ছালাত, দো'আ ও যিকর

রাফউল ইয়াদায়েনের গুরুত্ব ও উপকারিতা

‘রাফউল ইয়াদায়েনের অর্থ দু’হাত উঁচু করা। এটি আল্লাহর নিকটে আত্মসমর্পনের অন্যতম নিদর্শন।’   রাফউল ইয়াদায়েন মহানবী (ছাঃ) এর সুন্নাহ ও তরীকা। ‘হাদীছে রাফউল ইয়াদায়েনের দুটি নিয়ম বণিত আছে। তাহলো-দু’হাত কাঁধ পর্যন্ত অথবা কানের লতি পর্যন্ত উঁচু করা। ছালাত আদায়কালে চারটি সময়ে রাফউল ইয়াদায়েন করতে হয়। (১) তাকবীরে তাহররীমার সময় (২) রুকুতে যাওয়ার সময় (৩) রুকু হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় (৪) তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে প্রথম বৈঠক শেষে তৃতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়িয়ে বুকে হাত বাঁধার সময়। রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুকাল পর্যন্ত আজীবন উল্লিখিত সময়ে রাফউল ইয়াদায়েন করেছেন এবং উক্ত নিয়মে ছালাত আদায় করেছেন।’ এ হিসাবে, নাবী (ছাঃ) এক রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে তিনবার, দু’রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে পাঁচবার, তিন রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে আটবার, চার রাকআত বিশিষ্ট ছালাতে মোট দশবার রাফউল ইয়াদায়েন করতেন।

“ইবনু ওমর (রাঃ) যখন কোন ব্যক্তিকে দেখতেন যে, সে রুকুতে যাওয়া ও উঠার সময় রাফউল ইয়াদায়েন করছেনা, তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করতেন।”

“উকবা বিন আমির (রাঃ) বলেন, ছালাতে প্রত্যেক বারের হস্ত উত্তোলনে দশটি করে নেকী রয়েছে।”

“ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাফউল ইয়াদায়েন হচ্ছে ছালাতের সৌন্দর্যের একটি শোভা। প্রত্যেক রাফউল ইয়াদায়েনের বদলে দশটি করে নেকী রয়েছে অর্থাৎ প্রত্যেক আঙ্গুলের বিনিময়ে রয়েছে একটি করে নেকী।”

 

এতে প্রমানিত হয় যে, রাফউল ইয়াদায়েন করার কারনে দু’রাকআত ছালাতে ৫০ নেকী আর চার রাকআত ছালাতে ১০০ টি নেকী বেশি পাওয়া যায়। এ হিসাবে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তের ১৭ (সতের) রাকআত ফরয ছালাতে ৪৩০ (চার’শ ত্রিশ) নেকী, একমাসে ১২,৯০০ (বারো হাজার নয় শত) নেকী আর এক বছরে ১,৫৪,৮০০ (এক লক্ষ চুয়ান্ন হাজার আট শত) নেকী শুধু রাফউল ইয়াদায়েন করার জন্য বাড়তি যোগ হচ্ছে। সুতরাং, কোন ব্যাক্তি ছালাতে রাফউল ইয়াদায়েন করার কারনে ৩০(ত্রিশ) বছরে ৪৬,৪৪,০০০ (ছেচল্লিশ লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার) নেকী আর ৬৫(পঁয়ষট্টি) বছরে ১,০০,৬২,০০০(এক কোটি বাষট্টি হাজার) নেকী বেশি পাচ্ছেন। এ হিসাব শুধু পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাতের। এছাড়া সুন্নাত, নফল, বিতর, তাহাজ্জুত, তারাবীহ প্রভৃতি ছালাতে রাফউল ইয়াদায়েন করার নেকী তো রয়েছেই, যা এ হিসাব অনুপাতে পাওয়া যাবেই, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং, যারা ফরয, সুন্নাত, নফল প্রভৃতি ছালাতে রাফউল ইয়াদায়েন করেন না, তারা কতগুলো নেকী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা কি ভেবে দেখেছেন? অথচ কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মানুষ একটি নেকী কম হওয়ার কারনে জান্নাতে যেতে পারবে না।

আরও দেখুন:  আযান ও ইক্বামত : বিভ্রান্তি নিরসন

একটি হিসাব মতে, “রাফউল ইয়াদায়েনের হাদীছের রাবীর সংখ্যা আশারায়ে মুবাশশারাহ সহ অন্যূন ৫০ জন ছাহাবী এবং সর্বমোট ছহীহ হাদীছ ও আছারের সংখ্যা অন্যূন ৪০০ (চারশত)। ইমাম সুয়ূতী ও আলবানী প্রমুখ বিদ্বানগন রাফউল ইয়াদায়েনের হাদীছকে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বলে মন্তব্য করেছেন। ফালিল্লাহিল হামদ। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, কোন ছাহাবী রাফউল ইয়াদায়েন তরক করেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি।তিনি আরও বলেন, রাফউল ইয়াদায়েনের হাদীছ সমূহের সনদের চেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ আর নেই।”

সংগ্রহে: জুয়েল রানা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় বর্ষ।
দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।


তথ্য সূত্র:
(১) ছালাতুর রাসূল (ছাঃ): ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব; ১০৮ পৃষ্ঠা, হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ; ৪র্থ সংস্করন-২০১১ ঈসায়ী।
(২) ক. সহীহুল বুখারী-প্রথম খণ্ড, হাদীছ নং ৭৩৫, ৭৩৬, ৭৩৭, ৭৩৮; তাওহীদ পাবলিকেশন্স: নবম প্রকাশ-সেপ্টেম্বর ২০১২ ঈসায়ী।
খ. ছালাতুর রাসূল (ছাঃ): ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব; ১০৮ পৃষ্ঠা, হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ; ৪র্থ সংস্করন-২০১১ ঈসায়ী।
গ. বুলুগুল মারাম: তাওহীদ পাবলিকেশন্স, প্রথম প্রকাশ- আগস্ট ২০১৩; হাদীছ নং ২৭৫, ২৭৬, ২৭৭।
ঘ. সহীহ মুসলিম: প্রথম খণ্ড, হাদীছ নং ৭৪৭, ৭৪৮, ৭৪৯, ৭৫০, ৭৫১, ৭৫২; হাদীস একাডেমী-দ্বিতীয় সংস্করন, আগস্ট ২০১৪ ঈসায়ী।
(৩) জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত-২০০ পৃষ্ঠা;  প্রকাশক: শাইখ মুযাফফর বিন মুহসিন, প্রকাশকাল: ২০১৩ ঈসায়ী।
(৪) ছিফাতু ছালাতিন নাবী (ছাঃ)-১৩০ পৃষ্ঠা; তাওহীদ পাবলিকেশন্স: অষ্টম প্রকাশ, নভেম্বর ২০১৫ ঈসায়ী।
(৫) সুনান আবূ দাঊদ: প্রথম খণ্ড, প্রকাশনায়: আল্লামা আলবানী একাডেমী; দ্বিতীয় প্রকাশ: জানুয়ারী ২০১৩ ঈসায়ী-৪৭৬ পৃষ্ঠা।
(৬) SALATUR RASOOL (SM) by Dr. Muhammad Asadullah Al-Galib: 122  page; Hadeeth Foundation Bangladesh: First English Edition-2011 A.D

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button