জীবনের বাঁকে বাঁকে

অঞ্জন, এ লেখাটা তোর জন্য

অঞ্জন, এ লেখাটা তোর জন্য। এ লেখাটা তোর জন্য কারণ তোর একটা চমৎকার বিবেক আছে যে যুক্তি প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। আমার কাজ আমার যুক্তিগুলো তোর বিবেকের কাছে পৌছে দেয়া – মানা না মানা অবশ্যই একান্ত তোর ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং তুই না চাইলে আমি ভবিষ্যতে আর কখনো এ ব্যাপারে তোর সাথে কোন কথা বলবোনা।

প্রথমত বলে নেই আমিও সকল ধর্মের অনুসারীদের প্রতি সহনশীল। জ্ঞানত অমুসলিম কারো প্রতি আমি অসৌজন্যমূলক কোন ব্যবহার কোনদিনও করিনি। শুধু সাদা-কালো কেন, পৃথিবীর তাবৎ রেসিস্ট হয় মুখে নয় মনে মনে ঘৃণা করে নিজের রেস ছাড়া অন্য রেসের মানুষদের। কিন্তু আমি আমার মন থেকে বলছি – আমি খ্রীষ্টানদের ঘৃণা করিনা, তাদের ধর্মকে হেয় করিনা, যীশুকে অসম্মান করিনা। করিনা কারণ ইসলাম আমাকে এসব ঘৃণা করতে শেখায়নি। বরং কুর’আন আমাকে শিখিয়েছে যে আমি যাকে ইসলামের পথে আহবান করছি সে যদি আমার সাথে শত্রুভাবও পোষণ করে তবুও তাকে উষ্ণ বন্ধুত্ব উপহার দিতে। তবে এটা ঠিক আমাকে ইসলাম ঘৃণা করতে শিখিয়েছে নষ্ট ধর্মব্যবসায়ীদের বানানো রীতিনীতিকে, রূপকথাকে, মিথ্যা কথার ব্যবসাকে যা ধর্মের নামে সমাজে চলে। মানুষের বানোয়াট ধর্মকে আমি ঘৃণা করি – সেটা ইসলামের নামে পালন করা হোক আর খ্রীষ্টান ধর্মের নামে। তবে সমাজের দশ জন মানুষ, যারা চোখ-কান বুঁজে অন্ধের মত ধর্ম পালন করে চলছে তাদের প্রতি আমার ক্ষোভ আছে কিন্তু বিদ্বেষ নেই, ঘৃণা নেই।

স্রষ্টা একজনই – এ ব্যাপারে তুই আর আমি একমত। চমৎকার। এ ব্যাপারে কিন্তু মোটামুটি সব বিবেকসম্পন্ন মানুষই একমত। তাহলে ধর্মে ধর্মে পার্থক্যটা হয় কোথায়? পার্থক্য হয় স্রষ্টার অন্যান্য গুণাবলীর ক্ষেত্রে। আমি যাকে স্রষ্টা মানি তাকেই অন্নদাতা মানি, প্রতিপালনকারী মানি, বিপদোদ্ধারকারী মানি, তাকেই একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে মানি। কুর’আনে আল্লাহ সুন্দর একটা যুক্তি এনেছেন। তিনি বলেছেন মানুষ যা কিছুর উপাসনা করে সেগুলো তো এক স্রষ্টারই তৈরী -সেইসব উপাস্য বস্তুগুলোকে তৈরি করার সময় তো তিনি তাদের সাহায্য নেননি, আকাশ পৃথিবী তৈরির সময়ও তাদের সাহায্য করতে ডাকেননি, কিন্তু কেন আল্লাহ পৃথিবী চালাতে এসব মিথ্যা উপাস্যকে সাহায্য করতে ডাকবেন?

একটা উদাহরণ দেই – আমার পরিচিত এক ধার্মিক খ্রীষ্টান ঝড়-বৃষ্টি খুব ভয় পায়, যখন মেঘ ডাকে তখন লকেটের ক্রুশটা ধরে সে বলে উঠে “যীশু রক্ষা কর।” এই ব্যাপারটাতেই ইসলামের আপত্তি। কারণ ঐ ক্রুশটা যে ধাতুর তৈরি সেটা যে স্রষ্টা তৈরি করলেন, যীশুকে যে স্রষ্টা তৈরি করলেন আর ঐ ঝড়-বিদ্যুতকে যে স্রষ্টা তৈরি করলেন তিনি কি পারেননা তার তৈরি এই মানুষটাকে ঐ ঝড় থেকে নিরাপদ রাখতে? এটা স্রষ্টার কাছে খুব অপমানকর যে সব কিছু তিনি তৈরি করার পরে মানুষ তার কাছে নিরাপত্তা না চেয়ে তারই তৈরি করা অন্য কিছুর কাছে নিরাপত্তা চাচ্ছে। ঠিক তেমনি একজন মুসলিম যখন একটা তাবিয গলায় ঝুলায় ভাবতে থাকে এই তাবিযটা তাকে একটা সন্তান দেবে তখনো স্রষ্টা অপমানিত হন। একটা এলুমিনিয়াম ফয়েলের ভিতরের একটা হাবিজাবি লেখা কাগজকে যখন মানুষ সুতা দিয়ে শরীরে বেধে নেয় তখন সে তাকে স্রষ্টা মনে করে পূজা না করেও স্রষ্টার কিছু বৈশিষ্ট্য ঐ ফালতু জিনিসটাকে দিয়ে দেয়। এটা স্রষ্টার জন্য খুব খুব কষ্টকর, মানহানীকর।

আরও দেখুন:  ভালোবাসা মানে…

খুব বিস্তারিত না গিয়ে বলছি – ক্যাথলিক রীতির উপাসনার ভিত্তি হচ্ছে যীশুর ঈশ্বরত্বে বিশ্বাস এবং তার কাছে চাওয়া। এছাড়াও এখানে যীশুকে সম্মান করতে করতে তাকে ঈশ্বরের অনেক গুণ অনেক ক্ষমতা দিয়ে দেয়া হয়েছে। কথাগুলো আমার নয়, খ্রীষ্টান ধর্ম নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছে এমন মানুষদের কাছ থেকেই শোনা।

আমাদের বিশ্বাস যীশু (আল্লাহ তার উপর শান্তি বর্ষণ করুন) স্রষ্টার পাঠানো একজন নবী ও মাটির মানুষ যিনি ভুল পথে চলা মানুষদের সঠিক পথের দিশা দিতে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তার দেখানো পথে চলে কেউ যদি স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চায় তবে সে স্বর্গে যাবে। আমরা আরো বিশ্বাস করি স্রষ্টা আল্লাহ মুহাম্মদ (আল্লাহ তার উপর শান্তি বর্ষণ করুন) কে যীশু এবং তার আগের সব নবীদের শিক্ষার নির্যাস একত্র করে দিয়ে মানুষের কাছে পাঠালেন যেন মানুষ তার দেখানো পথে চলে ইহকালে ও পরকালে মুক্তি লাভ করতে পারে। সকল নবীর শিক্ষা ছিল একটাই – “যিনিই স্রষ্টা তিনিই একমাত্র উপাস্য”।

ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে এই জিনিসটার উপরে – যিনি স্রষ্টা তিনি তার সব বিশেষত্বে একক এবং অন্য কোন কেউ বা অন্য কোন কিছুর সাথে তিনি কোনভাবেই তুলনীয় নন। কেউ যদি তার সাথে অন্য কিছুকে কোনভাবে তুলনা করে তবে সে ‘শিরক’ নামের একটা পাপ করে এবং এটা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটা। এই অপরাধ যেই করুক না কেন তার পরকালে কোন মুক্তি নেই। কোন হিন্দু করলেও নেই, খ্রীষ্টান করলেও নেই, মুসলিম করলেও নেই।

যদিও শিরক নিকৃষ্টতম অপরাধ কিন্তু কেউ যদি এটা করে তবে গায়ের জোরে বাধা দেয়া যাবেনা, তাকে শাস্তিও দেয়া যাবেনা। যারা ইসলাম বোঝে তারা মানুষকে বোঝায় শিরক কি, শিরক করলে কি শাস্তি পেতে হবে। কারণ শিরক এমন একটা জিনিস যা মনের ব্যাপার – যেখানে মানুষের নিজের বিবেকের হাত আছে অন্য কোন কিছুর হাত নেই। যে লোকটা খাজাবাবাকে স্রষ্টার জায়গায় বসিয়ে দিয়েছে তার হাত বেধে, মুখে স্কচটেপ মেরে রাখলেও সে মনে মনে বলবে ‘খাজাবাবা বাঁচাও’। এইজন্য আমরা তাকে বোঝাই যে খাজা বাবা মরে মাটিতে মিশে গেছে, সে তোমার কিচ্ছু করতে পারবেনা; তুমি বরং তোমার সেই স্রষ্টাকে ডাক যিনি তোমাকে আর তোমার এই বিপদকে সৃষ্টি করেছেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে খুনের চেয়ে শিরক অনেক বড় অপরাধ অথচ ইসলামিক আইনে খুনীর শাস্তি মৃত্যুদন্ড অথচ শিরকের কোন শাস্তি নেই। যে শিরক করল সে স্রষ্টাকে অপমান করল, স্রষ্টা যে কারণে তাকে তৈরি করলেন সেই কারণটাই সে মিথ্যা করে দিল। এর শাস্তি দেবেন স্রষ্টা, পরকালে। যে মানুষটা আমার সাথে পাশের বাসায় থাকল, আমার সাথে একক্লাসে পড়ল সে এই অনন্তকাল আগুনে পুড়ে অঙ্গার হবে এটা জেনে চুপ করে বসে থাকা কি একটা বিবেকবান মানুষের জন্য সম্ভব হতে পারে? আমি আমার বিশ্বাস কারো উপর চাপিয়ে দিচ্ছিনা, আমার বিশ্বাসের পিছনের যুক্তিগুলো তুলে ধরছি – এটাতে কেউ কষ্ট পেতে পারে, তার ধর্মবোধে আঘাত লাগতে পারে, কিন্তু সত্য তো এই যে আমি তাকে আঘাত দিতে এ কাজ করছিনা, তার মঙ্গলের জন্যই করছি। ডাক্তার যখন খুব তেতো একটা ওষুধ দেয় সে রোগীর মুখ তেতো করবার জন্য দেয়না, রোগীকে সুস্থ করবার জন্য দেয়।

আরও দেখুন:  কন্যার দু‘আ!

মজার ব্যাপার হচ্ছে ইসলামকে ভুল বোঝা শুরু হয় এখান থেকেই। আমি যদি কারো বিশ্বাসের ভুল দেখিয়ে দেই তাহলে সে কষ্ট পায়। এখন আমি কেন একজন মানুষকে কষ্ট দেব? আমার প্রিয় বন্ধুকে শত্রু বানিয়ে আমার কি লাভ? এরচে তো এসব ব্যাপারে কথা না বলে পূজায়-ক্রিসমাসে আমার বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়া আমার জন্য বেশী লাভের। ভালমন্দ খাওয়া যাবে, আড্ডা হবে, আনন্দ-ফুর্তি হবে। সবাই বলবে বাহ ছেলেটা কি ভাল! এত ধার্মিক, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, কম বয়সে দাড়ি রেখেছে অথচ কি চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবোধ। তবে কেন আমি ‘যার যার ধর্ম তার তার কাছে’ – এই তত্ত্বকথা ছেড়ে যেচে গিয়ে তিক্ততা ডেকে আনছি, কেন সবার কাছে খারাপ হচ্ছি।

আমার স্রষ্টা আমাকে প্রতিপালন করেন, রক্ষা করেন, আমার অভাবমোচন করেন। আমার কোন অধিকার না থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে এত কিছু দিয়েছেন যে তাকে আমি মেনে নিয়েছি আমার একমাত্র মালিক বা owner হিসেবে, আমার একমাত্র ‘ইলাহ’ বা উপাস্য হিসেবে। স্রষ্টা এ পৃথিবীতে পাঠানোর আগে আমাকে অল্প খানিকটা স্বাধীনতা দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি পরীক্ষা করছেন যে আমি এ পৃথিবীতে কী আমার খেয়াল খুশি মত চলি, না তাঁর আদেশ মত চলি। আমি তাঁর আদেশ মত চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনন্তকালের স্বাধীনতা কিনে নিয়েছি এ পৃথিবীর ইচ্ছার স্বাধীনতা বিক্রি করে।

আমি অনেকের সাথে একটি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। স্রষ্টার আদেশে একজন মানুষ আমাকে ডেকে তুললো। জেগে দেখলাম পুরো বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে কিন্তু সবাই মত্ত এক মরণ ঘুমে। আমি যাকেই ডাকি সেই বিরক্ত হয়। আমি ভাবলাম দুচ্ছাই, খামোকা এদের ডেকে বিরক্ত করে লাভ কি? ঘুম থেকে তো জাগছেই না উলটো আমাকে গালিগালাজ করছে। তারচে নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে পালিয়ে যাই! কিন্তু পারলামনা স্রষ্টার আদেশের কারণে, আমার ইচ্ছা তার ইচ্ছার অধীন করে দিয়েছি সেই কারণে। মানুষকে ডেকে বেড়াতে লাগলাম, যদি আমার ডাকে একটাও মানুষ জেগে ওঠে এই আশায়।

ধর্মের নামে মানুষের সুবিধা মত বানানো নিয়ম কানুনের অনেক বই আছে পৃথিবীতে, আমি সেসবে বিশ্বাস করিনা। আমি প্রমাণ পেয়েছি স্রষ্টা আমাদের মুসলিমদের যে কুর’আন দিয়েছেন, যে সুন্নাহ দিয়েছেন তা অবিকৃত। এর সবচেয়ে বড় একটা প্রমাণ মানুষের তৈরি করা কাগজ-কলম দিয়ে স্রষ্টা এটা সংরক্ষণ করেননি, করেছেন তার নিজের তৈরি করা ‘মেমোরি নিউরণ কোষ’ দিয়ে। এর ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতার কোন জবাব নেই, এর নিরাপত্তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এতে এরর মিনিমাইজেশনের যে এলগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে তা নকল করছে মানুষ ‘নিউরাল নেটওয়ার্ক’ নামের সুপার কম্পিউটিং-এ। আরো ডজনখানেক প্রমাণ আছে, সময় করে বলবো একদিন।

ফেসবুক, ব্লগ বা ই-মেইল আমার কাছে ইসলাম প্রচারের টুল মাত্র। এটা দিয়ে আমি একটা শ্রেণীর কাছে ইসলাম পৌছে দেয়ার চেষ্টা করি। যে শ্রেণীর কাছে ইসলাম প্রচারের জন্য অনেকটা পথ হাটতে হয়, আমি বাধ্য হয়ে হলেও সে শ্রেণীর কাছে হেটে যাই। বিশ্বাস না করলে একদিন চল আমার সাথে। ফেসবুক আমার ফেসবুকিং দিয়ে কত ব্যবসা করল, কত ছেলে ফেসবুকে মেয়েদের ছবি দেখে কত লুল ফেললো তাতে আমার সত্যি আগ্রহ নেই। একটা কলম হাই প্রোফাইল চোরের হাতে থাকলে সে তা দিয়ে কোটি টাকা চুরি করে, আমার মত ছাপোষা মানুষের হাতে থাকলে ইসলামে চুরির শাস্তি নিয়ে একটা লেখা বের হয়। কলমের আর দোষ কী? কলমের ফ্যাক্টরির মালিককে আমি আর দশ জনের মতই দেখি, আমি তার ভাল চাই বলে তাকে মন্দ ঘুম থেকে ডেকে তোলার চেষ্টা করি। তবে কলম ব্যবহারের জন্য যে আমার কলম তৈরি করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা দেখিনা। যতদিন কলম কিনতে পাওয়া যায় ততদিন কিনে নেব, বাড়তি সময়টা ভাল কাজে ব্যয় করব। কোনদিন যদি দরকার হয় তবে কলম বা তার চেয়ে ভাল কিছু তৈরি করে নেব, সে সামর্থ স্রষ্টা দিয়েছেন। আমাদের কাছে কাজ করাটা জরুরী, সৎ ভাবে করাটা জরুরী; কি দিয়ে করলাম তা জরুরী না।

আরও দেখুন:  আড়ালে তার সূর্য হাসে

শেষ কথা, আমার ফ্রেন্ডলিস্টে নাস্তিক আছে, এগনোস্ট আছে, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান আছে, অনেক লম্বা স্প্রেকটামের নানা ধরণের মুসলিম আছে। অনেকের অনেক আচরণ কষ্ট দেয়। যাদের জন্য বেশি ফিল করি তাদের ঘুম থেকে ডাকার চেষ্টা করি। অনেকে উলটো আমাকেই মুছে দিয়েছে। আমার কি যায় আসে? আমি তো সবাইকে খুশি করতে পারবোনা, তাই স্রষ্টাকেই খুশি করতে কাজ করি।

যে মানুষটা ঘুষ খায় সে কিন্তু জানে যে কাজটা খারাপ। কিন্তু তাকে বারণ করলে সে এত এত যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে দেবে এটা ছাড়া তার আর কোন গতি নেই। সে ঘুষ ছাড়বে এমন সম্ভাবনা শুন্যের কাছাকাছি, মধ্যখান থেকে যে বারণ করেছিল তারই বিপদ হবে। যে ছেলেটা পড়াশোনা ছেড়ে বাবার টাকায় গাঁজা খায় সেও জানে কাজটা কতটা অনুচিত। কিন্তু যদি কোন কল্যাণকামী বন্ধু এ অন্যায়টা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সে হয় মার খাবে নয়তো অন্তত বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। বানিয়ে বলছিনা, নিজের জীবন থেকে নিয়ে বলছি। কিন্তু বন্ধুকে সিগারেট ধরিয়ে দিয়ে সম্প্রীতি চাওয়া মানুষ আমি নই। যে সত্যটা দরকারী তা আমি বলবোই, সেটা যতই তিতা হোকনা কেন। এটাই আমার নীতি, এ আদর্শ ইসলাম আমাকে শিখিয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে অনেক কষ্ট পেলেও আমি প্রতিদান কখনো চাইনা। আমি যা প্রচার করি তার বিনিময়ে আমি টাকা চাইনা, ক্ষমতা চাইনা। মানুষকে জোর করে আমার কথা শোনাতে চাইনা। আমি চাই মানুষকে স্রষ্টা যে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন তা যেন সে একটু কাজে লাগায়। কেন মানুষ এল এ পৃথিবীতে, কী তার করা উচিত সেসব নিয়ে যেন একটু ভাবে। ঐ যে মরণঘুম থেকে ডেকে তোলা আরকি!

তুই যদি আমাকে রেসিস্ট বলিস, এক্সট্রিমিস্ট বলিস বলতে পারিস, আমি তোকে কাফির বলবোনা। আমি তোর করা অন্যায়টাকে ঘৃণা করব, তোকে ঘৃণা করবোনা।

– শরীফ আবু হায়াত অপু

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button