বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

চার্লস ডারউইনের “বিবর্তনবাদ” কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

আমাদের দেশের স্কুলের বই গুলোতে এখনও আদিম মানব, গুহা মানব এবং মানুষের উৎপত্তিতে ডারউইন এর দেয়া থিয়োরী পড়ানো হয়। অথচ ডারউইন এর দেয়া থিয়োরী অনেক আগেই বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এখনও আমাদের দেশ সহ অনেক দেশে ডারউইনের থিয়োরীকে সত্বঃসিদ্ধ বলে ধরে নিয়ে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়ানো হয়।

আসুন ডারউইনের থিয়োরীকে বিজ্ঞানের আলোকে একটু ব্যাবচ্ছেদ করি…..

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ

মানুষের আদি উৎস কি?
Science এর বই গুলোতে মানুষের আদি উৎসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডারউইনের বিবর্তনবাদের theory উপস্থাপিত হয়েছে। চার্লস ডারউইন তার The Origin of Species (১৮৫৯) বইয়ে প্রানী জগতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই theory এর অবতারণা করেন। এই তত্ব মতে মানুষের উৎপত্তি হয়েছে বানর জাতীয় মানুষ (Ape) থেকে, পর্যায়ক্রমে মিলিয়ন বছরের মাধ্যমে।

আবার ধর্মতত্ব অনুসারে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই গঠন ও আকৃতি দিয়ে যে গঠন ও আকৃতি এখন দেখা যায় এবং যা এখন পর্যন্ত অবিক্রীত আছে।

এখানে শুধু মানুষ নয়, ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী পৃথিবীর সকল প্রানীই এবং গাছপালা সৃষ্টি হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে, পর্যায়ক্রমে মিলিয়ন বছরের মাধ্যমে।

আমি এখানে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে justify করব।

এই আলোচনার পর আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোন তত্ত্ব আপনারা গ্রহণ করবেন? ডারউইন তত্ব? না ধর্ম তত্ত্ব।

(প্রত্যেকটি ছবির ক্যাপসন ছবির নিচে বোল্ড অক্ষরে দেয়া হয়েছে)

 

ডারউইন তত্তের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

যদিও প্রাচীন গ্রীসের রুপকথায় এটি প্রচলিত ছিলো, তবুও এই তত্ত্ব উনিশ শতকে বিজ্ঞান জগতের সামনে আনা হয়। বিবর্তন তত্ত্ব সর্বপ্রথম ফ্রেন্স জীববিজ্ঞানী ল্যামার্ক তার Zoological Philosophy (1809) নামক গ্রন্থে তুলে ধরেন। লামার্ক ভেবেছিলেন যে, প্রতিটি জীবের মধ্যেই একটি জীবনী শক্তি কাজ করে যেটি তাদেরকে জটিল গঠনের দিকে বিবর্তনের জন্য চালিত করে। তিনি এটাও ভেবেছিলেন যে, জীবেরা তাদের জীবনকালে অর্জিত গুণাবলি তাদের বংশধরে প্রবাহিত করতে পারে।

বিজ্ঞানী লামার্ক

এ ধরনের যুক্তি পেশ করার ক্ষেত্রে তিনি প্রস্তাবনা করেছিলেন যে জিরাফের লম্বা ঘাড় বিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে তখন যখন তাদের পূর্ববর্তী কোন খাটো ঘাড়ের প্রজাতি ঘাসে খাবার খোঁজার পরিবর্তে গাছের পাতা খুঁজতে থাকে। কিন্তু লামার্কের এই বিবর্তনবাদী মডেল বংশানুক্রমিকতার জিনতত্ত্বীয় মডেল দ্বারা বাতিল প্রমাণিত হয়েছে।

এখানে একটা অপ্রাসঙ্গিক কৌতুক মনে পড়ে গেল। শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী কোনটি। ছাত্র তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল – জেব্রা। শিক্ষক আবার জিজ্ঞাসা করলেন কেন? ছাত্রটি আবার বলল স্যার পৃথিবীতে প্রথমে তো সব সাদা কালো ছিলো। জেব্রা তো এখনও সাদা কালো। তাই এটাই সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী।

মেন্ডেল, যার আবিষ্কারের মাধ্যমে natural selection এর ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে DNA এর গঠন আবিষ্কারের ফলে প্রকাশিত হয় যে, জীবিত বস্তুর কোষের নিউক্লিয়াস বিশেষ ধরণের জৈবিক সঙ্কেত ধারণ করে এবং এ তথ্য অন্য কোন অর্জিত গুণ দ্বারা পরিবর্তনযোগ্য নয়। অন্য কথায় জিরাফের জীবনকালে জিরাফ যদি গাছের উপরের শাখাগুলোর দিকে ঘাড় লম্বা করতে গিয়ে তার ঘাড়কে কিছুটা লম্বা করে ফেলতে সক্ষম হয়ও তবুও তা তার বংশধরে পৌছাবে না। সংক্ষেপে লামার্কের তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার দ্বারা বাতিল হয়ে গেছে এবং তা একটি ত্রুটিপুর্ণ ধারণা হিসেবে ইতিহাসে রয়ে গেছে।

ওয়াটসন ও ক্রিক, যারা DNA এর ডাবল হেলিক্স আবিষ্কার করেন।

এর পরে আসেন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন। তার দেয়া তত্ত্বটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় এবং এই তত্ত্বটি Darwinism বা ডারউইনের বিবর্তনবাদ নামে পরিচিত।

ডারউইনিজমের জম্ম:

ডারউইন ১৮৩১ সালে পাঁচ বছরের জন্য সমুদ্র ভ্রমণে বের হন। এই ভ্রমণে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রচন্ড প্রাভাবিত হন, বিশেষ করে গালাপাগোস দ্বীপের Finch পাখির ঠোঁট দেখে। এই পাখি গুলোর বিভিন্ন রকমের ঠোঁট দেখে তিনি মনে করেন যে পরিবেশের সাথে অভিযোজনের ফলাফল।

Finch পাখির ঠোঁট

ডারউইন এগুলোকে গালাপাগোস দীপপুঞ্জে দেখেছিলেন এবং তার তত্ত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরেছিলেন। আসলে, পাখির ঠোটের এ বিভিন্নতার কারণ হল Genetic Variation কোন Macroevolution নয়।

চার্লস ডারউইন

তার এই ভ্রমণ শেষে তিনি লন্ডনের একটি পশু মার্কেট পরিদর্শন করেন। তিনি এখানে দেখতে পান যে breeders রা সংকরয়নের মাধ্যমে নতুন চরিত্রের গরু উদ্ভাবন করছে।

এই সব অভিজ্ঞতা লাভের পর তিনি ১৮৫৯ সালে তার একটি বই প্রকাশ করেন The Origin of Species নামে। এই বইয়ে তিনি তার মতবাদকে তুলে ধরেন। তিনি এখানে বলেন- সকল প্রজাতি একটি কমন পুর্বপুরুষ থেকে এসেছে। (অবশ্য এই কমন পূর্বপুরুষ্ টি কোথা থেকে এসেছে তার ব্যাখ্যা তিনি দেননি)।

চার্লস ডারউইনের অরিজিন অফ স্পেসিস

প্রাণের উৎপত্তি:

ডারউইন তার বইয়ে কোথাও প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে কথা বলেননি। তখনকার আমলের সরল মাইক্রোস্কোপ দিয়ে জীব কোষের গঠন সম্পর্কে খুব কমই জানা গিয়েছিল। তখন জীব কোষের গঠনকে খুবই সরল মনে করা হত। তাই তার মতবাদ- জড় বস্তু থেকে জীবের উৎপত্তি তখন খুবই জনপ্রিয়তা পায়।

তখন মনে করা হত গম থেকে ইদুরের উৎপত্তি। তারা এটা প্রমাণ করার জন্য গবেষনাগারে একটুকরা কম্বলের উপর কয়েক মুট গম ছড়িয়ে দেয়া হল। এবং প্রত্যাশা করা হল যে- এখান থেকে রহস্যজনক ভাবে ইদুরের সৃষ্টি হবে। গম পচা শুরু হলে সেখানে কত গুলো কীট দেখা যায়। এই কিট গুলো আলাদা করে নয়ে বলা হয় যে গমের মত জর পদার্থ থেকে প্রায় একই আকৃতির কীট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন পর আণুবীক্ষণিক গবেষনা থেকে জানা যায় যে এই কিত গুলো এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি। বরং গমের গায়ে পুর্ব থেকে এই লার্ভা লেগে ছিল।

ডারউইনের বই বের হওয়ার পাঁচ বছর পর বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণের ভিত্তিতে ডারউইনের বিবর্তনবাদের অসারতা প্রমান করেন। তিনি বলেন – কোন বস্তুই নিজে নিজে সংঘটিত হতে পারে না।

জীবন প্রানহীণ বস্ত থেকে উৎপত্তি হতে পারে- এই ভাবনাকে লুই পাস্তুর মিথ্যা প্রমাণ করেন।

মিলারের experiment

বিজ্ঞানী মিলার (১৯৫৩ সালে) এই পরীক্ষায় গ্যাস reaction এর মাধ্যমে কিছু organic molecule সংগ্রহ করেন যেগুলো প্রাচীন জলবায়ুতে অবস্থান করত বলে মনে করা হয়। সে সময় এই পরীক্ষাকে বিবর্তনবাদের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বলে মনে করা হত। পরে এটাও ভুল প্রমাণিত হয়। কারণ গবেষনায় দেখা গেছে মিলার তার পরীক্ষায় যে গ্যাস use করেছেন তা তখনকার জলবায়ুতে অবস্থানকারী গ্যাস থেকে যথেষ্ট ভিন্ন।

ডারউইনবাদ বা বিবর্তনবাদ কি?

বিবর্তনবাদকে বুঝতে হলে আমাদের যেটা জানতে হবে- বিজ্ঞানী ডারউইনের The origin of Species – এ বিবর্তনবাদ সম্পর্কে কি লিখেছেন?

তিনি যেটা লিখেছেন সেটি হল, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজাতির উৎপত্তি বা অস্তিত্বের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যোগ্যতমের উর্ধতন।

তার তত্ত্বের গুরুত্বপুর্ণ উপাদানগুলো হলো-

১. দৈবাৎ স্বয়ংক্রিয় ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবের উৎপত্তি।

২. প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং

৩. বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

আরেকটু details এ আসলে,

প্রথমত: বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অনুসারে, জীবন্ত বস্তু অস্তিত্বে এসেছে দৈবাৎ কাকতালীয়ভাবে এবং পরবর্তিতে উন্নত হয়েছে আরও কিছু কাকতালীয় ঘটনার প্রভাবে। প্রায় ৩৮ বিলিয়ন বছর আগে, যখন পৃথিবীতে কোন জীবন্ত বস্তুর অস্তিত্ব ছিল না, তখন প্রথম সরল এককোষী জীবের উদ্ভব হয়। সময়ের পরিক্রমায় আরও জটিল এককোষী এবং বহুকোষী জীব পৃথিবীতে আসে। অন্য কথায় ডারউইনের মতবাদ অনুসারে প্রাকৃতিক শক্তি সরল প্রাণহীন উপাদানকে অত্যন্ত ক্ষুতহীন পরিকল্পনাতে পরিণত করেছে।

দ্বিতীয়ত: ডারউইনবাদের মুলে ছিলো প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনা। প্রাকৃতিক নির্বাচন ধারনাটি হল- প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার জন্য একটি সার্বক্ষণিক সংগ্রাম বিদ্যমান। এটা সে সকল জীবকে অগ্রাধিকার দেয় যাদের বৈশিস্ট্যসমুহ তাদেরকে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এই সংগ্রামের শেষে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাকৃতিক অবস্থার সাথে সবচেয়ে বেশি খাপ খাওয়ানো প্রজাতিটি বেঁচে থাকবে।

যে সকল হরিণ সবচেয়ে বেশি দ্রুতগামী তারাই শিকারি পশুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। অবশেষে হরিণের পালটিতে শুধু দ্রুতগামী হরিণগুলোই টিকে থাকবে।

এখানে পাঠকদের বলে রাখি- যত সময় ধরে এই প্রক্রিয়াটি চলুক না কেন এটা সেই হরিণ গুলোকে অন্য প্রজাতিতে পরিণত করবে না। দুর্বল remove হবে, শক্তীশালী জয়ী হবে কিন্তু genetic ডাটাতে কোন change হবেনা। তাই প্রজাতিতে কোন পরিবর্তন আসবে না।

হরিণের উদাহরণটি সকল প্রজাতির ক্ষেত্রে একই। প্রাকৃতিক নির্বাচন শুধুমাত্র যারা দুর্বল তাদেরকে প্রকৃতি থেকে দূরীভূত করে। কিন্তু নতুন কোন প্রজাতি কিংবা কোন genetic change আনে না। ডারউইন এই সত্য টাকে স্বীকার করেছিলেন এই বলে- প্রাকৃতিক নির্বাচন কিছুই করতে পারে না যদি অগ্রাধিকার যোগ্য স্বাতন্ত্র পার্থক্য ও বৈচিত্র না ঘটে।

তৃতীয়ত: প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ব অনুযায়ী প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার জন্য একটি ভায়ানক সংগ্রাম চলছে এবং প্রতিটি জীব শুধু নিজেকে নিয়েই চিন্তা করে। ডারউইন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ থমাস ম্যালথাস এর মত দ্বারা প্রাভাবিত হয়েছিলেন। তার মত ছিলো- জনসংখ্যা এবং সেই সাথে খাদ্যের প্রয়োজন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, কিন্তু খাদ্যের ভান্ডার বাড়ছে গানিতিক হারে। এর ফলে জনসংখ্যার আকৃতি অপরিহার্যভাবে প্রাকৃতিক নিয়ামক যেমন ক্ষুধা ও রোগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ডারউইন মানবজাতিতে ‘বাচার জন্য সংগ্রাম’ সংক্রান্ত ম্যালথাসের দৃষ্টিভঙ্গিকে বড় আকারে একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি হিসেবে গন্য করেন এবং বলেন যে, ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ এ লড়াইয়ের ফল।

যদিও পরবর্তীতে অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয় যে, প্রকৃতিতে জীবনের জন্য সে রকম কোন লড়াই সংঘটিত হচ্ছে না যেরুপ ডারউইন স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নিয়েছিলেন। ১৯৬০ এবং ১৯৭০ সালে একজন ব্রিটিশ প্রাণিবিজ্ঞানী ভি.সি. উইনে আ্যডওয়ার্ডস এ উপসংহার টানেন যে, জীবজগৎ একটি কৌতুহলোদ্দীপক পন্থায় তাদের জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রানীরা তাদের সংখ্যা কোনো প্রচন্ড প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নয় বরং প্রজনন কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে করে।

প্রকৃতপক্ষে ডারউইনের বিবর্তনবাদ নতুন কিছু নয়। বহু প্রাচীন কালেই এ তত্বের অবতারণা করা হয়েছিল।

বিবর্তনবাদের ধারণাটি প্রাচীন গ্রিসের কতিপয় নাস্তিক বহুশ্বেরবাদী দার্শনিক প্রথম প্রস্তাব করেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সে সময়ের বিজ্ঞানীরা এমন একজন স্রষ্টায় বিশ্বাস করত, যিনি সমগ্র মহাবিশ্বের স্রস্টা, ফলে এ ধারণা টিকতে পারেনি। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর বস্তুবাদী চিন্তাধারার অগ্রগতির সাথে সাথে বিবির্তনবাদী চিন্তা পুনর্জীবন লাভ করে।

গ্রিক মাইলেশিয়ান দার্শনিকরা, যাদের কিনা পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা কিংবা জীববিদ্যার কোন জ্ঞানই ছিল না, তারাই ডারুইনবাদী চিন্তাধারার উৎস। থেলিস, অ্যানাক্সিম্যানডার, এম্পোডোক্লেসদের মত দার্শনিকদের একটি মত ছিল জীবন্ত বস্ত প্রাণহীন বস্তু থেকে তথা বাতাস, আগুন এবং পানির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এ তত্ব মতে প্রথম জীবন্ত জিনিসটিও পানি থেকে হঠাৎ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরী হয় এবং পরে কিছু জীব পানি থেকে মাটিতে উঠে এসে বসবাস করতে শুরু করে।

আরও দেখুন:  বিবর্তনবাদীদের প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন

মাইলেশিয়ান গ্রিক দার্শনিক থেলিস প্রথম স্বয়ংক্রিয় উৎপত্তিসংক্রান্ত ধারণার মত প্রকাশ করেন। অ্যানাক্সিম্যানডার তার সময়কালের ঐতিহ্যগত ধারণা যে, জীবন কিছু সূর্যরশ্মির সাহায্যে ‘Pre Biotic Soap’ থেকে উৎপন্ন হয়, তা উপস্থাপন করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন প্রথম প্রানীটির উদ্ভব হয়েছে সূর্যরশ্মির দ্বারা বাস্পীভুত সামুদ্রিক আঠালো কাদা মাটি থেকে।

চার্লস ডারউইনের ধারণাও উক্ত বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডারউইনের প্রজাতির মধ্যে অস্তিত্বের লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নির্বাচন ধারণাটির মূল নিহিত রয়েছে গ্রিক দর্শনে। গ্রিক দার্শনিক হেরাক্লিটাসের থিসিস অনুযায়ী সার্বক্ষণিক লড়াই সংঘটিত হচ্ছে।

আবার গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বিবর্তনবাদী তত্বের প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখেন, বিবর্তনবাদ তত্ব যেই বস্তবাদী চিন্তাধারা দ্বারা প্রাভাবিত তিনি তার ভিত রচনা করেন। তার মতে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ছোট ছোট বস্তকণা দ্বারা গঠিত এবং বস্তছাড়া অন্য কিছুর অস্তিত্ব নেই। পরমাণু সবসময়ই বিরাজমান ছিল যা সৃষ্টি ও ধ্বংসহীন।

The Great Chain of Being:

গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল ও ডারউইনবাদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরিস্টটলের মতে জীব প্রজাতিসমূহকে সরল থেকে জটিলের দিকে একটি হাইয়ারারকিতে সাজানো যায় এবং তাদেরকে মইয়ের মত একটি সরল রেখায় আনা যায়। তিনি এ তত্বটিকে বলেন Scala naturae. এরিস্টটলের এ ধারণা অষ্টাদশ শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের চিন্তাচেতনাকে গভীরভাবে প্রাভাবিত করে এবং পরে তা ‘The Great Chain of Being’ – এ বিশ্বাসের উৎসে পরিণত হয়, পরবর্তিতে যেটা বিবর্তনবাদ তত্বে রূপান্তরিত হয়।

The Great Chain of Being একটি দার্শনিক ধারণা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ বিশ্বাস অনুসারে ছোট ছোট জীব ধাপে ধাপে বড় জীবে পরিণত হয়। এই Chain এ প্রতিটি জীবেরই একটি অবস্থান আছে। এ ধারণা অনুসারে পাথর, ধাতু, পানি এবং বাতাস ক্রমে কোন প্রকার বাধা ছাড়াই জীবন্ত বস্তুতে পরিণত হয়, তা থেকে হয় প্রানী ও প্রানী থেকে হয় মানবজাতি। এতদিন ধরে এ বিশ্বাসটি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার কারণটি বৈজ্ঞানিক নয়, বরং আদর্শিক।

The Great Chain of Being এর ধারণাটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে রেনেসাঁ পর্যন্ত বেশ বিখ্যাত ছিল এবং সে যুগের বস্তুবাদের ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছিল। ফরাসি বিবর্তনবাদী কমটে ডি বুফন অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্যতম বহুল পরিচিত বিজ্ঞানী ছিলেন। পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় যাবৎ তিনি প্যারিসের রায়াল বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক ছিলেন।

ডারউইন তার তত্বের একটি বড় অংশ বুফনের কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেন। বিজ্ঞানী ডারউইনের তত্ব উপস্থাপন করতে যে সকল উপাদান ব্যবহার করা দরকার ছিল তা বুফনের ৪৪ খন্ডে পুস্তক Historie Naturelle- তে পাওয়া যায়। ডি বুফন এবং লেমার্ক দুজনেরই বিবর্তনসংক্রান্ত তত্বের ভিত্তি ছিল The Great Chain of Being এর ধারণা।

Tree of Life:

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, জীব প্রজাতিকে যদি সরল থেকে জটিলের দিকে সাজানো যায় তাহলে এ সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে জীব প্রজাতি ক্রমাগত বিবর্তনের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে।

Earnest Heckel অঙ্কিত Tree of Life

হ্যা, এ সম্পর্কে বিবর্তনবাদের কট্টর সমর্থক ও প্রচারক Earnest Hackel এ সংক্রান্ত একটি স্কেচও করেন যা Tree of Life নামে পরিচিত।

Tree of Life এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে প্রথমে আপনাদের জানতে হবে-

সমগ্র জীবজগতকে তাদের বৈশিষ্ঠের ওপর ভিত্তি করে কতগুলো ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • জগৎ (Kingdom)
  • পর্ব ( Phylum)
  • শ্রেনী ( Class)
  • বর্গ ( Order)
  • গোত্র (Family)
  • গণ ( Genus)
  • প্রজাতি (Species)

আমরা জানি সমগ্র জীবজৎকে মোটামুটি ৫ টি জগতে ভাগ করা যায়। এরা হলো প্রানিজগৎ, উদ্ভিদ জগৎ, ছত্রাক, প্রোটিস্টা এবং মনেরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ হলো প্রানিজগৎ।

প্রানিজগতের মধ্যে ৩৫ টির মত পর্ব রয়েছে। এর মধ্যে Protozoa, Nedophorra, Platehelminthes, Nematoda, Mollusca, Arthropoda, Chordata ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা পড়েছি ও জানি। বিভিন্ন পর্বের প্রানিদের বৈশিষ্ঠ সম্পুর্ন আলাদা এবং সতন্ত্র। আর প্রকৃতপক্ষে বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এই বিষয়গুলো আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যেমন, Chordata পর্বের Mammalia উপপর্বের দুটি প্রজাতি হলো বানর ও বেবুন। যদিও এরা দেখতে প্রায় একই রকম কিন্তু এদের মধ্যে সুস্পষ্ট এবং সতন্ত্র পার্থক্য বিদ্যমান।

এখন আপনাদের মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যদি প্রজাতিগুলোর মধ্যে বিবর্তন প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয়ে থাকে তাহলে দুটি কাছাকাছি প্রজাতির মধ্যে একটি অন্তরবর্তিকালীণ (transitional) প্রজাতি থাকার কথা। বিবর্তনবাদীরা যেমন বলে যে মাছ থেকে সরীসৃপ হয়েছে। সেক্ষেত্রে মাছ ও সরীসৃপ এর মধ্যবর্তী প্রজাতি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে এই প্রজাতি নেই।

প্রজাতির উৎপত্তি:

ডারউইন প্রানীর সংকরায়নের ওপর পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে, এ প্রক্রিয়ায় অধিক উৎপাদনশীল প্রানী যেমন অধিক উৎপাদনশীল গরু উৎপন্ন হচ্ছে। এটা দেখে তিনি বলেন এভাবে ক্রমাগত একটি নির্দিষ্ট পরিবেশের অবস্থার মধ্যে থাকতে থাকতেই কোন প্রজাতিতে পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে। কিন্তু যতই পরিবর্তন হোক গরু তো গরুই থাকছে। (গরু তো আর হাতি হচ্ছেনা)

বস্তুত জীবদেহের প্রতিটি কোষে ক্রো্মোসোম থাকে। এই ক্রো্মোসোমের সংখ্যা বিভিন্ন জীবে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। মানব দেহে থাকে ২৩ জোড়া। আর ক্রো্মোসোমই উত্তরাধিকারমূলক বৈশিষ্টের ধারক। প্রতিটি ক্রো্মোসোমে থাকে জীন। জিন, যা বংশগতির তথ্য ধারন করে। গ্রেগর জোহান মেন্ডেল এর আবিষ্কার ও পরবর্তিকালের গবেষনায় এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই জিনের মধ্যে কোন পরিবর্তন না হলে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্টের মধ্যে কোনটার পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।

সাইটোক্রম সি প্রোটিনের জটিল ত্রিমাত্রিক গঠন। ছোট ছোট বলগুলো এমাইনো এসিডকে বুঝাচ্ছে। এই অ্যমাইনো এসিডের ক্রম ও আপেক্ষিক অবস্থানে ন্যুনতম ব্যত্যয় ঘটলে পুরো প্রোটিনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। অথচ বিবর্তনবাদীদের ধারণা এ ধরণের অসংখ্য প্রোটিন নাকি কোন প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই দৈবাৎ দূর্ঘটনার মধ্য দিয়ে তৈরী হয়ে গেছে!

ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী প্রথম সৃষ্টি সময়কালে যে পরিবেশের চিন্তা করা হয় তাতে কোন জীবন্ত বস্তুর ন্যূনতম টিকে থাকার সম্ভাবনাই শূন্য। সুতরাং বিবর্তনবাদ অর্থহীন মতবাদ ছাড়া কিছুই নয়।

কোষের উৎপত্তি:

ডারউইনের সময়ে যে অনুন্নত Microscope ছিল তাতে প্রতিটি কোষকে এক একটি প্রকোষ্ঠ ছাড়া কিছুই মনেই হয়নি। কিন্তু ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের পর দেখা যায় একটি কোষ কত জটিল।

মাইকেল ভেন্টন তার Evolotion: A theory in Crisis বইয়ে লেখেন- আণবিক জীববিদ্যা জীবনের যে বাস্তবতা প্রকাশ করেছে সেতি অনুধাবন করতে হলে, আমাদের একটি কোষকে শতকোটি গুণ বড় করে দেখতে হবে যতক্ষণ না তা এত বড় করে দেখা যায় যে, তা ২০ কিলোমিটার ব্যাস ধারণ করে এবং গোটা লন্ডন বা নিউইয়র্ক শহরকে ঢেকে দেওয়ার মত বিশাল উড়োজাহাজের অনুরূপ আকৃতি লাভ করে। আমরা তখন যা দেখতে পাব তা হলো, একটি উপযুক্ত নকশা ও অসমন্তরাল জটিলতার বস্তু। উপরিতলে আমরা দেখতে পাব একটি বিশাল মহাকাশ যানে আলো বাতাস ঢোকার জন্য যে ছিদ্র যেগুলো অনবরত খুলছে এবং বন্ধ হচ্ছে এবং কোষের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ভেতরে ঢোকানোর ও বাইরে বের করে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আমরা যদি সে রন্ধ্রগুলোর এক্টিতে ঢুকতে চাইতাম তাহলে আমরা আমাদেরকে এক সর্বোৎকৃষ্ট প্রযুক্তি ও বিস্ময়কর জটিলতার জগতে দেখতে পেতাম- এতা কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য যে এলোপাতাড়ি কতগুলো প্রক্রিয়া এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করেছে যার ক্ষুদ্রতম উপাদানটিও এতটাই জটিল যা আমাদের নিজেদের সৃষ্টিশীল যোগ্যতার বাইরে? বরং এই জটিলতা এমন এক বাস্তবতা যা ‘দৈবাৎ সৃষ্টি’ হওয়ার মতবাদের বিপরীত তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করে এবং যেটি মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে তৈরী যে কোন জিনিসের জটিলতা কে ছাড়িয়ে যায়।

ইংলিশ জোতির্বিদ এবং গাণিতিক স্যার ফ্রেড হোয়েল একজন বিবর্তনবাদী হওয়া সত্ত্বেও বলেন যে, উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গঠন আকস্মাৎ তৈরী হয়ে যাওয়ার ঘটনাটা এর সাথে তুলনীয় যে, একটি টর্নেডো কোন লোহা- লক্করের স্তূপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান প্রস্তুত হয়ে গেল।

অন্যদিকে বিবর্তনবাদীরা একটি কো্ষ তো দূরে থাক বরং কোষের গাঠনিক উপাদান যেমন একটি প্রোটিনের উৎপত্তি পর্যন্ত ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম।

ফসিল রেকর্ড:

ডারউইন বলেন, প্রাকৃতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে উন্নত প্রজাতি বাছাই হয়ে গেলে বিবর্তন বন্ধ হয়ে যায় এবং এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী সে প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে জীবাশ্মের মধ্যে সেই মধ্যবর্তী প্রজাতির অসংখ্য সংখ্যায় পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা কোন মধ্যবর্তী প্রজাতির কোন ধরণের জীবাশ্ম পাইনি।

ফসিলের খোঁজে

ডারউইন এ সমস্যাটি নিজেও উপলব্ধি করেছিলেন। তার বইয়ের Difficulties of The Theory অধ্যায়ে তিনি নিজেই এ প্রশ্নটি করেছেন এভাবে- কিন্তু যদিও এ তত্ত্বানুসারে অসংখ্য মধ্যবর্তী রুপ (transitional form) থাকার কথা তথাপি আমরা পৃথিবীতে তাদের অগনিত সংখ্যায় পাচ্ছি না কেন?

ডারউইন তার উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর এভাবে দেয়ার চেষ্টা করেন এবং বলে যে জীবাশ্ম রেকর্ড খুবই অসম্পুর্ণ। কিন্তু ডারউইনের এ তত্ত্ব দেয়ার পর গত ১৫০ বছর যাবৎ মিলিয়ন মিলিয়ন জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে। জীবাশ্ম রেকর্ড এখন প্রায় সম্পুর্ণ। কিন্তু আজ পর্যন্ত ডারউইন কথিত transitional form এর কোন জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বিজ্ঞানী Robert Carrol স্বীকার করেন যে, ফসিলের আবিষ্কার ডারউইনের আশাকে পূর্ণ করতে পারেনি।

এ বিষয়গুলো বিবর্তনবাদীদের কাছে স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনের প্রমাণস্বরুপ জীবাশ্ম থেকে উপস্থাপন করে। এক্ষেত্রে যদিও ডারউইন কথিত মধ্যবর্তী অনেক প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়ার কথা কিন্তু তা পাওয়া যায় না। তারপরও তারা বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা বিভিন্ন ফসিলকে তারা দুটি প্রজাতির মধ্যবর্তী প্রজাতি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ফলাওভাবে প্রচার করে।

ফসিল রেকর্ড থেকে বিবর্তনবাদীদের কথিত Tree of life এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি। বরং এক্ষেত্রে কোন নিকটবর্তী প্রজাতির জীবাশ্ম ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট সময়ে অধিকাংশ প্রজাতির স্বতন্ত্র জীবাশ্ম একই সাথে পাওয়া যায়। যেগুলো জীবাশ্ম রেকর্ডে একই সাথে আবির্ভূত হয়। এই সময়টিকে বলা হয় Cambrian age এবং উক্ত ঘটনাকে বলা হয় Cambrian Explosions.

বিবর্তনবাদ বলে জীবজগতের বিভিন্ন দলসমুহ একই পূর্ব পুরুষ থেকে এসেছে এবং সময়ের সাথে পৃথক হয়ে গেছে। উপরের ছবিটি এই দাবিটি উপস্থাপন করে। ডারউইনবাদীদের মতে জীবসমুহ পরস্পর থেকে গাছের শাখা প্রশাখার মত পৃথক হয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিন্তু ফসিল রেকর্ড তার বিপরীত অবস্থাই প্রদর্শন করে। নিচের ছবিটায় দেখা যাচ্ছে জীবজগতের বিভিন্ন প্রজাতিসমুহ হঠাৎ তাদের গঠন সহ আবির্ভুত হয়। পরবর্তীতে তাদের সংখ্যাটা না বেড়ে কমতে থাকে। আর কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

১০০- ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরনো স্টারফিস এর ফসিল

একটি Ordovician সময়ের Horseshoe crab এর ফসিল। এটির বয়স ৪৫০ মিলিয়ন বছর। যার বর্তমান প্রজাতির সাথে কোন ভিন্নতা নেই।

আরও দেখুন:  সমুদ্র: নি‘আমতের অফুরান ভাণ্ডার

Ordovician সময়ের Oyster এর ফসিল

১.৯ মিলিয়ন বছরের ব্যাকটেরিয়ার ফসিল ( Ontario, United States)

330

৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Ammonites emerged

১৭০ মিলিয়ন বছরের পুরনো insect ফসিল ( Baltic Sea Coast)

১৪০ মিলিয়ন বছরের Dragonfly ফসিল ( Bavaria in Germany)

৩২০ মিলিয়ন বছরের Scorpion

১৭০ মিলিয়ন বছরের চিংড়িমাছের ফসিল

৩৫ মিলিয়ন বছরের Old flies

প্রানীর উৎপত্তি

উভচরের উৎপত্তি:

বিবর্তনবাদীরা ধারণা করেন যে, মাছ হয়ে যায় উভচর প্রানী আর কোন কোন উভচর প্রানী হয়ে যায় সরীসৃপ। আর সরীসৃপ হয়ে স্তন্যপায়ী ও পাখী। আর সবশেষে স্তন্যপায়ী থেকে মানুষের উৎপত্তি।

বিবর্তনবাদীরা মনে করে যে Chordata পর্বটি একটি অমেরুদন্ডী পর্ব থেকে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এসেছে। কিন্তু সত্য ঘটনা হলো Chordata পর্বের প্রানীগুলো Cambrian age এ আবির্ভূত হয়।

ডারউইনবাদীদের আঁকা মাছ ও উভচরের মধ্যবর্তী রুপ

উভচর প্রানী ও মাছের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। দুটি উদাহরণ হল Eusthenopteron ( একটি বিলুপ্ত মাছ) এবং Acanthostega (একটি বিলুপ্ত উভচর প্রানী) এ দুটি চতুষ্পদ প্রানীর উৎপত্তি সংক্রান্ত সমকালীন বিবর্তন চিত্রকল্পের প্রিয়বিষয়। Robert Carrol তার Patterns and Process of vertebrate Evolution গ্রন্থে এ দুটি প্রজাতি সম্পর্কে লেখেন যে Eusthenopteron এবং Acanthostega এর মধ্যে ১৪৫ টি অ্যানাটমিকাল বৈশিষ্ঠের ৯১ টির মধ্যেই ভিন্নতা আছে। অথচ বিবর্তনবাদীরা বিশ্বাস করে যে এই সবগুলোই ১৫ মিলিয়ন বছরের ব্যবধানে random mutation এর প্রক্রিয়ায় পুনরায় ডিজাইন হয়েছে। এই ধরণের একটা চিত্রকল্পে বিশ্বাস করা বিবর্তনবাদের পক্ষে সম্ভব হলেও এটা বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ঘটনাটি সকল মাছ উভচর প্রানী বিবর্তন চিত্রকল্পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

Cambrian Age এর একটি ফসিল

Birkenia ৪২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো।

Shark – ৩৩০ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফসিল।

Mesozoic Age এর কিছু মাছের ফসিল

১১০ মিলিয়ন বছরের পুরনো মাছের ফসিল ( Brazil এ প্রাপ্ত)

Devonian Age. এর সময়ের ৩৬০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Osteolepis panderi

জলচর থেকে স্থলচর প্রানীতে রুপান্তরিত হতে গেলে আর যে সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায় তা হল-

১. ভার বহন

২. তাপ ধারণ

৩. রেচনতন্ত্র

৪. শ্বসনতন্ত্র

ব্যাঙের উৎপত্তিতে কোন বিবর্তন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়নি। জ্ঞাত সবচেয়ে প্রাচীন ব্যাঙটিও মাছ থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন ছিল এবং এর সকল স্বতন্ত্র বিশিষ্ট নিয়ে আবির্ভুত হয়।

একটি Devonian age এর Eusthenopteron foordi এর ফসিল (Canada ‘য় প্রাপ্ত)

যখন বিবর্তনবাদীদের কাছে Coelacanth এর শুধু ফসিল ছিল তখন তারা এটি সম্পর্কে ডারউইনবাদী ধারণা পেশ করেন। যখন এর জীবিত নমুনা পাওয়া গেলো তখন তারা চুপ হয়ে যায়। উপরের ডানের ছবিটি ১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় Coelacanth এর সর্বশেষ নমুনা।

বিবর্তনবাদীদের Coelacanth এবং সম জাতীয় মাছকে ‘স্থলচর’ প্রানীর পূর্বপুরুষ বলে মনে করার মৌলিক কারণ হল Coelacanth দের কংকালময় ডানা (body fin) আছে। তারা মনে করে এই ডানাগুলো পর্যায়ক্রমে পায়ে পরিণত হয়। যাই হোক, মাছের অস্থি এবং স্থলচর প্রানী এর মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে।

চিত্র-১ এ যেরুপ দেখস্নো হয়েছে Coelacanth এর হাড়গুলো মেরুদন্ডের সাথে লাগানো নয় অপরদিকে Ichthyostega এর ক্ষেত্রে তা লাগানো (চিত্র-২) একারণে মাছের ডানা পর্যায়ক্রমে পায়ে পরিণত হওয়ার ধারণাটি সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। এছাড়াও Coelacanth এর ডানা Ichthyostega এর পায়ের অস্থির গঠনেও সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

৫০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Python এর ফসিল

জার্মানীতে প্রাপ্ত ৪৫ মিলিয়ন বছরের মিঠাপানির কচ্ছপ

১১০ মিলিয়ন বছরের পুরনো কচ্ছপের ফসিল (Brazil এ প্রাপ্ত)

২২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Eudimorphodon ফসিল। এটি flying reptiles এর oldest প্রজাতি (Italy)

একটি Pterodactylus Kochi এর ফসিল। এটি উড়ন্ত Reptile. এটার বয়স ২৪০ মিলিয়ন বছর (Bavaria ‘য় প্রাপ্ত)

২২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Ichthyosaur এর ফসিল

২২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো তেলাপোকার ফসিল, যা বর্তমান তেলাপোকার সাথে কোন পার্থক্য নেই।

একটি ৩০০ মিলিয়ন বছরের Acantherpestes major millipede এর ফসিল

একটি ১৪৫ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফসিল

একটি dragonflies এর ৩২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফসিল যার বর্তমান প্রজাতির সাথে কোন পার্থক্য নেই।

একটি ৫০মিলিয়ন বছরের পুরনো Bat এর ফসিল (Wyoming in the United States এ প্রাপ্ত)

পাখির উৎপত্তি:

থমাস হাক্সলে বলেন, পাখি হল মহিমান্বিত সরীসৃপ। অর্থাৎ সরীসৃপ পর্যায়ক্রমে পাখিতে পরিণত হয়। কিন্তু এ বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

পাখির গঠন এবং সরীসৃপ এর গঠন সম্পূর্ণ আলাদা।

পাখির বিশেষ শ্বসনতন্ত্রঃ

শ্বাসগ্রহণ:

বাতাস পাখির শ্বাসনালী দিয়ে এর পিছনের বায়ু থলিতে পৌছায়। যে বাতাস ব্যবহার করা হয়ে গেছে তা সামনের বায়ুথলিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

শ্বাসত্যাগ:

পাখি যখন শ্বাসত্যাগ করে পিছনের বায়ুথলির বিশুদ্ধ বাতাস তখন ফুসফুসে প্রবেশ করে। এই ব্যবস্থার কারণে পাখির ফুসফুসে সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ বায়ুর প্রবাহ থাকছে।

এই শ্বসনতন্ত্রে অনেক জটিলতা আছে। যা এখানে সরলরুপে দেখানো হয়েছে। যেমন, ফুসফুসের সাথে বায়ুথলিতে যোগস্থলগুলোতে ভালভ আছে, যেন বাতাস সঠিক দিকে প্রবাহিত হয়। এসব কিছুই প্রকাশ করে যে, এখানে একটি পরিকল্পনা কাজ করছে। এই পরিকল্পনা বিবর্তন প্রক্রিয়াকে শুধু ভুল প্রমাণিতই করে না বরং এটি স্পষ্টতই সৃষ্টির একটি নিদর্শন।

পাখির পাখার জটিল গঠন

যখন পাখির পাখাকে নিকট থেকে দেখা হয়, তখন একটি সূক্ষ পরিকল্পনা পাওয়া যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র পশমের ভিতরে আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পশম আছে এবং তাতে আছে বিশেষ হুক। যেগুলো পশমগুলির একটিকে অপরটির সাথে লেগে থাকতে সাহায্য করে।

মানুষের উৎপত্তি:

এর পর বিবর্তনবাদীরা আসে মানুষের গঠন নিয়ে। এ ব্যাপারে তারা সবচেয়ে বেশি ধোঁকা দিতে সক্ষম হয়।

তারা দাবি করে বানর জাতীয় প্রানী থেকে মানুষের উৎপত্তি। আর এক্ষেত্রে মানুষের সবচেয়ে নিকটবর্তী হল বনমানুষ। তারা দাবি করে যে মানুষ ও বনমানুষ বা এপদের মধ্যে জেনেটিক সমতুল্যতা ৯৯%। তার মানে বাকি ১% এর কারণে আমরা মানুষ। কিন্তু ২০০২ সালের অক্টোবরে জানা যায় যে এপ এর সাথে মানুষের জেনেটিক সমতুল্যতা ৯৯% নয় বরং ৯৫%।

ডারউইন কথিত মানব জাতির বিবর্তন।

ডারউইনবাদীরা দাবী করে যে, আধুনিক মানুষ একধরনের এপ (বনমানুষ জাতীয় প্রানী) থেকে বিবর্তিত হয়েছে। ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হওয়া এই বিবর্তনপ্রক্রিয়ায় মানুষ ও তার পুর্বসূরীদের মধ্যে কিছু অবস্থান্তর প্রাপ্তিকালীন প্রজাতি পাওয়া যায় বলে দাবী করা হয়। এই কার্যত সম্পুর্ণ কাল্পনিক চিত্রে, নিম্নের চারটি মৌলিক প্রকার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে-

1. Australopithecus

2. Homo Habilis

3. Homo Eractus

4. Homo Sapiens

Australopithecus এর মাথার খুলি এবং কঙ্কাল আধুনিক এ্যপ এর মাথার খুলি ও কংকালের সাথে প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের চিত্রটিতে একটি শিমপাঞ্জি দেখানো হয়েছে।

একটি Australopithecus robustus এর খুলি। এটি বনমানুষের খুলির সাথে প্রায় সাদৃশ্যপুর্ণ।

ধারণা করা হয়, এই প্রজাতি গুলো আফ্রিকাতে প্রথম ৪ মিলিয়ন বছর আগে আবির্ভূত হয় এবং ১ মিলিয়ন বছর আগ পর্যন্ত এরা বেঁচে থাকে।

প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি Australopithecus হল বিলুপ্ত এ্যপ যেগুলো বর্তমানে বেঁচে থাকা এ্যপ প্রজাতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

Good bye Lucy

একসময় Australopithecus প্রজাতির সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হত ‘Lucy’ নামক একটি জীবাশ্মকে। কিন্তু পরবর্তীতে এটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। বিখ্যত ফ্রেঞ্চ বিজ্ঞান ম্যাগাজিন Science et Vie এর ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ সংখ্যা এ ঘটনার সত্যতাকে Good bye Lucy শিরোনামে স্বীকার করে নেয় এবং এটা নিশ্চিত করে যে Australopithecus কে মানুষের পূর্বসুরী হিসেবে ধরা যায় না।

বিবর্তনবাদ অনুসারে বনমানুষ পর্যায়ক্রমে মানুষে পরিণত হয়েছে তাই এদের মধ্যবর্তী প্রজাতি থাকার কথা এবং অসংখ্য এরুপ জীবাশ্ম পাওয়ার কথা। বিবর্তনবাদীরা এ জন্য পুরোদমে জীবাশ্ম অনুসন্ধান করতে থাকে। তারা তাদের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে কিছু জীবাশ্মকে মধ্যবর্তী প্রজাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ জন্য তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম ধোঁকাবাজি, চিত্রাঙ্কন ও প্রচার মাধ্যমের আশ্রয় ও নেন। কিন্তু দেখা যায় একটি মধ্যবর্তী প্রজাতির আবিষ্কার বলে প্রচার করার কয়েকদিন পরেই তা ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।

AFARENSIS AND CHIMPANZEES

উপরের একটি AL 444-2 Australopithecus afarensis খুলি, এবং তার নিচে একটি আধুনিক শিম্পাঞ্জির খুলি। এখানে যে পরিস্কার সাদৃশ্য দেখা যাচ্ছে তা এ বিষয়টির প্রমাণিক নিদর্শন যে Afarensis একটি সাধারণ বনমানুষেয় প্রজাতি, এতে মানুষের কোন বৈশিষ্ট্য নেই।

Homo eractus প্রজাতির বড় ‘eyebrow protrusion’ এবং ‘পিছনের দিকে ঢালু কপাল’ এ জাতীয় বৈশিষ্টগুলো আমাদের সমকালীন কিছু জাতিতেও দেখা যায়। যেমন ছবিতে একজন মালয়েশিয়ান আদিবাসিকে দেখা যাচ্ছে। সুতরাং Homo eractus কে একটি মধ্যবর্তী প্রজাতি হিসেবে দেখানোর কোন সুযোগ নেই।

উপরের ছবিটি একটি ১০০০০ বছর পুরোনো Homo erectus

এই খুলি দুটি ১৯৬৭ সালের ১০ই অক্টোবরে Australia র Victoria Kowswamp এলাকায় পাওয়া যায় যেগুলোর নাম দেওয়া হয় Kowswamp I এবং Kowswamp V Alan Throne এবং Philip Macumber যারা খুলি দুটি আবিষ্কার করেন এবং এগুলোকে Homo erectus এর skull বলেন। অথচ সেগুলোতে Homo erectus এর বিলুপ্তি প্রাপ্ত অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। তথাপি এগুলোকে Homo erectus বলার একমাত্র কারণ হল এগুলোর বয়স হিসেব করা হয় ১০০০০ বছর। কিন্তু বিবর্তনবাদীরা Homo erectus কে একটি মানুষের প্রজাতি হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল না। কারণ তারা বিশ্বাস করত Homo erectus একটি ‘আদিম’ প্রজাতি এবং তারা আধুনিক মানুষের ৫০০০০০ বছর আগে বসবাস করত। অন্য দিকে বর্তমান মানব প্রজাতির বয়স হল মাত্র ১০০০০ বছর।

Homo erectus এবং আদিবাসী

উপরের চিত্রে প্রদর্শিত Turkana Boy কঙ্কালটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত Homo erectus এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। মজার বিষয় হল, এই ১.৬ মিলিয়ন বছর বয়সী ফসিলটির সাথে বর্তমান মানুষের কঙ্কালে তেমন কোন তফাৎ নেই। উপরের প্রদর্শিত Australian আদিবাসীর কঙ্কালটির Turkana Boy এর সাথে বিশেষ সাদৃশ্যপুর্ণ। এ ঘটনাটি আবার প্রমাণ করে যে, Homo erectus মানুষের একটি প্রজাতি বৈ কিছুই নয় এবং এর কোন ‘আদিম’ বৈশিষ্ট নেই।

একটি মুখমন্ডলের হাড় ৮০০০০০ বছরের পুরনো ফসিল, স্পেনে প্রাপ্ত। যার সাথে বর্তমান সময়ের মানুষের কোন অমিল নেই।

৩.৬ মিলিয়ন বছর আগে মানুষের পায়ের ছাপ (তানজানিয়ায় প্রাপ্ত)

মিলিয়ন বছর পুর্বের মানুষের চোয়াল

আধুনিক মানুষের জাতিসমুহের মধ্যে কঙ্কালগত পার্থক্য

বিবর্তনবাদী জীবাশ্মবিদরা Homo erectus, Homo sapiens neanderthaleansis এবং archaic Homo sapiens মানব জীবাশ্মগুলোকে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রজাতি বা উপপ্রজাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। তারা বিভিন্ন ফসিল স্কালগুলোর পার্থ্যক্যের উপর ভিত্তি করে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। প্রকৃতপক্ষে এই পার্থক্যের মধ্যে আছে মানুষের বিভিন্ন জাতির মধ্যকার বৈচিত্র যে জাতিগুলোর কতক বিলুপ্ত হয়ে গেছে আর কতক মিশে গেছে অন্যান্য জাতির সঙ্গে। সময়ে সময়ে জাতিগুলো যখন একে অপরের সংস্পর্শে আসতে থাকে তখন পার্থ্যক্যগুলো আস্তে আস্তে হ্রাস পেতে থাকে।

আরও দেখুন:  মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কার

বর্তমান যুগের মানবজাতি গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ করা যায়। উপরে কয়েকটি আধুনিক জাতিসমুহের স্কালের পার্থক্য দেখানো হয়েছে।

উপরের চিত্রগুলো নাম্বার অনুযায়ী-

১. পনের শতাব্দীর পেরুভিয়ান আদিবাসী

২. মধ্য বয়সী বাঙ্গালী

৩. সলোমন দ্বীপপুঞ্জের পুরুষ যিনি ১৮৯৩ সালে মারা যায়।

৪. জার্মান পুরুষ ২৫-৩০ বছর

৫. Congolese পুরুষ, বয়স ৩৫-৪০

৬. Inuit পুরুষ, বয়স ৩৫-৪০

বিবর্তনবাদী জীবাশ্মবিদদের প্রবণতা হল নতুন কোন জীবাশ্ম আবিষ্কার হলেই তাকে এ্যপদের নিকটবর্তী অথবা মানুষের নিকটবর্তী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। অথচ জীবাশ্মটি যে এ্যপ বা মানুষের বিলুপ্ত কোন জাতি হতে পারে সে ব্যাপারটা তারা সুকৌশলে এড়িয়ে যায়। এমনকি অনেকসময় শুধুমাত্র একটি দাঁতের উপর ভিত্তি করে পুরো একটি নতুন মধ্যবর্তী প্রজাতি দাড় করিয়ে দেয়। আবার মুখমন্ডলের কংকালের উপর যে Facial Reconstruction করা হয় তাও সুস্পষ্ট ভিভ্রান্তকর। কেননা কারও মুখমন্ডলের গঠন চর্বি ও মাংশপেশীর পরিমান ও তুলনামুলক অবস্থানের উপরও নির্ভর করে। সুতরাং শুধুমাত্র প্রাপ্ত কঙ্কালের উপর ভিত্তি করে সঠিক Facial Reconstruction করা সম্ভব নয়।

মানুষের কংকালকে দাঁড়িয়ে হাটার উপযুক্ত করে নকশা করা হয়েছে। অপরদিকে এ্যপদের ছোট পা, লম্বা হাত এবং সামনে ঝুকে দাঁড়ানোর ভঙ্গি চার পায়ে চলার জন্য উপযুক্ত। এটা সম্ভব নয় যে, এ্যপ ও মানুষের মধ্যে মধ্যবর্তী রুপ থাকবে। কেননা দ্বিপদী অবস্থাটা বিবর্তন প্রক্রিয়ার ‘উন্নততর অবস্থার দিকে যাওয়ার নীতি’ এর সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। অন্যদিকে এ ধরনের মধ্যবর্তী দশার পক্ষে চলাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিবর্তনবাদীদের এই সব আকাঝোকার মধ্যে বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নাই।

৪০ বছর ধরে এই ফসিলটিকে বিবর্তনবাদীরা মানব বিবর্তনের পক্ষে বড় প্রমান হিসাবে দেখাতো। কিন্তু পরে এই ফসিলটি ভুয়া প্রমানিত হয়।

Neanderthal মানব:

১০০০০০ বছর আগে ইউরোপে মানুষের হঠাৎ আবির্ভুত একটি জাতি যারা দ্রুত অন্যান্য জাতির সাথে মিশে যায় কিংবা হারিয়ে যায়। এরা ৩৫০০০ বছর আগে পর্যন্ত জীবিত ছিল। তাদের সাথে আধুনিক মানুষের একমাত্র পার্থক্য হল, তাদের কঙ্কালগুলো আরও বলিষ্ঠ এবং তাদের মাথার ধারণ ক্ষমতা একটু বেশী।

NEANDERTHALS:

উপরের চিত্রটিতে ইসরাইলে প্রাপ্ত Homo sapiens neanderthalensis Amud I এর skull দেখানো হয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে যে, খুলিটি যার ছিলো সে ১.৮০ মিটার লম্বা ছিলো। এই খুলির ধারণ ক্ষমতাও বর্তমানে প্রাপ্ত খুলির মতই- ১৭৪০ সিসি।

তার নিচে Neanderthals জাতির একটি ফসিল কঙ্কাল এবং তাদের use করা একটি পাথর নির্মিত যন্ত্র দেখানো হয়েছে।

এ ধরণের আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, Neanderthals প্রকৃতপক্ষে মানব প্রজাতিই ছিল যারা সময়ের ধারাবাহিকতায় হারিয়ে গেছে।

NEANDERTHALS সূচ

ছাব্বিশ হাজার বছর পুরনো সূচ। এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে Neanderthals- রা ১০০০০ বছর আগে পোষাক বুনন জানত।

NEANDERTHALS বাঁশি

হাড় দিয়ে তৈরী Neanderthals বাঁশি। হিসাব করে দেখা গেছে যে ছিদ্রগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যেন সঠিক উপসুরটি পাওয়া যায়। অন্যকথায় বাঁশীটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরী করা হয়েছে।

উপরে গবেষক Bob Fink এর বাঁশী সংক্রান্ত হিসাবটি দেখানো হয়েছে।

তাহলে আমরা বলতে পাই Neanderthals রা কোন আদিম গুহা মানব ছিলো না, বরং তারা সভ্য মানব ছিলো।

Nebraska মানব Scandal

একটি জীবাশ্ম এর উপর ভিত্তি করে এই Nebraska মানব এর কল্পিত চিত্র আঁকা হয়। নাম দেয়া হয় Hesperopithecus haroldcooki. কিছু দিন পর জানা যায় উক্ত জীবাশ্মটি ছিলো একটি বুনো শুকরের জীবাশ্ম।

বিবর্তনবাদীরা এ জাতিটিকে মানুষের আদিম প্রজাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিল তথাপি সকল আবিস্কার প্রমাণ করে যে, তারা আধুনিক বলিষ্ঠ মানুষের থেকে পৃথক কিছু নয়।

উদ্ভিদের উৎপত্তি:

বিবর্তনবাদীদের দাবী- prokaryotic cells থেকে eukaryotic Cell এর উৎপত্তি। যার বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই।

৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরনো গাছের ফসিল, যা বর্তমান প্রজাতির সাথে কোন অমিল নেই।

১৮০ মিলিয়ন বছরের পুরনো গাছের ফসিল

১৪০ মিলিয়ন বছরের পুরনো Archaefructus প্রজাতির ফসিল

৩২০ মিলিয়ন বছরের পুরনো ফার্ন গাছের ফসিল

পৃথিবীর ইতিহাস

বিভিন্ন যুগ:

মানব ইতিহাসকে বিবর্তনবাদীরা সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করেছে। তাদের মতে- মানুষ এক সময় বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত, এরপর দলবদ্ধ হয়ে বাস করতে শেখে। এ সময় তারা শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত তখন ছিল প্রস্তর যুগ। পর্যায়ক্রমে আসে ব্রোঞ্জ যুগ তারপর আসে লৌহ যুগ। মানুষ যখন আগুন জালাতে শেখে তখন সভ্যতার সূচনা হয়। কিন্তু তারা ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ এবং কিছু অকাট্য যুক্তিকে সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।

যেমনঃ লোহা দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়। সুতরাং তথাকথিত প্রস্তর যুগে লোহা ব্যবহার হয়ে থাকলেও তা পাওয়া যাবে না। আবার ব্রোঞ্জ তৈরীর জ্ঞানতো লোহা ব্যবহারের জ্ঞানের চেয়ে অগ্রসর হওয়ার কথা। সে হিসেবে লৌহযুগ ব্রোঞ্জের যুগের আগে আসার কথা, পরে নয়।

উপরের ছবিতে প্রদর্শিত ব্রেসলেট দুটির বামপাশেরটি মার্বেল দিয়ে তৈরী এবং ডানপাশেরটি ব্যসাল্ট দিয়ে তৈরী। এ দুটির বয়স ৮৫০০ এবং ৯০০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ। বিবর্তনবাদীদের দাবী অনুযায়ী এ সময় শুধু পাথর দিয়ে নির্মিত যন্ত্রপাতি use করা হত। কিন্তু মার্বেল ও ব্যসাল্ট খুব কঠিন পদার্থ। এগুলোকে বাঁকা ও গোল করতে গেলে অবশ্যই স্টীলের ব্লেড ও যন্তপাতি ব্যবহার করতে হবে। আর এটা স্পষ্ট যে তাদের মধ্যে সৌন্দর্যবোধও ছিল।

উপরের ছবিদুটি তে হাড় গুলো আবিসিডিয়ানের তৈরী বিভিন্ন বস্ত। এগুলো তৈরী করতে অবশ্যই স্টীলের ব্লেড ও যন্তপাতি ব্যবহার করতে হবে।

কয়েক হাজার পুর্বে পাথরের তৈরী কিছু জিনিস।

১১০০০ পুর্বের কাটা পাথর

আপনি এই পাথর গুলোকে পাথর দিয়ে কাটতে পারবেন না।

উপরের ৩ নাম্বার চিত্রটি ২১৩ মিলিয়ন বছর পুর্বের জুতার সোলের ফসিল। + পাথরের তৈরী কিছু জিনিস

গুহার অঙ্কন:

বিবর্তনবাদীরা বিভিন্ন গুহায়প্রাপ্ত বিভিন্ন অঙ্কন দেখে বলে যে এগুলো আদিম গুহা মানবদের তৈরী। সে চিত্র গুলো আঁকতে যে রঙ ব্যবহার করা হয়েছে তা এমনি কি রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ যে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও মুছে যায়নি বা ক্ষয় হয়নি? দেখা গেছে যে, আধুনিক যুগের জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সেই রঙটি পুনঃপ্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কোন চিত্রে যে ত্রিমাত্রিক গঠন পাওয়া যায় এবং যে সাদৃশ্যজ্ঞান পাওয়া যায় তা শুধুমাত্র অত্যন্ত দক্ষ ও শিক্ষিত শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব।

উপরের চিত্রগুলো আগের মানুষের, মানে মিলিয়ন বছর পুর্বের কিছু ওয়াল পেইন্টিং

তাই আমরা বলতে পারি পৃথিবীতে কখনও প্রস্তুর যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ, লৌহ যুগ, আদিম মানব, গুহা মানব বলতে কিছুই ছিলো না। মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে সেই অবস্থায় যেমন এখন আছে।

বেদনাদায়ক ভারসাম্য ব্যবস্থা:

আমি পূর্বেই বলেছি যে, ডারুইনবাদিদের একটি গুরত্বপুর্ণ দাবি হল, প্রকৃতিতে সৃষ্টির উৎকর্ষ সাধন হয় ‘fight for survival’ এর মধ্য দিয়ে। তার মান শক্তিশালীরা সবসময় দূর্বলের উপর বিজয়ী হয় আর এর ফলেই সম্ভব হয় উন্নতি।

সামাজিক ডারউইনিজম অনুসারে যারা দূর্বল, গরীব, অসুস্থ এবং পশ্চাদপদ তাদের কোন প্রকার দয়া প্রদর্শন না করে ধ্বংস করে দিতে হবে।

এ ব্যাপারে ডারউইন থমাস ম্যালথাসের বই An Essay on the Principle of Population থেকে প্রেরণা পেয়েছিলেন। তিনি গণনা করেছিলেন যে মানবজাতিকে তার নিজের উপর ছেড়ে দিলে এরা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, প্রতি ২৫ বছরে সংখ্যা দ্বিগুন হতে থাকবে। কিন্ত খাদ্য সরবরাহ কোন ভাবেই সে হারে বাড়বেনা। তাই কিছু মানুষকে বাঁচানোর জন্য প্র্যয়োজন অপর কিছু মানুষের মৃত্যু।

ডারউইন ঘোষনা করেন যে ম্যালথাসের বই থেকে প্রাভাবিত হয়েই তিনি ‘বাঁচার জন্য সংগ্রামের’ ধারণা প্রদান করেন।

বংশবৃদ্ধি করতে থাকলে ক্রমান্বয়ে আরও শক্তিশালী মানবজাতির আবির্ভাব হবে এরুপ ডারউইনবাদী ধারণার বশবর্তী হয়ে হিটলার ইউজেনিক্সের নীতি অবলম্বন করে যেখানে পঙ্গু ও মানিসিক ভারসাম্যহীনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আই নীতির ফলে ইউরোপিয়ান সাদা চামড়ার লোকেরা আফ্রিকান নিগ্রো, রেড ইন্ডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসিদেরকে পশ্চাদপদ বা অনগ্রসর আখ্যায়িত করে এবং তাদের সাথে পশুর মত আচরণ করা হয়।

তাই আমরা বলতে পারি,

ডারউইনবাদিদের প্রচারণার ফলে যখন মনে করা হয় মানুষ কোন জড় পদার্থ থেকে উত্তপন্ন তখন মানুষের জীবনে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হয়। এমনকি ধর্মকে আফিম পর্যন্ত বলা হয়।

তাই বলা যায় ডারউইনবাদের প্রবর্তনের ফলে মানুষে মানুষে হানা হানি বৃদ্ধি পায়, যুদ্ধ বিগ্রহ শুরু হয়, মানুষের মধ্য হতে দয়া অনুগ্রহ ও সহানুভূতি হ্রাস পায় এবং মানুষের নৈতিকতার চরম অধঃপতন ঘটে।

একজন ব্রিটিশ কার্টুনিস্টের আঁকা ডারউইন

বস্তুত নৈতিক বাধাবন্ধন ও বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি লাভের ইচ্ছা ও প্রবণতাই হলো ক্রমবিকাশবাদ বা বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করার মূল কারন। আর বিবর্তনবাদ দর্শনে বিশ্বাসীদের যারা ইতর ও হীন জীবজন্তুর বংশধর বলে মনে করে কোন নৈতিকতাই তাদের থাকতে পারে না।

বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও সচেতন চিন্তাভাবনা এ বিষয়টিকে পরিষ্কার করে তুলেছে যে প্রতিটি প্রাণহীন বস্তু ও প্রতিটি জীবকেই সৃষ্টি করা হয়েছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভারসাম্যপুর্ণভাবে। অকাট্য ও ক্ষুতবিহীন পরিকল্পনার মাধ্যমে।

তাই আমাদের উচিত সেই সৃষ্টিকর্তাকে জানা এবং তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। যিনি আমাদের অর্থহীন ভাবে সৃষ্টি করেননি। আর এজন্য মহান আল্লাহ প্রেরিত ১৪০০ বছর ধরে অপরিবর্তিত মুজিজা কুরআন তো আছেই। সাথে আছে আল্লাহর রাসুলের (সঃ) এর হাদীস।

তাই আজ,

আর ঘোষণা করে দাও, “সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, মিথ্যার তো বিলুপ্ত হবারই কথা”৷ (সুরা বনী ইস্রাইল: ৮১)

আরও বিস্তারিত জানতে References এ দেয়া বই গুলো পড়তে পারেন।

 

SHAIKH NOOR-E-ALAM
Environmental Science Discipline
Khulna University


References:

1. Harun Yahya, Darwinism Refuted

2. Harun Yahya, A Historical Lie: The Stone Age

3. Md. Abdullah Sayed Khan, Srostar sristi opar bissoy. Kishorkantha Foundation, Evolution & Creation in the light of science

4. Charles Darwin, Origin of Species

5. Harun Yahya, The collapse of the theory of evolution in 20 questions

6. Harun Yahya, The collapse of the theory of evolution in 50 themes

7. Harun Yahya, The Disasters Darwinism Brought to humanity

8. Harun Yahya, Evolution Deceit

9. Harun Yahya, Why Darwinism is incompatible with Quran

9. Harun Yahya, The social weapon Darwinism

9. Harun Yahya, The Religion Of Darwinism

9. Harun Yahya, What Darwinists fail to consider

10. Harun Yahya, The Cambrian evidence that Darwin failed to Comprehend

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

৪টি মন্তব্য

  1. যারা ভ্যা ভ্যা করছে ; তাদের উদ্দেশ্য বলি, যদি পারেন এই লেখাটিকে রিফিউট করুন, সারাদিন চেচালে কি বিবর্তন (ম্যাক্রো ইভুলুশ্যন) সত্যি বলে প্রমাণিত হয়ে যাবে?

  2. 🤣🤣🤣🤣🤣 সম্পূর্ণ বেবোধরা মর্কটরা এই সব আবোল তাবোল পেজে বিজ্ঞানের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়াশোনা করতে আসেন। লম্পটদের কুশিক্ষার জায়গা। থুঃ
    😆🤣🤣🤣

    1. এখানে কিছু তথ্য উপস্থাপন করে লেখক বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তবে সেটা আপনাকে মানতেই হবে এমনটা কোথাও বলা হয়নি। আপনার নিজস্ব জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক আছে, তার উপর ভিত্তি করে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন। কিন্তু এটা আপনার মনে রাখা উচিৎ যে, আপনার মন্তেব্যের ভাষা দেখে অনেকেই আপনার বৈশিষ্ট্য বা যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

Back to top button