সচেতনতা

সন্তানের চরিত্রে আমি যা দেখতে চাই, তা সর্বাগ্রে নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে

স্কুলের অভিভাবকদের অনেকেই অভিযোগ করেন বাচ্চা অনেক বেশি টিভি দেখছে , কার্টুন দেখছে , কথা শুনছে না।

প্রশ্ন হল টিভিটা ঘরে আছে কেন ?

টিভি দেখার আগ্রহ সন্তানের চেয়ে আমারই বেশি ! আর তাই আমি টিভি দূর করতে পারছি না , তবে সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছি টিভি না দেখার।

মা –বাবাকে মনে রাখতে হবে যে সন্তান তাদের কথা নয়, কাজ দেখে শিখবে। তিক্ত হলেও এটাই বাস্তবতা। মা –বাবার উপদেশ ও চরিত্রের দ্বন্দ্ব থেকে সে উপদেশ ফেলে দিয়ে চারিত্রিক দৃষ্টান্ত রেখে দেবে।

বাবা নিজে অসৎ হলেও উপদেশ দিচ্ছেন “বাবা তুমি হালাল উপার্জন কর।”

কেউ সালাত আদায় না করে সন্তানকে বলছেন, “ বাবা নামাযী হও।”

“বাবা , তুমি আমার মত নয়, তোমার শিক্ষকদের মত হও। সাহাবীদের মত হও। নবী–রাসূলদের মত হও।”

এতে লাভ না হওয়ার আশংকা রয়েছে।

সন্তানরা সহজাত ভাবেই পিতা–মাতার অনুকরণ করে থাকে। তারা মা –বাবাকে যা করতে দেখে , সেটাকেই সঠিক মনে করে। কোন পরিস্থিতিতে মা –বাবা যেমন আচরণ করেন , সন্তানও অনুরূপ আচরণ করতে শেখে।

তাই নিজেরা দ্বীনদার না হয়ে সন্তানকে দ্বীনদার বানানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সৎকর্মশীল ব্যক্তির সন্তানদেরকে আল্লাহ তাআলা তাদের মা –বাবার মর্যাদার কারণে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করেন। সূরা আল –কাহফে আল্লাহ তাআলা দুই এতীম বালকের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের বাবা ছিলেন সৎকর্মশীল , ফলে আল্লাহ তাআলা নবী খিযির আলাইহিস সালাম এঁর মাধ্যমে তাদের স¤পদকে হেফাযত করেন , আল্লাহ তাআলা বলেন :

ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟْﺠِﺪَﺍﺭُ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻟِﻐُﻠَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻳَﺘِﻴﻤَﻴْﻦِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺗَﺤْﺘَﻪُ ﻛَﻨْﺰٌ ﻟَﻬُﻤَﺎ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑُﻮﻫُﻤَﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻓَﺄَﺭَﺍﺩَ ﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻥْ ﻳَﺒْﻠُﻐَﺎ ﺃَﺷُﺪَّﻫُﻤَﺎ ﻭَﻳَﺴْﺘَﺨْﺮِﺟَﺎ ﻛَﻨْﺰَﻫُﻤَﺎ ﺭَﺣْﻤَﺔً ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻚَ ۚ ﻭَﻣَﺎ ﻓَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﻋَﻦْ ﺃَﻣْﺮِﻱ ۚ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺗَﺄْﻭِﻳﻞُ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﺴْﻄِﻊْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻَﺒْﺮًﺍ

আর প্রাচীরটির বিষয় হল , তা ছিল শহরের দু’জন ইয়াতীম বালকের এবং তার নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন। আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে , তারা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এ সবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি [ খিযির] নিজ থেকে তা করিনি। এ হলো সে বিষয়ের ব্যাখ্যা, যে সম্পর্কে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি। [সূরা আল-কাহফ, ১৮ : ৮২ ]

আরও দেখুন:  এসো কাজ করি : নিজে নিজে

তাই সন্তানকে ইসলামের ওপর বড় করার জন্য তাকে কোন মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয়াই যথেষ্ট নয় , বরং পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেকে দিয়ে।

মা –বাবার জন্য সমীচীন নয় সন্তানদেরকে কোন উত্তম বিষয়ের আদেশ দিয়ে নিজে তা না করা কিংবা মন্দ বিষয়ে নিষেধ করে আবার নিজে তা করা , আল্লাহ তাআলা বলেন :

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻟِﻢَ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﻥَ – ﻛَﺒُﺮَ ﻣَﻘْﺘًﺎ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻥْ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍ ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﻥَ

হে ঈমানদারগণ , তোমরা তা কেন বল , যা তোমরা কর না ? তোমরা যা কর না , তা বলা আল্লাহর নিকট বড়ই ক্রোধের বিষয়। [সূরা আস সাফ , ৬১ : ২ –৩]

যে সৎ কাজের আদেশ দিয়ে নিজে তা করে না আর মন্দ কাজে নিষেধ করে আবার নিজে তা করে , তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

ﻳُﺠَﺎﺀُ ﺑِﺎﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴُﻠْﻘَﻰ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﺘَﻨْﺪَﻟِﻖُ ﺃَﻗْﺘَﺎﺑُﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﻴَﺪُﻭﺭُ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﺪُﻭﺭُ ﺍﻟْﺤِﻤَﺎﺭُ ﺑِﺮَﺣَﺎﻩُ ﻓَﻴَﺠْﺘَﻤِﻊُ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺃَﻱْ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﻣَﺎ ﺷَﺄْﻧُﻚَ ﺃَﻟَﻴْﺲَ ﻛُﻨْﺖَ ﺗَﺄْﻣُﺮُﻧَﺎ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑِ ﻭَﺗَﻨْﻬَﺎﻧَﺎ ﻋَﻦْ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮِ ﻗَﺎﻝَ ﻛُﻨْﺖُ ﺁﻣُﺮُﻛُﻢْ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑِ ﻭَﻟَﺎ ﺁﺗِﻴﻪِ ﻭَﺃَﻧْﻬَﺎﻛُﻢْ ﻋَﻦْ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮِ ﻭَﺁﺗِﻴﻪِ

কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে এনে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে দ্রুত তার নাড়িভুঁড়ি আগুনে বের হয়ে পড়বে , এরপর সে যাঁতার চারিদিকে গাধার ঘোরার মত ঘুরবে, ফলে জাহান্নামবাসীরা তার নিকট জড় হয়ে বলবে হে অমুক! তোমার কি হল , তুমি কি আমাদেরকে সৎকাজে আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করতে না? সে বলবে আমি তোমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করে নিজে তা করতাম না আর মন্দ কাজে নিষেধ করে তা করতাম। [বুখারী (৩২৬৭ ), মুসলিম (২৯৮৯ )]

 

– মুহাম্মাদ নাসিল শাহরুখ

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button