বিবিধ প্রশ্নোত্তর/ফাতাওয়া

‘আল্লাহ্র নূরে নবী এবং নবীর নূরে সারা জাহান সৃষ্টি হয়েছিল?

প্রশ্ন: ‘আল্লাহ্র নূরে নবী পয়দা এবং নবীর নূরে সারা জাহান পয়দা’ এই উক্তিটি কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ্র আলোকে কিরূপ?

উত্তর : খ্যাতনামা ছাহাবী হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর বরাতে রাসূল (ছাঃ)-এর নামে উক্ত মর্মে জাল হাদীছ রটনা করা হয়েছে। হাদীছটি নিম্নরূপ:

عن جابر بن عبد الله بلفظ قال قلت : يا رسول الله ، بأبي أنت وأمي ، أخبرني عن أول شئ خلقه الله قبل الأشياء . قال : يا جابر ، إن الله تعالى خلق قبل الأشياء نور نبيك من نوره ، فجعل ذلك النور يدور بالقدرة حيث شاء الله ، ولم يكن في ذلك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا نار ولا ملك ولا سماء ولا أرض ولا شمس ولا قمر ولا جني ولا إنسي الخ-

অনুবাদ : হযরত জাবের (রাঃ) বলেন যে, আমি একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, হে রাসূল! সকল বস্তু সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ সর্বপ্রথম কোন বস্তু সৃষ্টি করেছিলেন? তিনি বলেন, হে জাবের! নিশ্চয়ই সকল বস্তু সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ স্বীয় নূর হ’তে তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেন। তারপর সে আল্লাহ্র ইচ্ছামত স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করতে থাকল। যখন লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফিরিশতা, আসমান, যমীন, সূর্য, চন্দ্র, জিন, ইনসান কিছুই ছিলনা। অতঃপর যখন আল্লাহ মাখলূক সৃৃষ্টি করতে ইচ্ছ করলেন, তখন ঐ নূরকে চার ভাগে ভাগ করলেন। এক ভাগ দিয়ে কলম, ২য় ভাগ দিয়ে লওহ, ৩য় ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন। অতঃপর ৪র্থ ভাগকে চার ভাগে ভাগ করে প্রথম ভাগ থেকে আসমানসমূহ, দ্বিতীয় ভাগ থেকে যমীনসূহ, তৃতীয় ভাগ থেকে জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন। অতঃপর চতুর্থ ভাগকে পুনরায় চার ভাগে ভাগ করে প্রথম ভাগ থেকে মুমিনদের চোখের জ্যোতি, দ্বিতীয় ভাগ থেকে তাদের হৃদয়ের জ্যোতি, তৃতীয় ভাগ থেকে তাদের ভালবাসার জ্যোতি সৃষ্টি করেন। তার তা হ’ল তাওহীদ ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। {মাওয়াহেবুল লা-দুনিয়াহ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকী আয-যুরক্বানী মালেকীর ভাষ্যসহ (মিসর : আযহারিয়া প্রেস, ১৩২৫হিঃ) ১ম খণ্ড পৃঃ ৪৬-৪৭; গৃহীত: আবু মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন, ফিরকাবন্দীর মূল উৎস (ঢাকা: রকেট প্রেস, তাবি) ১ম খণ্ড পৃঃ ২০-২২}।

আরও দেখুন:  স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য স্ত্রীর মধ্যে কি কি গুণ থাকা আবশ্যক?

অগ্নিউপাসক মাজূসীগণ ইসলাম গ্রহণ করে তাদের লালিত আক্বীদা বিশ্বাসের আলোকে জাল হাদীছ সমূহ তৈরী করে মুসলমানদের লালিত তাওহীদ বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করতে চেয়েছে। ইরানী মাজূসীগণ নূরকে সকল সৃষ্টির আদি বলে বিশ্বাস করে। অত্র জাল হাদীছের মাধ্যমে তারা সকল মাখলুক্বের আদি হিসাবে নূর-কে সাব্যস্ত করেছে এবং সকল সৃষ্টিকে আল্লাহ্র অংশ হিসাবে দেখাতে চেষ্টা করেছে। ভারতীয় অদ্বৈতবাদ মূলতঃ ইরানী সর্বেশ্বরবাদ (ঘবড়-ঢ়ষধঃড়হরংস) থেকে ধার করা দর্শন। সেকারণ হিন্দুরা বলেন, সকল সৃষ্টিই ব্রম্মার অংশ। পৃথিবী হ’ল ব্রম্মাণ্ড। তাদের থেকে ধার করে মুসলমান মারেফতী ছূফী-ফকীরেরা ‘খোদার নূরে মুহাম্মাদ পয়দা, মুহাম্মাদের নূরে সারা জাহান পয়দা’ বলে প্রচার করে। তাদের দৃষ্টিতে ‘আহমাদ ও আহাদে’ কোন পার্থক্য নেই। মূলত: এগুলি সবই শিরকী আক্বীদা। পবিত্র কুরআনে রাসূলকে ‘বাশার’ এবং ‘মাটির তৈরী’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে (কাহাফা ১১০, ইস্রা ৯৩, আম্বিয়া ৩৪, হিজ্র ২৮ ইত্যাদি)। বিগত যুগের কাফেররা মানুষ নবীর বদলে ফিরিশতা বা নূরের নবী চেয়েছিল (ইস্রা ৯৪-৯৫) আজকের যুগের তথাকথিত ছূফীরা নূরের নবী কল্পনা করে থাকে। এদের ধোকা থেকে দূরে থাকা কর্তব্য।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button