যঈফ/জাল হাদীছ

“কালো পতাকা” সম্পর্কিত জাল/যঈফ হাদীছ

কালো পতাকা নিয়ে কোন হাদীছই ছহীহ নয়। কালো পতাকা সংক্রান্ত প্রচারণা ভ্রষ্টতাপূর্ণ, মিথ্যা ও বাতিল।

১.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, “খুরাসান থেকে (মাহদীর সমর্থনে) কালো বর্ণের পতাকাবাহী সৈন্যদল বের হবে। অবশেষে তা বায়তুল মুকাদ্দাসে স্থাপিত করা হবে। কোন কিছুই তাকে প্রতিহত করতে পারবে না।” (আত্-তিরমিজি: ২২৬৯, মুসনাদে আহমাদ: ৮৭৬০)

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) স্বয়ং এই হাদীসটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন “হাদীসটি গারীব” (যঈফ)।

এই হাদীসটিকে আরো যেই সমস্ত ওলামারা “যঈফ” বলেছেন-

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) – আল-ক্বাওল আল মুসাদ্দিদ: ১/৫৩।

শায়খ আহমাদ শাকির (রহঃ) – তাঁর মুসনাদে আহমাদ এর তাহক্বীক্বে: ১৬/৩১৬।

শায়খ আলবানী (রহঃ) – সিলসিলাহ যঈফাহ: ৪৮২৫।

 

২.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) -এর নিকট বসা ছিলাম, তখন হাশিম বংশীয় কতক যুবক তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। তাদের দেখতে পেয়ে নবী (ছাঃ) -এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হলো এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। রাবী বলেন, আমি বললাম, আমরা সব সময় আপনার চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ লক্ষ্য করি। তিনি বলেন, আমাদের আহলে বাইত-এর জন্য আল্লাহ তা‘আলা পার্থিব জীবনের পরিবর্তে আখেরাতের জীবনকে পছন্দ করেছেন। আমার আহলে বাইত আমার পরে অচিরেই কঠিন বিপদে লিপ্ত হবে, কষ্ট-কাঠিন্যের শিকার হবে এবং দেশান্তরিত হবে। প্রাচ্যদেশ থেকে কালো পতাকাধারী কতক লোক তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে। তারা কল্যাণ (গুপ্তধন) প্রার্থনা করবে, কিন্তুু তা তাদের দেয়া হবে না। তারা লড়াই করবে এবং বিজয়ী হবে। শেষে তাদেরকে তা দেয়া হবে, যা তারা চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করবে না। অবশেষে আমার আহলে বাইত-এর একজন লোকের নিকট তা সোপর্দ করা হবে। সে পৃথিবীকে ইনসাফে পরিপূর্ণ করবে, যেমনিভাবে লোকেরা একে যুলুমে পূর্ণ করেছিলো। তোমাদের মধ্যে যারা সেযুগ পাবে, তারা যেন বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাদের নিকট চলে যায়।” (সুনানু ইবনে মাজাহ্ , ফিতনা অধ্যায়, হাদিস নং- ৪০৮২)

আরও দেখুন:  বহুল প্রচলিত কিছু জাল হাদীছ

ইমাম ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) এই হাদীছটিকে “যঈফ” বলেছেন। কারণ, হাদীছের একজন রাবী ইয়াজিদ ইবনে আলি জিয়াদ এর স্মৃতিশক্তি “দুর্বল” ছিলো। (আল-মানার আল-মুনিফ: ১১৬)

ইমাম আয-যাহাবী (রহঃ) এই হাদীছটিকে “যঈফ” বলেছেন। (মিযান আল-ইতি’দাল ৪/৪২৩)

শায়খ আলবানী (রহঃ) এই হাদীছটিকে “মুনকার” বলেছেন। (সিলসিলাহ যঈফাহ: ৫২০৩)

 

৩.

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, “তোমাদের একটি খনিজ সম্পদের নিকট পরপর তিনজন খলীফার পুত্র নিহত হবে। তাদের কেউ সেই খনিজ সম্পদ দখল করতে পারবে না। অতঃপর প্রাচ্যদেশ থেকে কালো পতাকা উড্ডীন করা হবে। তারা তোমাদেরকে এত ব্যাপকভাবে হত্যা করবে যে, ইতোপূর্বে কোন জাতি তদ্রূপ করেনি। অতঃপর তিনি (ছাঃ) আরও কিছু বলেছেন, যা আমার মনে নাই। তিনি আরো বলেছেন, তাকে আত্মপ্রকাশ করতে দেখলে তোমরা বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তার সাথে যোগদান করো। কারণ সে আল্লাহর খলীফা মাহ্দী।” (সুনানু ইবনে মাজাহ: ৪০৮৪; মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭৭; কানজুল উম্মাল, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৪৬; মিশকাত শরীফ, কেয়ামতের আলামত অধ্যায়)

ইমাম আয-যাহাবী (রহঃ) এই হাদীছটিকে “মুনকার” (প্রত্যাখ্যাত) বলেছেন। (মিযান আল-ইতি’দালঃ ৩/১২৮)

শায়খ আলবানী (রহঃ) এই হাদীসটিকে “মুনকার” বলেছেন। (সিলসিলাহ যঈফাহ: ৮৫)

ইমাম ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন, “হাদীসের একজন রাবী আলি ইবনে জায়েদ “যঈফ” এবং তার রেওয়ায়েতগুলোকে “প্রত্যাখ্যান” করা হয়েছে।” (আল-মানার আল-মুনিফ: ১১৫)

 

৪.

আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জায়ই আয-যাবীদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, “প্রাচ্য দেশ থেকে কতক লোকের উত্থান হবে এবং তারা মাহ্দীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে”। (সুনানু ইবনে মাজাহঃ ৪০৮৮)

শায়খ আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন।

 

– Shahab Babu

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Back to top button