জীবনের বাঁকে বাঁকে

ডেভিল’স এডভোকেট

রোমের ক্যাথলিক চার্চের অনেকগুলো ‘দৈবিক’ কাজের মধ্যে একটা হল মহৎ মৃত খ্রীষ্টানদের ‘সাধু’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া। এখন বললেই তো একটা মানুষকে ‘সাধু’ ঘোষণা দেয়া যায় না, কিছু নিয়ম-নীতি তো রক্ষা করতে হয়। চার্চ কাউকে দায়িত্ব দিত মৃত মানুষটির দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করতে, তার অলৌকিক কাজ কর্মের ভূয়াত্ব প্রমাণ করতে। যে লোকটিকে এই অপ্রিয় কাজ করার দায়িত্ব পেত, তার নাম হত ডেভিল’স এডভোকেট। সাধারণ কথ্য ইংরেজিতে অবশ্য কথাটার মানে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে আপন মতের বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক পেশ করা।

আমার জীবনটাকে তিনটা মোটা দাগে ভাগ করা যায়, ২৩-২৪ বছর বয়স অবধি আমি ইসলাম বুঝতাম না তাই গতানুগতিকভাবে মানতাম। তারপরে আল্লাহ আমাকে ইসলাম শেখা ও বোঝার সুযোগ দিলেন। বর্তমান পর্যায়ে এসে দেখলাম ইসলাম বুঝে চুপ করে মানার উপায় নেই – কারণ ইসলাম মানতে হলে সেটার পক্ষে কথা বলতে হবেই। সমস্যাটা হল, যখন আমার কথাগুলো ইসলামের পক্ষে হবে, অবধারিতভাবে সেটা অন্য কোন কিছুর বিপক্ষে হবে। আদর্শের ক্ষেত্রে বিরোধী মতকে সহ্য করতে না পারার বৈশিষ্ট্যটা মানুষের চরিত্রের গভীরে প্রোথিত আছে। আমারও আছে। কিন্তু ইসলাম মানার কারণে অসহনশীলতাটাকে আমি উদ্দাম ছেড়ে দিতে পারিনা, আমার প্রকাশভঙ্গিকেও ইসলামের অনুগতই করতে হয়। ফলে কেউ আমাকে নোংরা একটা গালি দিলেও আমি তাকে আরেকটা নোংরা গালি দিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারি না, অপমানের জবাবে অপমান করতে পারি না। এহেন পরিস্থিতিতে আবিষ্কার করলাম আমার বেশ কাছের কিছু মানুষ কিভাবে জানি অনেক দূরে সরে গেল। যাদের যুক্তিবোধ, সততা এবং মেধাকে আমি সম্মান করতাম তারা এমন আচরণ করতে থাকল যার কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। আমার একসময়ের আদর্শিক সহযোদ্ধারা রাশি-রাশি ঘৃণা প্রকাশ করতে লাগল কিন্তু খোলা মন নিয়ে সুস্থ আলোচনায় বসল না। মজার ব্যাপার হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি’ থেকে হঠাৎ ‘রাজাকার’ কিংবা ‘উগ্র চরমপন্থী’ আমি একা হইনি, এরকম ছাপ আরো অনেকের গায়েই লাগতে দেখেছি।

বাংলাদেশের সুশীল ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ অপছন্দনীয় কথা বলার দোষে ‘সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের’ ছাপ মেরে দেবার আগে যদি একটু ভদ্রতা করে একজন ডেভিল’স এডভোকেট নিয়োগ দিত তাহলে কেমন হত? সুশীল সমাজের গড’স এডভোকেট, সচলের সাথে ডেভিল’স এডভোকেট মুসলিমের এই কথোপকথনটা কাল্পনিক হলেও সত্য খোঁজার একটা চেষ্টা মাত্র –

সচল: তুমি ধর্মান্ধ মৌলবাদী সন্ত্রাসী।

মুসলিম: যদি দয়া করে আমার করা অপরাধের একটা তালিকা দিতেন – কতগুলো খুন, জখম, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই করেছি তা জানালে আমার সন্ত্রাসী সত্ত্বাটাকে আবিষ্কার করতে পারতাম।

সচল: তুমি আমাদের স্বর্ণশাসনের ভয়ে কিছু করছ না, সুযোগ পেলে ঠিকই করতে।

মুসলিম: কেউ যদি কবিতা না লেখে, তবে ভবিষ্যতে লিখলেও লিখতে পারে – এই যুক্তিতে কি তাকে কবি বলা যায়? বাবা বাচ্চাকে হুমকি দেয় – ‘মিথ্যা বললে একদম জানে মেরে ফেলব’, তার মানে কি বাবা বাচ্চার খুনী?

সচল: তুমি ইরাক আর আফগানিস্থানের তালিবানদের জিহাদ সমর্থন কর না?

মুসলিম: আপনি এ দেশের মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করেন না? ৭১ সালে পাকিরা এসে আমার মামাকে মারল, বাড়ির মেয়েদের তুলে নিয়ে গেল, যাওয়ার সময় ঘরে আগুন দিয়ে গেল তখন আমার মামা-চাচারা যুদ্ধ করেছেন। মানুষরূপী শয়তানরা যখন পাকিস্তান থেকে ঝাপিয়ে পড়ে তখন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নাম হয় মুক্তিযুদ্ধ আর যখন আমেরিকা বা ভারত থেকে আসে তখন রুখে দাঁড়ালে সেটা হয় সন্ত্রাস? কেউ যদি দেশের মানুষকে সাম্রাজ্যবাদীদের গোলামী থেকে মুক্ত করতে, বোনদের ইজ্জত বাঁচাতে এবং নিজের জীবনের বিনিময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবে বলে যুদ্ধ করে সেটা কেন সন্ত্রাস হবে? আফগান-ইরাকিরা কি আমেরিকায় গিয়ে আমেরিকানদের মারছে? ওদের দেশ দখল করতে এসেছে, ওরা মেরে তাড়িয়ে দিচ্ছে – এটা সন্ত্রাস কেন হবে? ভিয়েতনামীরা তো একই কাজ করেছে, তাদের তো কেউ সন্ত্রাসী বলেনি।

আরও দেখুন:  খেলাপ্রিয় তৌহিদি জনতা

সচল: বড় বড় কথা কম বল, তুমি নিজেই তো কাফিরদের দেশ আমেরিকায় গিয়ে বসে আছ।

মুসলিম: আমি তো এখানে বোমাবাজি করছি না। কাফিরদের কাদের সাথে কিরকম ব্যবহার করতে হবে, কতটা শত্রুতা দেখাতে হবে এবং কিভাবে দেখাতে হবে সেটা ইসলাম আমাকে শিখিয়েছে। ইসলাম ক্ষেত্রবিশেষে কাফিরদের দেশে যাওয়ার, তাদের সাথে ব্যবসা করার, তাদের কাছ থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শেখার অনুমতি দিয়েছে। যে তাগুত সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলি তাদের দয়া নেই না। কাজ করি-পড়াই, যা বেতন পাই তা দিতে থাকি-খাই। অন্তত মুখে সাম্যবাদের বুলি ছেড়ে তলে তলে ডিভি লটারির জন্য আবেদন তো করি না।

সচল: এই যে তোমার কথাতেই প্রমাণ হয়ে গেল তুমি সাম্প্রদায়িক, কাফিরদের ঘৃণা কর।

মুসলিম: আপনি কি ঘুষখোরদের ভালবাসেন?

সচল: ঘুষখোরদের ভালবাসার কি আছে?

মুসলিম: আপনিও সাম্প্রদায়িক, ঘুষখোর সম্প্রদায়কে আপনি ঘৃণা করেন।

সচল: ঘুষখোর আর অমুসলিম এক হল কিভাবে? ঘুষ খাওয়া অন্যায়, অমুসলিম হওয়া নয়।

মুসলিম: ন্যায়-অন্যায় কি আপনি ঠিক করবেন? আপনার দৃষ্টিতে ঘুষ খাওয়া অন্যায়, অন্য অনেকের কাছেই ঘুষ খাওয়াতে দোষ নেই।

সচল: বললেই হল ঘুষ খাওয়াতে দোষ নেই। কে বলেছে ঘুষ খাওয়াতে দোষ নেই?

মুসলিম: ঘুষখোরদের দৃষ্টিতে ঘুষ খাওয়া খারাপ না, খারাপ হলে তারা তো খেত না।

সচল: ঘুষখোররা বললেই হবে? ওদের কি ঘুষ খেতে চাকরি দেয়া হয়েছে? কাজ করবে – পয়সা পাবে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতে তো চাকরি দেয়া হয়নি।

মুসলিম: অমুসলিমরা বললেই হবে যে কাঠের ক্রুশ ক্ষমা করে দেয়, মাজারের পীর বিপদ থেকে বাঁচায়, মাটির মূর্তি বিদ্যা দেয়! পৃথিবীতে পাঠান হয়েছে এক আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য, মরা মানুষ আর জড় বস্তুকে আল্লাহর জায়গায় বসানোর জন্য না।

সচল: কিন্তু এটা তো তোমাদের বিশ্বাস, তারা অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে। তাদের বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার তোমার নেই।

মুসলিম: ঘুষখোরেরা মনে করে তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করে দেশ ও সমাজের উপকার করছে, তাদের বিশ্বাসেও আঘাত করার অধিকার আপনার নেই।

সচল: অবশ্যই আছে, যেটা অন্যায় – সেটার বিপক্ষে অবশ্যই আমি কথা বলব।

মুসলিম: আমারও তাহলে অধিকার আছে আমি যেটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জঘন্য পাপ মনে করি সেটার বিরুদ্ধে কথা বলার।

সচল: শোন এটা সেকুলার দেশ, কোন ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার তোমার নেই। এখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে – কেউ বাধা দিতে পারবে না।

মুসলিম: কই, এই যে আপনি বাধা দিচ্ছেন।

সচল: আমি কোথায় বাধা দিলাম? আমি তো তোমাকে বাসায় নামায পড়তে মানা করিনি, দান খয়রাত কর, আল্লাহু আল্লাহু জিকির কর। খালি মুখে দাড়ি রেখে জংলি সেজে থাকা আমার ভাল লাগে না। আর এই ঢলঢলা কাপড় আমার কাছে খুব খ্যাত লাগে। আর অসহ্য লাগে মেয়েদের ঢেকেঢুকে চলা। ইসলামের এই সব রক্ষণশীলতা খুবই বিরক্তিকর।

আরও দেখুন:  ফিসফিস

মুসলিম: সর্বনাশ, ইসলাম তো একটা জীবন বিধান। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে ইসলাম ঘুমাতে যাওয়ার লুঙ্গি, বাইরে আসার সময় ওটা খুলে আলনায় ভাজ করে রেখে আসতে হবে। সামাজিক জীবনে ইসলাম অবশ্যই পালন করতে হবে। আর ইসলামের কথা মানুষকে বলতে হবে, মিথ্যা মাবুদের ভিত্তিহীনতা অবশ্যই মানুষকে জানাতে হবে। তাদের সাবধান করতে হবে, তারা যদি আল্লাহর সাথে কাউকে শির্ক করে তবে তার শাস্তি অনন্তকালের আগুন। আর যদি তারা এক আল্লাহর ইবাদাত করে রসুলের দেখান পদ্ধতিতে তবে তারা অসীম সময়ের জন্য সুখ-শান্তিতে থাকবে – এ কথাগুলো বলা আমাদের জন্য ফরয, অবশ্য কর্তব্য। এটা ইসলাম পালনের অংশ।

সচল: এই যে আবার প্রমাণ হয়ে গেল তোমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শত্রু, তোমরা অসহনশীল।

মুসলিম: মিথ্যা ইলাহের বিরুদ্ধে কথা বলা যদি অসহনশীলতা হয় তাহলে, তাহলে মুসলিম হিসেবে ইসলাম প্রচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া কি ধরণের সহনশীলতা?

সচল: শোন, আমি জানি তুমি আসলে কি চাও। তুমি ১৪০০ বছরের পুরনো বর্বর শরীয়াহ আইন চালু করতে চাও।

মুসলিম: তাহলে সমাজ চলবে কোন আইনে? তিনশ বছর আগের ইংরেজদের আইনে? যাদের আইনে ছিল নীল চাষ অস্বীকারকারী কৃষকদের ধরে নিয়ে পেটালে, তাদের স্ত্রী-কন্যাদের ধর্ষণ করলেও ইংরেজ সাহেবদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। যে ইংরেজরা এদেশে বিশ্বাসঘাতকতার বীজ বুনেছিল, যারা এদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করেছে – তাদের আইনে? যারা অর্ধেক পৃথিবী নির্লজ্জভাবে শোষণ করেছে এবং শোষণ করাকে আইন বানিয়ে জায়েজও করেছে সেই আইনে? সেই আইনে যাতে খুনিকে করদাতাদের টাকায় বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো হয়; আর যে খুন হল, তার পরিবার না খেতে পেয়ে মারা যায়?

সচল: না, আমরা নিজেরা আমাদের আইন করব।

মুসলিম: বর্তমান সংসদের দশ জন সৎ রাজনীতিবিদের নাম বলেন।

সচল: হাঃ হাঃ, ‘সৎ’ রাজনীতিবিদ! ভাল কৌতুক করলে।

মুসলিম: আইন পাশ হতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। যারা নিজেরা চুরি করে তারা করবে চুরির বিরুদ্ধে আইন? যারা সংসদে না এসেও ঠিকই বেতন নেয়, দামী গাড়ীর জন্য লাইন দেয় তারা করবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন? যাদের ক্যাডারবাহিনী দিনে দুপুরে চাঁদাবাজি করে তারা করবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইন? যারা পুলিশ লেলিয়ে মানুষ পিটিয়ে মারে তারা করবে মানুষ হত্যার আইন? তারপর সেই আইনে সই করবে কে? ‘মহামান্য’ রাষ্ট্রপতি? সেই রাষ্ট্রপতি যে তিনটা খুনের শাস্তি পাওয়ার পরেও ফাঁসির আসামীকে নিজের দলের হওয়ায় ক্ষমা করে দেয়?

সচল: আস্তে আস্তে মানুষ সচেতন হবে। ভাল মানুষেরা ক্ষমতায় যাবে।

মুসলিম: সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে। পকেটে যার টাকা নাই, সংসদে তার জায়গাও নাই। মানুষ কাল টাকা কামাই করবে আর সংসদে এসে সেটা সাদা করার ব্যবস্থা করবে। গরীব মানুষকে চুষে আরো গরীব বানাবে। ভোটের সময় দু’শ টাকা ধরিয়ে দেবে সেই লোকটার হাতে যে দু’দিন ধরে না খেয়ে আছে। তিন বেলা বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে পেট পুরে ভাত খেতে পারবে বলে সে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবে কালো টাকার মালিককেই। আর এদিকে আপনার মত মানুষেরা বড় বড় কোম্পানির চাকরি করবেন নাইলে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে যাবেন। আর মায়াকান্না কাঁদবেন – দেশ গেল, দেশ গেল। কেন যে আমরা এদের ভোট দেই।

আরও দেখুন:  জাতের বড়াই

সচল: আমাদের সিস্টেমটা বদলাতে হবে।

মুসলিম: জ্বি, আমরাও সেই কথা বলছি – মানুষের বানান গণতন্ত্রের মিথ্যা সিস্টেম ছেড়ে আল্লাহর দেয়া সিস্টেম আনতে হবে। যেখানে নেতারা আল্লাহকে ভয় আর মানুষের সেবা করবে। জনগণও আল্লাহকে ভয় করবে। কাউকে কারো বেডরুম পাহারা দিতে হবে না। পরকালে শাস্তির ভয়ে কেউ কারো জীবন বা সম্পদের উপরে হামলা করবে না।

সচল: গণতন্ত্র বাদ দিয়ে মানে? তুমি দেশটাকে ইসলামী রাষ্ট্র বানাতে চাও নাকি?

মুসলিম: আমি আমার সহ সকল মানুষের জীবনে ইসলাম কায়িম করতে চাই। সমাজ বা রাষ্ট্র সেটারই একটা অংশ, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য না। ক্ষমতা নিয়ে সরকারে গিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা আমাদের নাই। আমরা চাই যে রাজনীতিবিদেরা ইসলাম বুঝে নিজেদের বদলে ফেলবে। মেজর আর জেনারেলরা ইসলামের সৌন্দর্য আর আত্মত্যাগ বুঝে নিজেরাই একটা মুসলিম সেনাবাহিনী গড়ে তুলবে। সাংবাদিকরা ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করবে। শিক্ষকরা বিজ্ঞান আর ব্যবসার পাশাপাশি ইসলাম শিখবে, ছাত্রদের শেখাবে। ব্যবসায়ীরা সুদ ছেড়ে দেবে, ঘুষ দেয়া বন্ধ করবে। আমরা মানুষের পরিবর্তন চাই না, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন চাই।

সচল: মিথ্যা কথা। তুমি হিজবুত তাহরির, তুমি শিবির।

মুসলিম: আপনি কি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া সমর্থন করেন?

সচল: অবশ্যই! এটা আমাদের জাতীয় মর্যাদার ব্যাপার।

মুসলিম: আপনি তাহলে জামায়াতে ইসলামি করেন।

সচল: কে? আমি? ছি! ছি! এ বড় স্পর্ধা তোমার!

মুসলিম: দেখেন আগের সরকারের জামায়াতে ইসলামির মন্ত্রী শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছে। আপনি সেটা সমর্থন করেন মানে আপনি জামাত করেন।

সচল: কি পাগলের যুক্তি! ওদের একটা ঠিক কাজ সমর্থন করা মানে ঐ দল করা হল কিভাবে?

মুসলিম: তাহলে আপনার যুক্তিটাও পাগলের যুক্তি, হিজবুত তাহরির ইসলামি আইন চায়, আমিও চাই, তার মানে আমি ঐ দলের সদস্য? তাহলে আমাকে এ রকম শ’খানেক তথাকথিত ইসলামিক দলের সদস্য হতে হবে যারা একে অপরকে দেখতে পারেনা। আমি মুসলিম। শিবির/তাবলীগ/হিজবুত তাহরির – কোন কিছুই না। শুধুই মুসলিম।

সচল: আরে মুসলিম তো সবাই, এই আমিও গত ঈদে নতুন পাঞ্জাবি পড়ে নামায পড়তে গেছি।

মুসলিম: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর হিসেবে মুসলিম অনেকেই কিন্তু আল্লাহর হিসেবে মুসলিম কারা সেটা আল্লাহর কাছ থেকে শুনে নিন –

وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلاً۬ مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَـٰلِحً۬ا وَقَالَ إِنَّنِى مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ

And who is better in speech than he who [says: “My Lord is Allâh (believes in His Oneness),” and then stands firm (acts upon His Order), and] invites (men) to Allâh’s (Islâmic Monotheism), and does righteous deeds, and says: “I am one of the Muslims.” [সুরা ফুসসিলাত, ৪১:৩৩]

আল্লাহ যেন আমাদের সত্যিকার মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ দেন। আমিন।

– শরীফ আবু হায়াত অপু

১৫ই রবিউস সানি, ১৪৩৩ হিজরি

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button