নির্বাচিত ফেসবুক স্ট্যাটাস

ভালবাসুন আল্লাহর জন্য

eid live

বেশ কিছু বাংলাদেশি ভাইদের দেখলাম নেটফ্লিক্সের নতুন ছবিটাতে রেটিং এ দশ দিচ্ছেন। সিনেমা থেকে অনেকদিন দূরে। রিভিউ পড়ে মনে হলো, ভারতীয়রা দেবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু একটু সমঝদার বাংলাদেশিরাও এই সিনেমাতে রেটিং ভালো দিচ্ছে কেন?
এটা আসলে অ্যান্টি-এসটাবলিশমেন্ট মানসিকতা থেকে।

বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর যে ইমপ্রেশন মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে এটা তারই প্রতিফলন। খুবই হাস্যকর একটা কাজ, কিন্তু তাও একটা কিছু তো করা – যাতে সোলায়মান সুখনদের মতো মানুষদের প্রচার করা ‘বাঙালি জাত মহান’ – এই ধারণাটাকে আঘাত করা যায়। চেতনার বাবলে যারা আছে তার বাইরেই সবাই জাতীয়তাবাদী প্রপাগান্ডা মেশিনের ওপর বিরক্ত।

সত্যি কথা বলতে, এখন সামাজিক মাধ্যমে ঢের ঢের নীরদচন্দ্র চৌধুরিদের দেখা মেলে যারা দিনে-রাতে আত্মঘাতী বাঙালিদের আঘাত করে যাচ্ছেন।

এর কারণ হিসেবে মনে হয় ছোট বেলা থেকে আমাদের যে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল সেটা দায়ী। দেশাত্মবোধক গান, নাটক, সিনেমা, মুক্তিযুদ্ধকে বাস্তবতা থেকে বের করে পৌরাণিক কল্প-কাহিনীতে পরিণত করা – সবকিছুই দায়ী।

লেবু বেশি কচলালে তিতা হয় আর আমাদের তো চল্লিশ বছরের পুরোনো পঁচা লেবুর বিষাক্ত রস খাওয়ানো হয়েছে। এখনও হচ্ছে।

যে লোকটাকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলাম ‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো’ বলে, সেই ক্লাস সেভেনে থাকতে; আজকে তার ব্যাপারে এতই বিবমিষা যে ইনসাফ করার জন্য নিজের সাথে যুদ্ধ করা লাগে।

এই যে একসময় কাউকে ভালোবাসা, পরে তার আসল চেহারা দেখার পরে নিজেকে প্রতারিত মনে করা এটা থেকে বাঁচার একটা উপায় ইসলামে আছে।

আমি যাকে ভালোবাসি, তাকে যেন আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। অর্থাৎ এমন কাজের জন্য ভালোবাসি যেটা আল্লাহ পছন্দ করেন – যেমন ইসলামের ইলম অন্বেষণ করা, সেটা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, অথবা সত্য কথা বলা, অথবা পাঁচ ওয়াক্ত মাসজিদে গিয়ে সলাত আদায় করা অথবা সুদ থেকে বাঁচার জন্য হারাম চাকরি ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি ওই মানুষটাকে ভালোবাসি কারণ সে ভালো কাজ করে। সে যখন এই ভালো কাজ করবে না, তখন আমি তাকে ভালোবাসব না। যখন সে আবার এই কাজে ফিরে আসবে – তখন আবার আমার ভালোবাসা ফিরে আসবে।

সে যদি এই ভালো কাজের ওপরই মারা যায়, তাহলে আমি মৃত্যুর পরেও তাকে ভালোবাসতে থাকব, তার জন্য দু’আ করতে থাকব যেমনটা আমরা করি শায়খ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহর জন্য।

এই যে ভালোবাসাটা – এটা নিজেই একটা ইবাদাত। যে ইবাদাতের পুরষ্কার অচিন্তনীয়। যেমন হাদিসে কুদসিতে এসেছে –

المُتَحَابُّونَ في جَلالِي، لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ

অর্থাৎ, আমার মর্যাদার ওয়াস্তে যারা একে অপরকে ভালবাসবে, তাদের (বসার) জন্য হবে নূরের মিম্বর; যা দেখে নবী ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন।’

হাদিসটি মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন। সুনানে তিরমিযিতে বর্ণনাটি এসেছে।

এই যে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উর্ধ্বে উঠে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা – এটা সহজ নয় কিন্তু। অনেক সময় আমার পছন্দের দলটি কেউ করছে না বলে আমরা তাকে অপছন্দ করি। একটা মতের অমিল হলেই আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা থেকে খারিজ করে দিই।

যেহেতু একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে এই কাজ করা যায় না, সেহেতু তাকে আমরা ইসলাম থেকেও বের করে দিই যাতে আমার ঘৃণা করাটাকে ইসলামিকভাবে জাস্টিফাই করা যায় এবং আমরা আল্লাহর ওয়াস্তে ঘৃণা করছি – এই আমলের মহানুভবতায় আনন্দ লাভ করতে পারি।

কিন্তু আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা – এই অন্তরের আমলটা এমন মর্যাদা, যাকে নবী এবং শহীদরা ঈর্ষা করবেন – ব্যাপারটার ভার বোঝা যায়? কতটা নিজের নফসের বিরুদ্ধে যেতে হবে? কতবার নিজের ইগোকে কুরবানি করতে হবে? কত কঠিন কাজটা চিন্তা করুন। কঠিন বলেই এর মর্যাদা বেশি।

আল্লাহ যেন আমাদের সাহায্য করেন। তিনি যেন আমাদের সেইসব মানুষদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেন যারা কিয়ামাতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে জায়গা করে নেবে শুধুমাত্র আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরকে ভালোবেসে।

– শরীফ আবু হায়াত অপু

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button