সচেতনতা

ভূমিকম্পের ধর্মতত্ত্ব

১।

ভূমিকম্প কেন হয়?

আজকাল প্রশ্নটার উত্তর দেওয়া এমন কিছু কঠিন নয়। টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া, ভূগর্ভস্থ গ্যাস বা ম্যাগমার ধাক্কা ইত্যাদি বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক ফেনোমেনা ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। আমাদের মনে হতেই পারে এগুলো লেজিটিমেট উত্তর। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন- ভূতাত্ত্বিকরা আসলে যে প্রশ্নটার উত্তর দিচ্ছেন সেটা হচ্ছে- ভূমিকম্প কীভাবে হয়। কীভাবে আর কেন- কথা দু’টো আলাদা, এবং কথ্য ভাষার আলোচনায় এই ডিস্টিঙ্কশানটা করা একটু কঠিন।

দার্শনিকরা এ প্রসঙ্গে দু’ধরণের cause বা কারণের কথা বলে থাকেন- efficient cause আর final cause। ভূতাত্ত্বিকরা যেসব কারণের কথা বলে থাকেন তা হচ্ছে efficient cause- ঠিক কীধরণের সায়েন্টিফিক মেকানিজমের ফলে ব্যাপারটা ঘটেছে। কিন্তু “ভূমিকম্প কেন হয়” প্রশ্নটা দিয়ে অনেক সময় যেটা জানতে চাওয়া হয় সেটা হচ্ছে- ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য কী?

এই ডিস্টিঙ্কশানটা অনেক ক্ষেত্রেই অনেকে ধরতে পারেন না। জাফর ইকবাল স্যারের বুবুনের বাবা উপন্যাসটা পরেছিলাম সেই স্কুলে থাকতে। সেখানে একটা ইন্টারেস্টিং প্যাসেজ ছিল- বুবুনের মা বুবুনকে শেখাচ্ছেন ধর্মান্ধতা বা মৌলবাদ জিনিসটা কী। মা বললেন- কোথাও ভূমিকম্প হলে কিছু মানুষ বলবে এখানে আল্লাহর গজব হয়েছে। কিন্তু একজন বিজ্ঞানী বলবেন- না তো, আল্লাহর গজব তো হয় নি। এখানে টেকটোনিক প্লেটের নাড়াচাড়া হয়েছে। আমি বলছি না ভূমিকম্প মানেই নেসেসারিলি আল্লাহর গজব- সেই আলোচনা আরেকটু পরে আসছে- কিন্তু এই এক্সপ্লেনেশানটার সমস্যা হচ্ছে লেখক দুই প্রকার cause এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন নি। তার কাছে মনে হয়েছে- ভূমিকম্পের পেছনে “আল্লাহর গজব” হাইপোথিসিস আর “টেকটোনিক প্লেটের নাড়াচাড়া” হাইপোথিসিস দু’টো কনফ্লিক্টিং, দু’টো একসাথে সত্য হতে পারে না। ব্যাপারটা ভুল এই কারণে যে দু’টো হাইপোথিসিস ফেনোমেননটার দু’টো আলাদা দিকের ব্যাখ্যা দিচ্ছে। একটা উত্তর দিচ্ছে কীভাবে প্রশ্নের, আরেকটা কেন প্রশ্নের। দু’টো সমান্তরাল রেখার মত এই দু’টো হাইপোথিসিসের মধ্যেও কোন সংঘাত নেই। সংঘাত তো নেই-ই, মিথোস্ক্রিয়া বা ইন্টারেকশানও নেই। দু’টো আলাদা প্লেইনে এদের বসবাস।

এই লেখার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে final cause, ভূমিকম্পের উদ্দেশ্য, বা কেন প্রশ্নের উত্তর; efficient cause, ভূমিকম্পের মেকানিজম, বা কীভাবে প্রশ্নের উত্তর নয়।

২।

কেউ যখন এই ভূমিকম্প কেন হয় প্রশ্নটা করেন- তিনি তখন ধরে নেন যে এর একটা উদ্দেশ্য আসলেই আছে (কেউ ব্যাঙ্গার্থে করে থাকলে আলাদা কথা)। তার একটা বিশ্বাস থাকে যে মহাবিশ্বে যা কিছুই ঘটুক সবকিছুই উদ্দেশ্যমূলক- কেহ বা কাহারা কোন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এগুলো এভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। এই অ্যাজাম্পশান মেনে নিয়ে যে আলোচনা হয় সেটা ধর্মতত্ত্ব বা theology এর আলোচনা, কারণ মহাবিশ্বের পেছনে একজন গ্র্যান্ড ডিজাইনার আছেন- এই অ্যাজাম্পশানে বিশ্বাস করা মানেই কোন না কোন ঈশ্বর বা ধর্মে বিশ্বাস করা। একেক ধর্মতত্ত্ব এসব এক্সিস্টেনশিয়াল প্রশ্নের উত্তর একেকভাবে দেয়। আপাতত আমাদের আলোচ্য বিষয় ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, যার বেসিস হচ্ছে কুর’আন আর আল্লাহর রাসূলের হাদীস।

আরও দেখুন:  'পীর ভাই'র আদলে ‘দ্বীনি ভাই’?

ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতির দুর্যোগ কেন হয়, ইন ফ্যাক্ট ইন জেনারেল কেন মানুষের জীবনে দুঃখ-দুর্দশা আসে- সেটা নিয়ে কালি কম খরচ হয় নি। সেই লিটারেচার রিভিউ করতে গেলে কয়েক ভলিউম বই হয়ে যাবে। এই ছোট্ট ফেইসবুক নোটের উদ্দেশ্য এই আলোচনার কয়েকটা দিক তুলে ধরা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কুর’আনে খুব উল্লেখযোগ্য একটা আয়াত এসেছে কুর’আনের সূরা রুমে-

মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে-জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের [ফল] আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা [সৎকর্মের দিকে] প্রত্যাবর্তন করে। [সূরা রুম, ৩০:৪১]

এখানে দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদ্দেশ্য আসলে হচ্ছে শিক্ষা। ভূমিকম্পে গজব বা শাস্তির একটা এলেমেন্ট নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু সেটা এলোপাতাড়ি নয় বরং উদ্দেশ্যমূলক- আল্লাহ আমাদের এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে নিচ্ছেন কিছু শেখানোর জন্য। এই “শিক্ষামূলক শাস্তি” কনসেপ্টটা কুর’আনের আরো অনেক আয়াতে এসেছে। আমার ব্যক্তিগত পছন্দের একটা প্যাসেজ-

“…[নৌকা] সুন্দর বাতাসে তাদেরকে নিয়ে চললে তারা আনন্দ করে। তখন ঝড় ওঠে আর চারদিক থেকে ঢেউ তাদের ওপর এসে আছড়ে পড়ে- তারা ধরে নেয় যে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

[এ অবস্থায়] তারা ধর্মে আন্তরিক হয়ে আল্লাহকে ডাকে- ‘আপনি যদি এ থেকে আমাদের পরিত্রাণ দেন, আমরা নিশ্চয়ই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাকব।’

কিন্তু তিনি যখন তাদের পরিত্রাণ দেন, সঙ্গে সঙ্গে তারা পৃথিবীতে অন্যায় অনাচার করতে থাকে।

হে মানুষ! তোমাদের অবিচার তো তোমাদেরই ওপর পড়বে। এ শুধু এই দুনিয়ারই আনন্দ। তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, আর আমি তোমাদের জানিয়ে দেব তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।” [সূরা ইউনুস, ১০:২২-২৩]

অর্থাৎ বিপদ-বিপর্যয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফাংশান হল মানুষকে আল্লাহমুখী এবং সৎকর্মশীল করা। শিক্ষা এবং শাস্তি- দু’টো ব্যাপারই এখানে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। বিপদ কখনোই সুখকর নয়, কিন্তু আমাদের আধ্যাত্মিক এবং চারিত্রিক উন্নতির জন্য এই বাজে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতেই হবে। মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন টমাস অ্যাকোয়াইনাস। তার অনেক বক্তব্যের সাথেই মুসলিমরা একমত হবেন না (সেটাই স্বাভাবিক- তিনি ছিলেন ক্রিশ্চান ধর্মতাত্ত্বিক), কিন্তু এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ-

“কখনো এরকম হয় যে আল্লাহ মানুষ কী চায়- সেটার কথা বিবেচনা না করে তার জন্য কী হলে আল্টিমেটলি লাভ সবচেয়ে বেশি- সেইদিকে গুরুত্ব দেন। রোগী যখন ডাক্তারকে বলে- এই জন্মের তেতো ওষুধ খেতে আমার ইচ্ছা করছে না, ডাক্তার তার কথা শোনেন না, কারণ তিনি জানেন এই ওষুধেই শেষ পর্যন্ত রোগীর মঙ্গল রয়েছে। তিনি রোগীর মনোবাসনার দিকে অতটা না তাকিয়ে তার সার্বিক মঙ্গলের দিকে তাকান। এর ফলেই রোগীর সুস্থতা আসে- আর রোগীর কাছে শেষ পর্যন্ত সেটাই সর্বাধিক কাম্য।” [The Evidential Problem of Evil বইয়ের Eleonore Stump এর রচনা থেকে উদ্ধৃত]

আরও দেখুন:  রক্ত

আমার লেখার উদ্দেশ্য এই থিমটাই ডেভেলাপ করা- এই পৃথিবীতে যত বিপদ-বিপর্যয় আসুক না কেন, আল্লাহ যতই শাস্তি দিন না কেন, মুসলিম ধর্মতত্ত্বমতে এদের কিছু শক্তিশালী পজিটিভ ডিমেনশান আছে। প্রথমত যেমনটা কুর’আনে এসেছে, এই বিপর্যয়গুলো হচ্ছে শিক্ষামূলক, এবং এরা হচ্ছে আমাদের আধ্যাত্মিক মঙ্গলের পথটা সুগম করে দেয়। দ্বিতীয়ত, মুসলিমদের বিশ্বাসমতে বিপর্যয় হচ্ছে এক প্রকারের শুদ্ধীকরণ বা purification. আল্লাহর রাসূলের হাদিসে এসেছে-

“একজন মুসলিমের ওপর ক্লান্তি, অসুখ, ভয়ভীতি, দুঃখ, বিরক্তি বা বিপর্যয় যাই আসুক না কেন- তা একটা কাঁটার খোঁচা পর্যন্তও যদি হয়-  আল্লাহ তার কিছু পাপ ক্ষমা করে দেন।” [বুখারী]

অন্য এক প্রেক্ষিতে একদিন আল্লাহর রাসূলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- সবচেয়ে বেশি বিপদে কারা পড়েন? আল্লাহর রাসূল উত্তর দিয়েছিলেন-

“[সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন] নবীগণ, তারপর তাদের চেয়ে সবচেয়ে ভাল যারা, তারপর তাদের চেয়ে সবচেয়ে ভাল যারা। একজন মানুষকে [বিপদ দিয়ে] পরীক্ষা করা হয় তার ধর্মের ভিত্তিতে। ধর্মে যদি তিনি অটল থাকেন, তাহলে তার পরীক্ষাগুলো আরো কঠিন হয়। যদি তার ধর্ম অতটা পোক্ত না থাকে, তাহলে ধর্মে তার অটলতা অনুসারে তার ওপর বিপদ আসে। বান্দার ওপর এভাবে বিপদ আসতেই থাকে, আসতেই থাকে- যতক্ষণ না পর্যন্ত সে নিষ্পাপ অবস্থায় দুনিয়ায় চলাফেরা করে।” [তিরমিযি]

একজন বিশ্বাসীর জন্য এই হাদিসগুলো খুবই এমপাওয়ারিং। বিপদ-বিপর্যয়ের প্রচুর পজিটিভ দিক তো আছেই- এই হাদিসের বক্তব্য অনুসারে বিপদের মাধ্যমেই আল্লাহ মানুষকে সম্মান দেন। দুঃখের মধ্যে একটা স্বভাবগত বা intrinsic পজিটিভিটি আছে। মুসলিমদের বিশ্বাসমতে- নবী-রাসূলরা একান্তই নিষ্পাপ। কাজেই এই বিপদ তাদের ওপর শাস্তি হিসেবে আসে না, আসে অনার বা সম্মান হিসেবে। এই বিপদ মোকাবেলা করতে পারেন বলেই আল্লাহর কাছে (এবং মানুষের কাছে) তাদের এত সম্মান। একই কারণে ইসলামে শহীদদের মর্যাদা এত বেশি।

শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজ-সংস্কৃতিই দুঃখ-দুর্দশা-বিপদের এই স্বভাবগত পজিটিভিটিকে স্বীকৃতি দেয়। সক্রেটিসের অনেক গুণ ছিল ঠিক আছে, কিন্তু হেমলক না খেলে তাকে দর্শনের গুরু আমরা বলতাম নাকি সে ব্যাপারে প্রশ্ন আছে। একই কথা প্রযোজ্য জন এফ কেনেডি, মার্টিন লুথার কিং, ক্ষুদিরাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধসহ পৃথিবীর যত মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন সবার সম্পর্কেই।

৩।

ওপরের আলোচনাটাকে কিছুতেই ইসলামে দুর্যোগ-বিপর্যয় সম্পর্কে একটা কম্প্রিহেন্সিভ আলোচনা ভাবা চলবে না। আমার উদ্দেশ্য শুধু কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ থিম তুলে ধরা। এই আলোচনা থেকে দু’টো ব্যাপার প্রতীয়মান হয়। প্রথমত, দুর্যোগ ব্যাপারটাকে একতরফাভাবে শাস্তি বলা চলবে না। দুর্যোগ-বিপর্যয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা বেশ কমপ্লেক্স এবং মাল্টিডিমেনশনাল। দ্বিতীয়ত, এই পৃথিবীতে আল্লাহর “শাস্তি” বা “গজব” এর ধারণাটা বেশ ইউনিক। আল্লাহ দুর্যোগের মাধ্যমে আমাদের পাপের জন্য শাস্তি দেন ঠিক আছে, কিন্তু সেই শাস্তির ডিরেকশান হল আমাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গলের দিকে। হয় এর ফলে আমরা চরিত্র আর আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে শিক্ষা পাই, আল্লাহর কাছাকাছি আসার সুযোগ পাই, অথবা এদের কারণে আমাদের পাপ মাফ হয়, জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হয়।

আরও দেখুন:  ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স

ভূমিকম্প সম্পর্কে ইদানিংকালের আলোচনার সাপেক্ষে আমি মনে করি এই উপসংহারগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দুর্যোগ মানেই পাপাচারের শাস্তি- এরকম একটা সরলীকরণ অনেকে করে ফেলেন। এই বক্তব্যের মধ্যে কিছু সত্য অবশ্যই আছে। আল্লাহ মাঝে মাঝে আমাদের পাপ কাজের জন্যই শাস্তি দিয়ে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ তাঁর অনেকগুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে ঠিক কোনটার জন্য দেশে দুর্যোগ পাঠিয়েছেন- সেটা নির্ধারণ করার আমি-আপনি কে? ব্যাপারটা আরো নোংরা হয়ে যায় যখন ভূমিকম্প নিয়ে us vs. them জাতীয় একটা খেলা শুরু হয়। ভূমিকম্প যে পাপাচারের জন্যও হয়েছে তাই নয়, হয়েছে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পাপাচারের কারণে- এ ধরণের সিদ্ধান্তও আমরা অনেকে নিয়ে নিই। আজকের দিনের ভূমিকম্পে আমরা সেই ব্যাপারটাই দেখছি।

দ্বিতীয়ত, যখন এই বিপর্যয়=শাস্তি সরলীকরণটা করা হয়, তখন অনেকে শাস্তির প্রকৃতি এবং খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেন না। এই আলোচনায় আমরা দেখেছি মুসলিম ধর্মতত্ত্বমতে শাস্তি ব্যাপারটা আগাগোড়া নেগেটিভ নয়, এর বেশ কয়েকটা পজিটিভ, এমনকি এমপাওয়ারিং অ্যাস্পেক্ট রয়েছে। সে ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলা না পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ব্যাপারটা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাবে না। অনেকের মনে আল্লাহ সম্পর্কে বিরূপ ধারণাও সৃষ্টি হতে পারে, আর সে দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমাদেরই নিতে হবে।

এই শেষ কথাগুলো আমাদের প্র্যাক্টিসিং মুসলিম কমিউনিটির জন্য। আমার মতে এটা আমাদের কমিউনিকেশানের একটা জেনারেল প্রবলেম। আমরা যে কথাগুলো বলে থাকি তা যে ভুল বা ভিত্তিহীন তা নয়, কিন্তু সেই কথাগুলো কখন, কীভাবে, কোন কনটেক্সটে বলতে হবে তা বুঝি না। আমরা আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) জীবন দেখলে বুঝব তিনি একেক প্রেক্ষিতে কমিউনিকেশানের একেক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ‘উমার যখন তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করেছেন, আল্লাহর রাসূল মোটামুটি তাঁকে এক কথায় থামিয়ে দিয়েছেন। আবার অন্য প্রেক্ষিতে যখন এক কমবয়সী সাহাবী এসে তাঁকে বলেছেন- ব্যভিচার করা আমি ছাড়তে পারব না, আল্লাহর রাসূল অনেকক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে তাকে ব্যাপারটা বুঝিয়েছেন। এরকম আরো প্রচুর উদাহরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আল্লাহর রাসূলের দাওয়াহ পদ্ধতি ছিল কনটেক্সট-সেন্সিটিভ।

এই ব্যাপারটা আয়ত্ত করাই মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য।

 

– হাসানুজ্জামান শ্যামল

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button