হজ্জ ও ওমরাহ

হজ্জ করতে এসে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন দুই মুসলিম বোন

(১) ফাতিমা আল মাহি নামে সুদানের এক বৃদ্ধা মহিলা এবার হজ্জ করতে এসে মসজিদে নববীতে তার হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা মহিলা জানান, তিনি ৮ বছর পূর্বে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। এরপর তিনি বার বার অপারেশন করেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাননি। তিনি এ বছর হজ্জ করতে এসে মসজিদে নববীতে বসে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য দো‘আ করছিলেন। হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে, তার চোখের কালো পর্দা সরে যাচ্ছে। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তিনি বলেন, আমি চিকিৎসকদের উপর আশা ছেড়ে দিয়ে শুধু আল্লাহর কাছে দো‘আ করতাম এবং সেই দো‘আ অবশেষে মসজিদে নববীতে এসে কবুল হয়েছে।

(২) চোখের আলো নিভে গিয়েছিল তার দেড় বছর আগে। আল্লাহর নিকটে প্রতিদিন তিনি আকুতি জানাতেন যে, আল্লাহ যেন তার চোখের হারানো জ্যোতি ফিরিয়ে দেন। এ অবস্থায় এবার তিনি হজ্জ পালন করতে আসেন। আরাফার ময়দানে অবস্থানকালে ঘটে যায় মা‘বুদের অসীম কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান তিনি। প্রাণভরে দেখেছেন আল্লাহর ঘর কাবা শরীফ, মদীনায় প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর পবিত্র রওযা মুবারক সহ ইসলামের অন্যান্য পবিত্র স্থান। এ ঘটনা তিউনিসিয়ার ৭০ বছর বয়স্কা মহিলা হাজী নাফীসা আল-কুরমাজির। দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মা নাফীসা অন্ধ অবস্থায় এবার হজ্জ করতে আসেন। দেড় বছর আগে তার এক কঠিন স্ট্রোকে চোখের দৃষ্টি লোপ পায়। চিকিৎসকরা জানান যে, স্ট্রোক হওয়ায় এবং বয়সের কারণে তিনি আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন না। তবে নাফীসা বলেন, আল্লাহর উপর থেকে আমি বিশ্বাস হারাইনি। আমি সব সময় তাঁর কাছে প্রার্থনা করতাম তিনি যেন আমার চোখের আলো ফিরিয়ে দেন।

হাজী কুরমাজি বলেন, এর মধ্যেই আমি হজ্জ পালনের সিদ্ধান্ত নেই। অতঃপর আরাফার ময়দানে এসে আমি দো‘আর পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিই। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, আল্ল­াহ আমাকে নিরাশ করবেন না। দো‘আ পাঠ করতে করতে হঠাৎ আমি চোখে দেখতে শুরু করি। বুঝতে পারি, মহান করুণাময় প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে দিয়েছেন আমার দৃষ্টিশক্তি।  আনন্দে কাঁদতে থাকি আমি। অন্য হজ্জ পালনকারীরা আমার কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর আল্ল­াহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে আল্লাহু আকবার তাকবীর দিতে থাকেন। তিনি বলেন, তিউনিসিয়া থেকে হজ্জে আসার সময় আমার স্বপ্ন ছিল পবিত্র স্থানগুলোসহ মক্কা-মদীনা শরীফ দেখার। মহান আল্লাহর জন্য হাযারো শুকরিয়া যে, আমার সে স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। কারো সাহায্য ছাড়াই আমি এখন যে কোনো জায়গায় যেতে পারি। আরাফার ময়দানে লক্ষ লক্ষ হাজীর সমাবেশ দেখে হাজী কুরমাজি আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়েন। এত মানুষের সমাগম দীর্ঘ জীবনে কখনো দেখেননি তিনি। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্বাপেক্ষা পবিত্র স্থান স্বচক্ষে দেখার জন্যই আল্লাহ পাক আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

আরও দেখুন:  আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ

[আল্লাহ তা‘আলা অসীম দয়ালু ও করুণাময় কৃপানিধান। তিনি সকল শক্তির আধার। তিনি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দার আবেদন পূর্ণ করে থাকেন। তাঁর নিকটে একনিষ্ঠ মনে ও বিনীতচিত্তে কোন কিছুর প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। তাই তাঁর অসীম কুদরতের লীলাখেলা বিশ্বের সম্মুখে তিনি বিভিন্ন সময়ে দেখিয়ে থাকেন। এ রকমই ঘঠনা ঘটেছে এবার হজ্জ করতে এসে দুই মুসলিমের। যারা তাদের অন্ধত্ব ও দুঃখ-যাতনার জীবন পার করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহে। ফালিল্লা-হিল হামদ।]

– তাওহীদের ডাক

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button