শিক্ষামূলক গল্প

স্বাস্থ্যকর ইফতার

ফুলকো আলুর চপ, বেগুনিগুলো মাত্রই ভেজে টেবিলে নিয়ে আসা হয়েছে। সাথে আছে মুচমুচে পিয়াজু আর পাকোড়া।
লোভনীয় ইফতারিগুলো দেখে ফারার পেটটা গুড়গুড় করে উঠলো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ইফতারের আরও দশ মিনিট বাকি ।

অবশেষে আজানের ধ্বনি ফারার কানে নাকি পেটে মধুবর্ষণ করলো সেটা ঠিক বোঝা গেলো না।

ভরপেট খেয়ে ফারা অতিকষ্টে চেয়ার থেকে উঠে কোনমতে মাগরিবের সালাতটা আদায় করে নিলো। এরপর সটান হয়ে বিছানায় শুয়ে কখন যে ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেলো টেরই পেলো না।

চাঁদ উঠেছে! চাঁদ উঠেছে!
ছোট ভাইয়ের আওয়াজ শুনে দৌড়ে বারান্দায় এলো ফারা। রাতের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে আকাশের কোল জুড়ে রমাদানের চাঁদটা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। মনের ভিতর প্রশান্তির ঢেউ খেলে গেলো ফারার। চাঁদ দেখার দোয়াটা পড়ে নিলো। এবার আর গত বছরের মতো ভুল করবে না সে।

প্রচন্ড পেট ব্যথায় গত বছর রমাদানের রাতে হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছিলো। বাকি রমাদানগুলোতে সিয়াম রাখা তো দূরের কথা, যে কদিন হসপিটালে ভর্তি ছিলো সালাতও পড়তে পারেনি। অন্যান্যো আমল তো বাদই গিয়েছিলো। ডক্টর বলেছিলেন রমাদান জুড়ে মাত্রাতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেয়ে যাওয়ায় ফারার এমন অবস্থা। খাবারগুলো যে তেলে ভাজা হয় সেগুলো রি-সাইকেল করা। একই তেলে বারবার ভাজার ফলে সেগুলো শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এছাড়াও হার্ট ও কিডনির নানা রোগের কারণ হতে পারে এসব খাবার।

ভাবনার রাজ্য থেকে এবার বাস্তবে ফিরে এলো ফারা। টেবিলে রাখা লাল নোটবুকটা সযত্নে তুলে নিয়ে খুলে বসলো। ইফতারের স্বাস্থ্যকর আইটেমগুলো সব এখানেই লিখে রেখেছে। আরেকবার মিলিয়ে নিলো।

প্রতিদিনের তালিকায় টকদই/ মেয়োনিজ দিয়ে মাখিয়ে সালাদ, খেজুর আর শরবত মাস্ট।
কয়েকদিন সবজি খিচুড়ি
কিছুদিন দইচিড়া অথবা দুধ- কলা দিয়ে চিড়া
কিছুদিন তালবিনা, সাথে ডাবলি সিদ্ধ অথবা সিদ্ধ বুট
আর ভাজাপোড়ার অভ্যাস একেবারে ছাড়তে না পারলে মাঝেমাঝে সর্বোচ্চ দুইটা ভাজাপোড়া খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রথমেই ভাজাপোড়া দিয়ে ইফতার শুরু করবে না সে আর ইনশাআল্লাহ।

এবার ফারার মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। বিড়বিড় করে বলে উঠলো আহলান, সাহলান! মাহে রামাদান!!

– Farjana Yasmin Fariha

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Back to top button