জীবনের বাঁকে বাঁকে

যে যেভাবে দিন কাটায়, তার শেষ মুহূর্তটাও তেমনই হওয়ার কথা…

তুমি সারাবছর হিজাব করলে না, টাইট পোশাক পরে ঘুরে বেড়ালে–মৃত্যুর সময় কি পর্দার মধ্যে থাকতে পারবে? সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এক মেয়ের কথা শুনেছি, সে জিনস-টপস পরতো। কমবয়সী মেয়ে। হঠাৎ মারা গেলো। তার মরদেহ থেকে প্যান্ট টেনে খোলা গেলো না। টাইট জিনস এমন সেঁটে গেছে শরীরের সাথে। ব্লেড দিয়ে কেটে বের করা লাগলো।

এই মেয়ের সাথে কি তার তুলনা চলে যে নারী আজীবন নিজেকে মুড়ে রেখেছিল? যে সবসময় ঘরের বাইরে কিংবা পরপুরুষের সামনে যাবার সময় হিজাব করেছে, তার মৃত্যুটা কি হিজাবের মধ্যে হবে না? তাকে কি মৃত্যুর সময় বেইজ্জত হতে হবে? ওয়াল্লাহি, কখনোই না। আল্লাহ তার সম্মান রক্ষা করবেন। তার মৃত্যুর পরেও তাকে হেফাজত করবেন।

যে সারাদিন গান শোনে, টিভি দেখে, পরপুরুষ বা বেগানা নারীর সাথে অশ্লীল সব আড্ডা মারে, তার জন্য সবচেয়ে বড়ো আফসোস এইটাই–মৃত্যুটা হয়ত এমনি এক মুহূর্তে চলে আসবে। কত মানুষের কথা শুনেছি, যারা কানে হেডফোন ছাড়া একটা দিনও কাটাতে পারে না। আনন্দ-উল্লাসে তো বটেই, দুঃখে, বিরহেও গানই তাদের সঙ্গী, তাদের সম্বল। মৃত্যুর সময়টাতেও কীভাবে যেন এই গানই তাদের সঙ্গী হয়ে যায়। যখন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার কথা, তখনও তারা গুনগুন করে গাইছে। গাইতে গাইতেই মরণ।

আমরা আল্লাহর অবাধ্যতা করি। গুনাহর কাজ করি। করি। সবাই-ই কমবেশি করি। তাই কুরআনে বলা হয়েছে, ভুল কাজ–গুনাহর কাজ করার পর সাথে সাথে তাওবা করার কথা। ভুলটা করেই যেন মনের মধ্যে অনুশোচনা হয়। যেন সঙ্গে সঙ্গে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে যাই। যেন পাপের কথা ভেবে চোখের কোণ ভিজে ওঠে। যেন লজ্জিত হই। যেন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি, এই খারাপ কাজ আর কখনো করবো না….

কিন্তু কিছু বান্দা ভুলের পর ভুল করতেই থাকে। তাওবা করে না। যখন তাকে তাওবার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তখনও করে না। এদের জন্য আফসোস। এদের মত হতে চাই না। জীবনে সফলতা কম আসুক, তবু মরার সময়টায় সম্মানের সাথে, ইজ্জতের সাথে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে মরতে চাই। এও তো একরকমের সফলতাই তাই না!

 

– আনিকা তুবা


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

Back to top button