সংবাদ

‘ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক শিক্ষিত ব্যক্তিরা ফতোয়া দিতে পারবেন’

ফতোয়ার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে দেয়া রায়ে বলা 
হয়েছে-
১. ধর্মীয় বিষয়াদিতে শুধু সঠিক শিক্ষিত ব্যক্তিগণ ফতোয়া দিতে পারবেন, যা শুধু স্বেচ্ছায় গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যে কোন রকমের বল প্রয়োগ বা অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করা যাবে না।

২. কোন ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা বা সম্মান (যা দেশের আইনের গণ্ডির আওতায় আসে) বিনষ্ট করে এমন ফতোয়া দেয়া যাবে না।

৩. ফতোয়ার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে কোন ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া যাবে না।

৪. নির্দিষ্ট ফতোয়াটি অবৈধ ও বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া ঘোষণা বহাল রাখা হলো।

আপিল আংশিক মঞ্জুর করে সংখ্যগারিষ্ঠ মতের পক্ষে মূল রায় লেখেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) ও বিচারপতি মো. ইমান আলী। তাদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে রায় দেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তিনি ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়টি বাতিল করে দেন। রায় ঘোষণার তিন বছরের বেশি সময় পর গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক রায়ে লিখেছেন, একজন মুফতি, মাওলানা অথবা ইমাম ফতোয়া ঘোষণা করতে পারেন, যদি তাকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি দেশের কোন আইন ভঙ্গ করতে পারেন না। একই সঙ্গে তাকে অন্যদের ফতোয়া বা মতামতের ব্যাপারেও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা তার রায়ে লিখেছেন, হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল ইস্যু করতে পারে বলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির দেয়া মতামতের সঙ্গে আমি একমত নই।

২০০০ সালে নওগাঁ জেলার মৌলভী আজিজুল হক জনৈক ব্যক্তি কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শরিয়া আইন অনুযায়ী আবার গ্রহণ না করার ঘটনায় ফতোয়া জারি করেন। বিষয়টি বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। আদালত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বঃপ্রণেদিত হয়ে রুল জারি করে। ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ফতোয়াকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, একমাত্র আদালতই মুসলিম বা অন্য কোন আইন অনুযায়ী ব্যাখ্যা বা মতামত দিতে পারে। আইনবহির্ভূতভাবে কেউ ফতোয়া দিলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রায়ে সব মসজিদের ইমামকে শুক্রবার জুমার খুতবায় ও স্কুলে এবং মাদরাসায় মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করারও সুপারিশ করা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি মো. তৈয়ব ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওই বছরই আপিল করেন। আপিল করার দশ বছর পর ২০১১ সালের মার্চ মাসে এর ওপর শুনানি শুরু হয়। আপিলের শুনানিতে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে শীর্ষ নয় আইনজীবী ও পাঁচ আলেমের মতামত নেয় আপিল বিভাগ। আপিলের শুনানি শেষে ওই বছরের ১২ই মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে চারটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করে।

আরও দেখুন:  ভোজ্যতেল, মাছ ও মুরগির খাবারে শূকরের মাংস-চর্বি, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা

(মানবজমিন)

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button