সংবাদ

সেহরি ও ইফতারে ‘তার’ অতিথি ১ হাজার

ইফতারের তখনো ২০ মিনিট বাকি। ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ারেজ-মোহছেনা টাওয়ারে দ্রুত প্রবেশ করছেন রোজাদারেরা। ১১তলা ভবনটির নিচতলায় বিশাল জমায়েত। পাঁচটি সারিতে মুখোমুখি বসে আছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। তারা সবাই গরিব, দুস্থ ও খেটেখাওয়া মানুষ। সামনে প্লেটে প্লেটে রকমারি ইফতারি সাজানো। এটি ইফতারের সময়ের দৃশ্য। সেহরির সময়ও একই অবস্থা। পাঁচ শতাধিক মানুষের সেহরির আয়োজন চলে কুয়েত প্রবাসী শিল্পপতি হাছান ওয়ারেছের আয়োজনে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ২১ বছর ধরে তিনি গরিব অসহায় রোজাদারদের জন্য অনন্য নজির রেখে চলেছেন। তাই ইফতার ও সেহরির সময়ে এ ধনীর ঘরে চলে গরিব রোজাদারদের সৌহার্দ্যরে মেলবন্ধন।

পতেঙ্গার স্কুলশিক্ষক সালাম উদ্দিন জহির হকার্স মার্কেটে পরিবারের লোকজন নিয়ে রাতে এসেছেন কেনাকেটার কাজে। এরই মধ্যে সেহরির সময় ঘনিয়ে আসে। অগত্যা সেহরির জন্য চলে আসেন ওয়ারেজ-মোহছেনা টাওয়ারে। তার পাশে বসে আছেন দিনমজুর কবির উদ্দিন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এখানে সেহরিটা সারেন। দুই ছেলেকে নিয়ে সেহরির অপেক্ষায় আছেন রেলস্টেশন এলাকার বস্তির আজমল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি রমজানের প্রতিটি রাতেই এখানে সেহরি খাই, ইফতার করি স্টেশন মসজিদে। কারণ দিনে যে টাকা আয় করি তা দিয়ে সংসার চলে না।

নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ফিরিঙ্গিবাজারের ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারের বিশাল আঙিনায় প্রতি বছর রমজানে প্রতিদিন বসে সুবিশাল ইফতার ও সেহরির আয়োজন। এখানে থাকে না ধনী-গরিব, ছোট-বড়র কোনো ভেদাভেদ। যে কেউ ইফতার ও সেহরিতে অংশ নিতে পারেন। পুরো রমজানে এখানে ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা থাকে এক হাজার মানুষের। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে। গতকাল শনিবার সাড়ে সাত শ’ মানুষ ইফতার ও পাঁচশ মানুষ সেহরি খেয়েছেন বলে জানালেন তত্ত্বাবধায়ক এস এম মজিবুর রহমান। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, ‘রমজান শুরুর পর থেকে নগরীর ২৫টি মসজিদ ও বোয়ালখালী উপজেলার ৩০টি মসজিদে ৩০ জনের ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেন। রোজা শুরু থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত এ আয়োজন চলে।

আরও দেখুন:  গোশত বিক্রি নিষিদ্ধ করায় বয়স্ক গরু নিয়ে বিপাকে ভারত

কর্মরত বাবুর্চিরা জানান, ‘ইফতারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে মুড়ি, খেজুর, চানাবুট, পেঁয়াজু, জিলাপি, সমুচা, আলোর চপ, শরবত প্রভৃতি। এর মধ্যে চনাবুট, পেঁয়াজু, জিলাপি, সমুচা, আলুর চপ তৈরি হয় ভবনের ভেতর একটি রান্নাঘরে। সেহরিতে গোশত, মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজি দেয়া হয়। ইফতার ও সেহরিতে তাদের ব্যয় হয় ২০ লাখ টাকা।’

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে প্রথম এ ধরনের ইফতারের রেওয়াজ চালু করেন বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী শিল্পপতি হাছান ওয়ারেছ। সেই থেকে আজো তা বহাল রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক এস এম মজিবুর রহমান জানান, ‘দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক এখানে ইফতার ও সেহরি খেতে আসেন। তাদের সার্বিক তদারক করার জন্য কিছু যুবক সহযোগিতা করে থাকেন। প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকে শুরু হয় ইফতারের এ আয়োজন। চলে রমজানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা ও মুনাজাত। ওয়ারেজ-মোহছেনা টাওয়ারের নিচে রয়েছে বিশাল রান্নাঘর। এখানে সাতজন পাচক ও ১০ জন কর্মী কাজ করেন। প্রধান পাচক সৈয়দ মুহাম্মদ আনিসুল হক। তিনি জানান, রমজানের প্রতিদিন রাত ১টা থেকে সেহরির রান্না শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে চলে ইফতারির রান্না। একনাগাড়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এভাবে একসাথে বহু মানুষের রান্না করে তাদের খাওয়াতে পারার আনন্দই তার কাছে অনেক।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button