আত্মোপলব্ধিনারী অঙ্গন

মাতৃভাবনা

12.12

সকাল বেলায় উমার পা দুটো একদম আকাশের দিকে উঁচু করে রাখে। ওকে দেখতে তখন উটপাখির মত মনে হয়। মাঝে মাঝে ওর টুইটুই শব্দে ঘুম ভাঙে। পাশে তাকিয়ে দেখি বাবু আপন মনে খেলছে। আমি তাকালে মাড়ি বের করে বিশাল একটা হাসি দেয়। সেই হাসি দেখে আমার অন্তর উথালপাথাল হয়। [আল্লাহুম্মা বারিক লাহু]

সত্যি বলতে কি, সন্তানের সাথে সময় কাটাতে পারাও একটা বিশাল প্রাপ্তি! আমার স্বামী সপ্তাহের একটা বড় অংশ বাইরে কাজ করে কাটায়। তাকে কাজ করতে হয়। কারণ এটা তার ওপর দায়িত্ব। সংসারের ভরণ-পোষণ করার কাজটা ইসলাম তাকে দিয়েছে। সে ছেলের হাসিটা মিস করে। সকাল বেলায় বাবু যখন পা দুটো উঁচু করে উটপাখির মত হয়ে থাকে, সে দৃশ্যটা ওর আর দেখা হয় না। আমি কখনও সখনও মোবাইলে ছবি তুলে রাখি, কখনও ভিডিও করি। কিন্তু সমুদ্রের সামনে দাঁড়ানো আর গুগলে সমুদ্রের ছবি দেখার মধ্যে যেমন আকাশ-পাতাল পার্থক্য, বাবুকে চোখে দেখা আর ছবিতে দেখাও তেমন।

আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক খুশি যে আমাকে পরিবারের ভরণ-পোষণ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় নি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার পরিবারের সাথে পুরোটা সময় কাটাতে পারছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার সন্তানের প্রত্যেকটা মুহূর্তকে উপভোগ করতে পারছি।

একদিন উমার বড়ো হবে। আমরা আজ যেমন বাবা-মায়ের থেকে অনেকেই দূরে আছি, উমারেরও তেমন নিজের একটা সংসার হবে, সন্তান হবে। সেদিন হয়ত উমার চাইলেও আমাকে বেশি সময় দিতে পারবে না। আজকের দিনটা তো আমার!

আজকের দিনটা উমারকে আল্লাহ আমার কাছেই দিয়ে রেখেছেন। আজ তবে কেন ওকে রেখে আমি বাইরে বাইরে ছুটব? যাদের নিতান্তই স্বামী নেই, বা সংসারের ভাত-কাপড় আনতে বাইরে কাজ করতে হয় তাদের কষ্টের কমতি নেই। কিন্তু কয়টা টাকা বেশি ইনকাম করার জন্য, ক্যারিয়ারের জন্য কীসের বাইরে কাজ করা?

আলহামদুলিল্লাহ, বাইরে কাজ না করা আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমি এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি খুশি। বাইরে কাজ করে আমি নিশ্চয়ই কোনো না কোনোভাবে সমাজের উপকার করতে পারব, কিন্তু আমার সন্তানকে আর কেউ মায়ের আদর দিতে পারবে না। মা তো মা-ই!

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে মা বানিয়েছেন! আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ উমারকে আমার কাছে দিয়েছেন। ওর দেখাশোনা আমি না করলে আর কে করবে?

————————-
মাতৃভাবনা
আনিকা তুবা

#রৌদ্রময়ী_প্যারেন্টিং

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আরিও দেখুন
Close
Back to top button