পরিবার ও দাম্পত্য

পিতা-মাতার উপর সন্তানের অধিকার

পৃথিবীর প্রতিটি গৃহে প্রত্যেক ব্যক্তি সন্তান কামনা করে। সন্তানের উপস্থিতি যেমন কল্যাণ বয়ে আনে, তেমনি গৃহের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে। তাই যে গৃহে নিষ্পাপ শিশুর কল-কাকলি থাকে না, সে গৃহের শোভা ও সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। শিশুর শোভা ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জনৈক কবি সুন্দর করে বলেছেন,

إِنَّمَا أَوْلاَدُنَا بَيْنَنَا * أَكْبَادُنَا تَمْشِىْ عَلَى الْأَرْضِ

لَوْ هَبَّتِ الرِّيْحُ عَلَى بَعْضِهِمْ * لاَمْتَنَعَتْ عَيْنِىْ عَنِ الْغُمْضِ.

সন্তানেরা মনে হয় যেন আমাদের মাঝে,

মোদেরি অন্তর মূর্ত হয়ে মাটিতে হাঁটে।

দমকা হাওয়াও বয়ে যায় যদি কোনও সাঁঝে,

ঘুম আসে না আমাদের চোখে সারাটি রাতে।

সন্তান আল্লাহ তা‘আলার অগণিত নে‘মতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নে‘মত ও তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লামা আলূসী (রহঃ) বলেছেন, ‘ধন-সম্পদ হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর উপায় আর সন্তান-সন্ততি হচ্ছে বংশ তথা মানব প্রজাতি রক্ষার মাধ্যম’। পিতা-মাতার নিকট থেকে স্নেহ-মমতাসহ সন্তানের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবার অধিকার আছে। সালমান ফারেসী (রাঃ) বলেন, إِنَّ لِرَبِّكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَلِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَأَعْطِ كُلَّ ذِىْ حَقٍّ حَقًّهُ. ‘তোমার উপর তোমার রবের হক রয়েছে, তোমার শরীরের হক রয়েছে এবং তোমার পরিবারের হক রয়েছে। অতএব প্রত্যেককে তার অধিকার দাও’। রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে সালমান (রাঃ)-এর এ বক্তব্য পেশ করা হ’লে তিনি বলেন, ‘সালমান সত্য বলেছে’।[1] কারণ মানব সন্তান পশু-পাখির মত নয় বিধায় তারা পুরোপুরি আদর-যত্ন, স্নেহ-মমতা না পেলে তাদের পক্ষে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।

সন্তান পিতা-মাতার যৌথ ফসল। মহান আল্লাহ তা‘আলার সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টি মানব সন্তান পিতা-মাতার নিকট পবিত্র আমানত। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে, কিন্তু তা ভোগ করার মতো কোন উত্তরাধিকারী নেই। তারা হাযারও চেষ্টা-সাধনা ও কামনা করে একটি সন্তান লাভ করতে পারছে না। অপরপক্ষে বহু লোক আছে যাদের যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও বহু সংখ্যক সন্তানের জনক। সন্তান লাভ করা আল্লাহর পক্ষ হ’তে এক বিশেষ নে‘মত। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন,

لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَّشَاءُ إِنَاثاً وَّيَهَبُ لِمَن يَّشَاءُ الذُّكُوْرَ- أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَاناً وَّإِنَاثاً وَّيَجْعَلُ مَنْ يَّشَاءُ عَقِيْماً إِنَّهُ عَلِيْمٌ قَدِيْرٌ.

‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন অথবা দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান’ (শূরা ৪২/৪৯৫০)। সন্তানের লালন, পরিপুষ্টি, সংরক্ষণ, পরিবৃদ্ধি সর্বোপরি আল্লাহর মর্যি মোতাবেক একজন সুন্দর মানুষ হিসাবে তার জীবন গঠন করার দায়িত্ব মাতা-পিতা উভয়ের। শিশুকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে পিতা-মাতা পরস্পর পরিপূরক দায়িত্ব পালন করেন। উপার্জন, শাসন, নিয়ন্ত্রণ ও বহিরাঙ্গনের শ্রমসাধ্য দায়িত্ব পিতাকে পালন করতে হয়। অভ্যন্তরীণ কাজ-কর্ম, শিশুর লালন-পালন ও প্রাথমিক শিক্ষার মত মৌলিক ও ধৈর্যসাধ্য কাজগুলি সাধারণতঃ মায়ের উপর বর্তায়। শিশু নির্দোষ প্রকৃতি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। তাকে দৈহিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলে উপযুক্ত নাগরিক করার দায়িত্ব পিতা-মাতার। মহানবী (ছাঃ) বলেছেন,

مَا مِنْ مَوْلُوْدٍ إِلاَّ يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ.

‘প্রতিটি শিশুই ফিতরাতের (ইসলাম) ওপর জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী, খৃষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়’।[2]

সন্তান পিতা-মাতার যৌথ উদ্যোগের এক অনুপম উপহার। পিতা-মাতা উভয়ের নিকট সন্তানের অধিকার স্বীকৃত। আমরা সন্তানের অধিকারকে দু’ভাগে বিভক্ত করতে পারি।

  1. মাতার নিকট থেকে প্রাপ্ত অধিকার।
  2. পিতার নিকট থেকে প্রাপ্ত অধিকার।

(১) মাতার নিকট থেকে প্রাপ্ত অধিকার সমূহ :

মাতার নিকট হ’তে সন্তানের যে অধিকার স্বীকৃত তা দু’টি পর্যায়ে বিভক্ত।

(ক) গর্ভকালীন বা জন্মপূর্ব অধিকার।

(খ) জন্ম পরবর্তী অধিকার।

(ক) গর্ভকালীন অধিকার সমূহ :

গর্ভধারণ :

আল্লাহর অপার অনুগ্রহে গর্ভে আগত সন্তানকে মা অত্যন্ত আনন্দচিত্তে গ্রহণ করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বহন করবেন। এজন্য তিনি তার দেহ-মনকে সুস্থ, পূত-পবিত্র ও কলুষমুক্ত রাখবেন। সন্তানের মঙ্গলের নিমিত্তে নিজ স্বাস্থ্যের প্রতি সদা সতর্ক থাকবেন। সন্তানকে আপদ মনে করে বিনষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিবেন গর্ভস্থ সন্তানের জন্য এবং সাগ্রহে যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট মাথা পেতে নিতে প্রস্ত্তত থাকবেন। তবেই সন্তানের প্রতি মায়ের যথাযথ কর্তব্য পালন করা হবে। মায়ের এ কঠিন দায়িত্ব সম্পর্কে এরশাদ হচ্ছে, حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْناً عَلَى وَهْنٍ. ‘তার মাতা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছেন’ (লোকমান ৩১/১৪)

দৈহিক গঠন :

সন্তান গর্ভে অবস্থানকালীন সময়ে মায়ের কঠোর পরিশ্রম ও বেপরোয়া চলাফেরা তার দৈহিক গঠন প্রক্রিয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। সন্তানের কল্যাণের জন্য চলাফেরার সময় তাকে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন পূর্বক কঠোর পরিশ্রম হ’তে বিরত থাকতে হবে। অসাবধানতার কারণে সন্তান বিকলাঙ্গ হ’তে পারে, এমনকি গর্ভপাত পর্যন্তও ঘটতে পারে। এ সময় পুষ্টিকর ফলমূল এবং উত্তম খাদ্য মা গ্রহণ করবেন। ফলমূল অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে ফলমূলে অধিক পরিমাণে সুগার আছে যা সহজে হজম হয় এবং এ থেকে শরীর গ্রহণ করে জীবনী শক্তি ও খাদ্যপ্রাণ। ফলমূল দেহের ক্ষয়প্রাপ্ত শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে মহান আল্লাহ মারয়াম (আঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,

وَهُزِّيْ إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَباً جَنِيًّا- فَكُلِيْ وَاشْرَبِيْ وَقَرِّيْ عَيْناً.

‘তোমার দিকে খেজুর বৃক্ষের কান্ডকে ঝুঁকিয়ে নাও, সে তোমার উপর পতিত করবে তাজা উপাদেয় খেজুর, তা তুমি খাও ও পান কর এবং নয়ন জুড়াও’ (মারয়াম ১৯/২৫২৬)

আহার্য গ্রহণের ব্যাপারে নিয়মানুবর্তিতা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর। সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে রামাযানের ছিয়াম থেকে বিরত থাকার বিষয়ে শরী‘আতের অনুমোদন আছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ اللهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ شَطْرَ الصَّلَواةِ وَالصَّوْمَ عَنِ الْمُسَافِرِ وَعَنِ الْمُرْضِعِ وَالْحُبْلَى. ‘আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির হ’তে অর্ধেক ছালাত এবং মুসাফির, স্তন্যদানকারিনী মাতা ও গর্ভবতী স্ত্রী লোক হ’তে ছিয়াম উঠিয়ে নিয়েছেন’। অর্থাৎ ছিয়ামের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।[3]

মানসিক গঠন :

দৈহিক কাজ-কর্মের ন্যায় এ সময় মায়ের মানসিক কর্মেরও প্রভাব সন্তানের উপর প্রতিফলিত হয়। অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থাতেও নিজেকে সংযত রেখে ঝগড়া-বিবাদ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি হ’তে দূরে থাকা মায়ের অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) থেকে বিমুখ করতে পারে এরূপ বই-পত্র ও ধ্যান-ধারণা হ’তে মনকে পূত-পবিত্র রাখতে হবে। কেননা যাবতীয় খারাপ, অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা পরিহার করে সৎ চিন্তা ও কুরআন-হাদীছ এবং নবীদের জীবনী পঠন ও শ্রবণ গর্ভস্থ সন্তানের সুশীল মানসিকতা গঠনে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। হারাম এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত খাদ্যদ্রব্য গর্ভের শিশুর উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। তাই এসব হ’তে মাকে অনেক দূরে অবস্থান করতে হবে। হারাম বর্জন করে হালাল বস্ত্ত খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে, وَكُلُواْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ حَلاَلاً طَيِّباً. ‘আল্লাহ তোমাদের যা কিছু রিযিক দান করেছেন, তার মধ্যে হালাল ও পবিত্র বস্ত্ত আহার কর’ (মায়েদাহ ৫৪/৮৮)

সন্তানকে সুষ্ঠু ও সুন্দর মনের একজন আদর্শবান মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার প্রধান দায়িত্ব মায়ের। মায়ের মন-মানসিকতার উপর নির্ভর করে সন্তানের মন-মানসিকতা। পৃথিবীর অধিকাংশ মা এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান না করার কারণে সন্তান হয় দুশ্চরিত্র। তাই একজন সুন্দর মনের সন্তান পেতে হ’লে মাকে সুন্দর পূত-পবিত্র মানসিকতাসম্পন্ন হ’তে হবে। গর্ভস্থ সন্তানের স্বার্থেই এটি প্রত্যেক মায়ের কর্তব্য এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের এটি অধিকার। সন্তানের জন্য গর্ভবতী মাতার এসব মু‘আমালাত অবশ্যই পালনীয়। এতে মাতা ও সন্তানের পার্থিব কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং পরকালে মাতার জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।

(খ) জন্ম পরবর্তী অধিকার :

মায়ের স্তনে সন্তানের অধিকার :

গাছের শাখা যেমন মূলের মুখাপেক্ষী, তেমনি শিশু জন্মের পর মায়ের উপর নির্ভরশীল। শিশুর জন্মের সাথে সাথে আল্লাহর রহমতে মাতৃস্তনে সৃষ্টি হয় শিশুর উপযোগী খাবার। সুতরাং পৃথিবীতে কোন মা যেন বিশেষ কারণ ছাড়া স্বীয় দুধপান থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করে শিশুর অধিকার অস্বীকার না করেন। সন্তানকে দুধপান করানোর জন্য আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন, وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلاَدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُُّتِمَّ الرَّضَاعَةَ. ‘যে সকল জননী সন্তানদের পুরো সময় পর্যন্ত দুগ্ধ দান করতে ইচ্ছা রাখে, তারা নিজেদের শিশুদেরকে পুরো দু’বছর ধরে দুগ্ধ পান করাবে’ (বাক্বারাহ /২৩৩)

মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানযুক্ত আল্লাহ প্রদত্ত এমন তৈরী খাবার, যা শিশু সহজেই হজম করতে পারে এবং তা শিশুর শরীরের বৃদ্ধি ঘটানোতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিশুর শরীরের খাদ্য চাহিদার যে পরিবর্তন ঘটে, মায়ের বুকের দুধে অনুরূপ পরিবর্তন প্রতিদিনই ঘটে থাকে। শিশুর দেহ যে পরিমাণ তাপমাত্রা হ’লে দুধ তার দেহে কাজে লাগতে পারে, সেরূপ তাপমাত্রা মায়ের বুকের দুধে বিদ্যমান থাকে। শিশুকে সুস্থ-সুন্দর করে গড়ে তুলতে হ’লে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই। মায়ের বুকের দুধে বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধক উপাদান থাকে। যেমন- আই.জি.এ ল্যাকটোফেরিন এবং লাইসোজাইম। এছাড়াও মায়ের বুকের দুধে প্রচুর শ্বেত রক্তকণিকা থাকে যেগুলো আবার আই.জি.এ ল্যাকটোফেরিন, লাইসোজাইম, ইন্টারফেরন তৈরী করে। বাইফিজস ফ্যাকটর নামে আরও একটি পদার্থ মাতৃদুগ্ধে পাওয়া যায়। এগুলো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে। যার ফলে বাচ্চার দেহে ডায়রিয়া, কান পাকা রোগ, শ্বাসনালীর রোগ কম হয়। এছাড়া মাতৃদুগ্ধ পানে হৃৎপিন্ডের রোগ, করোনারী, খাদ্যনালীর রোগ প্রভৃতি প্রতিরোধ করে। মায়ের দুধ পান শিশুর চেহারার লাবণ্য সৃষ্টি করে, বাকশক্তি ও সাধারণ বুদ্ধি বিকাশে সাহায্য করে।

বিশেষ কারণ ছাড়া কোন মা শিশুকে দুধ পান হ’তে বঞ্চিত করে যে ক্ষতি সাধন করে, তা অপূরণীয়। কারণ স্তন্যদান মায়ের মধ্যে সৃষ্টি করে শিশুর প্রতি এক বিশেষ স্নেহ প্রবণতা ও আবেগ-অনুভূতি। যে সকল মহিলা তাদের চাকচিক্য ও রূপ-লাবণ্য নষ্ট হবার ভয়ে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো হ’তে বিরত থাকে, তাদের এ হীন মানসিকতা এখুনি পরিত্যাগ করা উচিত।

শিশুর স্বাস্থ্য, মন-মানসিকতা, চরিত্র ও রুচি গঠনে মায়ের দুধের ভূমিকা যথেষ্ট। বিশেষ কারণ বশতঃ কোন শিশুকে আপন মা ব্যতীত অন্য মহিলার দুধ পান করানোর প্রয়োজন হয়ে পড়লে, সেক্ষেত্রে দুশ্চরিত্রা ও অসুস্থ মহিলার দুধ পান করানো হ’তে বিরত রাখতে হবে।

স্নেহের পরশে প্রতিপালন :

সন্তান মায়ের হৃদয়ের দরদ ও পরম স্নেহ-যত্নের দাবীদার। মা কোন প্রকার ঘৃণা না করে আন্তরিক ভালবাসা দিয়ে সন্তানের পরিচর্যা করবে। আদর-স্নেহ হ’তে বঞ্চিত সন্তানদের স্বভাব-চরিত্রে বিরূপ পড়ে থাকে। স্নেহের পরশে প্রতিপালনকারী মা আল্লাহর অনুগ্রহের অংশীদারিণী হয়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একবার হাসান বিন আলী (রাঃ)-কে স্বস্নেহে চুম্বন করেন। আকরা বিন হাবিস আত-তামিমী (রাঃ) এ দৃশ্য দেখে বললেন, إِنَّ لِىْ مِنَ الْوَلَدِ عَشَرَةً مَا قَبَّلْتُ أَحَدًا مِِّنْهُمْ. ‘আমার দশটি সন্তান আছে, আমি তাদের কাউকেই কোন দিন চুম্বন করিনি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, إِنَّهُ مَنْ لاَ يَرْحَمْ لاَ يُرْحَمْ ‘যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না’।[4]

আরও দেখুন:  বিয়ে একটি উত্তম বন্ধুত্ব

অন্য আরেকটি হাদীছে এসেছে-

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : قَدِمَ نَاسٌ مِّنَ الْأَعْرَابِ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوْا : أَتُقَبِّلُوْنَ صِبْيَاَكُمْ؟ قَالُوْا : نَعَمْ، فَقَالُوْا لَكِنَّا وَاللهِ! مَانُقَبِّلُ فَقََالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمْلِكُ أَنْ كَانَ اللهُ قَدْ نَزَعَ مِنْكُمُ الرَّحْمَةَ.

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদল বেদুঈন নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, তোমরা কি তোমাদের সন্তানদেরকে চুমু দাও? উপস্থিত সবাই বলল, হ্যাঁ। তখন তারা বলল, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমরা তাদেরকে চুমু দেই না। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের অন্তর থেকে মায়া-মমতা তুলে নিলে আমি কী করতে পারি’।[5]

সন্তান জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে মায়ের নিকট অধিক সময় থাকে। তাই মায়ের অপত্য স্নেহের পরশ না পেলে সে নিজেকে অসহায় মনে করবে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অসহায়ত্বের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এমন রূপ ধারণ করবে যা সারা জীবন খেসারত দিয়েও পরিশোধ করা যাবে না।

পিতৃহারা সন্তানের প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ :

সন্তানকে সমাজ ও সংসার জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পিতা যেমনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, অনুরূপভাবে মাকেও তাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। আর পিতা মারা গেলে মা-ই এ মহান দায়িত্ব পালনে সব রকম সহযোগিতা প্রদানে ব্রতী হবেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চেহারা-সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও অন্যের গৃহে না গিয়ে ইয়াতীম সন্তানদের প্রতিপালন ও প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারেন এমন মহিলা সত্যিই নারী জাতির গৌরব। এ গৌরব অর্জনের জন্য তাকে প্রতিটি পদে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

প্রাথমিক জ্ঞান দান :

শিশু জন্ম হ’তে বিদ্যালয়ে গমনের পূর্ব পর্যন্ত মায়ের সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হয়। আর মায়ের কোল থেকেই শিশুর শিক্ষা তথা জ্ঞান আহরণের যাত্রা শুরু হয়। শিশুর মন এ সময় অত্যন্ত কোমল থাকে, সে জন্য তখন তাকে যে শিক্ষা দেয়া হয়, তা সে সহজে গ্রহণ করে। এ শিক্ষা তার ভবিষ্যৎ জীবনের পাথেয় হিসাবে কাজ করে। তাই শিশুর মুখে আধো আধো বুলি ফুটতে শুরু করলে মাকে কথা বলার সময় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। সন্তানের সামনে কটু বা খারাপ বাক্য উচ্চারণ করা হ’তে সংযত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজন। মায়ের মিষ্টিমিষ্টি কথা শিশুর অন্তরে প্রবলভাবে রেখাপাত করে। মা ইসলামের সুমহান শিক্ষার কথা সুমধুর ভাষায় শিশুর মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। তাকে ইসলামের প্রাথমিক বিষয়সমূহ শিক্ষা দিবেন। অধিক ভোজনের অপকারিতা, জোরে চীৎকার করে কথা না বলা সম্পর্কে জ্ঞান দান করবেন। দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে-মেয়েদের সাথে মিশতে, মিথ্যা ও অহেতুক কথা বলার মত অশালীন কাজ থেকে তাদেরকে বিরত রাখবেন। নিজেদের কাজ যথাসম্ভব নিজ হাতে করার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষা দিবেন। ভাল কাজ করলে ধন্যবাদ প্রদান এবং মন্দ কাজ করলে মৃদু শাসন করতে হবে।

শিশু একটি পুষ্পকলি। মা তার মধ্যে মানবীয় গুণাবলী, সুন্দর চরিত্রের রং, রূপ ও গন্ধ ভরে দিবেন। মায়ের অভিপ্রেত অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে শিশুর শিক্ষা হ’লে বৃহত্তর সমাজ ও জাতি নিঃসন্দেহে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা :

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সৌন্দর্যের মূল ভিত্তি। কোন ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত তার শরীরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করার ব্যাপারে সচেষ্ট না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ইসলামের মানদন্ডে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এবং সর্বদিকে সম্মানিত ব্যক্তি বলে বিবেচিত হবে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত পানাহার ও পোষাক-পরিচ্ছদের বেলায় সকল প্রকার ময়লা ও অপরিচ্ছন্নতা থেকে দূরে থাকতে পারবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে না। এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মা তার ছোট্টমণিকে শিশুকাল থেকে শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট হবেন। শরীরের রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার নিমিত্তে কাপড়-চোপড় পরিচ্ছন্ন, খাদ্যদ্রব্য পবিত্র রাখা এবং খাদ্যের পাত্র পরিষ্কার করা একান্ত দরকার। এ ব্যাপারে মা সন্তানকে অভ্যস্ত করে তুলবেন। কারণ পবিত্রতা আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা দান করে। এ ব্যাপারে কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে, إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِيْنَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকেও ভালবাসেন’ (বাক্বারাহ /২২২)

যেমনিভাবে নিজের শরীর ও মনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, তেমনিভাবে ঘর-দরজা, বাড়ীর চারপাশের পরিবেশ, রাস্তা-ঘাট, পরিষ্কার রাখতে হবে। একথা মা তার সন্তানকে শৈশব থেকে হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে এ ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলবেন। রাসূল (ছাঃ) এ সম্পর্কে বলেন, نَظِّفُوْا أَفْنِيَتَكُمْ. ‘তোমরা তোমাদের বাড়ির আঙ্গিনা ও সম্মুখ ভাগ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখ’।[6]

শৈশবে শিশুর মন অত্যন্ত পবিত্র এবং নরম থাকে। নরম মাটিকে কুমার যা ইচ্ছা তা করতে পারে। অনুরূপভাবে মা পবিত্র নরম হৃদয়ের শিশুটিকে পবিত্রতা তথা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যেরূপ প্রশিক্ষণ দান করবেন, সেভাবে জীবনের বাকী দিনগুলি সে অতিবাহিত করবে।

সৌজন্যবোধ শিক্ষা দান :

শিশু-সন্তান মাকে বেশী অনুসরণ করে। তাই মা শৈশবেই শিশুকে সৌজন্যবোধ শিক্ষা দিবে। যাতে করে শিশু প্রশংসনীয় কাজ ও সুন্দর চরিত্রে সজ্জিত হয়ে বড় হ’তে পারে। সন্তান যেহেতু বিশ্ব প্রকৃতির পবিত্র উপাদান এবং সমাজরূপী প্রাসাদের ইট সমতুল্য, সেহেতু সন্তানকে ভদ্রতা, বিনয়, সরলতা, সততা, সত্যবাদিতা ইত্যাদি গুণাবলী শিক্ষা দানে মাতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। একজন শিশু পরবর্তী জীবনে পৃথিবীর সকলের নিকট এক আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে ওঠার জন্যই মায়ের নিকট হ’তে সে এই গুণাবলী অর্জনের অধিক হকদার।

উন্নত মনমানসিকতা গঠন :

মানুষ আল্লাহর খলীফা। আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করাই মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রতিটি মানুষের উপর একদিকে রয়েছে স্রষ্টার অধিকার, আর অপর দিকে রয়েছে অগণিত সৃষ্টির অধিকার। স্রষ্টা এবং সৃষ্টির অধিকার সুন্দররূপে আদায়ের জন্য সন্তানের উন্নত মন-মানসিকতা গঠন করার ব্যাপারে মাকে সচেষ্ট হ’তে হবে। শিশুর মনের সুকুমার বৃত্তিগুলি জাগ্রত করতে হবে। তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে আল্লাহর অধিকার পূর্ণরূপে আদায় করলে পরকালে চির সুখের স্থান জান্নাত পাওয়া যাবে। আর তা আদায় না করলে চরম শাস্তির সম্মুখীন হ’তে হবে। সৃষ্টির প্রতি অধিকার বলতে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন তথা বিশ্বের সকল সৃষ্টজীবের সাথে উত্তম আচরণ করলে ইহজীবনে শান্তি ও পরজীবনে পুরষ্কার লাভে সক্ষম হবে, একথা তাদের মনের মধ্যে গ্রোথিত করে দিতে হবে। এছাড়াও অপসংস্কৃতির সয়লাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্ত্তত করতে হবে। তাদের মধ্যে বীরত্ব, দৃঢ়তা সৃষ্টি করা এবং ভীরুতা-কাপুরুষতা পরিহারের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বৈধ সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নিজের আত্মসম্মানবোধ ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দিতে হবে। অপরপক্ষে অন্যের সম্মান যেন বিনষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মোটকথা তাদেরকে পরিকল্পিত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে, যাতে করে তারা নিজেদেরকে বিশ্ববাসীর সামনে এক উত্তম উদাহরণ হিসাবে পেশ করতে সক্ষম হয়।

ব্যবহারিক শিক্ষা দান :

দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক কাজ রয়েছে, যা একজন মানুষ জীবনের ঊষালগ্ন হ’তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হ’লে বড় হয়ে তা পালনে ব্যর্থ হয়। নিজের ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় গোছানো, ঘর-দুয়ার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, অযূ-গোসল করে পাক-ছাফ হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে সন্তানকে শিক্ষা দিতে হবে। বিশেষ করে মেয়ে সন্তানকে গৃহস্থালী কাজ-কর্মে অভ্যস্ত করে তোলা, রান্না-বান্না ও অন্যান্য কাজের শিক্ষা দিয়ে দক্ষ ও সুনিপুণ করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে তারা আদর্শ গৃহিনী হ’তে পারে। মানুষের চলার পথে ব্যবহারিক জীবনের কাজগুলি শিক্ষা দিয়ে সন্তানকে ভবিষ্যৎ জীবনের সোপান তৈরী করে দিতে মা একটি উত্তম প্রতিষ্ঠান। একথা স্মরণ রেখে প্রত্যেক মায়ের স্বীয় দায়িত্ব পালন করাই সন্তানের অধিকার।

তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া :

সন্তানের তত্ত্বাবধান করা একজন আদর্শ মায়ের বড় কর্তব্য। সন্তানকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মাকে তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হ’তে হয়। সন্তানকে উত্তমরূপে গড়ে তোলার ব্যাপারে মাকেই মমতাময়ীর ভূমিকা পালন করতে হবে। ইসলাম মাকে গৃহের দায়িত্বশীলরূপে স্থির করেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান কর্তা। পুরুষ তার পরিবারের কর্তা আর নারী তার ঘরের কর্ত্রী’।[7] হাদীছে এসেছে, وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ، وَهِىَ مَسْئُوْلَةٌ عَنْهُمْ. ‘স্ত্রীরা নিজের স্বামীর ঘর ও তার সন্তানের রক্ষক, সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’।[8]

সন্তানের প্রতিটি ক্ষেত্রে মা উত্তম পরিচালক হিসাবে পরিচয় দিতে না পারলে শিশুর উপরে উঠার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। চালক একটু অমনোযোগী হবার কারণে যেমনভাবে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তেমনভাবে মা তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে সামান্যতম বেখেয়াল হ’লে সন্তানের জীবনের সোনালী সূর্য অস্তমিত হয়ে কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। অতএব এ বিষয়ে আমাদের আরো সচেতন হ’তে হবে।

() পিতার নিকট থেকে প্রাপ্ত অধিকারসমূহ :

সন্তানের প্রতি পিতার দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদী। মাতৃগর্ভে সন্তানের সঞ্চারণ শুরু হবার সময় হ’তে বড় হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব অব্যাহত থাকে। এজন্য ইসলাম দাম্পত্য জীবনের ব্যয়ভার বহন ও দৈহিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিকেই বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করেছে।[9] পিতার নিকট হ’তে প্রাপ্ত সন্তানের অধিকারগুলোকে আমরা দু’পর্যায়ে বিভক্ত করতে পারি।

(ক) সন্তানের পৃথিবীতে আগমনের পূর্ববর্তী অধিকার।

(খ) সন্তানের পৃথিবীতে আগমনের পরবর্তী অধিকার।

() সন্তানের পৃথিবীতে আগমনের পূর্ববর্তী অধিকার সমূহ

. সন্তানের জন্য পুণ্যবতী মায়ের ব্যবস্থাকরণ :

ইসলাম শুধু যে জন্মের পর থেকেই শিশুদের প্রতি গুরুত্ব দেয় তা নয়; বরং সন্তান তার পিতার ঔরসে বা মায়ের গর্ভে তার আকৃতি সৃষ্টি হবার পূর্ব থেকেই তার প্রতি গুরুত্বারোপ প্রদান করেছে। পুরুষদের প্রতি বিবাহ সম্পর্কে ইসলাম নির্দেশ প্রদান করেছে যে, প্রস্তাবিত মহিলা যেন আল্লাহভীরু হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিবাহের ক্ষেত্রে বংশ, সম্পদ, সৌন্দর্য ও আল্লাহভীরুতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِيْنِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّيْنِ تَرِبَتْ يَدَاكَ. ‘মহিলাদেরকে চারটি গুণের অধিকারিণী দেখে বিবাহ করা হয়। (ক) তার ধন-সম্পদ (খ) বংশমর্যাদা (গ) তার সৌন্দর্য ও (ঘ) তার ধর্মপরায়ণতা। তোমরা দ্বীনদার মহিলাকে বিয়ে করে ধন্য হও, অন্যথা তোমার উভয় হাত ধুলায় ধূসরিত হবে’। (অর্থাৎ তুমি লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে)।[10]

বিবাহ করার সময় মহিলার রূপ বা সম্পদই যেন সবকিছু বলে বিবেচিত না হয়; বরং এর যে কোন একটির সাথে ধর্মপরায়ণতার গুণটি অবশ্যই যুক্ত হ’তে হবে। মহিলা যেন ভদ্র পরিবারের সদস্যা হন। কারণ তার সন্তানেরা তার চরিত্র, বৈশিষ্ট্য ও আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে।

আরও দেখুন:  শিশুদের রোজা রাখতে উৎসাহ দিন

ওমর (রাঃ) জনৈক পুত্র কর্তৃক সন্তানের প্রতি পিতার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হ’লে উত্তরে বলেছিলেন, ‘পিতার দায়িত্ব হচ্ছে, তিনি যেন সন্তানের মাতা নির্বাচনে ভুল না করেন’।[11] ভাল সন্তানের জন্যে সতী-সাধ্বী মা হওয়া শর্ত। আর এ শর্তটি পিতা পূরণ করে সন্তানের হক আদায়ে সচেষ্ট হবেন।

. গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি, সুস্থতা সেবাযত্নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ :

শিশু সুস্থ ও শক্তি-সামর্থ্যবান হওয়া প্রতিটি পরিবারের কাম্য। এজন্য গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে পিতাকে। গর্ভবতী মায়ের প্রতি পিতার যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্যই গর্ভস্থ সন্তানের অধিকার। এই দায়িত্ব পিতা নিষ্ঠার সাথে পালন করলে সম্পূর্ণ সুস্থভাবে শিশু জন্মলাভ করার যথার্থ অবস্থা ও পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

সাধারণ অবস্থার চেয়ে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের পুষ্টিকর খাদ্যের বেশী প্রয়োজন হয়। মা সুস্থ সবল না থাকলে, সুস্থ সবল সন্তান জন্ম দিতে পারে না। কাজেই যে সমস্ত খাদ্যে বেশী পরিমাণ ভিটামিন রয়েছে, সেরূপ খাদ্য সরবরাহ করতে পিতা সদা সচেষ্ট থাকবেন।

মায়ের দৈহিক পরিশ্রম লাঘবের জন্যে পিতাকে গৃহস্থালী কাজে সহায়তা করতে হবে। সন্তানের মঙ্গলার্থেই গর্ভধারিণী মাতার স্বাস্থ্য রক্ষা, সুস্থ দেহ, মন-মানসিকতা গঠন ও পবিত্র রাখা এবং হালাল খাদ্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা পিতার দায়িত্ব। সর্বোপরি সর্বাঙ্গীন সুন্দর সন্তান প্রাপ্তির আশায় মাকে পুষ্টিকর উপাদেয় খাবার যোগান দেওয়া, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করা এবং ইসলামী ভাবধারা সম্বলিত পুস্তকাদি সরবরাহ করা পিতার কর্তব্য। একজন অনাগত সন্তান সুস্থ ও সুন্দরভাবে পৃথিবীতে আসার জন্য এ সমস্ত বিষয় একজন আদর্শ পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

() পৃথিবীতে আগমনের পরবর্তী অধিকার সমূহ :

শিশুরা হচ্ছে জীবনের কিশলয়, আশার ফসল, মানুষের চোখ জুড়ানো ধন, উম্মাহর প্রস্ফূটিত ফুল, মানবতার ভবিষ্যত, সত্যিকার প্রভাতের উদয়, ঝলমলে আগামী দিন, গৌরবময় অতীতের প্রত্যাবর্তন এবং উম্মাহর কীর্তিমান মর্যাদার শাসন সংরক্ষিত রাখার একটি মাধ্যম। সন্তান মানুষের ইপ্সিত আশার প্রতীক। তাই সন্তান জন্মগ্রহণ করার পরেই কতগুলি মৌলিক দায়িত্ব পিতাকে পালন করতে হয়। এই গুরু দায়িত্ব হ’তে অমনোযোগী হ’লে তাকে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে।

সন্তানকে যথাযথভাবে প্রতিপালন করা ও তাদের নৈতিকতার উন্নয়নে পিতা যত্নবান না হ’লে অথবা অর্পিত দায়িত্ব পালন না করলে সন্তানের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠে দুর্বিসহ। কাজেই একজন পিতা সন্তানের সঙ্গে বৈরী মনোভাব পরিহার করে বন্ধুসুলভ আচরণ করবেন। সর্বদা সন্তানের সঙ্গে কোমল ব্যবহার করবেন, আদর ও স্নেহ করবেন এবং প্রয়োজনে নছীহত করবেন।

. একত্ববাদের আহবান শুনানো :

শিশু মায়ের গর্ভ হ’তে পৃথিবীতে আগমনের পরক্ষণেই তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে কানে আযান দিতে হয়। আবু রাফে‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি যে, ফাতিমা (রাঃ)-এর গর্ভ থেকে হাসান (রাঃ)-এর জন্ম হ’লে রাসূল (ছাঃ) তাঁর কানে ছালাতের আযানের মত আযান দিয়েছিলেন।[12]

একজন শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তার মন থাকে সম্পূর্ণরূপে পূতপবিত্র ও নিষ্পাপ। সে সময় তাকে সর্বপ্রথম যে বাক্য শুনানো হবে, সেটাই হবে তার সারাজীবনের চলার পাথেয়। ইসলাম স্বভাবজাত আদর্শ। এ আদর্শের বাণী তার কর্ণকুহুরে প্রবেশ করলে, সে নিজেকে এ পথের অনুসারী বানাবার প্রয়াস চালাবে সারাটি জীবন। কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে, فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِيْ فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُوْنَ- ‘এ হচ্ছে আল্লাহর ঐ ফিৎরাত (প্রকৃতিজাত আদর্শ) যার উপর সমস্ত মানবগোষ্ঠীকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সঠিক-সুন্দর দ্বীন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না’ (রূম ৩০)

মা এ সময় অবচেতন অবস্থায় থাকেন, তাই এ ব্যাপারে বাবাকে ভূমিকা পালন করতে হবে। আর আল্লাহর বান্দা হিসাবে পৃথিবীর আলোয় পা রেখে প্রথম আল্লাহর একত্ববাদের কথা পিতার নিকট থেকে শুনবে এটি তার শাশ্বত অধিকার।

. তাহনীক করা :

খেজুর চিবিয়ে সেই চর্বিত খেজুর নবজাতকের মুখে দেয়াকে তাহনীক বলে। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, وُلِدَ لِىْ غُلاَمٌ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيْمَ فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ وَرَفَعَهُ إِلَىَّ. ‘আমার একটি শিশু সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খেদমতে পেশ করলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম আর খেজুর দ্বারা তার তাহনীক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দো‘আ করে তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দিলেন’।[13]

. সুন্দর নাম রাখা :

নামের মধ্যেও মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। আর মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়েও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ভাল নামের বদৌলতে সন্তানের অনাগত দিনগুলো হ’তে পারে সুন্দর ও মঙ্গলময়। তাই পিতার কর্তব্য হ’ল সন্তানের সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা। ইসলামের দেয়া পবিত্র দায়িত্ব হিসাবে পিতা পুত্রের উত্তম নাম রাখবেন। অর্থহীন ও সুন্দর নয় এমন নাম রাখলে এর প্রভাব শুধু তার উপরেই নয়; বরং পরবর্তী বংশধরদের উপরেও পড়ে। ইবনুল মুসাইয়িব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর পিতা নবী (ছাঃ)-এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? তিনি বললেন, ‘হায্ন (কর্কশ)। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, বরং তোমার নাম ‘সাহ্ল’ (নম্র)। তিনি বললেন, مَا أَنَا بِمُغَيِّرٍ إسْمًا سَمَّانِيْهِ أَبِىْ. ‘আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন, তা অন্য কোন নাম দিয়ে বদলাব না’। ইবনুল মুসাইয়িব (রহঃ) বলেন, فَمَا زَالَتْ فِيْنَا الْحُزُوْنَةُ بَعْدُ. ‘এরপর থেকে আমাদের বংশে চিরকাল রুক্ষতা বিদ্যমান ছিল’।[14]

অর্থহীন ও মন্দ নাম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পরিবর্তন করে মাধুর্য ও শ্রুতিপূর্ণ নাম রাখতেন। হাদীছে বর্ণিত আছে, إِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُغَيِّرُ الْإِسْمَ الْقَبِيْحَ. ‘নবী করীম (ছাঃ) খারাপ নাম পরিবর্তন করে দিতেন’।[15] রাসূল (ছাঃ) জনৈক ছাহাবীর নাম পরিবর্তন করে মুনযির রেখেছিলেন।[16] তাছাড়া তিনি (ছাঃ) ‘আছিয়া’ নাম্নী এক মহিলার নাম পরিবর্তন করে ‘জামীলা’ এবং ‘বার্রাহ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘যায়নাব’ রেখেছিলেন।[17]

আল্লাহ তা‘আলার বহু গুণবাচক নাম আছে, ঐ সমস্ত নামের সাথে ‘আবদ’ শব্দ যোগ করে নাম রাখা উত্তম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللهِ: عَبْدُ اللهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَانِ ‘আল্লাহর নিকট তোমাদের সবচেয়ে প্রিয় নাম আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান’।[18]

শিশু জন্মগ্রহণ করার পর পরই শিশুর নাম রাখা যায়।[19] তবে সবচেয়ে উত্তম হ’ল শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে নাম রাখা।[20]

. আক্বীক্বা :

নবজাত শিশুর মাথার চুল অথবা সপ্তম দিনে নবজাতকের চুল ফেলার সময় যবেহকৃত বকরীকে আক্বীক্বা বলা হয়।[21] শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে আক্বীক্বা করা উত্তম। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘প্রতিটি শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে। অতএব তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু যবেহ করবে, মাথার চুল মুন্ডন করবে এবং নাম রাখবে’।[22]

নবজাতক পুত্র সন্তান হ’লে দু’টি ছাগল এবং কন্যা হ’লে একটি ছাগল আক্বীক্বা হিসাবে প্রদান করতে হবে। উম্মে কুরয্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সন্তান ছেলে হ’লে দু’টি ছাগল আর মেয়ে হ’লে একটি ছাগল আক্বীক্বা করবে’।[23] তবে পুত্র সন্তানের জন্য একটি ছাগলও আক্বীক্বা করা যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য একটি করে ছাগল আক্বীক্বা করেছিলেন।[24]

. খাৎনা :

সন্তানের পিতার নিকট আরো কটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হ’ল, তিনি যথাসময়ে তার খাৎনা করাবেন। পুত্র সন্তানের পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের বাড়তি চামড়া কেটে ফেলাকে খাৎনা বলে। খাৎনা করা একটি উত্তম পন্থা ও ইসলামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত কাজ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘স্বভাব সম্মত কাজ পাঁচটি। তার মধ্যে খাৎনা করা একটি’।[25] আধুনিক বিজ্ঞানেও খাৎনার উপকারিতা স্বীকৃত।

. জীবনের নিরাপত্তা বিকাশ সাধনে লালন পালন করা :

পিতা হৃদয় নিংড়ানো ঐকান্তিক দরদ, ভালবাসা ও স্নেহ-মমতার কোমল পরশে সন্তানকে লালন-পালন করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তাদের (সন্তান ও জননীর) ভরণ-পোষণের ভার পিতার উপরই ন্যস্ত’ (বাক্বারাহ /২৩৩)। পিতার নিকট হ’তে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মৌলিক উপকরণ সন্তানের প্রাপ্য অধিকার। সন্তানের এ সমস্ত প্রয়োজন পূরণে পিতা অমনোযোগী হ’লে অবশ্যই তাকে জবাবদিহি করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই আপন আপন দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’।[26] সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, রোগমুক্ত রাখা, স্বাস্থ্যবান রূপে গড়ে তোলা এবং জীবনের উন্নতি ও বিকাশকল্পে পিতাকে যথোপযুক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনে খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জন্ম হবার পর সাধারণতঃ প্রথম ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুরা মায়ের বুকের দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে। এ সময় পিতাকে মায়ের খাদ্যের প্রতি সুদৃষ্টি দিতে হবে। ছয় মাস পার হ’লে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুর উপযোগী অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করবেন। এভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে খিচুড়ি, ভাত, রুটি ও অন্যান্য খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন টাটকা শাক-সবজি থাকে সেদিকেও পিতাকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়াও আয়োডিনযুক্ত লবণ ও বিশুদ্ধ পানির যোগান দিতে হবে। এতে খাদ্যের মৌলিক ছয়টি গুণ সংগৃহীত হবে। আর এর দ্বারা শরীরের গঠন ও ক্ষয়পূরণ নিশ্চিত হবার সাথে সাথে রোগ-ব্যাধির প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

হাদীছে নিজ পরিবারের জন্য ছওয়াবের আশায় ব্যয় করার ফলস্বরূপ একটি ‘ছাদাক্বা’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে’।[27] অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, أَفْضَلُ دِيْنَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ دِيْنَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى عِيَالِهِ. ‘সর্বোত্তম ব্যয় হচ্ছে ঐ অর্থ (দিনার) যা কোন ব্যক্তি ব্যয় করে নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য’।[28]

. আদবকায়দা শিক্ষা দান :

আজকের শিশু আগামী দিনে সুস্থ পরিবার, সুন্দর সমাজ ও জাতি গঠনের মৌলিক স্তম্ভ। শিশুর মন অত্যন্ত কোমল। এ সময় তাকে সুশিক্ষা দিলে ভবিষ্যত জীবনে তা তার পাথেয় হিসাবে কাজ করবে। সেজন্য তার চরিত্র, মন-মানসিকতা, মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে ইসলামের উন্নততর আদর্শ ও নীতিমালার রং-রূপ-গন্ধে ভরে দেয়া পিতার অবশ্য করণীয়। সততা, পরোপকারিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, দানশীলতা, জীবে দয়া, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ ইত্যাদি সৎগুণাবলী শিশুকে শিক্ষা দিতে হবে। অপরপক্ষে অহংকার, মিথ্যা, ধোঁকাবাজী, গীবত, চোগলখোরী, মূর্খতা, উদাসীনতা, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা ইত্যাদির প্রতি তাদের হৃদয়ে ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে।

পিতাকে শিশুর আচার-আচরণের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যেন সে বিকৃত স্বভাব, অপসংস্কৃতি ও কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে বিপথে পরিচালিত না হয়। বৃহত্তর বিশ্বের চলমান চাকা তলে পিষ্ট হয়ে তার ব্যক্তিত্ব যেন গোড়াতেই বিধ্বস্ত না হয় সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।

আরও দেখুন:  আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ফযীলত

. ইসলামের অনুশাসনে জ্ঞান দান অনাড়ম্বর জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা :

প্রতিটি শিশু ফিতরাত তথা ইসলাম গ্রহণের যোগ্যতা সহ জন্মগ্রহণ করে।[29] সুন্দর চরিত্রে চরিত্রবান হবার যোগ্যতা প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিদ্যমান আছে; যদি পিতা এ ব্যাপারে যত্নবান হন এবং পরিবেশ অনুকূলে থাকে। চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, আসমান-যমীন সব কিছুতেই আল্লাহর অস্তিত্ব বিদ্যমান এ ধারণাটি শিশুদের মনের মধ্যে বদ্ধমূল করে দিতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা, অতঃপর রাসূল, ফেরেশতা, কুরআন মাজীদ সহ অন্যান্য ইলাহী গ্রন্থ সমূহ, কবর, হাশর-নশর, আখেরাত ইত্যাদির উপর ঈমান আনয়নের ব্যাপারে শিক্ষা দিতে হবে। শিরক ও বিদ‘আতের অকল্যাণ ও ভয়াবহতার কথা তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

পিতা শিশুকে লোকমান (আঃ)-এর ছেলেকে প্রদত্ত নছীহতের অনুসরণে উপদেশ প্রদান করবেন এবং তা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য উৎসাহ প্রদান করবেন। লোকমান স্বীয় সন্তানকে বলেছিলেন, ‘হে বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক কর না। নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় যুলুম’। ‘হে বৎস! কোন বস্ত্ত যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা ভুগর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত। ‘হে বৎস! ছালাত প্রতিষ্ঠা করবে। সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করবে। এটাই দৃঢ় সংকল্পের কাজ। অহংকারবশতঃ তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করবে না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করবে না। কারণ আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পসন্দ করেন না। তুমি চলাফেরা করবে সংযতভাবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর নীচু করবে। নিশ্চয়ই গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর’ (লোকমান ৩১/১৬১৯)

ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একজন শিশুকে আদর্শ মানুষের মূর্তপ্রতীক হিসাবে বিশ্বদরবারে পেশ করার জন্য লোকমান (আঃ)-এর উপদেশ ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসাবে গৃহীত। এই মডেল তৈরী করার জন্য পিতাকে যত্নবান হওয়া অবশ্যই দরকার।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مُرُوْا أَوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِيْنَ وَاضْرِبُوْهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِسِنِيْنَ وَفَرِّقُوْا بَيْنَهُمْ فِى الْمَضَاجِعِ. ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বৎসর বয়সে ছালাত আদায়ের জন্য আদেশ করবে এবং দশ বৎসর বয়সে ছালাত আদায় না করলে প্রহার করবে, আর তাদের শয্যা পৃথক করে দিবে’।[30]

সন্তানকে জীবনের ঊষালগ্ন হ’তে বিলাসিতা ও অলসপ্রবণ করে গড়ে তুললে তার ভবিষ্যত হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে। তাই সন্তানকে কষ্টসহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল এবং পরিস্থিতির মোকাবিলা করার উপযুক্ত হিসাবে গড়ে তোলা পিতার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পালন করলেই সন্তান যেন তার অধিকার পিতার নিকট থেকে বুঝে পেল।

. সমতা বিধান করা :

পুত্র-কন্যা পিতার নিকট সবাই সমান। তাই সন্তানের মধ্যে আচরণে সমতা বিধান করে পিতাকে অবশ্যই চলতে হবে। সাম্য, ন্যায় ও ইনছাফের পথ থেকে ফিরে যাওয়া সহজ-সরল পথ থেকে ফিরে যাওয়ার নামান্তর। ইসলাম সন্তানদের মধ্যে সাম্য বিধানের জোরালো নির্দেশ দিয়েছে। অন্যসব সন্তানদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একজন সন্তানের প্রতি ঝুঁকে পড়া বা কন্যা সন্তানদের বাদ দিয়ে পুত্র সন্তানদেরকে প্রাধান্য দেয়া সম্পূর্ণরূপে ইনছাফ পরিপন্থী। ইসলাম ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করার অনুমতি প্রদান করে না। তারা উভয়ে যেন একই মানদন্ডের দুই প্রান্ত।

পিতা-মাতার উপর সকল সন্তানের এ অধিকার স্বীকৃত যে, তারা দান ও ব্যয়ের ব্যাপারে সন্তানদের মাঝে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন নীতি অবলম্বন করবেন। সকলের সমান কল্যাণ কামনা করবেন। কারো প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়বেন না এবং কাউকে বঞ্চিত করবেন না। ন্যায় ও সুষম নীতি অবলম্বন করবেন। নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করলেন। আমার মা ‘আমরাহ বিনতে রাওয়াহা বললেন, আমি এতে সন্তুষ্ট নই যতক্ষণ আপনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এর সাক্ষী না বানান। তখন আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললেন, আমি ‘আমরাহ বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার এই সন্তানকে একটা বস্ত্ত দান করেছি। এতে ‘আমরাহ আমাকে বলেছে, আমি যেন আপনাকে সাক্ষী করি। তিনি (ছাঃ) বললেন, তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এর অনুরূপ দান করেছ। তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং সকল সন্তানদের মধ্যে সমতা বিধান কর। নু‘মান (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমার পিতা ফিরে এলেন এবং আপন দান ফিরিয়ে নিলেন’।[31]

সন্তান পুত্র হোক বা কন্যা হোক আচরণের ক্ষেত্রে এ দু’য়ের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করা ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ অসম আচরণে সন্তানদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে তাদের অন্তরে গোপন রাখে একে অপরের প্রতি দুঃখ, ভালবাসার স্থলে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব স্থান পায়, পরস্পরের মধ্যে ঐক্যের স্থলে সৃষ্টি হয় বিবাদ ও অনৈক্য।[32] তাই এহেন পক্ষপাতমূলক কাজ হ’তে পিতাকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে।

১০. বিবাহ প্রদান এবং বিধবা তালাকপ্রাপ্তা কন্যাকে আশ্রয় দান :

সন্তান বয়ঃপ্রাপ্ত হ’লে তাকে বিবাহ দেয়া পিতার দায়িত্ব। শিশু যখন যৌবনে পদার্পন করে তখন তার চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন ঘটে, তখন সে নতুন কিছুর সন্ধানে উন্মুখ হয়। সে যেকোন সময় বিপদগামী হ’তে পারে। তাই পিতার একান্ত উচিৎ উপযুক্ত পাত্র/পাত্রী নির্বাচন করে তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করা। বিবাহ মানুষকে পাপ কাজ হ’তে বিরত রাখে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘বিবাহ দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে’।[33]
কোন কারণে কন্যা যদি স্বামী কর্তৃক পরিত্যাক্তা হয় কিংবা বিধবা বা অসহায় হয়ে পড়ে, তখন পিতা সেই ভাগ্যাহতা কন্যাকে সাদরে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবেন। কোন অবস্থাতেই পিতা তার ব্যাপারে বিমুখ হবেন না। সন্তানের এ অধিকার পিতার নিকট প্রাপ্য।

১১. দাম্পত্য সম্প্রীতি বৃদ্ধি পূর্বক কল্যাণ কামনা করা :

শিশু সর্বপ্রথম প্রভাবিত হয় তার পিতা-মাতার দ্বারা। কারণ শিশু তার আচার-আচরণে তাদেরকেই আদর্শরূপে গ্রহণ করে। তাই মাতা-পিতার কর্তব্য সন্তানের সুস্থ ও স্বাভাবিক মন-মানসিকতা বিকাশের জন্য তাদের সামনে সুন্দর চরিত্র ও উত্তম আচরণ প্রকাশ করা। অর্থাৎ পিতা-মাতা উভয়ের মধ্যে সম্প্রীতিময় দাম্পত্য জীবন বজায় রাখা। পিতা-মাতার মধ্যে মনোমালিন্য ও কলহ-বিবাদ থাকলে সন্তানের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। যে সমস্ত পিতা-মাতার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বিরাজমান থাকে, সেসব মা-বাবার সন্তানেরা স্বাভাবিকভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে থাকে। সন্তানের ব্যাপারে পিতা-মাতার মাঝে যেন কোন প্রকার অন্যমনস্কতা ও শৈথিল্যের সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।

সন্তানকে শিক্ষা-দীক্ষা, লালন-পালন ও জাগতিক ব্যাপারে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার পর পিতার অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে দো‘আ করা। যেমন- ‘হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের এমন স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে আল্লাহভীরুদের জন্য নেতা নিযুক্ত কর’ (ফুরক্বান ২৫/৭৪)। অপরপক্ষে সন্তানকে কোন অভিশাপ বা বদদো‘আ করা পিতার জন্য শোভনীয় নয়। এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ)-এর নিকট এসে নিজের এক পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করল। তিনি বললেন, ‘তাকে তুমি কোনরূপ বদদো‘আ করেছ কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে তুমি তাকে নষ্ট করেছ’।[34]

উপসংহার :

পরিশেষে বলা যায়, সন্তান দাম্পত্য জীবনের কাঙ্খিত ফসল। তাই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি লাভের জন্য তাদেরকে যথাযথভাবে গড়ে তোলা বাবা-মার দায়িত্ব। যাতে ‘সৎ সন্তান’ হিসাবে তারা পিতা-মাতার মৃত্যুর পরও তাদের জন্য আমল জারী থাকার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَشْيَاءٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْعِلْمِ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُوْلَهُ. ‘যখন মানুষ মারা যায়, তখন তিনটি ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান ছাদাকা (২) ইলম, যার দ্বারা মানুষের উপকার হয় (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’।[35]

– ড. মুহাম্মাদ শফীকুল আলম


[1] বুখারী হা/১৮১, ১৮৪; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৪৯ইবাদতে মধ্য পন্থাঅনুচ্ছেদ

[2] মুত্তাফাক্ব আলাইহ; মিশকাত হা/৯০

[3] আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/২০২৫, সনদ জাইয়িদ বা উত্তম

[4] তিরমিযী হা/১৯১১; আলআদাবুল মুফরাদ হা/৯১, হাদীছ ছহীহ

[5] ইবনু মাজাহ হা/৩৬৫, হাদীছ ছহীহ

[6] তিরমিযী হা/২৭৯৯; মিশকাত হা/৪৪৮৭, হাদীছ হাসান

[7] সিলসিলা ছহীহা /৬৯ পৃঃ, হা/২০৪১

[8] বুখারী হা/৫২০০; মিশকাত হা/৩৬৮৫

[9] বুখারী মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৮০।

[10] বুখারী হা/৫০৯০; মুসলিম হা/৬২৪; আবূ দাঊদ হা/২০৪৭।

[11] ইসলামে শিশু পরিচর্যা, পৃঃ ২২।

[12] তিরমিযী হা/১৫১৪; আবূদাঊদ হা/৫১০৫

[13] বুখারী হা/৫৪৬৭আক্বীক্বাঅধ্যায়

[14] বুখারী হা/৬১৯০, ৬১৯৩; মিশকাত হা/৪৭৮১

[15] তিরমিযী হা/২৮৩৯; মিশকাত হা/৪৭৭৪, হাদীছ ছহীহ

[16] আবূদাঊদ হা/৪৯৫২,হাদীছ ছহীহ; মিশকাত হা/৪৭৫৯

[17] মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৫৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৭৩২, হাদীছ ছহীহ

[18] মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৫২

[19] বুখারী হা/৫৪৬৭আক্বীক্বাঅধ্যায়

[20] তিরমিযী হা/২৮৩২, হাদীছ হাসান

[21] আলমুজামুল ওয়াসীত, পৃঃ ৬১৬

[22] আবূদাঊদ হা/২৮৩৮, হাদীছ ছহীহ

[23] ইবনু মাজাহ হা/৩১৬২; আবূদাঊদ হা/২৮৪২, হাদীছ হাসান

[24] আবূদাঊদ হা/২৮৪১; মিশকাত হা/৪১৫৫

[25] তিরমিযী হা/২৭৫৬, হাদীছ ছহীহ

[26] বুখারী হা/৫২০০; মিশকাত হা/৩৬৮৫

[27] বুখারী, মুসলিম মিশকাত হা/১৯৩০

[28] মুসলিম হা/৯৯৪; মিশকাত হা/১৯৩২

[29] বুখারী মুসলিম, মিশকাত হা/৯০

[30] আবূদাঊদ হা/৪৯৫; মিশকাত হা/৫৭২ছালাতঅধ্যায় হাদীছ হাসান ছহীহ

[31] বুখারী হা/২৫৮৬৮৭হেবা তার ফযীলতঅধ্যায়

[32] ইবনুল ক্বাইয়িম আলজাওযিয়্যাহ, ইগাছাতুল লাহফান (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৯২১, /৪০২

[33] আবূদাঊদ হা/২০৪৬; মিশকাত হা/৩০৮০বিবাহঅধ্যায়, হাদীছ ছহীহ

[34] এইইয়াউ উলূমিদ্দীন (অনূদিত), (ঢাকা : দি তাজ পাবলিশিং হাউজ, ১৯৯৪), /২৬৩

[35] মুসলিম; মিশকাত হা/২০৩ইলমঅধ্যায়

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

আরিও দেখুন
Close
Back to top button