পরিবার ও দাম্পত্য

ভালাে বর পেতে হলে…

বিয়ের পূর্বে ছেলে মেয়ে উভয়ের রুচি-পছন্দ, চিন্তা, দর্শন ইত্যাদি বিবেচনা করা ভবিষ্যৎ দাম্পত্যজীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে ছেলেরা যদিওবা তাদের চাহিদানুযায়ী মেয়ে খুঁজে নেয়ার ব্যাপারে কিঞ্চিত স্বাধীনতা উপভােগ করে থাকে; মেয়েদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ অভিভাবক মেয়ের চাহিদা, প্রত্যাশা ও পছন্দের ব্যাপারটা সেভাবে আমলে নেন না। অথচ ইসলাম উভয়কে পছন্দ করার ও অপছন্দ ব্যক্ত করার অধিকার দিয়েছে। কেননা, ন্যূনতম বুঝাপড়ার মানসিকতা ব্যতিরেকে সংসার সচল রাখা সম্ভব না, সুখী হওয়া তাে সুদূরপরাহত।

শ্রদ্ধেয় বড়ভাই যখন ভালাে বর পাওয়ার বুদ্ধি নিয়ে লিখতে বললেন, তখন মনে মনে হাসলাম। প্রত্যেক মানুষের দুর্বলতা জীবনের কোনাে একপর্যায়ে তার কাছে ফিরে আসে। আমার কাছে ভালাে বর মানে হলাে, যে ব্যক্তি তার সঙ্গিনীর প্রতি বিশ্বস্ত এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী। দাম্পত্য সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষ মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এই দুটির কোনােটিতে ঘাটতি থাকলে সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন। একসময় আমার ধারণা ছিল পৃথিবীতে কোনাে ছেলে ভালাে হয়। তারা বিয়ে হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে চায় না। অল্পতেই নিজের সততা বিকিয়ে দেয়। আমি মন থেকে এমন কাউকে গ্রহণ করার কথা ভাবতে পারতাম না, যে আমার জন্য অপেক্ষা না করে অন্য কারাে প্রতি মােহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। আমার মনে হতাে ব্যাপারটা নতুন বাড়ি আর পুরাতন বাড়ির মতাে। অন্যের ব্যবহার করা বাড়িতে আমি যাব কেন? এই বদ্ধমূল ধারণা থেকে এক সময় বাবা-মাকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলাম। অব্যাহত আলােচনার মাধ্যমে বাবা-মাকে রাজিও করে ফেলেছিলাম । একাকী জীবনের কল্পিত ভাবনাগুলাের সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল।

শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেছি অবশ্য। উনাকে যখন বিবাহপূর্ব সংকল্পের কথা জানালাম, উনি হেসে বললেন, একটা ছেলে খারাপ হয় কার সাথে? একটা মেয়ের সাথেই তাে! তাহলে মেয়েটা ভালাে থাকে কী করে? ছেলেমেয়ে কেউ এককভাবে নয়; বরং উভয়ে সৎ থাকলে প্রত্যেকেই একজন সৎ এবং ন্যায়নিষ্ঠ সঙ্গী পেয়ে লাভবান হতে পারে। আসলেই তাই। জীবনে সবকিছু বুদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য এত সীমিত যে, তা দিয়ে জীবনের জটিলতাগুলাে অনুধাবন পর্যন্ত করা যায় না। সমাধান তাে বহু দূরের ব্যাপার।

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। বুদ্ধি দিয়ে তর্কে জেতা যায়; কিন্তু জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হবার জন্য বিশ্বাস ও সততার বিকল্প নেই। ছলচাতুরী করে হয়তাে একজন বােকাসােকা ভালাে মানুষের সাথে বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া যায়; কিন্তু বিয়ের লক্ষ্য কেবল একজন ভালাে সঙ্গী সংগ্রহ করাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার সাথে সুখে-শান্তিতে সংসার করাই উদ্দেশ্য। বিয়ে এমন একটি সম্পর্ক যেখানে সঙ্গীর কাছ থেকে নিজের স্বরূপ লুকানাের কোনাে উপায় নেই। বুদ্ধি দিয়ে একজন উত্তম সঙ্গী খুঁজে পেলেও তাঁকে ধরে রাখার একমাত্র উপায় সততা ও বিশ্বাস। সুতরাং আমার কাছে ভালাে জামাই পাবার একটি বুদ্ধিই কার্যকর মনে হয়- নিজে সৎ থাকা এবং আল্লাহ তায়ালা এই সততার প্রতিদানে একজন সৎ সঙ্গী মিলিয়ে দেবেন- এই বিশ্বাস রাখা। আমাদের নির্বাচনে ভুল থাকতে পারে, মুরুব্বীরাও ভুল করতে পারেন; কিন্তু যিনি এই বিশ্বের প্রতিপালক তিনিই কেবল এমন একজন উত্তম ও বিশ্বস্ত সঙ্গী মিলিয়ে দিতে পারেন, যার সাথে জীবনযাপন করা সহজ ও উপভােগ্য। আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি, সৎ থাকলে তিনি আমাদের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেই নিবাচন করে দেবেন। ব্যাস, পেয়ে গেলেন আপনার ভালাে বর!

– রেহনুমা বিনতে আনিস


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

Back to top button