সচেতনতা

‘পীর ভাই’র আদলে ‘দ্বীনি ভাই’?

সম্প্রতি ‘পীর ভাই’র আদলে ‘দ্বীনি ভাই’ নামের একটি পরিভাষার প্রচলন নজরে পড়ছে বেশ। সচরাচর বিশেষ চিন্তা-দর্শন ও আদর্শের লোকদেরকে সাধারণ মুসলিমদের থেকে পৃথক করে ‘দ্বীনি ভাই’ বলে অভিহিত করা হয়। বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে সংকীর্ণ চিন্তা থেকে উদগত, উম্মাহ কনসেপ্টের বিপরীত এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্ববিরোধী।

আল্লাহ তা’আলা দ্বীনি ভাইয়ের যে সংজ্ঞা ও সীমানা দিয়েছেন তা কতো ব্যপক! ইরশাদ হয়েছে-

‘যদি (মুশরিকরা শির্ক থেকে) তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই’। (সুরা তাওবা, আয়াত১১) অন্যত্র আল্লাহ তা’আলা বলেন-‘তোমরা তাদেরকে ডাকো তাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে সেটাই বেশি ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জানো তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই এবং বন্ধু’। (সুরা আহযাব, আয়াত৫)

আল্লাহ তা’আলা সকল নবীদের সম্বোধন করে বলেছেন-‘এবং তোমাদের এই জাতি এটা তো একই জাতি’। (সুরা মু’মিনূন, আয়াত ৫২) অন্যত্র ঈসা (আ:) এর সকল অনুসারীদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে-‘এই যে তোমাদের জাতি, এটা তো একজাতি’। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৯২)

সহীহ মুসলিমের বিখ্যাত এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘মুসলিম মুসলিমের ভাই’। বুখারীর এক বর্ণনায় আবু যর গিফারী (রা:)কে লক্ষ্য করে তিনি বলেছিলেন-‘তোমাদের কৃতদাসরাও তোমাদের (দ্বীনি)ভাই’।

সুবহানাল্লা! দ্বীনি ভ্রাতৃত্বের গণ্ডি কতো বিশাল! অথচ সেটাকে আমরা কতো ছোট্ট সীমানায় আবদ্ধ করে রেখেছি!

সুতরাং উম্মাহ’র যেই সদস্যকে আপনি মুসলিম বলে গণ্য করবেন, সেই আপনার দ্বীনি ভাই। বড়জোর এর সাথে সালাত ও যাকাতের শর্ত জুড়তে পারেন।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের হ্রদয়গুলোকে প্রশস্ত করে দিন, যেমনটি তিনি চান।


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

Back to top button