সংবাদ

তিউনিসিয়ায় ৮০টি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে

সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগ এনে ৮০টি মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিউনিসিয়া সরকার। গত শুক্রবার দেশটির সুসি শহরের সমুদ্র সৈকতে বন্দুকধারীর হামলায় ৩৯ জন নিহতের পর সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানানো হলো। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাবিব এসিদের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার এ খবর দেয় সংবাদ মাধ্যম। এসিদ বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরের ওইসব মসজিদ থেকে সন্ত্রাসের বিষ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।রাজধানী তিউনিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ প্রধানমন্ত্রী এসিদ বলেন, কিছু মসজিদ থেকে প্রতিনিয়ত প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওইসব মসজিদ বন্ধ করে দেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া যেসব দল ও গ্রুপ সংবিধান পরিপন্থী কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিজ্ঞাও করেন তিনি। গত শুক্রবারের হামলায় নিহতদের বেশির ভাগই ব্রিটিশ নাগরিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি এসিদ।তিউনিসিয়ার ইতিহাসে শুক্রবারের হামলা একটি ভয়াবহ ঘটনা। ২০১১ সালের আরব অভ্যুত্থানে তৎকালীন শাসক জয়নাল আবদিন বেন আলীর পতনের পর দেশটিতে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের অবস্থান শক্ত হতে শুরু করে। এমনকি দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয় মডারেট ইসলামিক দল এন্নাহদা পার্টি। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর মাসে দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয় ধর্মনিরপেক্ষ দল নিদা টুন পার্টি। ক্ষমতা গ্রহণ করলেও দলটি ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের দমনে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং পার্শ্ববর্তী লিবিয়ার দ্বন্দ্ব এবং ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থানের পর অনেকটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে ওইসব গ্রুপ। অপর এক খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ার সাথে আবারো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে তিউনিসিয়া। তিউনিসিয়ার প্রায় তিন হাজার লোক জিহাদি হিসেবে যোগ দিতে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জিহাদি সংগঠন ইসলামিক স্টেটে (আইএস) অংশ নিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। এদের চিহ্নিত করতেই সিরিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পরিকল্পনা করছে তিউনিসিয়া। গত মাসে তিউনিসিয়ার জাদুঘরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর থেকে দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ জিহাদিদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে বলা হয়েছে।প্রসঙ্গত, আরব বসন্তের জন্মস্থান তিউনিসিয়া ২০১১ সালে সিরিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করে। সিরিয়াতেও সে সময় সরকার পতনের আন্দোলনে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছিল। উল্লেখ্য, তিইনিসিয়ায় আইএসের তৎপরতার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত দেশটির সরকার। এ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক লোকের আইএসের পক্ষে যোগ দিয়ে জিহাদে অংশ নেয়ার বিষয়টিও ভাবনায় ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যই সিরিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশষেজ্ঞরা।

আরও দেখুন:  ব্রুনেইয়ে মুসলিমদের জন্য বড়দিন উৎসব নিষিদ্ধ

বিবিসি, ইনকিলাব

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button