নির্বাচিত ফেসবুক স্ট্যাটাস

সাফল্যের সাথে পড়াশোনা করার প্রয়োজনীয়তাকে আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি

জেএসসি পরীক্ষা চলছে।
স্কুল প্রধান এসে পরিদর্শককে বলে গেছেন, “এরা বাচ্চা – এদের সবধরণের সাহায্য করবেন।”
পরিদর্শককে পরীক্ষা শুরু হবার পর থেকে যে যা প্রশ্ন করছে তিনি সেটার উত্তর বলে দিচ্ছেন।
অনেক ‘বাচ্চারা’ মোজার ভেতর থেকে, পকেট থেকে চিরকুট বের করছে। সেখানে প্রশ্নের উত্তর লেখা আছে।
কোন প্রশ্ন?
যা গতকাল তার মা ফেসবুক থেকে পেয়েছে।
প্রায় সবার কাছেই প্রশ্ন আছে।
————————

ছোটভাই এমপিএইচ করছে একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অবজেকটিভ অংশে পেয়েছে ২০এ ১৯। সাবজেকটিভ অংশে পেয়েছে ৩০ এ ২৯। এহেন ভালো ফলে সে নিজেই অবাক।

প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে মোটের ওপর এটাই নিয়ম। এত টাকা দিয়ে মানুষ পড়ে – খারাপ ট্রানসক্রিপ্ট নিয়ে বের হওয়ার জন্য তো আর না।
————————–

ফল ২০১১। ১২ ক্রেডিট আওয়ার নিয়েছিলাম – পড়ার চাপে কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না।
রবার্ট ভিসালি নিতেন প্রিনসিপালস অফ ভাইরোলজি। প্যাচ-ঘোচ মার্কা অবজেকটিভ। সাবজেকটিভ খাতা দেখতেন খুব ক্রিটিকালি।

একটা পরীক্ষা বেশ খারাপ হয়ে গেল। প্রফেসরকে মেইল করলাম – ইমপ্রুভমেন্ট দেয়া যাবে? প্রফেসর বললেন, তোমার ভালো করার চেষ্টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করছি, কিন্তু আমরা সবাইকে A দেয়ার জন্য ভার্সিটি খুলিনি। ফাইনাল ভালো করে দাও। দেখ, কাভার করতে পারো কিনা।

আমি হুমায়ুন আহমেদ নই। সম্ভবত তিন বা চার মার্কের জন্য A মিস করে ওই কোর্সে B+ পেয়েছিলাম। গ্রেড পয়েন্টের হিসাবে ১২ তে ৯.৯। এই ধাক্কা লাগল একেবারে শেষ সিজিপিএ-তেও। ৪ এ ৩.৯।

মনে মনে একটা আফসোস থাকলেও এটা বুঝি যারা ৪ এ ৪ পেয়েছিল তাদের চেয়ে আমি কম খেটেছি অথবা কম মেধাবী। ওই ৩-৪টা মার্ক এবং ওই প্রফেসরের অনমনীয় অবস্থান যা করেছিল তার নাম গ্রেডিং।
গ্রেডিং মানে পার্থক্যকরণ।
————————-

আমাদের দেশে আমরা খুব সাফল্যের সাথে পড়াশোনা করার প্রয়োজনীয়তাকে ধ্বংস করে ফেলেছি। প্রশ্ন হাতে পাবার পরেও সেটার উত্তরগুলো ‘বাচ্চারা’ শিখে আসতে পারে না। সেটা তাদের লিখে আনতে হয়, তারপর পরীক্ষার খাতায় দেখে দেখে লিখতে হয়।

আরও দেখুন:  মুসলিম জাতি কি শক্তিতে দুর্বল?

আমরা অত্যন্ত দক্ষতায় মেধা বা পরিশ্রমের ভিত্তিতে পার্থক্য করার সব সিস্টেম ধ্বংস করে ফেলেছি। এখন সেই এগিয়ে থাকবে যার বাবা ক্ষমতায় অথবা যার কাছে কালো টাকা আছে।

এটুকু হলেও হতো।

আমরা সাফল্যের সাথে ভালো এবং মন্দের মধ্যে পার্থক্যটাকেও ধ্বংস করে ফেলেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নকল করাকে উদ্বুদ্ধ করে যান। পরীক্ষার হলে পরিদর্শক নকল ঠেকাবার বদলে উত্তর বলে দেন।

যে ছেলে বা মেয়েটা বাসা থেকে নৈতিকতা শিক্ষা পেয়ে এসেছে সে দেখছে সৎ থাকার ফলে তার পরীক্ষার ফল অন্যদের চেয়ে খারাপ হচ্ছে।

ছোট থেকে পড়েছি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ডকে সালফিউরিক এসিডে গুলে অ্যালকালি ট্রিটমেন্ট করে জেলাটিন বানিয়ে ফেলা হলো মাত্র একটা যুগে।

চেয়ে চেয়ে দেখলাম। চুপ করে দেখে গেলাম। হাত দিয়ে ঠেকানোর ক্ষমতা তো একেবারেই নাই। গুম হয়ে যেতে পারি তাই কাউকেই কিছু বলতেও পারলাম না।

তবে অন্তরে ঘৃণা করে গেলাম। যারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিল, একটা প্রজন্মের নৈতিক চরিত্রকে ধ্বসিয়ে দিল তাদের যেন আল্লাহ কিয়ামাতের দিন ধ্বসিয়ে দেন।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button