সংবাদ

থার্টিফার্স্টে সিলেটে মায়াবী জলসা

থার্টিফার্স্টকে ঘিরে প্রস্তুত সিলেটের ডিজে গার্লরা। ড্যান্স, মদ ও বিয়ারের আলো-আঁধারি পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করতে ইতিমধ্যে দুই ডজন আলোচিত ডিজে প্রস্তুতি শেষ করেছে। একই সঙ্গে সিলেটের থার্টিফার্স্ট আয়োজনকে আরও বর্ণিল করতে এবার ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে ডিজে গার্লদের। সিলেটের চা-বাগানী বাংলো কিংবা শহরের অভিজাত হোটেলে বসছে মায়াবী জলসার আসর। কেউ কেউ ছুটে যাচ্ছেন জাফলং, লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। থার্টিফার্স্ট এলেই সিলেটে উন্মাদনা বাড়ে। বাড়ে থার্টিফার্স্টের আমেজ। ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রবাসী এই শহরে উৎসবের কমতি থাকে না। তবে, এই উৎসব কেবল ডিস্কো গানের মধ্যই বন্দি থাকে না। থার্টিফার্স্টে রাত যত বাড়ে তত অজানায় হারিয়ে যায় ডিজে গার্লরা। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে হারিয়ে যায় অজানায়। এতে ঘটেও কেলেঙ্কারি। শুরু হয় তোলপাড়। প্রবাসী শহর সিলেটে থার্টিফার্স্ট নাইটকে বরণ করতে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শীত মওসুম এলেই সিলেটে প্রবাসীদের আনাগোনা  বাড়ে বেশি। এবারও শীত উপলক্ষে প্রচুর সংখ্যক লন্ডন প্রবাসী এসেছেন সিলেটে। তাদের ঘিরেই চলছে থার্টিফার্স্টের মূল আয়োজন। কয়েকজন প্রবাসী থার্টিফার্স্টের জন্য সিলেট নগরীর বিভিন্ন ফ্ল্যাটবাড়িতে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় থার্টিফার্স্টের আয়োজন করেছেন। আর এই আয়োজনের মধ্যমণি হয়ে উঠছেন সিলেটের ডিজে গার্লরা। ইতিমধ্যে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বুকিং হয়ে গেছেন তারা। থার্টিফার্স্টের দিন দুপুর থেকে তারা চলে যাবেন পার্টিতে। জানা গেছে, কয়েকজন প্রবাসীর উদ্যোগে এবার সিলেটের বিমানবন্দর এলাকাসহ শহরতলীর বিভিন্ন পাহাড়ি বাংলোতে থার্টিফার্স্টের জমকালো আয়োজন করেছেন। এই আয়োজনের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেউ কেউও দাওয়াত পেয়েছেন। এসব পার্টিতে মেডিকেল কিংবা বিশ্ব বিদ্যালয় পড়ুয়া জিজে গার্লরা অংশ নেবেন। গেল বার শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকার দু’টি বাংলোতে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে অংশ নিয়েছিলেন অনেকেই। গেল বার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একজন জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকার বাংলোবাড়িতে প্রবাসীর উদ্যোগে থার্টিফার্স্টে অংশ নিয়েছিল ১০-১২ জন ডিজে গার্ল। রাত নামতেই থার্টিফার্স্ট উদযাপনে তারা ইংলিশ মদের নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। মধ্যরাত হতেই আয়োজকদের সঙ্গে উন্মাতাল ড্যান্সে মেতে উঠেছিলেন তারা। আর গভীর রাতে যে যার মতো  প্রেমিক কিংবা আয়োজক প্রবাসীদের সঙ্গে হারিয়ে যান অজানায়। ভোররাত পর্যন্ত এই আয়োজন চলেছিল বলে জানান ওই যুবক। এবারও অনেকটা গোপনে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হলেও প্রস্তুতির কমতি নেই বলে জানা গেছে। সিলেটের একটি হোটেলে থার্টিফার্স্ট ডিজেতে নেশা করে মাতাল হয়ে উঠেছিলেন সিলেটের আলোচিত ডিজে গার্ল মৌ। এরপর ভোররাত পর্যন্ত তিনি মনোরঞ্জন করে গেছেন আয়োজকদের সঙ্গে। বরাবরের মতো এবার সিলেটের রোজভিউ হোটেলে থার্টিফার্স্টের আয়োজন রয়েছে। সিলেটের অভিজাত এ হোটেলে সিলেটের ডিজেরা ছাড়াও এতে ঢাকার ডিজেরা অংশ নেবেন। আর থার্টিফার্স্টকে ঘিরে রোজভিউ হোটেলেও প্রবাসীদের উদ্যোগে পার্টির আয়োজন চলছে। একই সিলেটের সিলেটের অভিজাত হোটেল স্টার ফ্যাসিফিকসহ বেশ কয়েকটি চাইনিজ হোটেলেও চলছে থার্টিফার্স্টের প্রস্তুতি। তবে,  হোটেল কর্তৃপক্ষ থার্টিফার্স্ট উদযাপনের প্রস্তুতি নিলেও বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে বেশ কঠোর ভূমিকা পালন করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এবার সিলেটে থার্টিফার্স্ট আয়োজনে সিলেটের ডিজে গার্লদের মধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আলোচিত ডিজে মুন্নি। সকল সম্পর্কে বাঁধভাঙা থাকা মুন্নির গোপন মিশনের খবর প্রায় দুই বছর আগে প্রকাশ পাওয়ার পর সে আড়ালে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের থার্টিফার্স্টে সিলেটে তার প্রস্তুতির কমতি নেই। মুন্নির নেতৃত্বে এবারের থার্টিফার্স্ট নাইট মাতিয়ে রাখতেন কয়েকজন হাই-প্রোপাইল ডিজে প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর তারা থার্টিফার্স্টের নাইটে হারিয়ে যাবেন প্রবাসীদের ডিজে পার্টিতে। এর বাইরেও মনি, নদী ও শাওন নামে তিন ডিজে গার্লকে নিয়ে থার্টিফার্স্ট আয়োজন চলেছে। আর এবারের থার্টিফার্স্টে অন্যতম আকর্ষণ রয়েছে তিশা ও ট্রিনা। গত তিন বছর ধরে তারা সিলেটে আলোচিত ডিজে গার্ল হিসেবে বেশ পরিচিত। সিলেটের যুবকদের কাছে বহুল পরিচিত ওই দুই ডিজে গার্ল যে আসরে উপস্থিত হবে সেখানে থার্টিফার্স্ট মেতে উঠবে তত বেশি। সিলেটের অলিভ ট্রি শোভা, মাহি, নাহিদা এবং মিতালীও রয়েছে থার্টিফার্স্টের তালিকায়। তাদের ঘিরে জমকালো আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে নগরীর বিভিন্ন ফ্ল্যাটবাড়ি ও পাহাড়ি বাংলোতে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ৫ থেকে ১৫ হাজার দরে এক রাতের জন্য বুকিং হয়ে গেছে। এদিকে, সিলেটের থার্টিফার্স্টের আয়োজনে যাতে উন্মাদনা কম হয় সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। থার্টিফার্স্টের আগের সকাল থেকে পুলিশের বিশেষ টিম টহল শুরু করবে সিলেটে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে চলবে অভিযানও।
(মানবজমিন)

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে চারদিকে যে নোংরামি আর নষ্টামি শুরু হয়, এটি তারই অংশবিশেষ।

আরও দেখুন:  মধ্যপ্রাচ্য ভাঙার নতুন পরিকল্পনা!

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button