সংবাদ

৪ বছর ধরে টাকা জমিয়ে যৌতুকের টাকা ফেরৎ

চতুর্থ শ্রেণী পাশ হার্ডওয়্যার দোকানের কর্মচারী এরশাদ আলী। চার বছর পর বিয়ের সময় যৌতুকের নেওয়া টাকা ফেরৎ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এলাকায় আলোচনার বিষয়বস্ত্ততে পরিণত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহরের সবুজপাড়া এলাকায়।

প্রায় চার বছর আগে রোজিনা বেগমকে বিয়ে করেন এরশাদ আলী। সে সময় যৌতুক হিসাবে ৯০ হাযার টাকা নেয় এরশাদের পরিবার। যৌতুকের সেই অভিশপ্ত দেনা গত ১৯শে জানুয়ারী এলাকাবাসীর সামনে ৪০ হাযার টাকার একটি গরু ও নগদ ৫০ হাযার টাকা মেয়ের মা রাবেয়া বেগমের হাতে তুলে দিয়ে দায় মুক্ত হন এরশাদ। স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, বিয়ের পর হ’তে স্বামী বার বার বলত, যৌতুক নেওয়া অপরাধ। রোজিনা তুমি শুধু দো‘আ কর, আমি এই যৌতুকের দায় হ’তে যেন তাড়াতাড়ি মুক্ত হ’তে পারি।

এরশাদ আলী জানায়, প্রায় চার বছর আগে পরিবারের পসন্দে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের রাত হ’তেই ভাবছিলাম যৌতুকের এই দেনা থেকে আমি কবে মুক্তি পাব? এছাড়া যৌতুক নামক কথাটি আমি ঘৃণা করি। কিন্তু অভিভাবকদের উপর কথা বলারও স্পর্ধা আমার নেই। একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম, এ টাকা আমি পরিশোধ করবই। প্রায় তিন বছর হ’তে তিলে তিলে সঞ্চয় করে আমি সেই টাকা যোগাড় করে আমার শ্বাশুড়ির হাতে শুক্রবার তুলে দেই। এখন আমি দায় মুক্ত। যেন বুকের উপর হ’তে অদৃশ্য বিশাল এক ওযন নেমে গেল।

এ ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে শ্বাশুড়ি রাবেয়া বেগম বলেন, এমন জামাই কয়জনের ভাগ্যে জোটে? তিনি আরও বলেন, আমার জামাইয়ের এমন কাজে আমি গর্বিত। রোজিনার বিয়ের সময় জমি বন্ধক ও গরু বিক্রি করে জামাইয়ের অভিভাবকদের হাতে নগদ ৯০ হাযার টাকা যৌতুক হিসাবে দেই। চার বছর পর জামাই তা আমাকে ফেরত দিল। আমি জামাইয়ের জন্য দো‘আ করি। এমন সন্তান যেন দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নেয়। ঐ এলাকার মসজিদের ইমাম আকবর আলী জানান, এ এক বিরল ঘটনা। এরশাদের এমন মহৎ উদ্যোগ দেখে আমাদের সমাজের মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আরও দেখুন:  পহেলা বৈশাখ নিয়ে আনন্দবাজারের রিপোর্ট : ঢাকার পয়লা যেন অষ্টমীর একডালিয়া

[আমরা এরশাদকে মুবারকবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে যৌতুক লোভীদেরকে আল্লাহর গযবের হাত থেকে বাঁচার আহবান জানাচ্ছি]

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button