ইমান/আখলাক

মুসলিম নর-নারীর পোশাক পরিচ্ছদ

ডা. জাকির নায়েক

এ ব্যাপারে ক্বুর’আন ও হাদীসে কিছু নির্দেশনা দেয়া আছে। আল্লাহ্‌ প্রথমে পুরুষ এবং নারীর জন্য হিযাবের কথা বলেছেন।

ক্বুর’আনে বর্ণীত আছে, “মুমিনদেরকে বলুন তাঁরা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে” (আন-নূর, আয়াত ৩০)

অর্থাৎ প্রথম নজরেই দৃষ্টি অবনত করতে হবে। আমাদের মহানবী (সা) বলেছেন যে, প্রথমবারে নারীর দিকে চোখ পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে অবনত করো।

ক্বুর’আনে সূরাহ নূরের ৩১ নং আয়াতে বর্ণীত আছে, “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তাঁরা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। তাঁরা যেন যা সাধারণ প্রকাশমান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তাঁরা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাই-এর ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তাঁরা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে”

মূলত, পুরুষ-নারীর জন্য ছয় ধরনের হিযাব তথা পর্দার কথা বলা হয়েছে।
সেগুলো হলোঃ

১. পুরুষের জন্য হিযাব হলো কোমর হতে হাটুর নিচ পর্যন্ত আর নারীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শরীর আবৃত রাখতে হবে শুধু হাত আর মুখ বের করে রাখা যাবে, তবে এ ব্যাপারে কিন্তু আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেন।

এই প্রথম প্রকার ছাড়া বাকি পাঁচটি পুরুষ এবং নারীর জন্য একই।

২. পোশাক এমন টাইট হওয়া উচিৎ নয় যেটা পরিধান করলে শরীরের গড়ন প্রকাশ পায়।

৩. এতটা সচ্ছ হওয়া যাবে না যাতে করে শরীর দেখা যায়।

৪. এমন জমকাল পোশাক পরিধান করা যাবে না যেটা অপরকে আকর্ষণ করে।

আরও দেখুন:  ক্রোধ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ

৫. বিধর্মীদের পোশাক পরা যাবে না।

হাদীসে বলা হয়েছে, একদিন কোনো লোক জাঁকজমক রঙের পোশাক পরে মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে আসলো। এটা দেখে তিনি বললেন, তোমার এই পোশাক খুলে ফেল কারণ তোমার এই পোশাক বিধর্মীদের চিহ্ন বহন করে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫১৭৩)
যেমন, খৃষ্টানরা ক্রস আর হিন্দুরা টিকলি ব্যবহার করে।

৬. বিপরীত লিঙ্গের পোশাকের মত পোশাক পরা উচিৎ নয়। হাদীসে বলা হয়েছে যে, “পুরুষ লোকের নারীদের ন্যায় আচরণ করা উচিৎ নয়” (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৮৫)

এগুলো হলো পর্দার আসল প্রকরণ। এছাড়াও ১. কথা বলা ২. হাটা চলা ৩. চিন্তাভাবনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পর্দার ব্যবহার রয়েছে।

ক্বুর’আনে বলা হয়েছে,

হে নাবী আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তাঁরা যেন তাদের চাদেরের কিয়দংশ নিজদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। (আল-আহযাব, আয়াত ৫৯)

আল্লাহ ক্বুর’আনে নারীদেরকে হিযাবের কথা বলেছেন যেন তাঁরা শ্লীলতাহানি হতে বাঁচতে পারে। সুতরাং এই ছয়টি হিযাবের মূল শ্রেণী।

এছাড়াও আরো কিছু পরিচ্ছদের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যেমন- স্বর্ণালংকার পরিধান করা পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ।

হাদীসে উল্লেখ আছে যে, “দুটি জিনিস স্বর্ণ এবং রেশম পরিধান করা আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ তবে নারীদের জন্য অনুমদিত। (সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৫১৮৭)

অপর হাদীসে পুরুষদেরকে পায়ের গোড়ালির নিচে পায়জামা পরতে নিষেধ করা হয়েছে। একটি হাদীসে উল্লেখ আছে, “পায়ের গোড়ালির নীচে পোশাক পরলে ওই অংশ জাহান্নামের আগুনে পোড়ান হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৭৮৭)

জাঁকজমক পোশাক পরে অহংকার প্রকাশ বা অনুভব করা নিষদ্ধ। হাদীসে এসেছে যে, “যে ব্যক্তি যশ-খ্যাতি এবং সৌন্দর্যের জন্য পোশাক পরিধান করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ঐ পোশাক পরিয়ে দেবেন। (সুনান আবু দাঊদ, হাদীস ৪০১৯)

আরও দেখুন:  মুনাফিকী থেকে বাঁচার পথ

অন্য বর্ণনায় বলা আছে- বিচারের দিন আল্লাহ তাকে অপমানজনক পোশাক পরাবেন।

পোশাকের ব্যাপারে আরো নির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন হাদীসে বলা হয়েছে, “সাদা পোশাক পরিধান করো কারণ এটা সর্বোত্তম এবং মৃতকে সাদা পোশাকে জড়াও” (সুনান আবু দাউদ, হাদীস ৪০৫০)

সুতরাং এইগুলো পোশাকের ব্যাপারে নির্দেশনা যেগুলো ক্বুর’আনে এবং সহীহ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button