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। তাছাড়া ব্যস্ততার কারণে যোগাযোগও কমে এলো। দূর থেকেই শুনতে পেলাম, তিনি বিয়ের জন্য অন্যত্র পাত্রী খুঁজছেন! মনে মনে দুঃখ হলো সানজিদার জন্য। ভাবতেই হলো যে, প্রেম-ভালোবাসা, বেপর্দা আর গাঁটছাড়া জিনিসের পরিণতি সুখকর হয় না। কোনও না কোনও দিক থেকে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেই। হয়ত এসব ক্ষেত্রে আল্লাহর রেজামন্দী থাকে না বলেই এমন হয়!

মুখলিস ভাই সানজিদার পরিবারে বিষয়টি কিভাবে তুলে ধরেছিলেন, তা বলতে পারি না। কিন্তু সানজিদা বেচারী যে তাতে নিদারুণ শোক পেয়েছিলেন তা কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারি। কারণ, মুখলিস ভাইয়ের ভাষ্যমতে সানজিদা সত্যিকার অর্থেই মুখলিসকে মন থেকে অনেক ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু শুধু আর্থিক ও সামাজিক তারতম্যের ভয়ে মুখলিস ভাই তার মনের চাওয়া আর ভালোবাসার মূল্য দিলেন না। তার এই এড়িয়ে চলার সময়টাতে সানজিদা একেবারে পাথর হয়ে গিয়েছিল। বড়লোকের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও কখনও প্রেমে পড়েননি তিনি। জীবনের প্রথম প্রেমের শকড্টা তাই মানসিক শক্তির মেরুদণ্ড একেবারেই ভেঙে দিয়েছিল তার।

দিন গড়িয়ে চলল আপন গতিতে। একদিন সংবাদ পেলাম মুখলিস ভাই বিয়ে করেছেন। টাঙ্গাইলের এক কলেজ ছাত্রী তার নববধূ! সংবাদটা শুনে বেশ খারাপ লাগল।

এরও অনেক পরের ঘটনা। বহুদিন হয় মুখলিস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা নাই। সময় করে একদিন তার কর্মক্ষেত্র তেজগাঁওয়ে গেলাম। পুরনো এক বন্ধুর সঙ্গে আরেক বন্ধুর দীর্ঘ বিরতির পর দেখা। তাই আবেগ, উচ্ছ্বাস আর সুখ-দুঃখের অনেক কথা হলো। আপ্যায়নপর্ব শেষ হলে বিদায় চাইলাম তার কাছে। তিনি আমাকে বিদায় জানাতে ফার্মগেট পর্যন্ত এগিয়ে এলেন। আমি কখনও সেই সময় এবং ফার্মগেটের ভাসানী নভোথিয়েটারের দিকের প্রথম ওভারব্রিজটার গোড়ার স্থানটা ভুলতে পারব না। এতক্ষণ পর্যন্ত তার বর্তমান জীবন সম্পর্কে আলোচনা চললেও কী মনে করে যেন সানজিদার কথাটা মনে পড়ল আমার। আচম্বিত প্রশ্ন করলাম, আচ্ছা, সানজিদার কী খবর? তিনি কেমন আছেন? কোথায় আছেন?

মুখলিস ভাই উত্তরে যা বললেন, তাতে মনে হলে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ কোনও বন্ধু নন, চক্ষশূল! তিনি নির্বিকার কণ্ঠে বললেন, সে তো চলে গেছে!

  • মানে! আতঙ্কিত কণ্ঠে বললাম আমি।
  • সে পরপারের বাসিন্দা হয়েছে।

  • কী ভাবে? কবে? এক সঙ্গে কয়েকটি প্রশ্ন করলাম আমি।

আমি কখনই ভুলতে পারবে না ঔ সময় ও স্থানটার কথা, যেখানে ও যে সময়ে একটা বিদেহী আত্মার করুণ পরিণতির কথা শোনানো হয়েছিল আমাকে। আমার প্রশ্নের জবাবে মুখলিস ভাই যা জানালেন, তাতে আমি কিছুক্ষণের জন্য নিজের পরিচয়টা ভুলে যেতে চাইলাম। আট বছরের বন্ধুত্ব ক্রোধে পরিণত হয়ে যেন হাতের মুঠোয় এসে জড়ো হলো কোনও অশুভ ইচ্ছায়। মনে হলো, এখনই তার উপর হামলে পড়ব আমি, ক্রোধে, ক্ষোভে ও উত্তেজনায়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে আমি দ্রুত তার সামনে থেকে সরে এলাম। গাড়িতে চেপে সিটে বসে মাথা ধরে বসে থাকলাম। যুগপৎ তিনটি জিনিস আমার মাথায় চক্কর দিতে লাগল।

১ .হাদীসের বাণী, যা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমরা মুখলিস ভাইকে বারবার তাগিদ দিয়েছিলাম বিয়ের কাজটা দ্রুত সেরে নিতে।

২. সানজিদার নিখাঁদ ভালোবাসা, যদিও তা শর‘ঈ গন্ডির মধ্যে ছিল না।

৩. মুখলিস ভাইয়ের ‘কপটতা’ ও নির্বুদ্ধিতা।

শেষের ব্যাপারটি আমি সারা রাস্তায় ভাবতে থাকলাম। যে তোমাকে মন উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছে, শেষ দিন পর্যন্ত তোমাকে পাওয়ার অপেক্ষা করেছে, বিত্তবৈভবের কথা চিন্তা না করে তোমার মতো দরিদ্র একজন ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে বরণ করে নিতে চেয়েছে, যার বাবা-মা তাদের কন্যার সুখচিন্তা না করে তোমাকে পুত্রের মতো স্নেহ দিয়েছেন, কোনও দিন যারা তোমার সম্পদের কথা জিজ্ঞেস করেন নি- দেখেছেন শুধু তোমাকে, তুমি তোমার প্রস্তাব থেকে সরে আসার পর মেয়ের মরা মন দেখে যাদের পিতৃত্ব আর মাতৃত্বের সাগরে বেদনার ঢেউ উছলে ওঠায় তোমাকে বারবার অনুরোধ করেছেন তোমার অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে, শুধু বিশ্বাসের জোরে আত্মীয়তার বন্ধনটা কায়েম করতে, যারা তোমার এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে বারবার তাদের ও সানজিদার উপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেছেন, তারা কখনই সম্পদের প্রশ্ন তুলবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তারা সে ধরনের মানুষ নন বলে আস্থা দিয়েছেন, যে ডাক্তার ভাইটা তোমাকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন, সেই ভাইটা চিকিৎসা সেবার পর্যন্ত দোহাই দিয়ে তোমাকে তোমার মত প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন, একমাত্র বোনটাকে যিনি এত ভালোবাসেন, সেই বোনের শুষ্ক মুখ দেখে যিনি তোমাকে এতো করে অনুরোধ করেছেন, যে মেয়েটি তোমাকে না পেলে কোনও দিনও বিয়ে করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছে, তোমার আশঙ্কাকে অসত্য প্রমাণ করার সুযোগ দেয়ার জন্য যে মেয়েটি আকুতি জানিয়েছে, একটা পরিবারের সবাই একাট্রা হয়ে এতো করে তোমাকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু  তুমি তাদের কারো কথা রাখোনি, মূল্য দাও নি তোমার কাছের মানুষটির আত্মার আহ্বানকে। তাহলে সেই বাড়িতে নতুন বিয়ে করে তোমাকে মিষ্টি নিয়ে যেতে বলেছিল কে? এতো সানজিদার জন্য মিষ্টি ছিল না, ছিল বিষ! একটা প্রত্যাখ্যাত মেয়ে কী করে বরদাশত করতে পারে এমন উৎকট তামাশা?

যাহোক, মুখলিস ভাই বিয়ে করে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য মিষ্টি নিয়ে সানজিদাদের বাড়িতে হাজির হলেন। সানজিদার পরিবার সৌজন্যের খাতিরে তাকে হাসিমুখেই বরণ করলেন। কিন্তু একজনের মুখে হাসি ছিল না। তিনি সানজিদা।

এর দিন দুয়েক পর। বিছানা ছাড়ার সময় হয়ে এলো। কিন্তু সানজিদার ওঠার নাম নেই। রাতে কি মেয়েটা কম ঘুমিয়েছে, নাকি সে এখনও বিছানা ছাড়ছে না? মা নিজেই প্রশ্ন করেন নিজেকে। আরও বেশ কিছুক্ষণ গড়ালো। তবু ওঠার নাম নেই। এখন আর মা নিঃসঙ্কোচ থাকতে পারলেন না। ঘরের বাইরে থেকে মৃদ করে ডাক দিলেন মেয়েকে। কিন্তু তবু সাড়া নেই। আরো জোরে ধাক্কা দিলেন। ধাক্কার জোর যত বাড়ে স্নেহময়ী মায়ের শঙ্কা ততই বাড়ে। ভেতর থেকে কোনও শব্দ না পেয়ে এক সময় বাড়ির সবাই আতঙ্কে কেঁপে উঠলেন। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেন। বিছানায় সাদা কাপড় মুড়ি দিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে আছেন সানজিদা। দরজা ভাঙা, ডাকাডাকি কোনো কিছুর শব্দই তার কানে পড়ছে না! সর্বপ্রথম গর্ভধারিনী মা মেয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। দেহটা শক্ত হয়ে গেছে। সুশ্রী মুখটা বিষের প্রভাবে কালো হয়ে আছে! পাশেই একটা চিরকুট পড়ে আছে- ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ও যেন ভালো ও সুখে থাকে।’

হায় বন্ধু! মৃত্যুর সময়ে যে তোমার কল্যাণ কামনা করে গেল, তার ভালোর জন্য কি তুমি আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বাণীর ওপর আমল করতে পারলে না? যদি প্রেম-প্রীতিকে দীর্ঘায়িত না করে হাদীসটার ওপর আমল করতে, তাহলে কি আজ সানজিদার মা কন্যাকে হারিয়ে পাগল হয়ে যেতেন?

এ প্রশ্ন শুধু তোমাকে নয়, পৃথিবীর সব মানুষের সামনে তুলে ধরছি। কেউ যেন শরীয়তের ওপর আমল ছেড়ে দিয়ে এমন কোনও কাজ না করে যার কারণে মায়েদের বুক খালি হয়, পিতা সন্তানহারা হন, ভাই বোনহারা কিংবা বোন ভাইহারা হন।

বোন সানজিদা! আত্মহত্যা কঠিন অপরাধ। হয়ত তুমি নিজেও তা জানতে। কিন্তু ব্যর্থতার বেদনা তোমাকে পৃথিবীর এই কঠিনতম পথে পা মাড়াতে বাধ্য করেছে। তবে কথা কী, পৃথিবীর সব প্রেমের ব্যর্থতা আর গ্লানি মিলেও একটা আত্মহত্যার পাপের সমান হয় না। তারপরেও তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি আমি। কারণ, একমাত্র কুফর অবস্থায় মৃত্যু ছাড়া যে কোনও অবস্থার মৃত্যুতে মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করা যায়। দু‘আ করি, আল্লাহ যেন তোমার এই জগতের অপরাধ ক্ষমা করে ওই জগতে শান্তিতে রাখেন।

আর হ্যাঁ, আমার নিজেরও মাঝে-মধ্যে অনুশোচনা হয়। আফসোস হয়, যদি আমি সেদিন উত্তরার প্রতিটি ‘সাততলা সাদা বিল্ডিং’ খুঁজে বেড়াতাম। যদি দমে না যেতাম ঠিকানাহীন বাড়ি খোঁজার কাজে! আমার বিশ্বাস, আমরা একটা সুরাহা করতে পারতাম। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আমল করাতে পারতাম আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস অনুযায়ী- ‘হে আলী! যখন কোনও উপযুক্ত পাত্রী অথবা পাত্র পাওয়া যায়, তখন যেন বিয়েতে বিলম্ব করা না হয়।’

তাহলে আজ হয়ত তোমাকে এই পরিণতির শিকার হতে হতো না। কিন্তু এখন সবই অতীত। বাস্তবতা হচ্ছে, তুমি এখন পরজগতের স্থায়ী বাসিন্দা। তাই তোমার আত্মার শান্তি কামনা করা ছাড়া আর করারই কিছুই নেই। সেই সঙ্গে পাঠক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই বইয়ে লেখা ঘটনাগুলো শুধু পড়ার জন্য লেখা হয় নি। ঘটনা থেকে শিক্ষা লাভ করার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে এসব। তাই প্রথমে আমরা নিজেরা এথেকে শিক্ষা নিই। এরপর প্রতিবেশী কিংবা গন্ডির মধ্যে অহরহ ঘটতে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা রোধ করতে সচেষ্ট হই। আর কত দেখতে হবে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা? কত বোন আর শিকার হবে এমন ট্রাজেডির? সমাজ গড়ার মহান যাত্রায় আপনার কি করার নেই কিছু?

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই। আল্লাহর বিধান অমান্যের ফলাফল কখনও শুভ হয় না। আলোচ্য ঘটনা এই দাবির সপক্ষে ছোট্র একটি উদাহরণ। কেননা, বিয়ে শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক বিধান ঠিক; কিন্তু প্রেম-ভালোবাসার পথে পা মাড়াতে নেই। মুখলিস ভাইকে আমি চিনি। তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ নয়। তবু ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তার কারণে একটি মেয়ের জীবনপাতা ঝরে গেছে অকালে, একথা তিনি নিজেও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। সুতরাং একথা আবার প্রমাণিত হলো, যে পথে শরীয়ত নেই, সে পথে শান্তিও নেই। তাই সকলের উচিত পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্ককে সুখময় করতে চাইলে শরীয়তের বিধানের মধ্যে, পর্দা-পুশিদার মধ্যে নিজেদেরকে বেঁধে রাখা। আল্লাহ তাওফীকদাতা।

– আবু বকর সিরাজী

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আরিও দেখুন
Close
Back to top button