পাঠকের পাতা

‘দাইউস’ (বেহায়া, আত্মমর্যাদাহীন) – এর পরিচিতি, ভয়াবহ পরিণতি ও উত্তরণের উপায়

হামদ-ছানা ও প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলার জন্য যিনি, যিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অশ্লীল, বেহায়াপনা-বেলেল্লপনা ও শাস্তিযোগ্য পাপাচার মূলক কার্যক্রম চিরতরে হারাম করেছেন। দুরুদ, সালাম ও শান্তি বর্ষিত হউক নিষ্কলোস, অনুপম ও মহান চরিত্রের অধিকারী রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি যিনি, দাইউসদের জন্য জাহান্নামের অশনি সংকেত দিয়েছেন। সর্বপরি সকল আপামর জনসাধারণের প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হউক।

اَلدَّيُّوْثُ দাইউস এর সংজ্ঞা ও পরিচিতি :

ক. اَلدَّيُّوْثُ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো : অসতী, বেহায়া, বেশরম, নির্লজ্জ, বিবেকহীন, আত্মমর্যাদাহীন ইত্যাদি।

খ. اَلدَّيُّوْثُ শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলা : যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যিনা-ব্যাভিচার ও অশ্লীল কাজ-কর্ম সে ভাল মনে করে গ্রহণ করে অথবা প্রতিবাদ না করে চুপ থাকে।

গ. হাদিসে দাইউস’-এর পরিচয় :

▓ রাসূল (ﷺ) বলেছেন :

اَلدَّيُّوْثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ

এমন বেহায়া, যে তার পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়। [আহমাদ ৫৩৭২, ৬১১৩]

 অন্য বর্ণনায় এসেছে :

اَلدَّيُّوْثُ الَّذِي يُقِرُّ السُّوْءَ فِيْ أَهْلِهِ

এমন বেহায়া, যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও খারাপ কর্মসমূহ মেনে নেয়।

 অন্য বর্ণনায় এসেছে :

اَلدَّيُّوْثُ هُوَ الَّذِيْ لَا يُبَالِيْ مَنْ دَخَلَ عَلٰى أَهْلِهِ

বেহায়া হলো সে ব্যক্তি যে, তার পরিবারের নিকট কে প্রবেশ করল এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করেনা। [বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান ১০৮০০]।

ঘ. মনীষীদের দৃষ্টিতে দাইউস :

 জৈনক স্কলার বলেছেন :

اَلدَّيُّوْثُ هُوَ الَّذِيْ لَا يُغَارُ عَلٰى مَحَارِمِهِ مِنَ النِّسَاءِ

দাইউস ; বেহায়া হলো সে ব্যক্তি যে, তার পরিবারের অশ্লীলতার ব্যাপারে উদাসীন, বিবেকহীন, দায়িত্ববোধহীন, আত্মসম্মানহীন ও আত্মমর্যাদাহীন।

ঙ. اَلدَّيُّوْثُ এর পরিচয় : যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে যিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অশ্লীল, গর্হিত-ঘৃণিত, বেহায়াপনা-বেলেল্লপনা, শাস্তিযোগ্য পাপাচার মূলক আচার-আচরণসহ ইসলামী শরীয়াহ ও সমাজ বিরোধী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখেন না, বাধা দেন না উপরুন্ত সন্তুষ প্রকাশ করে এবং বোবা শয়ত্বানের ন্যায় বধির ও অন্ধেরমত চোখবুজে মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করে আর তাদের অবাধ বিচরণে ও তাদের হীন চরিতার্থ করণার্থে সার্বিকভাবে সহযোগিতার হস্বদ্বয় প্রসারিত করেন তিনিই হলেন দাইউস।

আল-কুরআনে দাইউস (বেহায়া, আত্মমর্যাদাহীন)-এর ভয়াবহ পরিণতির সম্পর্কে আলোকপাত :

জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ও আগুন থেকে আত্মরক্ষা ও পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করার আদেশ :

﴿يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا قُوٓا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلٰٓئِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللهَ مَآ أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ﴾

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে রক্ষা কর অগুন হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয় কঠোর স্বভাবের মালাইকা (ফেরেশতা), যারা অমান্য করেনা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তা’ই করে। [সূরা তাহরীম : ০৬]

আনুসাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :

এ আয়াত থেকে প্রকাশ পায় যে, নিজেদেরকে সংস্কার ও সংশোধন করার সাথে সাথে পরিবারের লোকদেরকেও সংস্কার ও সংশোধন করতে হবে এবং তাদেরকে ইসলামী শিক্ষা ও তরবিয়ত দেওয়ার প্রতি যত্নবান হতে হবে। যাতে তারা জাহান্নামের জ্বালানী হওয়া থেকে বেঁচে যায়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন : ‘প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার অধীনস্ত লোকদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। শাসকও দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনস্ত লোকদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। নারী তার স্বামীর বাড়ী এবং তার সন্তান-সন্ততির তত্ত্বাবধায়িকা, তাকে তাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে’। [সহিহ বুখারী : ৮৯৩, ৫১৮৮]

 

আরও দেখুন:  কুরআনে ভূমিকম্পের সংজ্ঞা

যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তদ শাস্তি :

﴿إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفٰحِشَةُ فِى الَّذِينَ ءَامَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِى الدُّنْيَا وَالْءَاخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾

যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জাননা। [সূরা নূর : ১৯]

 

আনুসাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :

فَاحِشَةٌ (ফাহিশা) হলো : নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা। তবে কুরআনে ব্যভিচারকেও فًاحِشَة (অশ্লীলতা) বলে গণ্য করা হয়েছে। [সূরা ইস্রাঈল : ৩২] আর এখানে ব্যভিচারের একটি মিথ্যা খবর প্রচার করাকেও আল্লাহ অশ্লীলতা বলে অভিহিত করেছেন এবং একে দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হিসাবে গণ্য করেছেন।

মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার করা হারাম। কারণ প্রচারকারীদের মূল উদ্দেশ্য হল মু’মিনদেরকে কষ্ট দেয়া এবং তাদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার করা। যারা এ রকম জঘন্য কথা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি (হদ) এবং পরলৌকিক শাস্তি জাহান্নামে দেয়া হবে। হাদীসে এসেছে : সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী (ﷺ) বলেন : তোমরা আল্লাহ তা‘আলার বান্দাদেরকে কষ্ট দিও না। এবং তাদের গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান করো না। যে তার মুসলিম ভাইয়ের গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান করবে আল্লাহও তার গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান  করবেন এবং তাকে এমনভাবে লাঞ্ছিত করবেন যে, তাকে তার বাড়ির লোকেরাও খারাপ দৃষ্টিতে দেখতে থাকবে। [মুসানাদ আহমাদ ৫/২৭৯]

রাসূল () -এর হাদীসে দাইউস (বেহায়া, আত্মমর্যাদাহীন)-এর ভয়াবহ পরিণতির সম্পর্কে আলোকপাত :

মু‘মিনকে সর্বদা আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হতে হবে :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : اَلْمُؤْمِنُ يَغَارُ وَاللهُ أَشَدُّ غَيْرًا ‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) বলেছেন : মুমিন আত্মমর্যাদাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন। [সহীহ মুসলিম ৬৭৪৩ (ই. ফা), ৬৮৯২ (হা. এ), ২৭৬১ (শামিলা ও সুন্নাহ.কম), ৬৭৯৯ (ই. সে)]

 

 ইসলামী শরী‘আই প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করা হয়েছে :

عَنِ الْمُغِيرَةِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ لَوْ رَأَيْتُ رَجُلاً مَعَ امْرَأَتِي لَضَرَبْتُهُ بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفَحٍ‏، فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ :‏ تَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ، وَاللهِ لأَنَا أَغْيَرُ مِنْهُ، وَاللهُ أَغْيَرُ مِنِّي، وَمِنْ أَجْلِ غَيْرَةِ اللهِ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ، وَلاَ أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعُذْرُ مِنَ اللهِ، وَمِنْ أَجْلِ ذَلِكَ بَعَثَ الْمُبَشِّرِينَ وَالْمُنْذِرِينَ وَلاَ أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمِدْحَةُ مِنَ اللهِ وَمِنْ أَجْلِ ذَلِكَ وَعَدَ اللهُ الْجَنَّةَ

আরও দেখুন:  অতঃপর প্রত্যাগমন

মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন : তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর শপথ! আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ্ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ্ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবার কারণে প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এজন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে অধিক কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। [সহিহ বুখারি ৭৪১৬ (তা. পা, শামিলা ও সুন্নাহ.কম), সহিহ মুসলিম ১৪৯৯, আহমাদ ১৮১৯২১, ৬৯১১ (ই. ফা), ৬৮৯৯ (আ. প্র)]

 

 পরিবারের সদস্যদের মান-সম্মান ও সম্ভ্রব রক্ষা করা আবশ্যকীয়কর্ম, আর এহেন কর্মে কেউ নিহত হলে সে শাহাদাতের মর্যাদা ও অমিয় সূধা পানে ধন্য হবেন মর্মে রাসূল ()-এর হাদীস :

عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ قُتِلَ دُوْنَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُوْنَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُوْنَ دِيْنِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُوْنَ دَمِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ

সাঈদ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি তার সম্পপদ রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার পরিবারের মানসম্মান ও সম্ভ্রব রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার দ্বীন-ধর্ম রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার আত্মরক্ষর্থে নিহত হয় সে শহীদ। [আবূ দাউদ ৪৭৭২, তিরমিযী ১৪১৮, ১৪২১, নাসায়ী ৪০৯০, ৪০৯১, ৪০৯৪, ইবনু মাজাহ ২৫৮০, আহমাদ ১৬৩১  ১৬৩৬, বুলুগুল মারাম ১২৫৬ (তা. পাব)]

 

 জান্নাতের অধিবাসী হতে পারবেনা যারা :

إِنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ وَتَعَالٰى لَمَّا خَلَقَ الْجَنَّةَ قَالَ : وَعِزَّتِيْ وَجَلاَلِيْ لَا يَدْخُلُكِ بَخِيْلٌ وَلَا كَذَّابٌ وَلَا دَيُّوْثٌ

নিশ্চয়ই সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা যখন জান্নাত সৃষ্টি করেছেন তখন, জান্নাতকে বলেছেন : আমার সম্মান-গৌরব ও পরাক্রমশালীর শপথ, কৃপণ (সম্পদে আল্লাহ তা‘আলার অধিকার বিনষ্টকারী), মিথ্যাবাদী (কুরআন-সুন্নাহকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী) এবং দাইউস (বেহায়া, নির্লজ্জ, আত্মমর্যাদাহীন, অসতী) ব্যক্তিগণ তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে না। [সনদ সহিহনাসাঈ, যাকাত অনুচ্ছেদ ২৫৬২, আহমাদ ২/১৩৪, মাজমুআতুল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যা ১/২১ এবং ৩২/১২, ইয়াহইয়া উলুমুদ্দীন, ইরাক্বী ০৭, বায়হাক্বী, আল-আসমাউ ওয়াস সিফাত ৬৯২, শায়খ আহমাদ শাকির ৬১৮০]

 

 তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন :

আরও দেখুন:  সিয়াম সাধনা: মানব জীবনে এর বহুমাত্রিক প্রভাব

ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللهُ  تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَيْهِمْ الْجَنَّةَ مُدْمِنُ الْخَمْرِ وَالْعَاقُّ وَالدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ

তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। অব্যাহতভাবে মদ পানকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং এমন বেহায়া, যে তার পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়। [আহমাদ ৫৩৭২ এবং ৬১১৩]

 

 অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে :

عَنِ ابنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلاثَةٌ لا يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ العاقُّ لِوَالِدَيْهِ والمُدْمِنُ الخَمْرَ والمَنَّانُ بِما أعْطَى

ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন : তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না ; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। মদপানে অভ্যাসী মাতাল এবং দান করার পর যে বলে ও গর্ব করে বেড়ায় এমন খোঁটাদানকারী ব্যক্তি।” [আহমাদ ৬১৮০, নাসাঈর কুবরা ২৩৪৩, হাকেম ২৫৬২, সহীহুল জামে ৩০৭১]

 

 তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকবেন না এবং তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না :

عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ “‏ ثَلاَثَةٌ لاَ يَنْظُرُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ وَالدَّيُّوثُ، وَثَلاَثَةٌ لاَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَالْمُدْمِنُ عَلَى الْخَمْرِ وَالْمَنَّانُ بِمَا أَعْطٰى

সালিম-এর পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকবেন না (রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না।) ; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী এবং দায়ুছ (নিজ স্ত্রীর পাপাচারে যে ঘূণাবোধ করে না।)। আর তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না ; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, মাদকাসক্ত ব্যক্তি (যে মদ্যপ তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে) এবং দানকৃত বস্তুর খোঁটা দানকারী ব্যক্তি (দান করার পর যে দানের উল্লেখ করে গঞ্জনা দেয়)। [সুনান নাসাঈ ২৫৬১, ২৫৬২, ২৫৬৩  এবং ২৫৬৪ (ই. ফা), আহমাদ ৬১৮০]

আলোচ্য প্রবন্ধ থেকে শিক্ষনীয় বিষয় :

ক. জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষার্থে নিজেদেরকে সংস্কার ও সংশোধন করতে হবে।

খ. পরিবার-পরিজনের লোকদেরকেও জাহান্নাম থেকে রক্ষার্থে সংস্কার ও সংশোধন করতে হবে।

গ. মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার করা হারাম।

ঘ. দাইউস ; আত্মমর্যাদাহীন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

ঙ. তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকবেন না।

চ. তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

 

উপসংহার :

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীর প্রায় অনেক নারী-পুরুষই দাইউস (বেহায়া, আত্মমর্যাদাহীন)-এর অন্তর্ভূক্ত। তাই আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে দাইউস (বেহায়া, আত্মমর্যাদাহীন)-এর ভয়াবহ পরিণতি থেকে আত্মরক্ষার্থে সংস্কার ও সংশোধন মূলক ‘আমল করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন, আমীন।

– আব্দুস সালাম হুসাইন আলী

শিক্ষক,  ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

৩টি মন্তব্য

  1. হে দয়াময় ও করুণাময় আল্লাহ!
    ▓ আমাদের সকলকে ‘দাইয়ূস’ (বেহায়া, আত্মমর্যাদাহীন)-এর ভয়াবহ পরিণতি ও গুণাবলী থেকে সংরক্ষণ করুন।
    ▓ ইসলামিক অনলাইন মিডিয়ার সাথে জড়িত সকলকে ক্ষমা করে ‘জান্নাতুল ফিরদাউস’ দান করুন।
    ▓ বিশ্বের নির্যাতীত সকল মাজলুম মানবতাকে চিরমুক্তি দান করুন।
    ▓ ▓ আমীন, ছুম্মা আমীন।

মন্তব্য করুন

Back to top button