জীবনের বাঁকে বাঁকে

আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের এই বৃষ্টি দিয়েছেন

তখন সম্ভবত সেপ্টেম্বর মাস। আমি অগাস্টে গিয়েছি অ্যামেরিকায়। শহরটার নাম ফোর্ট ওয়েইন, ইন্ডিয়ানা রাজ্যে।

স্টুডেন্ট হাউজিং এ থাকি। দেশের জন্য মন উদাস থাকে।

এক সন্ধ্যায় দেখি আকাশ কালো করে মেঘ জমেছে। বৃষ্টি নামল। বাঙাল আমি বীরদর্পে বৃষ্টিতে ভিজতে চলে গেলাম।

দুটো বিল্ডিং এর মাঝখান দিয়ে হাঁটছি। জানালা দিয়ে উঁকি দেয়া কিছু মুখ কলরব করে উঠল। ভাষ্যঃ করো কী? মরবা তো!

আমার ভাব – যা ব্যাটা দেশে কত ভিজেছি বৃষ্টিতে জানিস?

আস্তে আস্তে টের পেলাম, বৃষ্টিটা বেশ ঠান্ডা।

বিল্ডিং এর আড়াল ছেড়ে বেরোলাম। দমকা হাওয়ার একটা ঝাপটা গায়ে লাগল।

প্রচন্ড কাঁপুনি শুরু হলো। একটা শেডের নীচে দাঁড়ালাম। সারা শরীর জুড়ে কাঁপুনি তাও থামে না। কী যে ভয়ংকর শীত বলে বোঝানো যাবে না। কাঁপুনির চোটে হাঁটতে পারছি না। দেহের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি এমন মনে হচ্ছে। নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।

কেমন করে বাসায় ফিরেছিলাম মনে নেই। উষ্ণ শীত ও তাপ নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা।

কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টিতে মোটর সাইকেলে আসার সময় শীতে কাঁপতে কাঁপতে সেই স্মৃতির কথা মনে পড়ে গেল।

নভেম্বর রেইনের রোমান্টিক আলাপ আমার আসে না। শীতে বৃষ্টিতে গরীব মানুষের কী কষ্ট হয় সেটা টের পাই প্রায়ই। কিন্তু তা-ও বৃষ্টিকে গালি দেওয়ার মতো দুঃসাহস যেন না দেখাই। বৃষ্টি আল্লাহর নিয়ামত।

সাহারার কথা বাদ দিই, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পারলে যাবেন একবার। এরা মাটির নীচের পানি খেতে পারে না। নোনা। বৃষ্টির পানি ধরে খায়। মাইলের পর মাইল হাঁটবেন – পিপাসায় বুক ফাটবে, কিন্তু না পুকুরের পানি খেতে পারবেন না নলকূপের পানি। বৃষ্টির পানিই ভরসা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জায়গাতেও খাবার পানির উৎস বৃষ্টির পানি।

আল্লাহর কোনো নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করলে তিনি বাড়িয়ে দেন। অকৃতজ্ঞতায় নিয়ামত সরিয়ে নেন।

আরও দেখুন:  কোথায় পাব তারে

আমরা যেন বৃষ্টির মতো একটি অতি প্রয়োজনীয় নিয়ামতের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হয়ে নিজেদের আল্লাহর অভিশাপের সামনে উন্মুক্ত না করে দিই। আমরা যেন আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দিনে দু’আ করতে পারি –
আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফী’আন।
আল্লাহ এই বৃষ্টিটা যেন উপকারী হয়।

আর বৃষ্টি শেষের দু’আঃ মুতিরনা বি ফাদলিল্লাহি ওয়া রাহমাতিহি।
আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের এই বৃষ্টি দিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button