সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

গভীর চক্রান্তে পোশাক খাত

গভীর চক্রান্তে পোশাক খাত : বিদেশী ক্রেতারা পোষাকের দাম বাড়াবেনা। দেশী মালিকদের উপর যত চাপ

শ্রমিক অসন্তোষের কলকাঠি নাড়ছে প্রতিবেশী দেশ

চতুর্মুখী চক্রান্তে গভীর সংকটে পড়েছে দেশের প্রধান শিল্প তৈরী পোশাক খাত। পরিকল্পিতভাবে তৈরী করা হচ্ছে শ্রমিক অসন্তোষ। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে একটি দেশীয় চিহ্নিত গোষ্ঠীকে। নেতৃত্বে আছে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। শ্রমিক অসন্তোষের কলকাঠি নাড়ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। লক্ষ্য দেশের বিশ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানী খাতকে ধ্বংস করা। কারণ চীন হাইটেক শিল্পের দিকে ঝোঁকায় পোশাক শিল্পে ওই দেশটির এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ধ্বংস করতে পারলে বিশ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অর্ডারই চলে যাবে ওই দেশটির হাতে। এ লক্ষ্যে এবার চতুর্মুখী হামলা শুরু করেছে দেশের এই শিল্প খাতটির ওপর। একদিকে দেশীয় এজেন্ট এনজিওগুলোকে দিয়ে উস্কে দিচ্ছে শ্রমিকদের। সাথে সাথে শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের। পাশাপাশি তীব্র আক্রমণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে। আর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে তাদের এক বিশাল এজেন্ট বাহিনী কর্মরত রয়েছেন।

‘এনএসআই’ শিল্প বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প দখলে নিতে ভারতের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে এই শিল্পকে রুগ্ন বানানো হচ্ছে। আর রুগ্ন শিল্পগুলোর মালিকানা ভারতীয়রা নিয়ে নিচ্ছে। দক্ষ টেকনিশিয়ানের নামে ইতিমধ্যেই আড়াই হাযার ভারতীয়কে দেশের পোশাক খাতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এরা কারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। এছাড়া এই খাতের অর্ধেকের বেশী বাইং হাউজের মালিক ভারতীয় নাগরিক। গার্মেন্ট সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন এ তথ্য স্বীকার করে বিকেএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ হাতেম জানান, বিভিন্ন সংকটের কারণে যে শিল্পগুলো রুগ্ন হয়ে পড়েছে তার বেশির ভাগ মালিকানা ভারতীয় নাগরিকরা নিয়ে নিয়েছেন।

আরও দেখুন:  নারীদের পিরিয়ড/মাসিক ও কিছু উন্মাদের প্রলাপ

এদিকে এই খাত ধ্বংসে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খানের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ থেকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন ন্যূনতম ৮ হাযার টাকা করার দাবী জানানোর পর থেকে শুরু হয় চলমান শ্রমিক অসন্তোষ। সেখানে তিনি বলেন, জীবন দেব তবু শ্রমিকদের দাবীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। মালিকদের উদ্দেশ্যে শাহজাহান খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতনের দাবী মেনে নিন। তা না হলে একটি মাছিও কারখানায় ঢুকবে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক মিডিয়াকেও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে দেশের পোশাক খাতের বিরুদ্ধে। তারা প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় লিখছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিক শোষণ নিয়ে। নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসির মত মিডিয়াও এর পক্ষে বক্তব্য পেশ করছে। অথচ এরা একবারও বলছে না যে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বাড়তি দামে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতে হবে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা প্রতিটি পোশাক ৪শ থেকে ৫শ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করে। বাংলাদেশ থেকে একটি পোশাক ১ ডলারে কিনলে সেটি ইউরোপ-আমেরিকার দোকানে বিক্রি হয় ৪শ থেকে ৫শ ডলারে। বিপুল অঙ্কের লাভ করলেও এদের বাড়তি দাম দেয়ার জন্য চাপ না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকদের ওপর চাপ দিচ্ছে। বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত ধ্বংসের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা এসব কাজ করছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।

[সরকারই যখন প্রতিবেশী দেশের প্রকাশ্য দালালীতে নেমেছে, তখন এদের ধ্বংস কামনা ছাড়া আর কি করার আছে? আল্লাহ কখনোই যালেমদের বরদাশত করবেন না। আমরা সরকারের শুভ বুদ্ধি কামনা করি (স.স.)]

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button