সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

কারা এই ‘হুছি/হুথি’ সম্প্রদায়?

ইয়েমেনের উত্তরঞ্চলের একটি শহর হচ্ছে ছা’আদা, যা রাজধানী সানা থেকে প্রায় ৫৫০ কিমি দূরে অবস্থিত। মূলত সেই শহরেই এই ‘হুছি’ দের বসবাস ! যারা মূলত রাফেজি বা শিয়া ফেরকার একটি সম্প্রদায় । তাঁরা শিয়াদের মাঝে যে দল উপদল আছে তাঁদের মধ্যে তাঁরা ‘ইছনা আশারা’ মানে ১২ জন মাসুম ইমামের অনুসারী ফিরকার অনুসারী, এই পন্থী শিয়াদের- ই শক্ত অবস্থান হল ইরানের রাষ্ট্র ক্ষমতায়।

এই ‘হুছি’ গ্রুপটি মূলত শিয়াদের বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ খমেনির এবং লেবাননী শিয়াদের ‘’ হিজবুল্লাহ’’ দলটির দ্বারা প্রভাবিত একটি দল। আর শিয়াদের যত্তগুলি দল বা সংগঠন আছে তাঁদের মূল টার্গেট হল তাঁরা যে দেশে বসবাস করে সেইসব দেশের সুন্নি তথা আহলে সুন্নাহর শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ রচনা করা আর শক্তি সামর্থ্য থাকলে তাঁদের পতন ঘটানো ! যেহেতু তাঁরা এমন আকিদায় বিশ্বাস করে যে, তাঁদের ১২ জন ইমামের সর্বশেষ ইমামের আসার সময় হয়ে গেছে, অচিরেই তিনি ইরানের কোন এক জায়গা (গর্ত) থেকে বের হয়ে আসবেন, আর এসে যখন তিনি ইমামত তথা শিয়াদের খেলাফত কায়েম করবেন আর তখন সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্র গুলাতে আহলে সুন্নাহর অনুসারী তথা সুন্নিদের কে কচুকাটার মধ্য দিয়ে বিদায় করে তাঁরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন, আর তখন মাক্কাহ মাদিনা থাকবে তাঁদের অধীনে ! তাই তাঁরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ইমামের আসার পথ পরিষ্কার করতেই তাঁদের এই ষড়যন্ত্র সুন্নি রাষ্ট্র গুলোর সাথে। এই হল মোটামুটি তাঁদের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক আকিদা। এবার আসা যাক, ‘হুছি’ দের ব্যাপারে। তাঁরা উত্তর ইয়েমেনের ছা’আদা নামক শহরে ১৯৯১ সালে একটি সংগঠন তৈরি করেন, আর নাম দেন ‘’ তাঞ্জিমুল শাবাব আল মুমিনিন’’ । আর তখন থেকেই তাঁরা ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে। আর তাঁদের সাথে যেহেতু ইরানী “ইছনা আশারা’’ শিয়াদের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক আকিদার মিল রয়েছে তাই ইরানের ওপর অত্যাবশ্যক হয়ে যায় তাঁদের সহযোগিতা করার ! আর এভাবেই তাঁরা ছোটখাটো বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। সর্বশেষ তাঁরা ইয়েমেনের দাম্মাজ শহর থেকে আহলে সুন্নাহর অনুসারীদের সাথে দীর্ঘ দিন যুদ্ধ করে তাঁদের হটিয়ে দেয়, আর সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়, প্রখ্যাত সালাফি আলেম শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল ওয়াদি (রাহ) এর হাতে গড়া ‘দারুল হাদিছ’ মাদ্রাসাটি। আর এর সাথে সাথে তাঁরা এগুতে এগুতে রাজধানী সানাতে পর্যন্ত দখলদারিত্ব কায়েম করে ! তারপর তাঁরা ইয়েমেনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ‘আদেন’ দখল করে ! তারপর তাঁরা সৌদি আরাবিয়ার দিকে এগুতে থাকে, আর তাঁদের মূল টার্গেট হল মাক্কাহ দখল করা ! যেহেতু ইরান ইতিমধ্যে তাঁদের ম্যাপ করে ফেলেছে তাঁরা সৌদি আরাবিয়ার জেদ্দা শহরের উপর দিয়ে ইরাক এবং ইরানের সংযোগ সড়ক তৈরি করবে আর বাগদাদ হবে ইরানের আধ্যাত্মিক রাজধানী !

আর, এই যখন অবস্থা তখন ইয়েমেনের বর্তমান সরকার প্রধান ইবনে আব্দুর রাব্বি মান্সুর আল হাদি তিনি পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে আরব রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে বিশেষ করে সৌদি আরাবের কাছে পত্র লিখেন যে, ইয়েমেনের আহলে সুন্নাহ তথা সুন্নিদের কে এই শিয়া হুছি সন্ত্রাসীদের কবল থেকে উদ্ধার করতে। আর তিনি প্রেসিডেন্ট প্রসাদ ছেড়ে চলে যান…

এরই পেক্ষিতে সৌদি আরবের বাদশা খাদেমুল হারামাইন পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম কিং সালমান বিন আব্দুল আযিয (হাফেঃ) আশেপাশের আরবরাষ্ট্র গুলো এবং সুদান ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেনের সানাতে ‘হুছি’দের সামরিক স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালান। মূলত এই হুছি শিয়াদের বছরের পর বছর ইরান তাঁর অর্থ , অস্র এবং তাঁর সেনাবাহিনীর কমান্ডার দের কে দিয়ে সাহায্য করে আসছে আরবের সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্র প্রধানদের কে উচ্ছেদের জন্য। গত সাপ্তাহেও ইরানের পতাকাবাহী যুদ্ধজাহাজে করে হাজার হাজার অস্র এসেছে ইয়েমেনের হুছি শিয়া সন্ত্রাসীদের নিকটে।

আলহামদুলিল্লাহ্‌ ! কালক্ষেপণ না করে সৌদি কিং সালমান বিন আব্দুল আযিয (হাফেঃ) যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, এতে করে শায়তানের দোসর ইরানের কূটচাল ব্যর্থ করে দিয়েছেন, ফালিল্লাহিল হামদ। আল্লাহপাক যেন এই রাফেযি-শিয়াদের আহলে সুন্নাহর বিরুদ্ধে করা সমস্ত কূটচাল কে নস্যাৎ করে দিয়ে আহলে সুন্নার বিজয় দান করেন, আমীন।

– তালহা খালেদ


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

৪টি মন্তব্য

  1. হ্যাঁ আমি জানি তাদের আকিদা তাদের বিশ্বাস কিন্তু এরপরও আমি তাদেরকে অমুসলিম বলতে পারিনা কেননা এ অধিকার আল্লাহ ও তার রাসুল(সঃ) দেয়নি আমাকে। এটাও ঠিক যে তাদের মধ্যে প্রচুর ভ্রান্ত আকিদা আছে কিন্তু তাই বলে তারা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়নি কেননা তাদের মধ্যে ঈমানদার আর মুমিন ব্যক্তি যে একেবারেই নেই একথা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আর আপনি এটা কেন বুঝতেছেন না যে শিয়া ও সুন্নি বিভেদটা সম্পুর্ন ইহুদিদের চক্রান্তের ফল এবং বর্তমানে এ এঝেন্ডাকে কাজে লাগিয়ে ইহুদি ও খ্রিস্টান রা সারা বিশ্বে মুসলমানদের পদাবনত করে রেখেছে! আল্লাহ তাদের(শিয়া) হেদায়েত দান করুন, আমীন

  2. কিন্তু তারপরেও তারা ও আমরা উভয়ই কালেমা শাহাদাত পড়া মুসলমান, এবং হ্যাঁ এটাই সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় বলে আমি মনে করি। কেননা আমরা চাই মুসলিম জাহানে কে আহলে হাদিস, কে সুন্নাত ওয়াল জামাত, কে সালাফী, কে শিয়া কে হানাফী, (কাদিয়ানিরা ব্যতিত) এটা আল্লাহর কাছে বিবেচ্য নয়, বরং আল্লাহর কাছে বিবেচ্য হল কে তাকে(আল্লাহ) ও তার রাসুল(সাঃ) কে সহিহ ভাবে আকঁড়ে ধরে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। আশা করি আমি আমার কথা বুঝাতে পেরেছি। ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

আরও দেখুন
Close
Back to top button