সমাজ/সংস্কৃতি/সভ্যতা

তবুও ভ্যালেন্টাইন?

ভ্যালেন্টাইন্সের অন্ধকার ইতিহাস
প্রায় সকলেই ভ্যালেন্টাইন দিবসের পিছনের কাহিনী হিসেবে জানেন ‘ভ্যালেন্টাইন’ নামক এক সাধুকে মেরে ফেলার/আত্মহত্যার কাহিনী। কিন্তু খ্রিস্টীয় ৩য় শতাব্দীতে হয়ে যাওয়া এই ঘটনাপ্রসূত ‘ভ্যালেন্টাইন দিবস’ যে মূলত আরও দুই শতাব্দী পর অর্থাৎ ৫ম শতাব্দীর আগে আসে নি, তা অনেকেই জানে না। কেউ খেয়াল করে না যে ভ্যালেন্টাইনের ওই সাধুর ঘটনার সাথে ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ তো দূরের কথা, ফেব্রুয়ারি মাসেরই আসলে কোনও সম্পর্ক থাকার কথা নয়।
আসল ব্যাপার হল, প্রাচীন রোমানরা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ‘লুপার কালিয়া’ নামক উৎসব পালন করত যেখানে মূলত অল্পবয়স্কা মেয়েদের পশুর চামড়া আর রক্ত মেশানো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো যাতে তাদের উর্বরতা বাড়ে! আর রোমানদের থেকে সভ্যতা (!) ধার করা ছিল খ্রিস্টানদের স্বভাব। কিন্তু তাই বলে এই ধরনের আজগুবি আর বর্বর, বীভৎস বিষয়ও খ্রিস্টানদের ধার করা থেকে বাদ পড়ল না। ফেব্রুয়ারির মাঝামঝি কিছু একটা করা চাই-ই!
আর সেই ধারাবাহিকতায় ৫ম শতাব্দীর দিকে পোপ জুলেসিয়াস ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের ঘটনার আড়ালে একে ‘ভ্যালেন্টাইন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করলো।
[সূত্রঃ
[১] Histoy Channel: https://tinyurl.com/oulvdnu
.

যিনা দিবস থেকে আজ যিনা সপ্তাহ!

পুরনো ইতিহাসকে কাটছাঁট করে উপস্থাপিত করে চালিয়ে দেওয়া হলেও ভ্যালেন্টাইনকে দিবস হিসেবে এর পালন শুরু হয়েছে আধুনিককালেই। কিছু বেঈমান ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে নিয়মিত মার্কেটিং করে যুবসমাজের মধ্যে এই ব্যভিচারের প্রসার করেছে।
আর তার জের ধরে ভ্যালেন্টাইন দিবস থেকে এখন তা ‘ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ’-এ রূপ নিয়েছে! ফেব্রুয়ারির ১৪ নয়, এখন ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকেই যথাক্রমে Rose Day, Propose Day, Chocolate Day, Teddy Day, Promise Day, Hug Day, Kiss Day আর শেষে ১৪ তারিখে Valentines Day.
লক্ষ্য করুন, রীতিমত শেষদিনে যিনাহে লিপ্ত হবারই এক গ্রাজুয়াল আয়োজন। লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
.
সমাজ বিয়েকে কঠিন করেছে আর যিনাকে করেছে সহজ – ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর এত রমরমা আয়োজন সেদিকটাই নির্দেশ করে। ক্লোজআপ ‘সামান্য এক টুথপেস্ট’ হয়ে কাছে আসার গল্প বলে, সেই পথে হেঁটে বিস্কুট, চকলেট, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি কোনো ব্যবসাই এই যিনার আগুনে ঝাঁপ দিতে বাদ থাকে না।
.
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
“নিশ্চয়ই যারা পছন্দ করে যে ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা / বেহায়াপনা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
[সূরা আন নূর, ১৯]
.

একটুখানি খাহেশাত, বরবাদ আখিরাত

ওহে মুসলিম ভাই ও বোন আমার!
আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,“…চোখের জিনা হল তাকানো, জিহ্বার জিনা হল (অশ্লীল) কিছু বলা…” [বুখারি ৫৮৮৯, মুসলিম ২৬৫৭]
যেখানে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন আলাদা আলাদা আয়াত নাযিল করে মুমিন ও মুমিনাদেরকে দৃষ্টিরও হিফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন, দিয়েছেন পর্দার বিধান [সূরা নূর, ৩০-৩১] সেখানে যিনাহে লিপ্ত হতে আয়োজন সাজানো হয়! কিছু মানুষ কতই না হতভাগা! একটুখানি খাহেশাতের কারণে পুরো আখিরাতই বরবাদ করে দেয়। হিজাব করে চলা মেয়ে যখন এমন হারামে জড়ায় বা নিয়মিত সলাত আদায় করা ছেলেটি যখন প্রকাশ্যে এমন জঘন্য হারামে লিপ্ত হয়, তখন কষ্টের সীমা থাকে না। এমন কতো বান্দাই না রয়েছে যারা শয়তানের আর প্রবৃত্তির ধোঁকায় মজে গিয়েছে। আল্লাহকে তারা একেবারেই ভয় করে না তা কিন্তু নয়, কিন্তু সেভাবে করে না যেভাবে ভয় করা উচিত ছিল!
.
يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ (١٠٢)
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” [সূরা আলি-ইমরান, ১০২]
.
لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فِى ٱلۡبِلَـٰدِ (١٩٦) مَتَـٰعٌ۬ قَلِيلٌ۬ ثُمَّ مَأۡوَٮٰهُمۡ جَهَنَّمُ‌ۚ وَبِئۡسَ ٱلۡمِهَادُ (١٩٧) لَـٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ رَبَّهُمۡ لَهُمۡ جَنَّـٰتٌ۬ تَجۡرِى مِن تَحۡتِہَا ٱلۡأَنۡهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيہَا نُزُلاً۬ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ‌ۗ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيۡرٌ۬ لِّلۡأَبۡرَارِ (١٩٨)
“নগরীতে কাফিরদের চালচলন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয়। এটা হলো সামান্য ফায়দা-এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোযখ। আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।
কিন্তু যারা ভয় করে নিজেদের পালনকর্তাকে তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ।…” [সূরা আলি-ইমরান, ১৯৬ – ১৯৮]

লিখেছেন: তানভীর আহমেদ

আরও দেখুন:  নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ ও তার প্রতিকার

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button