ছোটগল্প/উপন্যাস

আলোয় ভুবন ভরা

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো প্রায়। টিউশনি শেষ করে মাত্র স্টুডেন্টের বাসা থেকে বের হলো মাহা। নাহ, তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে। দাদি একা আছে এতক্ষণ পর্যন্ত।

‘ দাদিইই? ‘

কোন সাড়া না পেয়ে বুক ধড়ফড় করতে থাকে মাহার। চাবি দিয়ে লক খুলে ভিতরে ঢুকতেই দেখে দাদি সালাত আদায় করছেন। মাহাও জায়নামাজ বিছিয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে যায়।

সালাত শেষ করে ব্যাগ থেকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট বের করে দাদিকে দেয় মাহা।

‘ইফতারে কিছু খেয়েছো দাদি? ‘

‘এইতো পানি আর খেজুর খাইলাম আলহামদুলিল্লাহ। ‘

দাদিকে বিস্কুট খাইয়ে দিয়ে এবার সীরাত পড়তে বসে যায় মাহা। পড়তে গিয়ে একপর্যায়ে এসে থেমে যায়। রসূলুল্লাহ (স.) নবুয়ত প্রাপ্ত হওয়ার পর যখন দ্বীন প্রচার করা শুরু করেন কত কটু কথা, অত্যাচার, যন্ত্রণাই না সহ্য করতে হয়েছিল ওনাকে ।

নিজের ইসলাম গ্রহণ করার কথা মনে পড়ে যায় মাহার। সে কি এক অসাধারণ অনূভুতি প্রথম শাহাদাহ পাঠ করার পর। রবকে প্রথম সিজদা করা যিনি কিনা তাকে সৃষ্টি করেছেন।
কিন্তু একসময় ঠিকই ধরা পড়ে যায় বাসায়। সবকিছুর মাঝে একমাত্র সঙ্গী ছিলো দাদি। তিনি ইসলাম ধর্মকে সমর্থন করেছিলেন এবং তার সাথে যোগদান করেছিলেন। দুজনে সেদিন বের হয়ে এসেছিলো বাসা থেকে। তারপর থেকে চিলেকোঠার এই ঘরে দুইজনের ছোট্ট সংসার। টিউশনি আর স্কলারশিপের টাকা দিয়ে চলে যায় কোনোরকম।

দাদির কথায় ভাবনার রাজ্য থেকে বাস্তবে ফিরে আসে মাহা।

‘ মাহামণি, আমাকে একটু নবীজীকে (স) নিয়ে ওই কথাগুলো শুনাবি? ‘ ওইযে, বাসীরা না কি নাম জানি।

মাহা ইউটিউব থেকে বাসীরা চ্যানেল এর ‘আপনাকে কেন ভালোবাসি ইয়া রসূলুল্লাহ (স) ‘ ভিডিওটি প্লে করে দেয়। দাদি মুগ্ধ হয়ে শোনেন, চোখ থেকে টপটপিয়ে পানি পড়ে। শ্রদ্ধায় সুমধুর কন্ঠে অনবরত দরুদ পাঠ করতে থাকেন। ১৪০০ বছর আগে প্রেরিত অদেখা মহান মানুষটির প্রতি প্রবল শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে যায় তাদের হৃদয়। তিনি যে স্বয়ং আল্লাহর হাবিব। যিনি কিনা মৃত্যুর আগেও উম্মতি, উম্মতি বলতে বলতে তাঁর রবের নিকট ফিরে গিয়েছেন।

আরও দেখুন:  এক টুকরো সুখের খোঁজে-০৪

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। সত্যের খোঁজ পাওয়া দুটি হৃদয় সিজদায় তাদের রবের সাথে কথোপকথনে ব্যাস্ত। তাদের অন্তর যেন বলে উঠে, ‘হে আমাদের রব আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। ও আমাদের গুনাহ ক্ষমাকারী, আমরা আপনার ক্ষমা চাই।’

আকাশের একটুকরো সাদা মেঘ ভেসে ভেসে কেন জানি মাহাদের জানালার সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই মেঘ ভেদ করে চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ে তাদের গায়ে। দাদি – নাতনি এসব কিছুই খেয়াল করেনা। তারা যে এক আলোর ভুবনে তাদের রবের সাথে কথোপকথনে বিভোর।

– ফারজানা ইয়াসমিন ফারিহা

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button