ইহকাল-পরকাল

মৃতের জন্য জীবিতের করণীয়

প্রশংসা মাত্রই আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর পরিবার এবং সাথীদের উপর।

মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই পৃথিবীতে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকে ততদিনই তার আমল করার সময়। মৃত্যু বরণ করার সাথে সাথে তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাই পরকালে শান্তিময় জীবন লাভ করতে চাইলে অবশ্যই তাকে মৃত্যুর পূর্বে ভাল আমল করে যেতে হবে। আমাদের সমাজের লোকেরা তাদের পরলোকগত পিতা-মাতাসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের পক্ষ থেকে অনেক ধরনের আমল করে থাকে। তারা চায় তাদের স্বজনগণ পরকালে শান্তিতে থাকুক। তারা বার বার প্রশ্ন করে! আমরা আমাদের মৃত মা-বাবার জন্য কি করতে পারি? যার মাধ্যমে তারা কবরে আরামে ঘুমাতে পারেন।

আসুন আমরা জেনে নেই মানুষ মৃত্যু বরণ করার পরও কোন ধরণের আমল দ্বারা উপকৃত হয়ে থাকে। আমরাইবা তাদের জন্য কি করতে পারি। সহীহ হাদীছের দৃষ্টিতে মৃত ব্যাক্তির জন্য দু’প্রকার আমলের ছওয়াব অব্যাহত থাকে।

(১) জীবিত থাকাবস্থায় কৃত আমল। যেমন আল্লাহর রাস্তায় কোন সম্পদ ওয়াক্ফ করে যাওয়া, সৎকাজে সম্পত্তি খরচ করার অসিয়ত করে যাওয়া, ছাদকায়ে জারিয়া করে যাওয়া, ইত্যাদি।

(২) এমন আমল, যা মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিত ব্যক্তিগণ করে থাকে। যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য মুসলমানদের দু’আ ও আল্লাহর দরবারে তার জন্য মাগফেরাত কামনা করা, মৃত ব্যক্তির জন্য দান-ছাদকা করা, তার পক্ষ থেকে হজ্জ করা, রোজা রাখা ইত্যাদি।

প্রথম প্রকার আমলের বর্ণনাঃ

মৃত্যুর পর জীবিত অবস্থায় কৃত আমল দ্বারা উপকৃত হওয়ার দলীলঃ

عن أبى هريرة رضي الله عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال إذا مات ابن آدم انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة صدقة جارية أو ولد صالح يدعو له أو علم ينتفع به

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) বলেন, “মানুষ যখন মারা যায়, তখন সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয়না। (১) ছাদকায়ে জারিয়া। (২) যদি এমন সন্তান রেখে যায়, যে পিতার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করবে। (৩) যদি এমন দ্বীনি শিক্ষা রেখে যায়, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (সহীহ মুসলিম)

অত্র হাদীসের মাধ্যমে একথা জানা গেল যে, কোন মানুষ যদি জীবিত থাকা অবস্থায় ছাদকায়ে জারিয়া করে যায়, তাহলে উক্ত ছাদকা দ্বারা যতদিন মানুষ উপকৃত হবে, ততদিন পর্যন্ত ছাদকা কারীর আমল নামায় ছাওয়াবের একটা অংশ পৌঁতে থাকবে। এমনি ভাবে যদি কোন মুসলমান দ্বীনি কোন শিক্ষা রেখে যায় যেমন ইসলামী বই-পুস্তক রচনা করা, ছাত্রদেরকে দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করা, ইসলামী লাইব্রেরী বা দ্বিনী প্রতিষ্ঠান নির্মান করা, নির্মানে অংশ গ্রহণ করা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে যদি কেহ সৎ সন্তান রেখে যায় এবং সে সন্তান আল্লাহর কাছে পিতা-মাতার নাজাতের জন্য দু’আ করে, তাহলে সে দু’আর মাধ্যমে তারা উপকৃত হবে।

দ্বিতীয় প্রকারঃ

এক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি আমলের উল্লেখ করব যা দ্বারা মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবে অথচ সে এসব আমল করে যায়নি, বা এসব আমলের কারণও ছিল না।

(১) মৃত ব্যক্তির জন্য মুসলমানদের দু‘আ এবং আল্লাহর নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাঃ

এব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে অনেক দলীল রয়েছে। আল্লাহ তায়া‘লা বলেনঃ

(ربنا اغفرلنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين آمنوا)

“তারা (মু’মিনগণ) বলে: “হে আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে ক্ষমা করো। আর ঈমানদারদের বিরোদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না।” (সূরা হাশরঃ ১০) আল¬াহ তায়ালা মৃত বা জীবিত পিতা-মাতা ও মুমিদের জন্য দু‘আ করার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে বলেনঃ

(ربنا اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب) “হে আমাদের প্রভু! রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন।” (সুরা ইবরাহীমঃ৪১) এছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পিতা-মাতার জন্য দূ‘আ করার বিশেষ নিয়ম শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেনঃ

(وقل رب ارحمهما كما ربيانى صغيرا)

“এবং তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ২৪) হাদীসে যে সমস্ত দলীল রয়েছে তা থেকে আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত উসমান বিন আফফান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উসমান (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সাঃ) মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াতেন এবং বলতেন

(استغفروا لأخيكم واسالوا له التثبيت فإنه الآن يسأل)

“তোমরা তোমাদের ভায়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য ঈমানের উপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।” এছাড়া কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যে সমস্ত দু‘আ হাদীসে এসেছে, তাতে একথারই প্রমাণ রয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করলে সে দু‘আর মাধ্যমে সে উপকৃত হবে। মূলত: জানাযার নামায প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ স্বরূপ।

(২) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-ছাদকা করাঃ

এ ব্যাপারে বুখারী-মুসলিমে মুমিন জননী আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদীসটি বিশেষ ভাবে প্রণিধানযোগ্য। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ

(أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله : إن أمى أفتلتت نفسها ولم توص وأظنها لو تكلمت تصدقت أفلها أجر إن تصدقت عنها قال: نعم)

“জনৈক ব্যক্তি রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মৃতু বরণ করেছেন। তাই কোন অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে তিনি কি এর ছাওয়াব পাবেন? রাসূল (সাঃ) বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।” (বুখারী ও মুসলিম)

উপরোক্ত সহীহ হাদীসটির মাধ্যমে আমরা একথাই জানতে পারলাম যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান করলে তার ছাওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছবে এবং তা দ্বারা সে উপকৃত হবে।

(৩) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখাঃ

তবে এক্ষেত্রে মানতের রোজা এবং রামাযানের কাজা রোযা উদ্দেশ্য। তার পক্ষ থেকে নফল রোজা রাখার পক্ষে কোন দলীল নাই। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা বৈধ হওয়ার দলীল হলো আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

(من مات وعليه صيام صام عنه وليه)

“যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোজা ওয়াজিব ছিল। তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোজা রাখবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

(৪) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরাহ করাঃ

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ করলে তা আদায় হবে এবং মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবে। মৃত ব্যক্তির নামে হজ্জ করার দলীল হলোঃ

(عن ابن عباس رضى الله عنهما أن امرأة من جهينة جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت إن أمى نذرت أن تحج فلم تحج حتى ماتت أ فأحج عنها قال: حجى عنها أرأيت لو كان على أمك دين أكنت قاضيته؟ قالت :نعم، قال: فاقضوا الذى له فإن الله أحق بالوفاء) ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূল (সাঃ) এর কাছে আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা হজ্জ করার মানত করেছিলেন কিন্তু তিনি হজ্জ সম্পদন না করেই মৃত্যু বরণ করেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূল (সাঃ) বললেন, “তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তোমার কি ধারনা যদি তোমার মার উপর ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না? সে বলল, অবশ্যই পরিশোধ করতাম। রাসূল (সাঃ) বললেন, তাহলে উহা আদায় কর। কেননা আল্লাহর দাবী পরিশোধ করার অধিক উপযোগী।” (বুখারী) অন্য এক হাদীসে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

(أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع رجلا يقول لبيك عن شبرمة فقال من شبرمة قال أخ لى أو قريب لى قال حججت عن نفسك قال لا قال حج عن نفسك ثم حج عن شبرمة) অর্থ: রাসূল (সাঃ) এক ব্যক্তিকে এভাবে তালবীয়া পাঠ করতে শুনলেন যে, لبيك عن شبرمة) ) অর্থাৎ শুবরুমার পক্ষ থেকে আমার এ হজ্জ। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, শুবরুমা কে? উত্তরে লোকটি বলল, শুবরুমা আমার ভাই, অথবা বলল, সে আমার আত্মীয়। রাসূল (সাঃ) বললেন, তুমি কি তোমার নিজের হজ্জ করেছ? সে বলল না, করি নাই। তিনি বললেন, আগে তোমার নিজের হজ্জ কর। তারপর শুবরুমার হজ্জ কর। (আবু দাউদ)

উপরের হাদীস ২টির মাধ্যমে আমরা এটাই জানতে পারলাম যে, হজ্জ এমন একটি ইবাদাত যা একজন অন্যজনের পক্ষ হতে আদায় করতে পারে। তাই মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ করলে, তা শুদ্ধ হবে এবং মৃত ব্যক্তি তা দ্বারা উপকৃত হবে। তবে কতিপয় আলেম বলেনঃ এক্ষেত্রে শর্ত হলো মৃত ব্যক্তি এবং যে তার পক্ষ হজ্জ করবে, তার মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতে হবে, এবং মৃত্য ব্যক্তি যদি হজ্জ না করেই মৃতু বরণ করে থাকে। এমনিভাবে যদি কোন জীবিত লোক শারিরিক ভাবে হজ্জ করতে অক্ষম হয় এবং অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষম হয়, তখনও অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ হতে হজ্জ করা যেতে পারে। ওমরার বিধানও হজ্জের অনুরূপ। তবে মৃত ব্যক্তির নামে যে লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ করে নিবে। কেননা রাসূল (সাঃ) শুবরুমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তুমি কি নিজের হজ্জ করেছ?

(৫) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করাঃ

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তার ছাওয়াব দ্বারা মৃত ব্যক্তি উপকৃত হওয়ার পক্ষে সহীহ হাদীস রয়েছেঃ

(عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بكبش أقرن يطأ فى سواد وينظر فى سواد ويبرك فى سواد فأتى به ليضحى به ثم قال يا عائشة هلمي المدية ثم قال استحديها بحجر ففعلت ثم أخذها و أخذ الكبش فأضجعه ثم ذبحه وقال بسم الله اللهم تقبل من محمد وآل محمد ومن أمة محمد ثم ضحى به)

রাসূল (সাঃ) এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) এমন একটি দুম্বা উপস্থিত করতে বললেন, যার পা কালো, চোখের চতুর্দিক কালো এবং পেট কালো। অতঃপর তা কুরবানীর জন্য আনা হলো। তখন রাসূল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) কে বললেন, ছুরী এনে পাথর দ্বারা ধারালো কর। তিনি তাই করলেন। তারপর রাসূল (সাঃ) ছুরী হাতে নিয়ে দুম্বাটিকে শুয়াইয়ে দিলেন। পশুটি যবেহ্ করার সময় বললেন, বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! তুমি ইহা মুহাম্মাদ, তাঁর বংশধর এবং সকল উম্মাতে মুহাম্মাদীর পক্ষ থেকে কবুল কর। (মুসলিম) অন্য হাদীসে বলা হয়ঃ

(أنه ضحى بكبش فقال هذا عمن لم يضح من أمتى)

রাসূল (সাঃ) একটি দুম্বা কুরবানী দিলেন এবং জবাই করার সময় বললেন, ইহা আমার উম্মাতের ঐসকল লোকদের পক্ষ থেকে, যারা কুরবানী করতে পারে নাই। (তিরমিযী)

উপরের হাদীস দু‘টির মাধ্যমে জানা গেল যে, কেহ যদি তার মৃত মাতা-পিতা বা অন্য কোন আত্মীয়ের পক্ষ থেকে কুরবানী করে তবে তা বৈধ হবে। এমন কি নিজের কুরবানীতে যদি মৃত পিতা-মাত ও পরিবারের সদস্যদেরকে শামিল রেখে এভাবে নিয়ত করে যে, হে আল্লাহ! আমার এই করুবানী আমার পক্ষ হতে এবং আমার পরিবারের জীবিত ও মৃত সকল আত্মীয়ের পক্ষ হতে কবুল করুন, তাতেও মৃত ব্যক্তিগণ ছাওয়াব পাবেন।

উপরোক্ত আমলগুলো ছাড়া মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নামায পড়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, যিকির-আযকার পড়া মৃত ব্যক্তির নামে চল্লিশা করা, প্রতি বছর মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা ও মীলাদ শরীফ পাঠ করা সম্পুর্ণ বিদআত। এগুলোর পক্ষে কোন দলীল নাই। আজকাল আমাদের সমাজে হাফেজ ও কারীদেরকে ভাড়া করে এনে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করানো হয়। এটাকে আমাদের দেশের পরিভাষায় সাবিনা পাঠ বলা হয়। অনেক সময় দুপক্ষের মাঝে দামাদামি করে হাদীয়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সর্ব যুগের সকল উলামা এব্যাপারে একমত যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ভাড়া করা হাফেজ-কারী দিয়ে কুরআন খতম করানো হারাম। পূর্বযুগের কোন আলেম বা নির্ভরযোগ্য কোন ইমাম এব্যাপারে অনুমতি দেননি। পরবর্তীযুগের কিছু পেট পুঁজারী দুনিয়াদার আলেম অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য এ পন্থাটি চালু করেছে। এটি একটি বেদআতী আমল যা, মৃত ব্যক্তির কোন কল্যাণে আসবে না। এর দ্বারা যে টাকা উপার্জন করা হয়, তাও সম্পুর্ণ হরাম। আরো কঠোর ভাবে হারাম হবে, যখন কোন লোক মারা যাওয়ার পর তার ছোট ছোট ইয়াতিম শিশুদের সম্পদ থেকে এভাবে অন্যায় ভাবে ব্যয় ও ভক্ষণ করা হবে।

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে শরীয়ত সম্মত পন্থায় মৃত ব্যক্তির উপকারের জন্য আমল করার তাওফীক দিন এবং এক্ষেত্রে সবধরণের বিদআত থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমীন॥

আরও দেখুন:  কবরের আযাব

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button