সংবাদ

মস্কোয় মসজিদ উদ্বোধন নতুন আলোর হাতছানি

আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজী যখন হজের প্রধান অনুষ্ঠান ওকুফে আরাফাহ পালন করছেন তখন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় উদ্বোধন করা হচ্ছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় মসজিদ। বিষয়টি ভাবতেও আনন্দ হয়। সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখটিকেই নির্ধারণ করা হয়েছে এ জন্য। পরদিনই অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আযহার জামাত। বিগত ঈদুল ফিতরে মস্কোয় মুসলমানেরা রাজপথে নামাজের জামাত পড়েন। এত বড় জমায়েত সোভিয়েত যুগে তো বটেই এরপরের সময়ও আর হয়নি। ঈদের জামাতের ছবি ড্রোন থেকে ধারন করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

মস্কোর সেন্ট্রাল মস্ক পবিত্র কোরবানির ঈদ উপলক্ষে খুলে দেয়া হচ্ছে। এতে একই সাথে নামাজ পড়তে পারবেন ১০ হাজার মুসল্লী। মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও উপস্থিত থাকবেন। মসজিদটি মস্কোর ক্যাথেড্রল মস্ক ও জুমা মসজিদ নামেও পরিচিত। চার বছর আগে এটি ভেঙে ১০ হাজার নামাজির স্থান সংকুলানের উপযোগী করে, নতুন করে নির্মাণ করা হয়। আগামী ২৩ তারিখ বুধবার মসজিদটির উদ্বোধন হবে। এটি আগের চেয়ে ২০ গুণ বড় করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর বর্তমান আয়তন ১৯ হাজার বর্গমিটার। তুরস্কের ধর্মবিষয়ক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টার্কিশ ডেয়ানেট মসজিদটির অভ্যন্তরীণ ডিজাইনের ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অনেক বিশ্বনেতা অংশ নেবেন। রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও মসজিদ উদ্বোধনে শরীক হবেন। রুশ মুসলমানদের জন্য দিনটি খুবই আনন্দের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত উপরের ছবিটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি নিউজ এজেন্সি প্রথম প্রচার করলে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ঢাকার একজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, বলশেভিক বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাশিয়ায় ধর্মকে পরিত্যাগ করা হয়। বিপ্লবের নায়কদের দৃষ্টিতে ধর্ম ছিল জনগণের আফিম। নাস্তিক্যবাদী সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে ৬০ লক্ষাধিক মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সোভিয়েত ইউনিয়নে ধর্ম ছিল নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআন কারো কাছে পাওয়া গেলে মৃত্যুদন্ড হত। নামাজ রোজার তো সুযোগ ছিলই না, মুসলিম পরিচয় দেয়াও ছিল অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ। মাত্র ৭০ বছরের মাথায় সেখানে সমাজতন্ত্র ব্যর্থ ও বিলুপ্ত হয়ে গেল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ৬টি মুসলিম রাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোয় গণতন্ত্র ফিরে এলো। রাশিয়ায় অর্থডক্স খৃস্টধর্ম পুনরায় চালু হলো। ধর্মীয় স্বাধীনতার সুযোগে মুসলমানরা জেগে উঠতে শুরু করেছে। মধ্য এশিয়ায় ইসলামি কালচার পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। খোদ রাশিয়ার রাজধানীতে নামাজির সংখ্যা বিশ্ব মুসলিমকে মুগ্ধ করেছে। মুসলমানের সংখ্যা বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। নতুন মসজিদের উদ্বোধন রাশিয়ার মুসলমানদের সুন্দর ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ। অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়া আগের মতই আবার মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত ও সাবলীল ভূখণ্ড হবে বলে আশা করা যায়।

আরও দেখুন:  ৩ বছর ধরে রোজা রাখতে পারছেন না উইঘুরের মুসলমানরা

নাস্তিক্যবাদী ঝড়ে কোটি মুসলমানের জীবন গেলেও ইসলামকে স্তব্ধ করা যায়নি। মাত্র ৭০ বছরের ব্যবধানে এ অঞ্চলে আবার ইসলামী জীবন ও সংস্কৃতি ফিরে এসেছে । মূলতঃ পৃথিবীর যেসব অঞ্চল রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবীদের দ্বারা বিজিত হয়েছে, সেসব জায়গা থেকে সাময়িকভাবে মুসলিম বিতাড়ন সম্ভব হলেও ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর জ্বলন্ত প্রমাণ। এ অঞ্চল দাওয়াত ও কারামতের মাধ্যমে জয় করেছেন নবী করিম (সা.) এর চাচাতো ভাই হযরত কাসাম বিন আব্বাস (রা.)। পরে ৮৩ হিজরীর দিকে এটি মুসলিম শাসনের আওতায় আনেন কুতায়বা ইবনে মুসলিম (রহ.)। এ ভূখণ্ডে জন্ম নেন ইসলামের বড় বড় মহামানব। হযরত ইমাম বোখারী, ইমাম তিরমিযি, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম কুদুরী, ইমাম বোরহানুদ্দীন মারগেনানীসহ অসংখ্য মনীষী। নাস্তিকতাবাদী বিপ্লবীরা শত জুলুম চালিয়েও দুনিয়ার বুকে টিকে থাকতে পারেনি। উজবেকিস্তান, কাজাখিস্তান, তাজিকিস্তান, চেচনিয়া, ইঙ্গুশেটিয়া, দাগেস্তান ইত্যাদি এখন স্বাধীন দেশ। সিরিয়া, জর্ডান, তুরস্ক ও ফিলিস্তিন সীমান্ত থেকে চীনা মুসলিম প্রদেশ পর্যন্ত প্রলম্বিত বিশাল এ ভূখণ্ড ইরান ও আফগানিস্তান পাশে রেখে গোটা এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত। এ ভূখণ্ডে নতুন মুসলিম জাগরণ পৃথিবীর রাজনৈতিক গতি পরিবর্তনে বিশাল ভূমিকা রাখবে। কোরআন ও হাদীসে এর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মস্কোয় নতুন মসজিদ উদ্বোধনের ঘটনাটি আমরা বস্তুগত দৃষ্টিতে নয়, ধর্মীয় আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে অন্যভাবে বিবেচনা করছি। এতে রয়েছে ঈমানদারদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় ও অনুধাবনযোগ্য বিষয়।

 

ইনকিলাব

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button