দৈনন্দিন জীবন

খাবারের প্যাকেটে উপাদান নির্দেশ করতে ব্যবহৃত ই-নাম্বার মানে কি সেই উপাদানটার মূল উৎস হচ্ছে শূকরের হাড় বা মাংস?

প্রশ্ন: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু কিছু খাবারের প্যাকেটে সেই খাবারগুলোর উপাদানগুলো নির্দেশ করতে “ই-নাম্বার” (ই-কোড) ব্যবহার করা হয়। এটা বলা হয় যে, ই-নাম্বার মানেই সেই উপাদানটার মূল উৎস হচ্ছে শূকরের হাড় বা মাংস।

যদি এটা আসলেই সত্য হয়, তাহলে এই খাবারগুলো ব্যবহার করা সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনা কী?

উত্তর:

প্রকৃতপক্ষে ই-নাম্বার দিয়ে যে উপাদানটাকে বুঝানো যায়, সেটা খাবারে ব্যবহৃত ৩৫০ প্রকারের অ্যাডিটিভগুলোর মধ্যে কোন নির্দিষ্ট একটা অ্যাডিটিভ। এগুলোর মধ্যে আছে প্রিজারভেটিভ, খাবারের রঙ, ফ্লেভার, মিষ্টদ্রব্য ইত্যাদি।

উৎস অনুযায়ী এগুলোকে চারভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

১) কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ থেকে আহরিত অ্যাডিটিভ।
২) উদ্ভিজ্জ অ্যাডিটিভ।
৩) প্রাণিজ অ্যাডিটিভ।
৪) অ্যালকোহলের মিশ্রণ থেকে প্রাপ্ত অ্যাডিটিভ।

এই চার প্রকারের অ্যাডিটিভের ব্যাপারেই ইসলামের দিকনির্দেশনা হচ্ছে, কোন খাবারের হালাল বা হারাম হওয়া এই অ্যাডিটিভগুলোর উপর নির্ভরশীল নয়। কারণ:

প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রকারের অ্যাডিটিভগুলো যেহেতু সম্পূর্ণ হালাল উৎস থেকে আহরিত, এগুলো ব্যবহার করতে কোনই সমস্যা নেই।

তৃতীয় প্রকারের অ্যাডিটিভের ব্যাপারে বলা যায়, যদিও তা প্রাণিজ উৎস থেকে আহরিত, কিন্ত তা একটি রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন একটি উপাদানে পরিণত হচ্ছে, যা হালাল। এই রাসায়নিক পরিবর্তনটা এই ধরণের অ্যাডিটিভের ব্যাপারে ইসলামিক দিকনির্দেশনাকে প্রভাবিত করছে। যেমন, শরীয়ত অনুযায়ী ওয়াইন মদের মধ্যে পরে, যা হারাম। কিন্ত ওয়াইন থেকে যে ভিনেগার তৈরি করা হয়, তা কিন্ত মদের সংজ্ঞার মধ্যে পরে না। এই কারণেই ভিনেগার ব্যবহার করা হালাল। অর্থাৎ, রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আহরিত বস্তুর ইসলামিক দিকনির্দেশনা তার উৎসের উপর নির্ভরশীল নয়।

আর চতুর্থ প্রকারের অ্যাডিটিভের ব্যাপারে বলা যায়, এগুলো প্রধানত খাবারে ব্যবহৃত বিভিন্ন রঙ। বিভিন্ন খাবারে এই রঙগুলোর দ্রবণ খুবই অল্প পরিমাণে ব্যবহৃত হয়, আর শেষমেশ তা উৎপন্ন বস্তুর মধ্যে দ্রবীভূত হয়ে যায়। এটুকু উপেক্ষা করাই যায়।

অতএব, কোন খাদ্য বা পানীয়ের মধ্যে যদি এই ই-নাম্বার সম্বলিত উপাদানগুলি থাকে, তাহলে তা হালাল দ্রব্য হিসেবেই গণ্য করা হবে। আর কোন মুসলিমের জন্য এই পণ্যগুলো ব্যবহারে কোনই অসুবিধা নেই।

আরও দেখুন:  বগল বা নাভীর নীচের লোম ছাফ করতে লোমনাশক প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে কি?

আমাদের দ্বীন সহজ। বরং তা সেগুলো নিয়েই মাথা ঘামাতে আমাদের নিষেধ করে, যা আল্লাহ্‌ সুবহানাওয়াতাআলা আর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেন নি।

Collected and translated from: “https:/islamqa.info/en/102749“.

– সামি


১) গত বেশ কিছুদিন থেকে দেখছি, “ই-নাম্বার/কোড” কী, কত প্রকার ও কী কী, ইতিহাস-পাতিহাস সহ বিশাল একটা পোস্ট অনেকেই শেয়ার করছেন। মজার ব্যাপার হল, যারাই পোস্টটা শেয়ার করছেন, তাঁদের পোস্টের নিচে কমন “কালেক্টেড” কথাটা লেখা। কিন্ত অরিজিনালি কে যে পোস্টটা লিখেছেন, সেটাই এখন পর্যন্ত জানতে পারলাম না!

সেই পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, কোন খাবারের প্যাকেটে ই-কোড থাকলেই সেই খাবারটা হারাম হয়ে যাবে! তাই জানতে চেষ্টা করলাম, সমকালীন ফকীহরা ই-কোডকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলাফল তো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।

আশা করি, এরপর থেকে চিল কান নিয়ে গেছে শুনেই কেউ চিলের পিছে দৌড়ানো শুরু করবেন না, আর এই দ্বীনকে সাধারণ মানুষদের কাছে কঠিন করে তুলবেন না।

২) ইসলামকিউএ ডট কমের যে ফতোয়াটায় ই-কোড সম্পর্কে লেখা হয়েছে, সেটাতে আরো নানা বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। চাইলে পুরো ফতোয়াটা পড়ে দেখতে পারেন।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button