সমাজ/সংস্কৃতি/সভ্যতা

নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ ও তার প্রতিকার

ধর্মবোধের প্রকৃত ভিত্তিই হ’ল নৈতিকতা। এ জন্য ইসলামে নৈতিকতার গুরুত্ব ও প্রাধান্য সবচেয়ে বেশী। নৈতিকতা কোন ব্যক্তির মধ্যে এমন আচরণ, যা অপরের প্রতি ক্ষমা ও মার্জনা, উদারতা ও দানশীলতা, ধৈর্য, বিনয় ও নম্রতা ইত্যাদি গুণে গুণান্বিত হওয়াকে বুঝায়। এক কথায় পূণ্যাবলী সঠিক বিকাশ ও উৎকর্ষতা সাধনই নৈতিকতা। আর এটিই সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ। যে সমাজের মানুষের মাঝে নৈতিকতাবোধ যতটা বেশী হবে সে সমাজের মানুষ ততটাই শান্তি ও নিরাপত্তা উপভোগ করবে। সমাজ জীবনে বসবাসরত প্রত্যেক মানুষের মাঝে দেখা দেয় প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি আর স্নেহমমতা। এ সবের উন্মেষ ঘটে তখনই যখন মানুষের মাঝে নৈতিকতাবোধ থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হ’লেও সত্য যে, আজ আমাদের মাঝে নৈতিকতা লোপ পেয়েছে। বিলুপ্ত হয়েছে ন্যায়পরয়ণতার সিংহদ্বার। আর নৈতিকতা বর্জিত সমাজে দেখা দেয় ব্যক্তিগত, দলগত বা জাতীয় জীবনে সংঘাত, হিংসা-বিদ্বেষ, হানা-হানি, গীবত ও পরশ্রীকাতরতা। সৃষ্টি হয় একে অপরকে পর্যুদস্ত করার বাসনা। ফলে সৃষ্টি হয় নৈতিকতার অবক্ষয়। নিম্নে নৈতিক অবক্ষয়ের কতিপয় মৌলিক কারণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে আলোকপাত কবর ইনশাআল্লাহ।

নৈতিক অবক্ষয়ের মৌলিক কারণ:

শিক্ষার অভাব : শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ডহীন প্রাণী যেমন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তেমনি শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। যে জাতি যতবেশী শিক্ষিত সে জাতি ততবেশী উন্নত। এই জন্য মহান আল্লাহ বিশ্ব মানবতার জন্য প্রথম যে নির্দেশনা দিয়েছেন তাহ’ল ‘শিক্ষা’। তিনি বলেন, ‘পড়! তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’ (আলাক্ব ৯৬/১)। এ মর্মে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরয’ (ইবনু মাজাহ হা/২২৪; মিশকাত হা/২১৮, সনদ ছহীহ)। অতএব শিক্ষাই শক্তি, যার মাধ্যমে মানুষ সবকিছু জানতে পারে, বুঝতে পারে। প্রকৃতার্থে জ্ঞান অর্জনের দ্বারাই মানুষ সত্য-মিথ্যার, ন্যায়-অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য করতে পারে। পক্ষান্তরে যারা লিখতে, পড়তে জানে না তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয় এবং সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে না। ফলে অপরাধ জগতের সাথে মিশে যায় এবং তাদের মাধ্যমে নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পায়।

ইসলামী শিক্ষার অভাব : ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। সকল কালের সকল মানবের জন্য যুগোপযোগী একটি জীবন বিধান। কর্মহীন শিক্ষা যেমন অবাস্তব, ধর্মহীন শিক্ষাও তেমনই ফলদায়ক নয়। কেবলমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশনা রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকোচন করে কখনো নৈতিক শিক্ষা আশা করা যায় না। সঠিক সময়ে সমাজের সকলকে ধর্মীয় শিক্ষা না দেয়া গেলে তাদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি এবং নৈতিকতা ও নীতিবোধ জাগ্রত হ’তে পারে না। তাই ধর্মীয় শিক্ষার অভাবকে নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ বলা হয়।

শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস : শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাসের উৎস একটু ভিন্ন ধরনের। এখানে সন্ত্রাস গড়ে উঠেছে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের কিছু বড় রাজনৈতিক দল তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য শিক্ষাঙ্গণগুলো কিছু ছাত্র ও অছাত্র দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা রয়েছে শূন্যের কোঠায়। শিক্ষাঙ্গণে বিভিন্ন আবাসিক হলে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে। অথচ উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা হবে প্রকৃত শিক্ষার পাদপীঠ। কিন্তু সেগুলো এখন অনৈতিক শিক্ষার কারখানায় পরিণত হয়েছে। এটিও নৈতিক অবক্ষয়ের মৌলিক কারণসমূহের অন্যতম।

বেকারত্বের প্রভাব : বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বের একটি উন্নয়শীল দরিদ্র দেশ। বিশাল জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩৭০ মার্কিন ডলার। বেকারত্বের কারণে এদেশের দারিদ্রের অভিশাপ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসার মত নৈতিক চাহিদাগুলো এখনো অপূর্ণাঙ্গ রয়েছে। বেকারত্বের কারণে গ্রাম ও শহরে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ যখন স্বাভাবিক ভাবে উপার্জন করতে পারে না তখন অপরাধের পথ বেছে নেয়। ফলে দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা ইত্যাদির মত অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবনসূচী বিশে্লষণ করলে দেখা যায় যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল যৌবনকাল (১৬-৪০)। আর বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ যুবক। সত্তর দশক থেকে নববই-এর দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের যুবকদের জ্যামিতিক অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ১৯৭১ সালে ২৩.৯১%, ১৯৭৪ সালে ২০.০০%, ১৯৮১ সালে ২৪.৫০% এবং ১৯৯১ সালে ৩০.২০% যুবক ছিল, যাদের বয়স (১৬-৪০) বছরের মধ্যে। ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী সে সময় যুবকদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৬ মিলিয়ন এবং বেকার শিক্ষক্ষত যুবক ছিল ২২ মিলিয়ন। তাহ’লে ৫ বছর পর নিঃসন্দেহে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনুযায়ী বেকারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে (মাসিক আত-তাহরীক, ১৩ তম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, নভেম্বর ২০০৯, পৃঃ ৩৫)।

আরও দেখুন:  বিবেককে নাড়া দেয় যে পরকীয়া

মাদকের ছড়াছড়ি : বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর মধ্যে মাদক অন্যতম। সংবাদপত্রের জরিপ রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায়, নেশাগ্রস্থ ও অবৈধ চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত শতকরা নববই জন তরুণ-তরুণী, রাস্তাবাসী ও কর্মসংস্থানহীন। শহরের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যাপীঠে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যুবক ৬০% এবং যুবতী ৫০%-এর বেশি নেশাগ্রস্থ। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ জ্ঞান কেন্দ্রের ছাত্রীরাও জড়িয়ে পড়েছে নেশার জগতে। উক্ত নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে গণিকাবৃত্তিকে। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য এরচেয়ে ভয়াবহ আর কী হতে পারে? ধনী পরিবারের ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকের কাছ থেকে পড়াশুনার খরচ বাবদ টাকা নিয়ে তা ব্যয় করছে নেশার দ্রব্য কিনতে। টাকা না পাওয়ার কারণে সুশিক্ষিত কন্যার হাতে বাবা-মায়ের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে রাজধানীতে। ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে প্রাণ হারিছে স্ত্রী ও পুত্রসন্তান, স্ত্রী তার বন্ধুদের নিয়ে হত্যা করেছে ব্যবসায়ী স্বামীকে, চট্টগ্রামের রাউজানে স্ত্রী তার স্বামীকে খুন করে ঘরের মধ্যে লাশ পুঁতে রেখে নির্দয়তার প্রমাণ রেখেছে এবং নেশাগ্রসত্ম কন্যা ঐশী ধারালো ব্লেডের আঘাতে হত্যা করেছে নিজের পিতা-মাতাকে। মাদকতার এ রকম ভয়াবহ পরিণতি নৈতিকতাকে সত্যিই আজ হুমকির সম্মুখীন করেছে।

পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতির অনুকরণ : দেশের আপামর জনসাধারণ অপসংস্কৃতির অক্টোপাশে জড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে এখন সত্যের অমোঘ বাণী হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হ’ল ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবস। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, যা উদ্দম নৃত্য, সীমাহীন আনন্দ-উলস্নাস, তরুণ-তরুণীদের উষ্ণ আলীঙ্গন আর জমকালো নানা ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতি উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। বস্ত্রহীন দেহ, অসুস্থ মানসিকতা আর যৌন উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ের দৃশ্যবলী বহিঃপ্রকাশ পরের দিন দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রথম পৃষ্ঠায় ঘটা করে প্রকাশ করা হয়। যেন বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে এটাই দেশীয় সংস্কৃতি। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন দিবসীয় সংস্কৃতি। মনে হয় যেন দিবসীয় সংস্কৃতির ভারে ছোট্ট-দ্বীপটি ভারাক্রান্ত। আছে ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপন সংস্কৃতি, যা দেখে যুবচরিত্র ধ্বংস হচ্ছে, জড়িয়ে পড়ছে নানা অশ্লীলতায়। ফলে নৈতিকতার অবক্ষয় আরো প্রকট আকার ধারণ করছে।

আরও দেখুন:  তারুণ্যের উদ্ভাবনীশক্তি ধ্বংসে পৌত্তলিক কু-সংস্কৃতি ও নারী!

পর্ণোছবি বা ব্লু ফিল্মের নগ্ন ছবি : বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় টিভি চ্যানেল, স্যাটেলাইট, টেলিফোন, মোবাইল প্রভৃতি সহ ইন্টারনেটের যেমন ভাল দিক রয়েছে তেমনি রয়েছে খারাপ দিকও। মোবাইল ফোনে গভীর রাতে প্রেমের আলাপচারিতা ও নগ্ন ছবি দর্শনে জীবন পাত করছে। যার ফলে অপরিণত বসসী তরুণ-তরুণীরা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।

বেসরকারী সংস্থার জরিপের সারসংক্ষেপ : রাজশাহী মহানগরীতে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ৫ শতাধিক ছাত্রী, যাদের বয়স ১৩ থেকে ২৬ এর মধ্যে, তারা নিয়মিত দেহ ব্যবসায় লিপ্ত। মহানগরীর ৮টি হোটেলে খোলা-মেলা ভাবেই এবং নামী-দামী হোটেলগুলোতে চলে গোপনে। এছাড়া ১৫-২০টি আবাসিক হোটেল, বিউটি পার্লার, মেসেজ পার্লার ও রেষ্ট হাউজে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। ছোট-বড় অমত্মত ১০টি হোটেলে নির্মিত হচ্ছে পর্ণো ছবি। ‘শিক্ষানগরী’ বলে খ্যাত রাজশাহীর মত একটি শান্ত ও সুন্দর নগরীর ভিতরকার এই কলংকিত চিত্র বেরিয়ে আসার পর ‘শিল্প নগরী’ ও ‘বন্দর নগরী’ বলে খ্যাত চট্টোগ্রাম ও খুলনা মহানগরী এবং বিশ্বের এক নম্বর ‘দূষিত নগরী’ বলে খ্যাত রাজধানী ঢাকা মহানগরীর অবস্থা কেমন তা অনুমান করা কষ্টসাধ্য নয়। সেই সাথে রয়েছে ইভটিজিং, লিভ টুগেদার ও সমকামিতার মত পশুস্বভাবের বিস্তার। যা অধিকাংশ পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতির ভয়াল আগ্রাসন মাত্র। অভিভাবকগণ ছেলে-মেয়েদের অত্যাধিক আদর করে। ফলে ১০-১২ বছরের ছেলে-মেয়েদের হাতে তুলে দিচ্ছে মোবাইল ফোন, যাতে এ্যাকশনী ফিল্মের ছবি দর্শন করে বন্ধু-ভাই-বোন অথবা এলাকাবাসীর সাথে সে রকম আচরণ করছে। এভাবে নৈতিক চরিত্র ধ্বংস হচ্ছে।

দুর্নীতি ও অনৈতিকতার অনুপ্রবেশ : দেশ ও জাতির দুর্ভাগ্য যে, বিভিন্ন ক্ষক্ষত্রে দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ফলে দেশ আজ অন্ধকারের অতল তলে নিমজ্জিত হয়েছে। যার দু’একটি উপস্থাপনা করছি :

শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি : কিছু কিছু শিক্ষকের নৈতিক চরিত্র স্খলনের কারণে শিক্ষা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষনের মত অনৈতিক ও ঘৃণ্য কাজ যে সমাজে সংগঠিত হয় সে সমাজকে কী সভ্য ও শিক্ষক্ষত সমাজ বলা যায়? অন্যদিকে শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে প্রাইভেট, টিউশনি ও বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারে পাঠদান, নিয়মিত রুটিং মাফিক ক্লাসে উপস্থিত না থাকা বা ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ অবৈধভাবে তসরুপ ও রাজনৈতিক দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য লোকদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দান, শিক্ষকের যথাযথ মূল্যায়ন না করা। শিক্ষায় নকল প্রবনতা, প্রক্সি দেওয়াসহ অসংখ্য দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে দেশের শিক্ষার গুণগত মানের চরম অবনতি ঘটেছে। ফলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে উঠছে না (ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ৫১বর্ষ ২য় সংখ্যা অক্টোবর-ডিমেস্বর ২০১১, পৃঃ ১১৪)।

আরও দেখুন:  ফিৎনা থেকে আত্মরক্ষা

চিকিৎসাক্ষেত্রে দুর্নীতি : শিক্ষা ক্ষেত্রের মত চিকিৎসা ক্ষেত্রেও দুর্নীতির হিংস্র থাবা প্রবেশ করেছে। মেডিকেলের ছাত্ররা যখন পড়াশুনা করতে যায় তখন তাদের শ্লোগান হিসাবে বলা হয়, ‘এসো শিক্ষার জন্য, যাও সেবার জন্য’। অথচ যখন একজন ছাত্র পড়াশুনা শেষ করে তখন এই নীতিবাক্যকে ভুলে যায় এবং সে অর্থের মোহে অনৈতিক/দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। সরকারি হাসাপাতালের ডাক্তাররা সময়মত উপস্থিত থাকে না। নিজেরা কাজ না করে নার্স বা বয়দের দ্বারা করায়। বেসরকারি অথবা নিজেদের পৃথক ক্লিনিক খুলে নির্ধারিত ফিস নিয়ে রুগী দেখে। এমনকি হাসপাতালেও নিজেদের ক্লিনিকের কার্ড দিয়ে প্ররোচিত করার মত ঘটনা ঘটে। এভাবে পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাব প্রত্যেক ক্ষক্ষত্রের দুর্নীতির কালো থাবা আমাদেরকে আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে।

প্রতিকার :

১. ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দান। ২. অভিভাবকদের দায়িত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ ছেলে-মেয়েদের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা। ৩. নারী-পুরুষের সহশিক্ষা বন্ধ করা। প্রয়োজনে শিফটিং পদ্ধতি চালু করা। ৪. মসজিদ ও পঞ্চায়েতগুলোতে ধর্মীয় উপদেশ ও সামাজিক শাসন বৃদ্ধি করা। ৫. ধর্ম ও সমাজ বিরোধী মেলা ও অনুষ্ঠান বন্ধ করা। ৬. বিদেশী সংস্কৃতি বর্জন করা ও বিদেশী মন্দ চ্যানেলগুলো বন্ধ করা। ৭. ইন্টারনেট ও মোবাইলের মন্দ ব্যবহারের সুযোগগুলো বন্ধ করা। ৮. সেই সাথে এমন শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবে, যা এ মন্দ স্রোতকে বাধা দিবে এবং তার স্থলে সুস্থ স্রোত প্রবাহিত করবে।

যতদ্রুত মুরববী, যুবক, সোনামণি ও মহিলাদের মধ্যে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমলের প্রচার ও প্রসার এবং মন্দ প্রতিরোধকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করা হবে, ততদ্রুত স্ব স্ব পরিবারে, সমাজে, ও রাষ্ট্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে ইনশাআল্লাহ। তাই আসুন! আমরা এ সমাজ ও দেশকে ভালবাসি। সকলেই মিলে নিজেদের ও ভবিষ্যত প্রজম্মের স্বার্থে একটি সুন্দর, সুখী, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী সমাজ ও দেশ গঠনে সম্মিলিত ভাবে আত্মনিয়োগ করি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন-আমীন!!

 

– মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম (উজ্জ্বল)

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Back to top button