সংবাদ

আজকে আরাফাহ দিবসে পরিবর্তন করা হয় কাবার গিলাফ !

কাবা শরীফের গিলাফ একটি বস্ত্রখণ্ড যদ্দ্বারা কাবাকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়।বর্তমানে দামী কালো রং সিল্কের কাপড়ের তৈরি স্বর্ণ-খচিত ক্যালিগ্রাফি মোটা গিলাফ দিয়ে কাবা শরীব আচ্ছাদন করা হয়। কাপড়টি কিসওয়াহ নামে আখ্যায়িত। যার ওপর স্বর্ণ দিয়ে লেখা থাকে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ", "আল্লাহু জাল্লে জালালুহু", "সুবহানাল্লাহু ওয়া বেহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম" এবং "ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নান"। ১৪ মিটার দীর্ঘ এবং ৯৫ সেমি প্রস্থ ৪১ খণ্ড বস্ত্রখণ্ড জোড়া দিয়ে গিলাফ তৈরি করা হয়। চার কোণায় সুরা ইখলাস স্বর্ণসূত্রে বৃত্তাকারে উৎকীর্ণ করা হয়। রেশমী কাপড়টির নিচে মোটা সাধারণ কাপড়রের লাইনিং থকে।
বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সউদ মক্কা-মদীনার দুই পবিত্র মসজিদের দেখাশোনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর ১৩৪৬ হিজরিতে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির জন্য একটি বিশেষ কারখানা স্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন। একই বৎসর মাঝামাঝি সময়ে প্রয়োজনীয় কাপড় তৈরি করে মক্কার দক্ষ শিল্পীর মাধ্যমে তা সুন্দর নকশায় সুসজ্জিত করে কাবা শরীফ আচ্ছাদিত করা হয়। ১৩৮২ হিজরীতে বাদশাহ ফয়সাল ইবনে আব্দুল আজিজ ডিক্রিজারির মাধ্যমে নতুন করে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমী রং এর সাথে কালো রং-এর কাপড় দিয়ে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়।
একটি গিলাফে ব্যবহৃত রেশমী কাপড়ের ওজন ৬৭০ কিলোগ্রাম এবং স্বর্ণের ওজন ১৫ কিলোগ্রাম। বর্তমানে এটি তৈরীতে ১৭ মিলিয়ন সৌদী রিয়াল ব্যয় হয়।

উল্লেখ্যঃ বিগত ১৫'শ বছর ধরে "শাইবা" বংশের লোকেরা ক্বাবার চাবি রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর অংশ হিসেবে তাঁরা ক্বাবা খোলার এবং তার দরজা বন্ধ, পরিষ্কার, বার্ষিক গিলাফ পরিবর্তন এবং ক্বাবার ভিতরে দর্শক অভ্যর্থনা সহ ক্বাবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়িত্বশীল। বর্তমানে সেই বংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন শাইখ আব্দুল কাদির আল শাইবি।

আরও দেখুন:  আইসিজে’র রায়, রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে মিয়ানমারকে নির্দেশ

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Back to top button