সমাজ/সংস্কৃতি/সভ্যতা

বিশ্ব পুরুষ দিবস

১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস। দিবস ভিত্তিক আদেখলাপনা একেবারেই অসহ্য লাগলেও এমন কিছু ক্রিয়েটিভ (ফেসবুকে যেগুলো আপনারা ছবি হিসেবে দেখেন) চোখে পড়ল যাতে বাধ্য হলাম কিছু লিখতে।

একটা চেষ্টা অনেকদিন ধরেই করা হচ্ছে – পুরুষদের অত্যাচারী, ধর্ষক – এমন একটা সিম্বল দাঁড় করানোর।

এটা সুস্পষ্ট রেসিজম, বা এক্ষেত্রে সেক্সিজম।

কোনো অন্যায়ের সাথে কোনো একটা জাতকে হোলসেল ট্যাগ করে ফেলাই হলো রেসিজম। রেসিজম সাধারণত অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আসলেও এটা নিজেই একটা অন্যায়।

রেসিজমের কারণে কোনো একটা জাতের বিপক্ষে প্রেজুডিস তৈরি হয়, আবার যে রেসকে টার্গেট করা হচ্ছে ওই রেসের বহির্ভূত অপরাধীরা ছাড় পাওয়া শুরু করে।
বিশ্ব নারী দিবসে যেখানে নারীর বিরুদ্ধে অত্যাচারের বিপক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়, বিশ্ব পুরুষ দিবসে পুরুষদের বিরুদ্ধে অন্যায়গুলোর বিপক্ষে কথা না বলে পুরুষকে বলতে বলা হচ্ছে – “আমি ধর্ষক নই”

পুরুষরা কী নারী নির্যাতনের শিকার হয় না?
হয়, আমি এমন মহিলার কথা জানি যিনি স্বামীকে পেটাতেন।
তাহলে এই পুরুষদের পক্ষে কন্ঠ সোচ্চার হবে কোন দিবসটিতে?

আপনাদের একটা মজার তথ্য দিই।
নারী-পুরুষের পরিবারে যতটা না ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স হয় তার চেয়ে বেশি হয় হোমোসেক্সুয়াল পরিবারে।
তার মানে সমকামীদের পরিবারে পুরুষরা পুরুষদের পেটায় এবং মেয়েরা মেয়েদের অত্যাচার করে।
অর্থাৎ পুরুষরা জাতিগতভাবেই পেটার আর মেয়েরা জাতিগতভাবে মার খায় – এটা একটা বলদামি ধারণা।

সঠিক কথা হচ্ছে, প্রতিটা মানুষকে শক্তি-সামর্থ্য দিলে এবং সে কোনো নৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ না থাকলে – সে অত্যাচার করতে পারে। হোক সে নারী, হোক সে পুরুষ।
সুতরাং ভায়োলেন্স বন্ধ করতে হলে আপনাকে অন্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে – অন্যায়টা যেই করুক না কেন।

দ্বিতীয়ত, আপনাকে একটা নৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা লাগবে। মানুষকে বোঝানো লাগবে প্রতিটা কাজের হিসাব হবে।
সেই হিসাবটা নেবেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা।
কিয়ামাতের দিনে।
সেখানে মিথ্যা কথা বলে পার পাওয়া যাবে না।
সেখানে আইনজীবি বা বিচারক একটাও কেনা যাবে না।
সেখানে প্রতিটা অপরাধের ফলাফলে ভয়ংকর শাস্তি পেতে হবে।
এবং আল্লাহ আল-গফুর হলেও তিনি মানুষের বিপক্ষে করা অন্যায়গুলো মাফ করবেন না।

তৃতীয়ত, আপনাকে স্বীকার করে নিতে হবে নারী এবং পুরুষ দুটো আলাদা জাতি। দুজনকে আলাদা শারীরিক সামর্থ্য, সক্ষমতা, চাহিদা, এবং মানসিকতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই পার্থক্য ভেঙে উভয়কে সমান করা যায় না, যাবেও না।

#metoo ঘটনাগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করুন। দেখুন মেয়েরা কোথায় স্বাধীন আর কোথায় নিরাপদ। ক্যারিয়ারের নামে, প্রগতির নামে মেয়েদের করপোরেট স্লেভারিতে আনার যে বৈশ্বিক বাটপারি চলছে সেটার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, তবেই সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ কমে আসবে।

পরিশেষে, ইসলামী শরী’আহ কথাটা শুনলে অনেকের গা জ্বালা করে। কিন্তু সমাজের অধিকাংশ মানুষের নিরাপত্তা এবং ভালো থাকার জন্যই আল্লাহ আর রহমানীর রহীম এই বিধানগুলো দিয়েছেন।

নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ সামাজিক গবেষণা করলে এই কথাটার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। ইতিমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে তা হচ্ছেও। যেমন অ্যামেরিকান অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনের সময় অনেক অমুসলিমরা দাবী তুলেছিল – Lets bank in Islamic way.

একটা সেক্যুলার সমাজ যদি আখিরাতে বিশ্বাস নাও করে, তাও শুধুমাত্র পৃথিবীতে ভালো থাকার জন্য হলেও তাদের উচিত দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করা।

– Sharif Abu Hayat Opu


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

Back to top button