সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

জাকাতের শাড়ি ও ২৭ মৃত্যু প্রসঙ্গে কিছু কথা

বিশ্বের আরো দু’চারটি দেশের মতো বাংলাদেশও একটি ঘটনাবহুল দেশ। একটা সময় ছিল যখন বহির্বিশ্বে এ দেশ পরিচিত ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে। প্রায় প্রতিবছরই হয় প্রবল বন্যা নয় ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের শিকার হওয়ার কারণে বাংলাদেশ এ আখ্যা পেয়েছিল। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা ১৯৭০ ও ১৯৯১-এর ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ও ২০০৭ সালের সিডর এবং ১৯৭১, ১৯৭৪, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮-এর ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করতে পারি। ইদানীং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ দু’টি। এক, সে রকম ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি; দুই, সরকারের তরফ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে রক্ষার তৎপরতা আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ’৭০-এ প্রায় পাঁচ লাখ ও ’৯১-এ প্রায় দেড় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটায় তখন গোটা দেশই শোকার্ত জনপদে পরিণত হিেছল। তবে ঐ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আর আঘাত না হানায় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি আর ঘটেনি। বন্যার ক্ষেত্রেও অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। গত কয়েক বছরে বন্যা তার সর্বনাশা রূপ নিয়ে বাংলাদেশকে আর প্লাবিত করেনি। তবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কমে এলেও বেড়েছে নদী ভাঙ্গন, ফলে প্রতি বছর সর্বহারা হচ্ছে অগুণতি মানুষ। বেড়েছে মানব সৃষ্ট দুর্ঘটনা-বিপর্যয়। যেমন গত কয়েক বছরে গার্মেন্টসে আগুন লেগে ও ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ কর্মপরিবেশ উন্নতির প্রয়াস সূচিত হওয়ায় গার্মেন্টসে অগ্নিকা-ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনা। এ দু’টি ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে। বছর শেষে নিহতের সংখ্যা যা দাঁড়ায় তা শিউরে ওঠার মতো। আরো আছে লঞ্চডুবির মতো আরেকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়। উপর্যুক্ত নিয়মিত ভাবে এত মানুষের মৃত্যু পৃথিবীর আর কোনো দেশে ঘটে কি না জানা নেই। এটা এখন রূপ নিয়েছে এক অনিঃশেষ ট্র্যাজেডির। আমি বলতে চাইছি যে সাধারণত যুদ্ধবিগ্রহে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগেই বেশি মানুষ মারা যায়। কয়েকটি দেশে যুদ্ধ তো এখন স্থায়ী ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন আফগানিস্তান ও ইরাক। এ দু’টি দেশের সাথে ২০১১ সাল থেকে যুক্ত হয়েছে লিবিয়া ও সিরিয়া এবং ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন। এ দেশগুলোতে রক্তক্ষয়ের শেষ কবে কিংবা আদৌ তার শেষ হবে কিনা বলা মুশকিল। এ সবের বাইরেও মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকে। সব দেশেই তা কম-বেশি ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশে তা যেন অস্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। এখানে নানাভাবে মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটছে এবং তা প্রায়ই তা ঘটাই যেন এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ১০ জুলাই ময়মনসিংহে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের বুকে মৃত্যু আবার তার ভয়াল ছোবল হেনেছে, কেড়ে নিয়েছে শিশু ও নারীর ২৭টি প্রাণ। বহুবিচিত্র ঘটনার অভিঘাত তাড়িত বাংলাদেশের মানুষ এখন আর চট করেই কিছুতে আহা-উহু করে না, তারপরও পবিত্র রমজান মাসে ও ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে এ ঘটনা অনেককে বেদনামথিত করেছে। পত্র-পত্রিকার খবরে জানা যায়, ময়মনসিংহের নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক শামীম তালুকদার ১০ জুলাই শুক্রবার দিন জাকাত প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। লোক মারফত এ কথা সব জায়গায় ছড়িয়ে দেয়া হয়। তার ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শহরের পৌর এলাকায় তার বাড়ির সামনে জাকাত প্রত্যাশী মানুষের ভিড় জমতে থাকে। তাদের মাথাগুণতি করেনি কেউ। তবে তাদের সংখ্যা কেউ কয়েকশ’, কেউবা হাজার চারেক বলেছেন। বলা দরকার যে বিত্তবান ব্যক্তিদের যারা জাকাত দেয়ার সময় সাধারণত সবাই শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে বোধ হয় শুধু শাড়ি বিতরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তাই শামীম তালুকদারের ঘোষিত জাকাত নিতে শুধু নারীদেরই ভিড় জমেছিল বলে নিহতদের তালিকা দেখা যায়। দু’ একজনের সাথে দু’একটি শিশুও ছিল। তারা সারারাত অপেক্ষা করার পর ফজরের সময় হয়। বিত্তবান শামীম তালুকদার নামায পড়ার জন্য বাড়ির ছোট গেট দিয়ে বাইরে আসেন। তখনি এ সর্বনাশা ঘটনার শুরু। জাকাত প্রত্যাশীরা একযোগে বাড়ির মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ির লোকজন ও কর্মচারীরা তাদের বিতাড়িত করার চেষ্টায় শক্তি প্রয়োগ করে। এ পর্যায়ে ভিড়ের চাপ-ধাক্কাধাক্কি বা তাড়া খেয়ে পালানোর সময় পদদলিত হয়ে কিছু সংখ্যক নারী ও শিশু নিহত হয় যাদের সংখ্যা ২৭ বলে জানা যায়। ঘটনার পর পরিস্থিতির মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে, বাড়ির বড় গেটটি খুলে দিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। অন্যদিকে পুলিশ শামীম তালুকদারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে জাকাত প্রদানের বিষয়টি নিয়ম মোতাবেক পুলিশকে না জানানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় সেখানে পুলিশ থাকলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না বলে বলা হয়েছে। অন্যদিকে জাকাত প্রদানকারীর পক্ষ থেকে কেউ বলেছেন, অনেক দিন থেকেই জাকাত দেয়া হয়ে আসছে। কিন্তু এ রকম ঘটনা কখনো ঘটেনি। তাই তারা পুলিশকে জানাননি। জানা যায়, নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির মালিকের পক্ষ থেকে ৬শ’ জনকে কার্ড দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি এ সংখ্যক লোককে জাকাতের শাড়ি দিতে চেয়েছিলেন। তার ছেলে বলেছেন, এক হাজার লোককে জাকাত দেয়ার ব্যবস্থা তাদের ছিল। এখন এ দুর্ঘটনার ফলে শামীম তালুকদারের জাকাতও দেয়া হল না, আর পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দময় ঈদ উদযাপনের পরিবর্তে তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারেই হয়তো দিনটি কাটাতে হবে। বলা প্রয়োজন, তিনি যে পন্থায় এতদিন জাকাত দিয়ে এসেছেন ও এবারো দিতে যাচ্ছিলেন তা হয়তো উত্তম বা ইসলামের সঠিক নির্দেশনা মোতাবেক নয়, কিন্তু এতে তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বা এটা যে এ রকম মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে পরিণত হবে, তা তিনি ভাবতেও পারেন নি। তিনি সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাকাত সামগ্রী বিতরণ করতে ব্যর্থ হেেছন এটা তার ভুল বা সচেতনতার অভাব, কিন্তু তার ইচ্ছাকৃত অপরাধ নয়। এ প্রসঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কিছু কথা চলে আসে। আমরা সবাই জানি, জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। পবিত্র কুরআনে বেশ কয়েকবারই মুসলমানদের নামায আদায়ের পাশাপাশি জাকাত দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। জাকাত কাদের জন্য ফরজ আর কারা তা পাওয়ার হকদার সে বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে। যারা জাকাত প্রদান করেন, তার আলোকেই তা করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের বিত্তবানদের যারা এ জাকাত প্রদান করেন তারা সে নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তা বলা মুশকিল। তারা তাদের সম্পদের নিসাব পরিমাণ হয়তো জাকাত দেন ঠিকই, কিন্তু যে বাস্তবতায় দেন তা সঠিক কিনা বা ইসলাম নির্দেশিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এ প্রশ্ন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন জোরালো রূপ ধারণ করেছে। তা হলো জাকাত হিসেবে কী দেয়া হচ্ছে? বহু বিত্তবানই যাকাতের প্রদেয় অর্থে শাড়ি ও লুঙ্গি কিনে অভাবী-দরিদ্রদের দিয়ে থাকেন। কেউ শত শত, কেউ হাজার হাজার মানুষকে দেন। এদিকে জানা যাচ্ছে, ইসলামে জাকাত হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি বিলানোর কোনো নির্দেশনা নেই। এটি সম্পূর্ণ রূপে আমাদের বিত্তবানদের প্রচলন করা নিজস্ব প্রথা যাতে হয়তো তাদের কেউ কোনোদিন জানা শোনা কোনো আলেম-ওলামা বা পীর সাহেবের অনুমোদন নিয়েছিলেন। আসলে জাকাত হিসেবে শাড়ি ও কাপড় দেয়ার প্রচলন কবে থেকে চালু হলো বা কে করেছেন তা বোধ হয় কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে মাইক দিয়ে প্রচার করে জাকাত দেয়া বা জাকাত হিসেবে একেকজন অভাবী মানুষকে একটি শাড়ি বা একটি লুঙ্গি দেয়ার সাথে জাকাতের মূল উদ্দেশ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত জাকাত হচ্ছে সমাজে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার একটি ব্যবস্থা। সমাজে ধনী ও দরিদ্রের অবস্থান ইসলাম স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু ধনের স্ফীতি যেন মাত্রা না ছাড়ায়, যাদের অনেক আছে তাদের আনন্দের উচ্ছ্বাসে দরিদ্র যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে খড়কুটোর মতো ভেসে না যায়, সে জন্যই জাকাত। ইসলামের কথা হলো, ধনবানের ধনে দরিদ্রের হক আছে। তাই ধনবান তার ধনের নিসাব পরিমাণ অর্থ অবশ্যই এক বা একাধিক দরিদ্রকে দেবেন। আর হক আদায়ের এ ব্যবস্থাই হচ্ছে জাকাত। জাকাত ফকিরের ভিক্ষা নয়। ধনবান তার ধনের জাকাতের নিসাব পরিমাণ অর্থ শত-হাজার জনকে একটি করে শাড়ি-লুঙ্গি হিসেবে বিতরণ করলে তা দারিদ্র্য মোচনে কোনো কাজে আসবে না, বরং জাকাতের অর্থ এভাবে কাউকে দেয়াই উত্তম যিনি ঐ অর্থ ব্যবহার করে নিজের দরিদ্র অবস্থার পরিবর্তন করে যেন নিজেই জাকাত দিতে পারেন।দেশ যারা পরিচালনা করছেন তারা সারাদেশে উন্নতির ¯্রােত বইয়ে দেয়ার কথা বলছেন। এত উন্নতি এর আগে হয়নি বলে তারা নিজেরা আনন্দে ভাসছেন। এই মাত্র ক’দিন আগে (১ জুলাই, ২০১৫) বাংলাদেশ নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংক সার্টিফিকেট দিয়েছে। তার জেরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সাধারণ মানুষ উন্নতির এই ঢাক-ঢোল পিটানোর কলরোলে বিভ্রান্ত। এত উন্নতি, অগ্রগতি জীবনাত্রার মান উন্নয়ন হচ্ছে, তা কাদের হচ্ছে? কারা সে সুফল ভোগ করছে? ঢাকা মহানগরীতে বস্তির সংখ্যা বাড়ছেই, কাওরান বাজারে রাতভর মালামাল নামানোর কাজে জড়িত শ্রমিকরা কাজের অপেক্ষায় ক্লান্ত শরীরে তার টুকরিতেই ঘুমায়, রাতে ফুটপাতে থাকা সহায়হীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই, দরিদ্র রোজাদার একটু মুড়ি ও পিয়াজু মাখিয়ে তাদের ইফতার সারে কিংবা সামান্য কাজ করা বস্তির কুঁড়েঘরবাসী রোজাদার বয়স্ক নারী ও পুরুষ একমুঠো মুড়ি ও পানি দিয়েই সারে তার সেহরি ও ইফতার (একটি টিভি চ্যানেলে সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত), ২৫০-৩০০ টাকা দামের একটি শাড়ি পাবার আশায় অভাবী নারীরা ব্যাকুল প্রতীক্ষায় সারারাত কাটিয়ে সকালে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারায়। নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবার প্রত্যয় যখন সব টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে ধ্বনিত হচ্ছে তখন দেশের নানা স্থানে নদ-নদীর সর্বনাশা ভাঙ্গনে সর্বস্বহারা মানুষের বুক ভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস ও বিলাপে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে। তারা সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। তাদের পাশে কেউ নেই। বাজারে কোনো জিনিসের সরবরাহের ঘাটতি নেই, কিন্তু মূল্যে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যাদের হাতে অঢেল অর্থ তাদের তো দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী দাম হলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সীমিত আয়ের মানুষ? তারা কোথায় অতিরিক্ত পয়সা পাবে? তাদের সংসার কীভাবে চলে, সে খবর কি সরকার রাখে? দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আড়াই হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জনজীবনে তার সুফল কী, তা কী কেউ বলতে পারেন? বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একাধিক দেশি-বিদেশি পুরস্কার লাভ করে নিজের ও সরকারের মুখ উজ্জ্বল করছেন, তাতে রিকশাওয়ালা, মিনতি, ফুটপাতবাসীর জীবনমানের কী উন্নতি হচ্ছে? বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জনকল্যাণমুখী সরকার জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাসহ সকল আইনি সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশেও এ রকম অবস্থা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা আছে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন। আইন আছে, পুলিশ আছে, র্যাব আছে, আদালত আছে। তারপরও বহু মানুষেরই আইনি সুরক্ষা মিলছে না, বিচার পাচ্ছে না, অনেক স্থানেই দলীয় প্রভাবের কারণে বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কেঁদে ফিরছে বলে পত্র-পত্রিকায় প্রায় প্রতিদিনই খবর প্রকাশিত হতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে সরষের মধ্যেই ভূত থাকার সত্যতা মিলছে। খোদ পুলিশ বাহিনীর নি পর্যায়ে অধিক সংখ্যক লোককে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে, যা কিনা আইন-শৃঙ্খলার জন্য অশনি সংকেত।ময়মনসিংহে জাকাত নিতে গিয়ে ২৭টি প্রাণের এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা অসংখ্য মানুষের হৃদয়কে বেদনা মথিত করেছে। কারোরই তো এটা কাম্য নয়। বিভিন্ন এলাকার নিহতদের স্বজনদের আহাজারি পরিবেশকে বিষাদবিধুর করে রেখেছে। টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র ও ফেসবুকের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে এ খবর দেশের প্রায় সবারই জানা হয়ে গেছে। ছড়িয়ে গেছে বৃহত্তর বিশ্বেও। সরকার এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে কিনা তা আমরা জানি না। কিন্তু এটা বলা দরকার যে জাকাতের অর্থে শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার প্রথার অবিলম্বে বিলোপ হোক। জাকাত প্রদানকারীরা মেহেরবাণী করে তাদের নিসাব পরিমাণ অর্থ নিজস্ব ব্যবস্থায় গরিব ব্যক্তি নির্বাচন করে তাকে নগদ প্রদান করুন। এভাবে তিনি যদি ইসলামী নির্দেশনা অনুসরণ করেন তাতে তারও ফরজ পালন যথার্থ হবে, অন্যদিকে জাকাত গ্রহীতাও সত্যিকার অর্থে উপকৃত হবেন। আর জাকাতদাতা যদি একান্তই প্রচারপ্রিয় হন তাহলে তিনি জাকাত প্রদানের আগে বা পরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাকে বা কাদের কী পরিমাণ অর্থ দিলেন তা সবাইকে জানাতে পারেন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ গ্রহীতার জীবনকে পরিবর্তিত করে অভাব, দারিদ্র্য থেকে তাকে চিরমুক্তি দিতে পারে। মমনসিংহ ট্রাজেডির প্রেক্ষাপটে জাকাতদাতা বিত্তশালী জনেরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

আরও দেখুন:  ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প

 

ইনকিলাব

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button