সচেতনতা

এইডস: ইসলামই যার একমাত্র সমাধান

পৃথিবী জুড়ে আজ অনৈতিক এবং অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। যেকারণে বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহ্ পৃথিবীতে গজব নাযিল করেন। তেমনই একটি আজাবের নাম হলো “এইডস।” যে রোগের সমাধান এখন পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষ আবিষ্কার করতে পারেনি। অথচ ইসলামেই রয়েছে এর প্রকৃত সমাধান। 

এই মরণব্যাধি সম্পর্কে পৃথিবীবাসীকে সচেতন করতে প্রতিবছর ১ ডিসেম্বর “বিশ্ব এইডস দিবস” পালন করা হয়। আজ আমরা জানার চেষ্টা করবো ইসলামই কীভাবে এইডসকে প্রতিরোধ করতে পারে।

এইডস কী 

এইডস এর পুরো নাম হলো ‘অ্যাকুয়ার্ড‌ ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম’ এবং  এইচআইভি-পজিটিভকেই বলা “এইডস।” এই রোগের ভাইরাস “এইচআইভি”  কারো শরীরে প্রবেশ করলে তার শরীরের রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায়।  ফলে যেকোনো সংক্রামক জীবাণু সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করে অসুস্থ করে দেয়। এতে  এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়। যা ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যু দিকে নিয়ে যায়।

এইডস কিভাবে ছড়ায়

এইচআইভি মানবদেহের কয়েকটি নির্দিষ্ট তরল পদার্থে (রক্ত, বীর্য, বুকের দুধ ইত্যাদিতে) বেশি থাকে। ফলে, মানব দেহের এই তরল পদার্থগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে যে যে উপায়ে এইচআইভি ছড়াতে পারে তা হলো-

১) এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর রক্ত সাধারণ কোন  ব্যাক্তির দেহে দান করলে ঐ ব্যক্তি এইডসে আক্রান্ত হবে। বিশেষকরে যারা নেশাগ্রস্ত ভাসমান রক্তদাতা তারা এই পদ্ধতিতে এইডসের সংক্রমণ বৃদ্ধি করে। 

২) এইডস আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে (গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে বা সন্তানের মায়ের দুধ পানকালে)। মায়ের এইডস থাকলে অবশ্যই তার গর্ভের সন্তানের এইডস হওয়ার ঝুঁকি বেশী। একইসাথে আক্রান্ত মা শিশুকে দুগ্ধ পান করালেও এইডস আক্রান্ত হবে। 

৩) যেকোনো অনিরাপদ দৈহিক যৌন মিলনে। বিশেষকরে যৌন পল্লীতে যাদের নিয়মিত যাতায়াত তাদের এইডস হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। একইসাথে সমকামী এবং নিম্নশ্রেণীর যৌনকর্মী দ্বারাও এইডস ছড়ায়। 

৪) আক্রান্ত ব্যাক্তি কতৃক ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ অন্য কোন ব্যাক্তি ব্যবহার করলেও এইডস হয়। যারা নেশাগ্রস্ত তারা এই উপায়ে বেশী আক্রান্ত হয়। 

৫)  আক্রান্ত ব্যক্তির কোন অঙ্গ অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করলে।

এইডস বৃদ্ধির কারণ 

দিনদিন দেশে বিভিন্ন কারণে এইডসের রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হলো-

পারিবারিক অনুশাসন না থাকা: সমীক্ষায় দেখা যায় যে, কিশোর ও যুবক শ্রেণীরাই এইডস আক্রান্ত বেশী। এই কিশোর তরুণ যুবকরা পারিবারিক নৈতিক অনুশাসন না থাকার কারণেই নেশা এবং যৌনতায় মেতে উঠে। 

ইসলামী অনুশাসন মেনে না চলা: পারিবারিক অনুশাসনের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন খুবই জরুরী। ধর্মীয় অনুশাসনে সর্বাবস্থায় নেশা এবং অবৈধ যৌনতাকে নিষিদ্ধ করে। এই ধর্মীয় অনুশাসন না থাকার কারণে কিশোর যুবকরা সহজেই নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

সহজলভ্য পতিতাবৃত্তি: আজ শহর গ্রাম সবখানেই পতিতাবৃত্তি হচ্ছে হাতের লাগালে। এই সহজলভ্য যৌনতার কারণে  কিশোর যুবক তরুণরা অনায়াসেই নিষিদ্ধ যৌনাচারে জড়িত হয়। যারফলে এইডসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। 

সহজলভ্য নেশাদ্রব্য: আজকাল নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে হাতের নাগালেই সকল নেশাদ্রব্য পাওয়া যায়। যা এইডসের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। 

সামাজিক অবক্ষয়: দিনদিন সমাজ থেকে মানুষে নীতি নৈতিকতা উঠে যাচ্ছে। ফলে আজকাল কেউ কারো মন্দ দেখলেও তাকে শুধরানোর চেষ্টা করে না। একইসাথে সমাজের মানুষ টাকাপয়সাকে গুরুত্ব দেয়। যারফলে উপযুক্ত বয়সের বেশী হওয়ার পরও ছেলেদের বিয়ের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে। এতেকরে তরুণ যুবকরা নিষিদ্ধ পল্লিতে যাতায়াত করে এইডসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়: রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থের জন্য কিশোর তরুণদের ব্যবহার করছে প্রতিনিয়ত। এইসব কিশোর তরুণদের নিজেদের কাজে লাগানোর জন্য তাদের ঠেলে দেয় নেশা এবং নিম্নশ্রেণীর যৌনতায়। যেখানে গিয়ে হাজার কিশোর তরুণ নিজেদের ধ্বংস করে দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে আজ লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার। এইসব শিক্ষিত অশিক্ষিত বেকাররা উপযুক্ত বয়স পার হওয়ার পরও বিয়ে করতে পারে না। ফলে তারা নেশা এবং যৌনতার  নিষিদ্ধ দুনিয়ায় প্রবেশ করে। এতে করেও এইডসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় সমাজে।

আরও দেখুন:  বাংলাদেশে শুধুমাত্র 'রাষ্ট্রধর্ম' নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলাম চাই

এইডস প্রতিরোধের উপায়

এইডস এমন একটি রোগ, যার অধিকাংশ রোগীর বয়সই হচ্ছে ১৫-২৫ বৎসরের মধ্যে। অর্থাৎ আনুপাতিকহারে যুবকরাই এই রোগে বেশী আক্রান্ত। তাই যুবকদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করাই হতে পারে এইডস প্রতিরোধে সঠিক সিদ্ধান্ত। 

আমরা জানি এইডসের কোনো প্রতিকার নেই তাই এর প্রতিরোধ জরুরী। একইসাথে এইডস বৃদ্ধির যেসব কারণ জেনেছি, তার বিচার বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবো এইডস এমন একটি রোগ যার প্রতিরোধের শিক্ষা একমাত্র ইসলামেই রয়েছে। আমরা যদি ইসলামের নীতি নৈতিকতা আইনকানুন সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে এইডস প্রতিরোধ অবশ্যই সম্ভব। আমরা ইসলামের বিভিন্ন অনুশাসনের মাধ্যমে এইডস প্রতিরোধ করতে পারি। 

পারিবারিক উপায়

পারিবারিক সুশিক্ষা: একটি পরিবার হলো যেকোনো মানুষের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র। সকল মানুষ ভালো মন্দ সবকিছুর শিক্ষা প্রথমে পরিবারেই পেয়ে থাকে। তাই যে পরিবারে ইসলামের নীতি নৈতিকতার শিক্ষা ভালো সেই পরিবারের সন্তানেরা কখনোই অনৈতিক পথে পা বাড়ায় না। এইডসে আক্রান্তদের অধিকাংশই হলো নেশাগ্রস্ত এবং অনৈতিক শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনকারী। তাই প্রতিটি পরিবারে ইসলামী শাসন অনুসরণ করা হলে অবশ্যই তাদের সন্তানরা কখনোই বিপথে পা বাড়াতে পারবে না।

শারিরীক উপযুক্ততায় বিয়ে করানো:  এইডস প্রতিরোধে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে, সন্তানদের শারিরীক উপযুক্ততায় বিয়ে করানো। আর একমাত্র ইসলামই বলে, সঠিক বয়সে সঠিক সময়ে সন্তানদের বিয়ে দাও।  আমাদের দেশে বিয়ের যোগ্যতাকে শারিরীক দিকে বিবেচনা না করে বরং অর্থনৈতিক ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হয় বেশী। অর্থাৎ ছেলেরা যখন অর্থনৈতিক ভাবে উপযুক্ত হয় তখনই তাদের বিয়ের চিন্তা করা হয়। যা কখনোই উচিত নয়। যেসব সন্তানরা উপযুক্ত সময় হওয়ার পরও বিয়ে করতে পারে না, তারা যৌনপল্লীতে যৌনকর্মীর কাছে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে। আর এভাবেই অবাধ যাতায়াতে একজনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস বাসা বাঁধে। তাই বিয়ের বিষয়ে যদি আমাদের পরিবারগুলো ইসলামের নীতি অনুসরণ করে তাহলে এইডসের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

প্রবাসী পাত্র: ইসলাম চার মাসের অধিক সময়ে স্বামী স্ত্রীর দূরত্বকে বৈধ মনে করে না। তাই যারা প্রবাসী পাত্রকে মেয়ে বিয়ে দেন বা দিতে চান তাদের জেনে রাখা উচিত, আমাদের দেশে অধিকাংশ এইডস রোগী হচ্ছে প্রবাসী। যেহেতু দীর্ঘদিন স্ত্রীদের ছাড়া তারা প্রবাস জীবনযাপন করে, সেহেতু তারা সহজেই শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যায়। যারফলে তারা সেখানে সহজলভ্য যৌনতায় মেতে উঠে। যার পরিনাম হয় এইডস। তাই উচিত হবে প্রবাসী পাত্রকে নিরুৎসাহিত করা। তারপরও যারা  প্রবাসী পাত্রকে মেয়ে  বিয়ে দিতে চান, তাদের অবশ্যই পাত্র সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। কেননা পাত্র এইচআইভি পজেটিভ হলে তার স্ত্রী সন্তানেরও এইচআইভি পজেটিভ হবে। 

সামাজিক বিভিন্ন উপায়

সৃজনশীল সংগঠন: আমাদের দেশে অতীতে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গ্রামে অসংখ্য ধর্মীয় সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ছিলো। এলাকার সন্তানরা এইসব সংগঠন করে তাদের কৈশোর এবং যৌবন পার করতো। সংগঠন করার কারণে এলাকায় একটা সামাজিক নৈতিকতা এবং আদর্শের শৃঙ্খলা ছিলো। ফলে ছোটরা বড়দের সম্মান করতো। ছোটদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড়রা বাঁধা দিয়ে তাদের শাসন করতো। যা বর্তমান সামাজিক অবস্থায় কল্পনাই করা যায় না। তাই বর্তমানেও যদি এই জাতীয় ধর্মীয় সামাজিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলেও উঠতি বয়সের ছেলেদের আমরা অনৈতিক পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আর তরুণদের এই পথ থেকে ফেরানোর মাধ্যমে আমরা এইডসসহ অন্যান্য রোগ থেকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো। 

অনৈতিক কর্মকান্ডে বাঁধা: আমাদের দেশে আগে একটা ইসলামিক সামাজিক শৃঙ্খলা ছিলো যা এখন আর নেই। এই শৃঙ্খলার ফলে এলাকার সন্তানরা সহজে চাইলেই কখ‌নো নেশা কিংবা অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হতো পারতো না। শুধু তাইনয় তৎকালীন সময়ে এলাকায় কখনোই কোনো যৌন কিংবা নেশার ব্যবসার জায়গায় দেওয়া হতো না। ফলে অনেকের খারাপ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক চাপে তাদের ইচ্ছা পূরণ হতো না। যা এখন আধুনিক অনৈসলামিক যুগে সমাজে হাত বাড়ালেই বাসাবাড়িতে সহজেই পাওয়া যায়। তাই সমাজে যদি ইসলামিক পরিবেশ সৃষ্টি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাঁধা প্রদান করা হয় তাহলেও এইডস প্রতিরোধ সম্ভব হবে। 

আরও দেখুন:  ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স

বিয়েকে সহজ করা: ইসলাম যতদ্রুত সম্ভব বিয়ে করার জন্য তাগিদ দেয়। অথচ ইসলাম মেনে না চলার কারণে আমাদের সমাজ দ্রুত বিয়ে কারাকে সমর্থন করে না। এর কারণ সমাজে চাকরি বাড়ি গাড়ি ইত্যাদি না করা পর্যন্ত কোনো ছেলেকে কোনো বাবাই তার মেয়েকে বিয়ে দেয় না। একইসাথে পরিবারে সকল বোনদের বিয়ে দেওয়ার পরই ছেলেকে বিয়ে কারানোর একটি বাজে নীতি সমাজে চলমান। যারফলে উপযুক্ত বয়স এবং উপযুক্ত আর্থিক অবস্থা হওয়ার পরও অধিকাংশ ছেলে বিয়ে করতে পারে না। এতে করে একটি নির্দিষ্ট অংশের ছেলে যৌবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করে অনৈতিক যৌনাচারে। আর এভাবেই অবাধ যৌনাচারে এইডসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় সমাজে। তাই ইসলাম মেনে দ্রুত বিয়ে দেওয়াই হতে পারে এইডসের প্রতিরোধ। 

ধর্মীয় উপায়

ধর্মীয় অনুশাসন: যেসব পরিবারে ইসলামের কঠোর অনুশাসন মেনে চলা হয়, সেইসব পরিবারের সন্তানরা কখনোই অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হতে পারে না। তাই প্রত্যেকেরই উচিত সন্তানদের ইসলামের অনুশাসনে রাখা। একইসাথে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতে এইডসের ভয়াবহতা নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার মাধ্যমেও এইডস প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

যিনা ব্যবিচার থেকে দূরে থাকা: ইসলামে যিনা ব্যবিচার নিষিদ্ধ এবং চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা জিনা’র কাছেও যেও না। কেননা এটি অত্যন্ত অশ্লীল ও মন্দ পথ।’ (সুরা ইসরা : আয়াত ৩২) 

যদি সমাজে ইসলামের এই দাওআত সঠিকভাবে পৌঁছানো যায়, তাহলেও এইডস প্রতিরোধ সম্ভব হবে। কেননা যে নিজেকে মুসলিম দাবি করবে সে কখনোই অবাধ যৌনাচারের লিপ্ত হতে পারে না। 

পর্দার বিধান চালু করা: আমাদের দেশে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার কারণে দিনদিন ইসলামের সকল বিধান উঠে যাচ্ছে। এমন একটি বিধান হলো পর্দা।  আজ রাস্তা -ঘাটে, শপিংমল -অফিস -আদালতে, স্কুল- কলেজ -ইউনিভার্সিটিতে, নারী পুরুষের পোশাকের কোনো শালীনতা নেই। নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার কারণে অশালীন পোশাক পুরুষদের যৌন উত্তেজনাকে বর্ধিত করে। যার পরবর্তিত পদক্ষেপ হয় যৌন পল্লীতে যাতায়াতের মাধ্যমে। আর অসাবধানতার শেষ পরিনতি হয় এইডসের মাধ্যমে। সুতরাং ঘরে বাইরে নারী পুরুষদের শালীন পোশাক পরিচ্ছেদ এবং পর্দার বিধান এইডস প্রতিরোধের একটি উপায়। 

সমকামিতা বন্ধ করা: ইসলামে সমকামিতা নিষিদ্ধ। অথচ  বিশ্বে বিভিন্ন দেশ সমকামিতাকে স্বীকৃত দিয়েছে। যা একটি গর্হিত বিষয়। এই সমকামিতার ফলেও  এইডস রোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখনই ইসলামের বিধান চালু করে সমকামিতা বন্ধ  করা। 

ওয়াজ নসিহত করা: আজ আমাদের দেশে ওয়াজ নসিহত প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অথচ  আলেম ওলামা এবং দাঈীরা তাদের ওয়াজ নসিহতে পর্দা, অশ্লীলতা, যিনা ব্যাবিচার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন। যার প্রভাবে সমাজে অশ্লীলতা কমে আসতো। একইসাথে আলেমরা সঠিক সময়ে বিয়ে করার ও দেওয়ার তাগিদ দেয়। যার ফলে সমাজে অনাচার কমে আসে। তাই যতই ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হবে ততোই এইডসের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। 

রাষ্ট্রীয় উপায়

অবাধ যৌনাচার বন্ধ করা: ইসলামে অবাধ যৌনাচার নিষিদ্ধ।   এইডসের মূল টার্গেটই হলো কিশোর তরুণ যুবকশ্রেণী। যাদের যৌন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম। তাই এইসব কিশোর তরুণরা অবাধ যৌনতায় মেতে উঠে সহজেই। আর দেশে যৌনতা সহজলভ্য হওয়ার কারণে এইডসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় নিমিষেই। যদি ইসলামী আইন চালু করে অবাধ যৌনাচার বন্ধ করা যায় তাহলে এইডস সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব। 

আরও দেখুন:  রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কি?

অবাধ মাদকদ্রব্য পরিহার করা: ইসলামে সর্বাবস্থায় মাদক হারাম। আর ইসলামী আইন না থাকার কারণে  বর্তমান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কারণে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা চারিদিকে। এরফলে কিশোর তরুণ যুবকরা সহজেই নেশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। তাই ইসলামী আইন চালু করে যদি মাদক নিষিদ্ধ করা যায় তাহলে এইডসের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব।

পতিতাবৃত্তি বন্ধ ও পুনর্বাসন: ইসলামে যিনা ব্যবিচার সম্পর্কিত সকল কিছুই হারাম। তাই আইন করে দেশে গড়ে উঠা সকল পতিতালয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বন্ধ করে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। যদি ইসলামী আইন করে  সহজলভ্য সকল পতিতাবৃত্তি বন্ধ করে তাদের পুনর্বাসন করা যায়, তাহলে এইডসের মতো ভয়ংঙ্কর রোগের বিস্তার রোধ হবে।  

সকল প্রকার পর্নসাইট বন্ধ করা:  ইসলাম কখনোই অশ্লীলতাকে বরদাস্ত করে না। অথচ আধুনিক ডিজিটাল বিশ্বে পতিতাবৃত্তি ও যৌনতা বিভিন্ন এ্যাপস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। যদি এইডসের বৃদ্ধি রোধ করতে হয়, তাহলে ইসলামকে মেনে নিয়ে এখনই আইন করে সকলপ্রকার পর্নগ্রাফিক সাইট এবং এ্যাপস সরকারি উদ্যোগে  বন্ধ করে এইডসকে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের সচেতন করা: সরকার ধীরে ধীরে পাঠ্যসূচি থেকে ইসলাম ধর্ম বইকে বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ একমাত্র ইসলামই অশ্লীলতা এবং যৌনতাকে কঠোর হস্তে দমন করে। তাই প্রতিটি শ্রেণীর পাঠ্যসূচিতে ইসলাম ধর্ম বইকে অন্তর্ভূক্ত করে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে। একইসাথে পাঠ্যবইয়ে এইডসের বিষয়ে পাঠ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে এইডস প্রতিরোধ করতে হবে।

ব্যক্তিগত সচেতনতা

যৌন আসক্তি ব্যক্তির বিয়ে: পৃথিবীতে অনেক পুরুষ রয়েছেন যাদের যৌন আসক্তিটা বেশী। এরা কোন অবস্থাতেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে এরা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যেখানে সেখানে  অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়। এইসব ব্যক্তির দ্বারাই এইডসের সংক্রমণ বেশী হয়। তাই যেসব পুরুষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তাদের উচিত যৌন পল্লীতে না গিয়ে  একাধিক বিয়ে করা। যার অনুমোদন ইসলাম দেয়। কিন্তু বর্তমান সমাজ ইসলামকে মানে না বলে, একাধিক বিয়েকে সমর্থন করে না। অথচ অবাধ যৌনাচারও বন্ধ করতে পারে না। তাই ইসলামেই রয়েছে এর সমাধান। আমাদের উচিত ইসলাম মেনে বিয়ের মাধ্যমেই যৌনতার সমাধান করা।

স্ত্রীদের সতর্কতা ও উদারতা: যেসব স্বামীরা এক স্ত্রীতে সন্তুষ্ট নয়, তাদের উচিত স্বামীদের প্রতি সতর্ক হয়ে উদার হওয়া। যদি সে কলাকৌশলে স্বামীকে খারাপ পথ থেকে ফেরাতে না পারে।  তাহলে তার উচিত উদার মনোভাব নিয়ে স্বামীকে বিয়ের জন্য উদ্ভুদ্ধ করা। ফলে  সামর্থ্যের অভাবে বিয়ে করতে না পারলে স্বামী শুধরে যাবে। নচেৎ স্বামী বিয়ে করে পাপমুক্ত থাকবে। এতে সকলেরই কল্যাণ হবে। আর বর্তমান পৃথিবীতে পুরুষের চাইতে নারীর সংখ্যাই বেশী। যেকারণে অসংখ্য নারী সংসার না পেয়ে পতিতাবৃত্তিতে নেমে যায়। তাই ইসলামকে মেনে চলতে পারলেই এইডসকে প্রতিরোধ করা যাবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা এইডসের প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম। এই আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, এইডস এমন একটি রোগ যার সম্পূর্ণ সমাধান ইসলামে আছে। যেকারণে ইসলামী দেশ গুলোতে এইডসের ভয়াবহতা কম। সেই তুলনায় ইউরোপ আমেরিকা আফ্রিকায় এইডসের প্রকোপ বেশী। সুতরাং আল্লাহ্‌র গজব এইডস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করা। যা রাষ্ট্রীয় ভাবে আইন প্রনয়ণের মাধ্যমেই সম্ভব।  তাই আসুন আমরা ইসলামকে মেনে চলি  এবং  সবাইকে সচেতন করি। যাতে আমরা আগামী প্রজন্মকে এইচআইভি মুক্ত একটি ধরণী উপহার দিতে পারি।

– সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী। পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম। 

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button