নির্বাচিত ফেসবুক স্ট্যাটাস

চাইতে হবে কার কাছে?

চাইতে হবে কার কাছে?
শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে।
যা মানুষ দিতে পারে তা অবশ্য মানুষের কাছেও চাওয়া যায়, কিন্তু তাতে কিছু ঝামেলা রয়েছে। যেমন মানুষের কাছে ছোট হতে হয়। সে ইচ্ছে হলে দিতে পারে, ইচ্ছে না হলে দেবে না। হতে পারে সে দেওয়ার পরে কথা শোনাল।
তাওহীদের মৌলিক এই ধারণা – যে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে চাইতে হবে – এটা আমরা পড়ি কিন্তু বুঝি না।
যেমন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও তার স্ত্রীদের কাছে খাবার চাইতেন। থাকলে, আলহামদুলিল্লাহ, না থাকলেও আলহামদুলিল্লাহ। কখনও তিনি সিয়ামের নিয়ত করে ফেললেন। কোনোদিন ক্ষুধায় পাথর বাধলেন। কখনও খাবারের খোঁজে ঘর থেকেই বের হয়ে গেলেন। তাঁর চাওয়া এবং না পাওয়ার মাঝে দ্বন্দ্ব ছিল না।
এদিকে আমরাও চাচ্ছি সকালে অফিসে যাওয়ার আগে স্ত্রী যেন নাস্তা দেয়। যদি না দেয় তাহলে আমরা ক্ষুব্ধ হচ্ছি।
ওদিকে স্ত্রী চাচ্ছেন স্বামী অফিস থেকে ফিরে যেন তাকে সময় দেন। যদি স্বামী না দিতে পারেন, স্ত্রী ভেবে নিচ্ছেন স্বামী তার চাহিদার দিকে নজর দিচ্ছেন না।
এটা নিয়ে আস্তে আস্তে মনোমালিন্য হবে, সেটা বাড়বে। একসময় ঝগড়ায় রূপ নেবে।
এ ক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখার উপায় কী?
উপায় হচ্ছে চাহিদা কমিয়ে আনা। আমার যা চাওয়ার আল্লাহর কাছে চাই। আল্লাহই দেবেন। মানুষের মাধ্যমেই হয়ত দেবেন। কিন্তু মানুষের কাছে না চাই।
এতে সুবিধা হচ্ছে আশা না থাকলে আশাভঙ্গের বেদনা থাকে না।
আপনি ধরেই নিন – আপনার স্ত্রীর ঘুম একটু বেশি – সে আপনার ডাকে সবসময় উঠবে না।
আপনি মেনে নিন – আপনার স্বামী একটু ঘরকুণে ধাঁচের; সে আপনাকে নিয়ে বেড়াতে বের হবে না।
আপনার স্ত্রী বা স্বামী আপনাকে যাই দিচ্ছে – তাতেই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন – আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দেবেন।
আপনি যা পাচ্ছেন তা পেয়েই ধন্যবাদ দিন। ধন্যবাদ পেলে খুশি হয় না এমন মানুষ নেই।
আর আপনি যা পাচ্ছেন না তা আল্লাহর কাছে চান। নিজে একটু কষ্ট করুন। আল্লাহর কাছ থেকে সবরের প্রতিদান পাবেন। সংসারেও শান্তি থাকবে।
আপনি জীবনসঙ্গীর কাছে যা বার বার চেয়েও পাচ্ছেন না – সেটা নিয়ে জেদাজেদি, ঝগড়া-ঝাটি করে সেটা আদায় করতে পারবেন না। মাঝখান থেকে অশান্তি বাড়বে।
বলতে পারেন, আপনার দাবী তো ন্যায্য। ন্যায্য দাবীর কথাই হচ্ছে; অন্যায্য কিছু চাওয়া তো অন্যায়। আমরা তো দুনিয়াতে আছি, জান্নাত না যে যা-ই চাবো তা-ই পাবো। সব কামনা পূর্ণ হলে তো পৃথিবী আর পরীক্ষার জায়গা থাকত না, জান্নাত হয়ে যেত!

আরও দেখুন:  কাজের লোক নেই?

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button