ছোটগল্প/উপন্যাস

জয় হোলি!

পবিত্র

১.

‘ একটাও যাতে ছাড়া না পায়, বুঝলি? ‘ বললো আকাশ, বিকাশ আর ডন কে।

‘আমি থাকবো পূবের গলিতে, বাহিনী নিয়ে, তুই বিকাশ থাকবি উত্তরের গলিতে, তোর বাহিনী নিয়ে। ‘ আকাশ কনটিনিউ করলো।

‘আর আমারে দিলি ভূতের গলি? শা….’ ডন খুব একটা খুশী না বুঝা গেল।

‘হেহে, তোর মর্জিনা তো পূবের গলিতে থাকে…’ একটু খোঁচা দিল বিকাশ।

যাই হোক, একটু হাউকাউ করে হলেও শেষমেশ ডন রাজী হয়ে গেল।

রাতের বেলা লাল মিয়ার দোকান থেকে রং কেনা শেষ। কাল সকালে তিন বাহিনী নিয়ে তিনটা গলি রোধ করবে আকাশ, বিকাশ আর ডন।

রং বিতরণ ও শেষ। বিকাশ আর ডনকে তার তাদের বাহিনীর জন্য রং দিয়ে দিল আকাশ।

‘কালকের দিনটা খুব মজা হবে রে’ — বললো বিকাশ, যাবার আগে।

‘একটু মাস্তি না করলে আর জীবনে কি আছে বল?’ বলল ডন।
শুন, হিজাবী মেয়ে পাইলে কিন্তু ইচ্ছা কইরা রং দিবি…. সাহস কতো, আসছে হিজাব করতে। আমরা বাঙ্গালী , আসছে এখানে আরবদের পোষাক পরতে’ — বলে গেল আকাশ।

‘আর হানকারঢুল থেকে বাহির হইতে ওই তিন গলি ছাড়া আর কোন রাস্তা নাইরে। কোন মেয়ে বাদ যাবেনা ‘ — হাসতে হাসতে শেষ কথা বললো বিকাশ। ‘জয় হোলী,, হাহাহা …. ‘ বলতে বলতে গেল ডন।

২.

পরদিন সকাল।

আসলেই কোন মেয়ে বাদ যায়নি। …. আকাশ, বিকাশ, ডনের বাহিনীর হাত থেকে… এমন কোন মেয়ে ওই গলিতে ঢুকেনি বা বের হয়নি যার শরীরে রং মাখানো ছিলনা। এলাকার সবচে’ খারাপ বখাটে ওরা , থানা পুলিশ ও ম্যানেজ করা আছে… কেউ কোন কথা বলার সাহসও পেলোনা।

যাই হোক, সারাদিন মাস্তি করে রঙ্গিলা আকাশ এখন বাসায়। এমন খুশী জীবনে হয়নি। পাশবিক এক আনন্দে আকাশ নিজের হাতটাও ধুচ্ছেনা। এই হাত দিয়ে এলাকার কত মেয়েকে…. চিন্তা করতেই ভিতরের পশুটা খেউ খেউ করে হাসছে….। রং মাখা হাত নিয়ে সোফায় বসে টিভি দেখছে।

আরও দেখুন:  আঁধার-আলো

হঠাৎ মা ডাক দিলো ‘ এই আকাশ , এত ঘন ঘন কলিং বেল বাজাচ্ছে কেরে ? দেখতো?
‘ধুরো মা তুমি যাও তো, আমি পারবোনা। ‘
‘যা না বাবা, আমি তো রান্না করতেছি।’
যাই হোক, মায়ের চাপাচাপিতে হাসিমুখে দরজা খুলতে গেল আকাশ। রং মাখা হাত দিয়েই দরজা খুললো।

দরজা খুলেই আকাশের মাথা খারাপ।

…..
……….
………….

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কানছে আকাশের ছোট বোন: ঐশী।

‘ভাইয়া, আমার সব শেষ’ চিৎকার করলৌ ঐশী।

দরজার পাশের লাইটা অন করলো আকাশ।

ঐশীর মুখ থেকে পা পর্যন্ত রং মাখানো, সাদা সেলোয়ার কামিজ টা লাল-নীল হয়ে গেছে। শরীরের এক ইঞ্চি জায়গা বাকি নেই।

চিনতে ভুল হচ্ছে না আকাশে, ঐশীর সাদা সেলোয়ার কামিজে তার নিজের হাতের কিনা লাল মিয়ার দোকানের রং…..
মাথা খারাপ হয়ে গেল আকাশের।

‘তুই বাসার বাহিরে কেন? তোর না আজকে ছুটি?– চিৎকার করলো আকাশ।

‘ভাইয়া আমি ভূতের গলি দিয়ে যাচ্ছিলাম মৌরীর বাসায়, কালকে পরীক্ষা। তাই ওর কাছ থেকে নোট নিতে। রিকসা করে যাচ্ছিলাম…
কান্নায় মুখ ভিজে যাচ্ছে মৌরীর…. চোখের পানি রঙ্গিন হয়ে নীচে পড়ছে….

খুব শক্ত করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে নিল মৌরী।

‘ডন ভাইয়াকে কত করে বললাম আমি আকাশ ভাইর ছোট বোন।
শুনলোই না…..

রিক্সা থামিয়েই ডন ভাই আর তার বন্ধুরা আমাকে ….. ‘

আর বলতে পারলোনা মৌরী , অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।

দাঁড়িয়ে আছে আকাশ। মৌরী র রঙ্গীন নিথর দেহের সামনে দাড়িয়ে আছে আকাশ। জীবনে প্রথম হয়তো চোখ থেকে ঝর ঝর করে অশ্রু ঝরছে আকাশের।

চোখের পানি দিয়ে এভাবে নিজের হাতের রং পরিষ্কার করতে হবে, এমনটা কখনও ভাবেনি আকাশ …..

অফটপিক ১: হোলি = Holy = পবিত্র ……

অফটপিক ২: “গোয়ায় হোলি উৎসবের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী আইরিশ যুবতীকে ধর্ষণ ও হত্যা” – ১৬ মার্চ ২০১৭ – goo.gl/sRRPsk

আরও দেখুন:  সেপালকার ইন লাভ!

 

– M. Rezaul Karim Bhuyan

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button