সংবাদ

বাংলাদেশ সরকারকে জাকির নায়েকের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েক বলেছেন, তার ভাষণের যে অংশটা অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেই অনুষ্ঠানটা পুরো দেখানো হোক।

ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌদি আরবের মদিনা থেকে স্কাইপের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ চ্যালেঞ্জ দেন তিনি।

জাকির নায়েক বলেছেন, গত ২৫ বছর ধরে বক্তৃতা দিচ্ছি, কিন্তু কোনো বক্তৃতাতেই সন্ত্রাসে উৎসাহ দিইনি।
তিনি আরো বলেন, জিহাদের নামে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ইসলামে দ্বিতীয় বড় পাপ। এটা ইসলামে নিষিদ্ধ, হারাম।

জাকির নায়েক ওই সংবাদ সম্মেলনে বারে বার বলেন যে, তিনি তার কোনো ভাষণেই সন্ত্রাসের পক্ষে কথা বলেননি। অনেক ক্ষেত্রে ‘ডক্টরড টেপ’ অর্থাৎ কাটছাঁট করা ভিডিও দেখেই তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ করছে কিছু সংবাদ মাধ্যম।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে এরকম ছোট ছোট কিছু ভিডিও ক্লিপ দেখেই এধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। কয়েকটা ভিডিও ক্লিপে আবার আমার ভাষণের একটা দুটো বাক্য অপ্রাসঙ্গিক ভাবে তুলে নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, পিস টিভিতে দেওয়া আমার পুরো ভাষণগুলো কেউ দেখাক। তারপরে বলুক যে কোন অংশটা ভারত বা বাংলাদেশের জন্য অশান্তি তৈরি করতে পারে?’ প্রশ্ন জাকির নায়েককের।

তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি ভারতে আটক এক যুবকের বাবা অভিযোগ করেছেন যে, তার ছেলে জাকির নায়েকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিল।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি মাসে কয়েক হাজার মানুষ তার সাথে দেখা করেন। তার সঙ্গে ছবিও তোলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনকেই হয়তো তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন।

তিনি বলেন-‘জ্ঞাতসারে আমি কোনো সন্ত্রাসবাদীর সাথে দেখা করিনি। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের মধ্যে যদি কোনো সন্ত্রাসবাদী থাকেন, তাহলে তো সেটা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।’

ভারতে সরকার তার পিস টিভি দেখানোর অনুমতি কেন দেয়নি, সেই প্রসঙ্গও তোলেন জাকির নায়েক। বলেন- ‘কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, তার একটা কারণ আমি আন্দাজ করতে পারি। পিস টিভি একটা মুসলিম চ্যানেল, এটা ইসলামি চ্যানেল। সেজন্যই অনুমতি দেয়নি ভারত সরকার।’

মুম্বাই পুলিশ তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চালাচ্ছে, তিনি সেই তদন্তের মুখোমুখি হতেও রাজি। তবে ওই তদন্তের কথা তিনি শুধু সংবাদমাধ্যমেই জেনেছেন। সরকারি পর্যায়ে কেউ তার সাথে এখনও যোগাযোগ করেনি বলে জানান তিনি।

আরও দেখুন:  ভারতে প্রতিদিন ৩২ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায়

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button