ছালাতের নিয়ম

যরূরী দো‘আ সমূহ

দো‘আর গুরুত্ব :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ ‘দো‘আ হ’ল ইবাদত’।[1]

আল্লাহ বলেন,اُدْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ، إِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِيْ سَيَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دَاخِرِيْنَ- (غافر60)- ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকার বশে আমার ইবাদত হ’তে বিমুখ হয়, সত্বর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত অবস্থায়’। এখানে ‘ইবাদত’ অর্থ দো‘আ।[2]

আল্লাহ আরও বলেন,

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيْبُوْا لِي وَلْيُؤْمِنُوْا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُوْنَ- (البقرة 186)-

‘আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও যে, আমি তাদের অতীব নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিয়ে থাকি, যখন সে আমাকে আহবান করে। অতএব তারা যেন আমার আদেশ সমূহ পালন করে এবং আমার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে। যাতে তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়’ (বাক্বারাহ ২/১৮৬)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ لَمْ يَدْعُ اللهَ سُبْحَانَهُ غَضِبَ عَلَيْهِ ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে ডাকে না, তিনি তার উপরে ক্রুদ্ধ হন’। [3] তিনি বলেন, لَيْسَ شَىْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ سُبْحَانَهُ مِنَ الدُّعَاءِ ‘মহান আল্লাহর নিকট দো‘আর চাইতে অধিক মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর কিছু নেই’।[4]

দো‘আর ফযীলত : হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘মুসলমান যখন অন্য কোন মুসলমানের জন্য দো‘আ করে, যার মধ্যে কোনরূপ গোনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা থাকে না, আল্লাহ পাক উক্ত দো‘আর বিনিময়ে তাকে তিনটির যেকোন একটি দান করে থাকেন। (১) তার দো‘আ দ্রুত কবুল করেন অথবা (২) তার প্রতিদান আখেরাতে প্রদান করার জন্য রেখে দেন অথবা (৩) তার থেকে অনুরূপ আরেকটি কষ্ট দূর করে দেন। একথা শুনে ছাহাবীগণ উৎসাহিত হয়ে বললেন, তাহ’লে আমরা বেশী বেশী দো‘আ করব। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আল্লাহ তার চাইতে আরও বেশী দো‘আ কবুলকারী’।[5] এজন্য সর্বদা পরস্পরের নিকট দো‘আ চাইতে হবে।

দো‘আ কবুলের শর্তাবলী : (১) শুরুতে এবং শেষে হাম্দ ও দরূদ পাঠ করা (২) দো‘আ আল্লাহর প্রতি খালেছ আনুগত্য সহকারে হওয়া (৩) দো‘আয় কোন পাপের কথা কিংবা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা না থাকা (৪) খাদ্য-পানীয় ও পোষাক হালাল ও পবিত্র হওয়া (৫) দো‘আ কবুলের জন্য ব্যস্ত না হওয়া (৬) নিরাশ না হওয়া ও দো‘আ পরিত্যাগ না করা (৭) উদাসীনভাবে দো‘আ না করা এবং দো‘আ কবুলের ব্যাপারে সর্বদা দৃঢ় আশাবাদী থাকা।

তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে যে কোন সময় যে কোন বান্দার এমনকি কাফের-মুশরিকের দো‘আও কবুল করে থাকেন, যদি সে অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চায়।

নিয়ম : খোলা দু’হস্ততালু একত্রিত করে চেহারা বরাবর সামনে রেখে দো‘আ করবে।[6] দো‘আর শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ করবে। অতঃপর বিভিন্ন দো‘আ পড়বে।[7] যেমন,আল-হামদু লিল্লা-হি রবিবল ‘আ-লামীন, ওয়াছছালাতু ওয়াসসালা-মু ‘আলা রাসূলিহিল কারীম’ বলার পর বিভিন্ন দো‘আ শেষে ‘সুবহা-না রবিবকা রবিবল ‘ইযযাতি ‘আম্মা ইয়াছিফূন, ওয়া সালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন, ওয়াল হামদু লিল্লা-হি রবিবল ‘আ-লামীন’ পাঠ অন্তে দো‘আ শেষ করবে।

দো‘আর আদব : (১) কাকুতি-মিনতি সহকারে ও গোপনে হওয়া।[8] (২) একমনে ভয় ও আকাংখা সহকারে এবং অনুচ্চ শব্দে অথবা মধ্যম স্বরে হওয়া।[9] (৩) সারগর্ভ ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া।[10]

দো‘আ কবুলের স্থান ও সময় : আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’।[11] এতে বুঝা যায় যে, যে কোন স্থানে যে কোন সময় যে কোন ভাষায় আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দিবেন। তবে ছালাতের মধ্যে আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় দো‘আ করা যাবে না। দো‘আর জন্য হাদীছে বিশেষ কিছু স্থান ও সময়ের ব্যাপারে তাকীদ এসেছে, যেগুলি সংক্ষেপে বর্ণিত হ’ল :

(১) কুরআনী দো‘আ ব্যতিরেকে হাদীছে বর্ণিত দো‘আ সমূহের মাধ্যমে সিজদায় দো‘আ করা (২) শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে (৩) জুম‘আর দিনে ইমামের মিম্বরে বসা হ’তে সালাম ফিরানো পর্যন্ত সময়কালে (৪) রাত্রির নফল ছালাতে (৫) ছিয়াম অবস্থায় (৬) রামাযানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ বেজোড় রাত্রিগুলিতে (৭) ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দু’হাত উঠিয়ে (৮) হজ্জের সময় আরাফা ময়দানে দু’হাত উঠিয়ে (৯) মাশ‘আরুল হারাম অর্থাৎ মুযদালিফা মসজিদে অথবা বাইরে স্বীয় অবস্থান স্থলে ১০ই যিলহাজ্জ ফজরের ছালাতের পর হ’তে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত দো‘আ করা (১০) ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহাজ্জ তারিখে মিনায় ১ম ও ২য় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু দূরে সরে গিয়ে দু’হাত উঠিয়ে দো‘আ করা (১১) কা‘বাগৃহের ত্বাওয়াফের সময় রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে। (১২) ‘কারু পিছনে খালেছ মনে দো‘আ করলে, সে দো‘আ কবুল হয়। সেখানে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ঐ ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য দো‘আ করে, তখনই উক্ত ফেরেশতা ‘আমীন’ বলেন এবং বলেন তোমার জন্যও অনুরূপ হৌক’।[12] এতদ্ব্যতীত অন্যান্য আরও কিছু স্থানে ও সময়ে।

তিন ব্যক্তির দো‘আ নিশ্চিত কবুল হয় :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তির দো‘আ নিশ্চিতভাবে কবুল হয়, এতে কোন সন্দেহ নেই (১) মাযলূমের দো‘আ (২) মুসাফিরের দো‘আ (৩) সন্তানের জন্য পিতার দো‘আ।[13] তিনি বলেন, ‘ তোমরা মাযলূমের দো‘আ হ’তে সাবধান থাকো। কেননা তার দো‘আ ও আল্লাহর মধ্যে কোন পর্দা নেই’। [14]

বিভিন্ন সময়ের দো‘আ সমূহ (الدعوات فى الأوقات)

১. শুভ কাজের শুরুতে : (ক) খানাপিনা সহ সকল শুভ কাজের শুরুতে বলবে- بِسْمِ اللهِ ‘বিসমিল্লা-হ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি)।[15] (খ) শেষে বলবে- اَلْحَمْدُ ِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।[16]

(গ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা বিসমিল্লাহ বল, যখন তোমরা দরজা-জানালা বন্ধ কর অথবা কোন খাদ্য ও পানীয়ের পাত্রে ঢাকনা দাও। যদি ঢাকনা দেওয়ার কিছু না পাও, তাহ’লে পাত্রের উপর কোন কাঠি বা কাষ্ঠখন্ড রেখে দাও। যার ফলে তা অনিষ্ট হ’তে নিরাপদ থাকবে। [17]

উল্লেখ্য যে, কোন অন্যায় কাজের শুরুতে ও শেষে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ বলা যাবে না বা আল্লাহর সাহায্য চাওয়া যাবে না। কেননা এগুলি শয়তানের কাজ। আর আল্লাহর অনুগ্রহ কেবল ন্যায় ও সৎ কাজের সাথে থাকে।

২. (ক) মঙ্গলজনক কিছু দেখলে বা শুনলে বলবে, اَلْحَمْدُ ِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ (খ) পসন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলে বলবে,اَلْحَمْدُ ِللهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ ‘আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী বিনি‘মাতিহি তাতিম্মুছ ছা-লিহা-ত’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যার অনুগ্রহে সকল শুভ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে)। (গ) অপসন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলে বলবে, اَلْحَمْدُ للهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ‘আলহামদুলিল্লা-হি ‘আলা কুল্লে হা-ল’ (সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা)।[18] (ঘ) বিস্ময়কর কিছু দেখলে বা শুনলে বলবে, سُبْحَانَ اللهِ ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ (মহাপবিত্র তুমি হে আল্লাহ!)। অথবা বলবে,اَللهُ أَكْبَرُ ‘আল্লা-হু আকবার’ (আল্লাহ সবার চেয়ে বড়)।[19] (ঙ) ভয়ের কারণ ঘটলে বলবে, لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই)।[20] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন যে, سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ ِللهِ ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়ালহামদুলিল্লা-হ’ এ দু’টি বাক্য আসমান ও যমীনের মধ্যের ফাঁকা স্থানকে ছওয়াবে পূর্ণ করে দেয়। اَلْحَمْدُ ِِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ মীযানের পাল্লাকে ছওয়াবে পরিপূর্ণ করে দেয়। [21]

৩. দুঃখজনক কিছু দেখলে, ঘটলে বা শুনলে বলবে, (ক) إِنَّا ِللهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ ‘ইন্না লিল্লা-হে ওয়া ইন্না ইলাইহে রা-জে’উন’ (আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী)।

(খ) অতঃপর নিজের ব্যাপারে হ’লে বলবে, اَللَّهُمَّ أَجِرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا-

‘আল্লা-হুম্মা আজিরনী ফী মুছীবাতী ওয়া আখলিফলী খায়রাম মিনহা’ (হে আল্লাহ! এই বিপদে তুমি আমাকে আশ্রয় দাও এবং আমাকে এর উত্তম বিনিময় দান কর)।[22] যদি বিপদ সর্বাত্মক হয়, তাহ’লে ‘নী’ (نِىْ)-এর স্থলে ‘না’ (نَا) বলবে।

৪. হাঁচি বিষয়ে :

(ক) হাঁচি দিলে বলবে, اَلْحَمْدُ ِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ (আল্লাহর জন্য যাবতীয় প্রশংসা =বুখারী)। অথবা বলবে, اَلْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‘আলহামদুলিল্লা-হি রবিবল ‘আ-লামীন’ (বিশ্বচরাচরের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য যাবতীয় প্রশংসা)। [23] অথবা বলবে, اَلْحَمْدُ ِللهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ‘আলহামদুলিল্লা-হি ‘আলা কুল্লে হা-ল’ (সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা)।[24]

(খ) হাঁচির জবাবে বলবে, يَرْحَمُكَ اللهُ ‘ইয়ারহামুকাল্লা-হ’ (আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন)।

(গ) হাঁচির জবাব শুনে বলবে, يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ ইয়াহদীকুমুল্লা-হু ওয়া ইউছলিহু বা-লাকুম’ (আল্লাহ আপনাকে (বা আপনাদেরকে) হেদায়াত করুন এবং আপনার (বা আপনাদের) সংশোধন করুন)।[25] অথবা বলবে, يَغْفِرُ اللهُ لِىْ وَلَكُمْ ‘ইয়াগফিরুল্লা-হু লী ওয়া লাকুম’ (আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে (বা আপনাদেরকে) ক্ষমা করুন)।[26]

(ঘ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যদি কেউ হাঁচির পরে ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ না বলে, তাহ’লে তুমি তাকে ‘ইয়ারহামুকাল্লা-হ’ বলো না। [27]

(ঙ) যদি কোন অমুসলিম হাঁচি দেয়, তখন কোন মুসলিম তাকে ‘ইয়ারহামুকাল্লা-হ’ বলবে না। কেবল তাকে ইয়াহদীকুমুল্লা-হু ওয়া ইউছলিহু বা-লাকুম’ বলবে।[28]

(চ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ হাঁচি পসন্দ করেন এবং হাই তোলা অপসন্দ করেন। অতএব তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় এবং ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ বলে, তখন যে মুসলিম তা শুনে, তার উপরে কর্তব্য হয়ে যায় ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্যে ‘ইয়ারহামুকাল্লা-হ’ বলে দো‘আ করা। তিনি বলেন, হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। অতএব যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন সে যেন সাধ্যপক্ষে তা চাপা দেয়। কেননা তোমাদের কেউ হাই তুললে ও ‘হা’ করে মুখ খুলে শব্দ করলে শয়তান হাসে। [29] তিনি একথাও বলেছেন যে, তোমাদের যখন হাই আসে, তখন মুখে হাত দিয়ে তা চেপে রাখবে। নইলে শয়তান সেখানে ঢুকে পড়বে।[30]

(ছ) ছালাতের মধ্যে হাঁচি আসলে ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ বলা যাবে। কিন্তু তার জওয়াবে মুখে ‘ইয়ারহামুকাল্লা-হ’ বলা যাবে না। [31]

৫. সম্ভাষণ বিষয়ে :

ইসলামে সম্ভাষণ রীতি হ’ল পরস্পরকে সালাম করা। ‘সালাম’ অর্থ ‘শান্তি’। আল্লাহর অপর নাম ‘সালাম’। জান্নাতকে বলা হয় ‘দারুস সালাম’ (শান্তির গৃহ)। ইসলাম শব্দের মাদ্দাহ হ’ল ‘সালাম’। ইসলামের অনুসারীকে বলা হয় মুসলিম বা মুসলমান। অতএব মুসলমানের জীবন ও সমাজ ‘সালাম’ তথা শান্তি দ্বারা পূর্ণ। তার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হ’ল পরকালে দারুস সালামে প্রবেশ করা। অতএব মুসলিম সমাজে কেবলই থাকে সালাম আর সালাম অর্থাৎ শান্তি আর শান্তি। এই সম্ভাষণ দ্বারা মুসলমান তার পক্ষ হ’তে আগন্তুক ব্যক্তিকে শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা বেশী বেশী সালাম কর। চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম কর। আরোহী পায়ে হাঁটা লোককে সালাম দিবে। কম সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দিবে। ছোটরা বড়দের সালাম দিবে। দলের পক্ষ থেকে একজন সালাম বা সালামের জবাব দিলে চলবে।[32] কোন গাছ, দেওয়াল বা পাথরের আড়াল পেরিয়ে দেখা হ’লে পুনরায় পরস্পরে সালাম দিবে।[33] কোন মজলিসে প্রবেশকালে ও বসার সময় এবং উঠে যাওয়ার সময় সালাম দিবে।[34] তিনি বলেন, আল্লাহর নিকটে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যিনি প্রথমে সালাম দেন’।[35] কোন সম্মানী ব্যক্তিকে এগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানানো মুস্তাহাব। [36]

উল্লেখ্য যে, সম্ভাষণ কালে حَيَّاكَ اللهُ হাইয়া-কাল্লা-হ (আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়ে রাখুন) বলার হাদীছ ‘যঈফ’।[37] তবে حَفِظَكَ اللهُহাফেযাকাল্লা-হ (আল্লাহ আপনাকে নিরাপদ রাখুন) বলার হাদীছ ‘ছহীহ’।[38] কেউ আহবান করলে لَبَّيْكَলাববায়েক (আমি হাযির) বলে জওয়াব দেওয়ার হাদীছ ‘ছহীহ’। [39]

ফাসেক ব্যক্তিকে সালাম না দেওয়াই ছিল সালাফে ছালেহীনের রীতি। যেমন ছাহাবী জাবের (রাঃ) ফাসেক গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে সালাম দেননি। [40] রাষ্ট্রনেতাদেরকে ইসলামী সালাম ব্যতীত অতিরঞ্জিত কোন বিশেষণে সম্ভাষণ জানানো ঠিক নয়। ওছমান বিন হুনাইফ আনছারী (রাঃ) আমীর মু‘আবিয়া (রাঃ)-কে স্রেফ ইসলামী সালাম দিয়েছিলেন, যেভাবে তিনি খলীফা আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ)-কে দিতেন। [41]

(ক) সালাম : اَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ ‘আসসালা-মু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ’। অর্থ : ‘আপনার (বা আপনাদের) উপর শান্তি ও আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হৌক’।

(খ) জওয়াবে বলবে- وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ ‘ওয়া আলাইকুমুস সালা-মু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহূ’। অর্থ: ‘আপনার (বা আপনাদের) উপরেও শান্তি এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া সমূহ বর্ষিত হৌক’। ‘আসসালা-মু আলায়কুম’ বললে ১০ নেকী, ‘ওয়া রাহমাতুল্লা-হ’ যোগ করলে ২০ নেকী এবং ‘ওয়া বারাকা-তুহূ’ যোগ করলে ৩০ নেকী পাবে।[42] ‘ওয়া মাগফিরাতুহূ’– যোগ করার হাদীছটি ‘যঈফ’।[43]

(গ) যদি কেউ কাউকে সালাম পাঠায়, তবে জওয়াবে বলবে- ‘আলায়কা ওয়া আলাইহিস সালাম’ অর্থ : ‘আপনার ও তাঁর উপরে শান্তি বর্ষিত হউক’। [44]

(ঘ) ছালাত অবস্থায় কেউ সালাম দিলে মুখে জওয়াব দেওয়া যাবে না। কেবল (ডান হাতের) আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা যাবে।[45]

প্রকাশ থাকে যে, জাহেলী যুগে শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে أَنْعَمَ اللهُ بِكَ عَيْنًا আন‘আমাল্লা-হু বিকা ‘আইনান’ (আল্লাহ আপনার চক্ষু শীতল করুন) এবং اَنْعِمْ صَبَاحًا ‘আন‘ইম ছাবা-হান’ ‘সুপ্রভাত’ (Good morning) বলা হ’ত। ইসলাম আসার পরে উক্ত প্রথা বাতিল হয় [46] এবং সালামের প্রচলন হয়।

(ঘ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুসলিম-অমুসলিম মিলিত মজলিস এবং মহিলা ও শিশুদেরকে সালাম দিতেন’।[47]

(ঙ) অমুসলিমরা সালাম দিলে উত্তরে বলবে ‘ওয়া আলায়কুম’ (আপনার উপরেও)।[48]

(চ) অমুসলিমদের শিষ্টাচার মূলক সম্ভাষণ করা যাবে। কিন্তু আক্বীদা ও আমল বিরোধী কিছু বলা বা করা যাবে না। যেমন কোন হিন্দুকে ‘নমস্কার’ বলা যাবে না। কেননা এর অর্থ ‘আমি আপনার সামনে মাথা ঝুঁকাচ্ছি। আপনি কবুল করুন’। অমনিভাবে ‘নমস্তে’ বলা যাবে না। কেননা এর অর্থ ‘আমি আপনার সামনে ঝুঁকছি’। বরং উভয়ে উভয়কে ‘আদাব’ বলা উচিত। যার অর্থ ‘আমি আপনার প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করছি’।

(ছ) কথা বলার পূর্বে সালাম দিবে’।[49] রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সালাম দিয়ে শুরু করে না, তাকে অনুমতি দিয়ো না’।[50]

(জ) মুছাফাহা : অর্থ পরস্পরের হাতের তালু মিলানো (إلصاق صفح الكف بالكف)। মুছাফাহার সময় একে অপরের ডান হাতের তালু মিলিয়ে করমর্দন করতে হয়। ছাহাবায়ে কেরাম পরস্পরে মুছাফাহা করতেন।[51] আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সকল শুভ কাজ ডান হাত দিয়ে করা পসন্দ করতেন’। [52] দুইজনের চার হাত মিলানো ও বুকে হাত লাগানোর প্রচলিত প্রথা সুন্নাত বিরোধী আমল। সাক্ষাতকালে মাথা ঝুঁকানো, বুকে জড়িয়ে ধরা, কোলাকুলি করা, হাতে বা কপালে চুমু খাওয়া নয়, কেবল সালাম ও মুছাফাহা করবে।[53] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, দুইজন মুসলমান সাক্ষাতকালে যখন পরস্পরে মুছাফাহা করে, তখন তাদের উভয়কে ক্ষমা করা হয়, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়।[54] হাতে চুমু খাওয়া ও পায়ে হাত দিয়ে কদমবুসি করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছ ‘যঈফ’। [55]

অতএব ঈদের দিন কোলাকুলি নয়, বরং পরস্পরে দো‘আ করা আবশ্যক। কেননা ছাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পরে সাক্ষাতে বলতেন,‘তাক্বাববালাল্লা-হু মিন্না ওয়া মিনকা’ অথবা ‘মিনকুম’ (আল্লাহ আমাদের ও আপনার বা আপনাদের পক্ষ হ’তে কবুল করুন! -তামামুল মিন্নাহ ৩৫৪ পৃঃ)। অতএব সালাম ও ঈদ মোবারক বললেও সাথে সাথে উক্ত দো‘আটি পড়া উচিৎ।

৬. সফর বিষয়ে :

(ক) ঘর হ’তে বের হওয়াকালীন দো‘আ :

بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ-

উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্লা-হি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’

অনুবাদ : ‘আল্লাহর নামে, (বের হচ্ছি), তাঁর উপরে ভরসা করছি। নেই কোন ক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত’।[56]

(খ) বিদায় দানকারীর দো‘আ : সফরের উদ্দেশ্যে কাউকে বিদায় দেবার সময় পরস্পরের উদ্দেশ্যে নিম্নের দো‘আটি পাঠ করবেন। একা হ’লে পরস্পরের (ডান) হাত ধরে দো‘আটি পড়বেন। বহুবচনে ‘কুম’ এবং একবচনে ‘কা’ উভয় লিঙ্গে বলা যাবে। সম্মানিত ব্যক্তিকে ‘কুম’ বলতে হয়।

أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ أَعْمَالِكُمْ-

(১) উচ্চারণ : আসতাওদি‘উল্লা-হা দীনাকুম ওয়া আমা-নাতাকুম ওয়া খাওয়া-তীমা আ‘মা-লিকুম’

অনুবাদ : আমি (আপনার বা আপনাদের) দ্বীন, ও আমানত সমূহ এবং শেষ আমল সমূহকে আল্লাহর হেফাযতে ন্যস্ত করলাম।[57] এখানে ‘আমানত সমূহ’ বলতে তার পরিবারের দায়িত্ব ও সফরকালীন দায়-দায়িত্ব সমূহকে বুঝানো হয়েছে। ‘শেষ আমল সমূহ’ বলতে حسن الخاتمة অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ নেক আমল সমূহকে বুঝানো হয়েছে (মিরক্বাত)

আরও দেখুন:  প্রয়োজনীয় সূরা সমূহ

বিদায় দানকারীগণ উপরের দো‘আটির সাথে নিম্নের দো‘আটি যোগ করতে পারেন,

زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى وَغَفَرَ ذَنْبَكَ وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كُنْتَ-

(২) উচ্চারণ: যাউয়াদাকাল্লা-হুত্ তাক্বওয়া ওয়া গাফারা যাম্বাকা ওয়া ইয়াস্সারা লাকাল খায়রা হায়ছু মা কুন্তা’।

অনুবাদ : আল্লাহ আপনাকে তাক্বওয়ার পুঁজি দান করুন! আপনার গোনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন’। [58]

উল্লেখ্য যে, ফী আমা-নিল্লা-হ বলে বিদায় দেওয়ার প্রচলিত প্রথার কোন ভিত্তি নেই। বিদায় দানকালে তাঁর সাথে কিছুদূর সাথে হেঁটে যাওয়া মুস্তাহাব। [59] এ সময় পরস্পরে দো‘আ চেয়ে বর্ণিত নিম্নের বহুল প্রচলিত হাদীছটি ‘যঈফ’।- أَشْرِكْنَا يَا أُخَيُّ فِي دُعَائِكَ وَلاَ تَنْسَنَا فِي دُعَائِكَ (হে আমার ভাই! আপনার দো‘আয় আমাকে শরীক রাখবেন এবং আপনার দো‘আয় আমাকে ভুলবেন না)। [60]

(গ) কেউ দো‘আ চাইলে তার জন্য দো‘আ : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খাদেম আনাস-এর জন্য তার মা উম্মে সুলায়েম দো‘আ চাইলে তিনি তার জন্য দো‘আ করেন, اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ আল্লা-হুম্মা আকছির মা-লাহু ওয়া ওয়ালাদাহু, ওয়া বা-রিক লাহু ফীমা আ‘ত্বায়তাহু’ (হে আল্লাহ! তুমি তার মাল ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দাও এবং তাকে তুমি যা কিছু দিয়েছ, তাতে বরকত দাও)। আনাস (রাঃ) বলেন, এতে আমার সম্পদে ও সন্তানাদিতে খুবই প্রবৃদ্ধি ঘটেছিল। [61]

উল্লেখ্য যে, উক্ত দো‘আ ব্যক্তি বুঝে পড়া যাবে, সকলের ক্ষেত্রে নয়। কেননা রোগী ও বিপদগ্রস্তের জন্য পৃথক দো‘আ রয়েছে। তবে বর্ণিত দো‘আর শেষ অংশটি اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহু ফীমা আ‘ত্বায়তাহু’ অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অথবা বলবে, بَارَكَ اللهُ لَكَ বা-রাকাল্লা-হু লাকা অথবা বহুবচনে ‘লাকুম’ (আল্লাহ আপনার মধ্যে প্রবৃদ্ধি দান করুন)। অথবা بَارَكَ اللهُ فِىْ أَهْلِكَ وَمَالِكَবা-রাকাল্লা-হু ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা’ অথবা বহুবচনে ‘কুম’ (আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে প্রবৃদ্ধি দান করুন)। [62]

(ঘ) অতঃপর বিসমিল্লাহ বলে (ডান) পা পরিবহনের উপর রাখবে এবং আরোহনের সময় নিম্নস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে থাকবে। [63] অতঃপর সীটে বসে আলহামদুলিল্লাহ বলবে।[64] পরিবহন চলা শুরু করলে নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করবে।-

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِيْنَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ، اَللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِيْ سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اَللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ لَنَا بُعْدَهُ، اَللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيْفَةُ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَ الْأَهْلِ-

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার (৩ বার)। সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীনা, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন। আল্লা-হুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বির্রা ওয়াত তাক্বওয়া ওয়া মিনাল ‘আমালে মা তারযা; আল্লা-হুম্মা হাওভিন ‘আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াত্বভে লানা বু‘দাহূ, আল্লা-হুম্মা আনতাছ ছা-হিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালীফাতু ফিল আহ্লি ওয়াল মা-লি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ওয়া‘ছা-ইস সাফারি, ওয়া কাআ-বাতিল মানযারি, ওয়া সূইল মুনক্বালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্লি

অর্থ: ‘আল্লাহ সবার চেয়ে বড় (তিনবার)। মহা পবিত্র সেই সত্তা যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অনুগত করার ক্ষমতা রাখি না। আর আমরা সবাই আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’।[65] হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকটে আমাদের এই সফরে কল্যাণ ও তাক্বওয়া এবং এমন কাজ প্রার্থনা করি, যা আপনি পসন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের উপরে এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি এই সফরে আমাদের একমাত্র সাথী এবং পরিবারে ও মাল-সম্পদে আপনি আমাদের একমাত্র প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে পানাহ চাই সফরের কষ্ট, খারাব দৃশ্য এবং মাল-সম্পদ ও পরিবারের নিকটে মন্দ প্রত্যাবর্তন হ’তে।[66]

(ঙ) নতুন গন্তব্য স্থলে পৌঁছে কিংবা কোন ক্ষতিকর বস্ত্ত থেকে বাঁচার জন্য পড়বে- أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন শার্রি মা খালাক্ব’ (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমা সমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্টকারিতা হ’তে পানাহ চাচ্ছি)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘এই দো‘আ পাঠ করলে, ঐ স্থান হ’তে প্রস্থান করা পর্যন্ত তাকে কোন কিছুই ক্ষতি করবে না’।[67] তিনি বলেন, ‘যদি এটা সন্ধ্যাবেলা পড়া হয়, তাহ’লে ঐ রাতে তাকে সাপ-বিচ্ছু দংশন করবে না’। [68]

(চ) সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর দো‘আ :

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لآ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ سَاجِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ…-

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার (৩ বার)। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আ-য়িবূনা তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা সা-জিদূনা লিরবিবনা হা-মিদূনা

অর্থ : ‘আল্লাহ সবার চেয়ে বড় (তিনবার), আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা কেবল তাঁর জন্যই। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তন করলাম তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিজদাকারী এবং আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী রূপে…’।[69] অতঃপর পরিবহন থেকে নামার সময় বলবে ‘সুবহানাল্লাহ’ [70]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সফর থেকে ফিরে সাধারণত: প্রথমে মসজিদে দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করতেন।[71]

(ছ) গৃহে প্রবেশকালে দো‘আ :

প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে।[72] অতঃপর গৃহবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিবে (নূর ২৪/৬১)

(জ) কারো গৃহে প্রবেশকালে অনুমতি প্রার্থনা করবে এবং দরজার বাইরে থেকে অনধিক তিনবার সরবে ‘সালাম’ দিবে। অনুমতি না পেলে ফিরে যাবে। [73] এই সময় নিজের নাম বলা উত্তম।[74] সালাম দেওয়ার পরে অনুমতি গ্রহণ করতে পারবে এবং গলায় শব্দ করবে।[75]

৭. খানাপিনার আদব ও দো‘আ :

প্রথমে সতর্ক হতে হবে যে, খাদ্যটি হালাল ও পবিত্র (ত্বাইয়িব) কি-না (বাক্বারাহ ২/১৬৮)। নইলে তা খাবে না। অতঃপর খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালভাবে ডান হাত ধুয়ে নিবে। ধোয়া হাত দিয়ে অন্য কিছু ধরলে খাওয়ার শুরুতে পুনরায় হাত ধুবে। যেন অলক্ষ্যে সেখানে কিছু লেগে না থাকে। ঘুম থেকে উঠে এলে অবশ্যই আগে মিসওয়াক করে নিবে। অতঃপর খাওয়ার শেষে দাঁতে খিলাল করবে ও খাদ্য কণা বের করে ফেলে দিবে। কেননা এগুলি থাকলে পচে পোকা হয় এবং তা পেটে গিয়ে পেট নষ্ট করে। অবশেষে পেট ও দাঁত দু’টিই বিনষ্ট হয়। স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে।

(ক) খানাপিনার শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তুমি খাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বল। ডান হাত দিয়ে খাও ও নিকট থেকে খাও, মাঝখান থেকে নয়।[76] বাম হাতে খাবে না বা পান করবে না। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে। [77]

(খ) খাদ্য পড়ে গেলে সেটা ছাফ করে খাও। শয়তানের জন্য রেখে দিয়ো না। খাওয়া শেষে হাত ধোয়ার পূর্বে ভালভাবে প্লেট ও আঙ্গুল চেটে খাও। কেননা কোন খাদ্যে বরকত আছে, তোমরা তা জানো না’।[78] অনেকে প্লেট ধুয়ে খান। কেউ আঙ্গুল দিয়ে প্লেট না চেটে সরাসরি জিভ দিয়ে প্লেট চাটেন। এগুলি স্রেফ বাড়াবাড়ি। খাওয়ার শেষে ভালভাবে (সাবান ইত্যাদি দিয়ে) হাত ধুয়ে ফেলবে। যেন সেখানে কিছুই লেগে না থাকে। [79]

(গ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ভান্ডের মুখে মুখ লাগিয়ে এবং দাঁড়িয়ে খেতে ও পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।[80] তবে তিনি যমযমের পানি এবং ওযূ শেষে পাত্রে অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন।[81] পানির পাত্রের মধ্যে শ্বাস ফেলবে না বরং তিনবার বাইরে শ্বাস ফেলবে (ও ধীরে ধীরে পানি পান করবে)।[82]

(ঘ) খাদ্য পরিবেশনের সময় ডান দিক থেকে শুরু করবে।[83]

(ঙ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আদম সন্তানের জন্য কয়েক লোকমা খাদ্য যথেষ্ট, যা দিয়ে সে তার কোমর সোজা রাখতে পারে (ও আল্লাহর ইবাদত করতে পারে)। এরপরেও যদি খেতে হয়, তবে পেটের তিনভাগের এক ভাগ খাদ্য ও একভাগ পানি দিয়ে ভরবে এবং একভাগ খালি রাখবে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য’। [84] তিনি বলেন, এক মুমিনের খানা দুই মুমিনে খায়। দুই মুমিনের খানা চার মুমিনে খায় এবং চার মুমিনের খানা আট মুমিনে খায় (অর্থাৎ সর্বদা সে পরিমাণে কম খায়)।[85] কেননা মুমিন এক পেটে খায় ও কাফের সাত পেটে খায় (অর্থাৎ সে সর্বদা বেশী খায়)।[86]

(চ) কাত হয়ে বা ঠেস দিয়ে খেতে নেই।[87]

(ছ) খাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ না বললে শয়তান তার সাথে খায়।[88]

(জ) খাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুলে গেলে (শেষ হওয়ার আগেই) বলবে, بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهُ وَآخِرَهُ ‘বিসমিল্লা-হি আউওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ’ (আল্লাহর নামে এর শুরু ও শেষ)।[89]

(ঝ) খাওয়া ও পানি পান শেষে বলবে, (১) الْحَمْدُ ِللهِ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। [90] অথবা বলবে, (2) الْحَمْدُ ِللهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنِيْ هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّيْ وَلاَ قُوَّةٍ-

(২) আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানী হা-যা ওয়া রাঝাক্বানীহি মিন গায়রে হাওলিম মিন্নী ওয়ালা ক্বুউওয়াতিন’ (সেই আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আমাকে আমার ক্ষমতা ও শক্তি ছাড়াই এই খাবার খাইয়েছেন এবং এই রূযী দান করেছেন)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি খাওয়ার পরে এটি পাঠ করবে, তার বিগত সকল গোনাহ মাফ করা হবে।[91]

অথবা বলবে, (3) اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ-

(৩) আল্লা-হুম্মা বা-রিক লানা ফীহি ওয়া আত্ব‘ইমনা খায়রাম মিনহু’ (‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য এই খাদ্যে বরকত দাও এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাওয়াও’)।[92]

(৪) দুধ পান শেষে বলবে, اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ-

আল্লা-হুম্মা বা-রিক লানা ফীহি ওয়া ঝিদনা মিনহু’ (হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে এই খাদ্যে বরকত দান কর এবং এর চাইতে আরো বৃদ্ধি করে দাও)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, এটা এ কারণে যে, দুগ্ধ ব্যতীত খাদ্য ও পানীয় উভয়টির জন্য যথেষ্ট হয়, এমন কোন খাদ্য নেই।[93]

এছাড়াও খানাপিনার অন্যান্য দো‘আ রয়েছে।

(ঞ) খাওয়া শেষে প্লেট বা দস্তারখান উঠানোর সময় বলবে, اَلْحَمْدُ ِللهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيْهِِআলহামদুলিল্লা-হি হামদান কাছীরান ত্বাইয়েবাম মুবা-রাকান ফীহি’… (আল্লাহর জন্য যাবতীয় প্রশংসা, যা অগণিত, পবিত্র ও বরকত মন্ডিত…)। [94]

(ট) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মিষ্টি ও মধু পসন্দ করতেন।[95]

৮. মেযবানের জন্য দো‘আ :

(1) اَللَّهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أطْعَمَنِىْ وَاسْقِ مَنْ سَقَانِىْ-

(ক) আল্লা-হুম্মা আত্ব‘ইম মান আত্ব‘আমানী ওয়াসক্বি মান সাক্বা-নী’ (হে আল্লাহ! তুমি তাকে খাওয়াও যিনি আমাকে খাইয়েছেন এবং তাকে পান করাও যিনি আমাকে পান করিয়েছেন)।[96] বহুবচনে ‘না’ বলবে। অথবা বলবে,

(২) أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُوْنَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمْ الْأَبْرَارُ وَ صَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ-

(খ) আফত্বারা ইনদাকুমুছ ছা-য়েমূন, ওয়া আকালা ত্বা‘আ-মাকুমুল আবরা-রু, ওয়া ছাল্লাত আলায়কুমুল মালা-য়েকাহ’ (ছায়েমগণ আপনার নিকট ইফতার করুন। নেককার ব্যক্তিগণ আপনার খাদ্য গ্রহণ করুন এবং ফেরেশতাগণ আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন)।[97] অথবা বলবে,

(৩) اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيْمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْلَهُمْ وَارْحَمْهُمْ-

(গ) আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা রাঝাক্বতাহুম ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম’ (হে আল্লাহ! তুমি তাদের যে রূযী দান করেছ, তাতে প্রবৃদ্ধি দান কর। তুমি তাদের ক্ষমা কর ও তাদের উপর রহম কর)।[98]

৯. ঘুমানোর সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় দো‘আ :

(ক) ঘুমানোর সময় ডান কাতে শুয়ে বলবে, بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا ‘বিসমিকাল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া’ (হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মরি ও বাঁচি’। অর্থাৎ তোমার নামে আমি শয়ন করছি এবং তোমারই দয়ায় আমি পুনরায় জাগ্রত হব)। (খ) ঘুম থেকে ওঠার সময় বলবে, اَلْحَمْدُ ِللهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আহইয়া-না বা‘দা মা আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর’ (সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু দানের পর জীবিত করলেন এবং ক্বিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই হবে আমাদের পুনরুত্থান)। [99]

১০. ছিয়াম বিষয়ে :

(ক) ইফতারের দো‘আ : بِسْمِ اللهِ ‘বিসমিল্লা-হ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি)।

(খ) ইফতার শেষে দো‘আ : اَلْحَمْدُ ِللهِ আলহামদুলিল্লা-হ’ (আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা)। অথবা (ঐ সাথে) বলবে,

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَآءَ اللهُ-

‘যাহাবায যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরূক্বু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লাহ’ (তৃষ্ণা দূর হ’ল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হ’ল এবং আল্লাহ চাহে তো পুরস্কার নিশ্চিত হ’ল)।[100]

(গ) লায়লাতুল ক্বদরের বিশেষ দো‘আ :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলিতে পড়ার জন্য নিম্নের দো‘আটি শিক্ষা দিয়েছিলেন।-

اَللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুববুন তোহেববুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী’ (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর)।[101]

১১. কারু থেকে ভয় থাকলে পড়বে :

اَللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِيْ نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ-

(ক) আল্লা-হুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়া না‘ঊযুবিকা মিন শুরূরিহিম’ (হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে ওদের মুকাবিলায় পেশ করছি এবং ওদের অনিষ্ট সমূহ হ’তে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। [102] (খ) অথবা বলবে, اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ‘আমিলতু ওয়া শার্রি মা লাম আ‘মাল’ (হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, ঐসব কাজের অনিষ্টকারিতা হ’তে, যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি)।[103]

১২. ছালাতে শয়তানী ধোঁকা হ’তে বাঁচার উপায় :

শয়তান ছালাতের মধ্যে ঢুকে ছালাত ও ক্বিরাআতের মধ্যে গোলমাল সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, এরা হ’ল ‘খিনযাব’ (শয়তানের একটি বিশেষ দল)। যখন তুমি এদের অস্তিত্ব বুঝতে পারবে, তখন শয়তান থেকে আল্লাহর পানাহ চেয়ে আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির বলে বাম দিকে তিনবার থুক মারবে। রাবী ওছমান বিন আবুল ‘আছ বলেন, এরূপ করাতে আল্লাহ আমার থেকে ঐ শয়তানকে দূরে সরিয়ে দেন।[104]

১৩. সাইয়িদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।

اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’। [105]

১৪. নতুন চাঁদ দেখার দো‘আ :

اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ-

উচ্চারণ : আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহূ ‘আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমা-নি, ওয়াস্সালা-মাতি ওয়াল ইসলা-মি, ওয়াততাওফীক্বি লিমা তুহিববু ওয়া তারযা; রববী ওয়া রববুকাল্লা-হ

অর্থ : আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের উপরে চাঁদকে উদিত করুন শান্তি ও ঈমানের সাথে, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে এবং আমাদেরকে ঐ সকল কাজের ক্ষমতা দানের সাথে, যা আপনি ভালবাসেন ও যাতে আপনি খুশী হন। (হে চন্দ্র!) আমার ও তোমার প্রভু আল্লাহ’।[106]

আরও দেখুন:  ছালাতের বিবিধ জ্ঞাতব্য

১৫. (ক) ঝড়ের সময় দো‘আ :

اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا وَمِنْ شَرِّ مَا اُرْسِلَتْ بِهِ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা ফীহা ওয়া খায়রা মা উরসিলাত বিহী; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রিহা ওয়া শার্রি মা ফীহা ওয়া মিন শার্রি মা উরসিলাত বিহী’।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে এর মঙ্গল, এর মধ্যকার মঙ্গল ও যা নিয়ে ওটি প্রেরিত হয়েছে, তার মঙ্গল সমূহ প্রার্থনা করছি এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর অমঙ্গল হ’তে, এর মধ্যকার অমঙ্গল হ’তে এবং যা নিয়ে ওটি প্রেরিত হয়েছে, তার অমঙ্গল সমূহ হ’তে’।[107] অন্য বর্ণনায় এসেছে, اَللَّهُمَّ لَقْحًا لاَ عَقِيْمًا আল্লা-হুম্মা লাক্বহান লা ‘আক্বীমান’ (হে আল্লাহ! মঙ্গলপূর্ণ কর, মঙ্গলশূন্য নয়)। [108]

(খ) বজ্রের আওয়ায শুনে দো‘আ :

سُبْحَانَ الَّذِىْ يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلآئِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ، ( الرعد 13)-

উচ্চারণ : সুবহা-নাল্লাযী ইয়ুসাবিবহুর রা‘দু বিহামদিহী ওয়াল মালা-ইকাতু মিন খীফাতিহি’।

অনুবাদ : মহা পবিত্র সেই সত্তা যাঁর গুণগান করে বজ্র ও ফেরেশতামন্ডলী সভয়ে’।[109]

(গ) ঝড়-বৃষ্টির ঘনঘটায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়তে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, এগুলিই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে অন্য সবকিছু থেকে’।[110]

উল্লেখ্য যে, এই সময় আল্লা-হুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাযাবিকা অলা তুহলিকনা বি‘আযাবিকা ওয়া ‘আ-ফিনা ক্বাবলা যালিকা মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘যঈফ’। [111]

১৬. রোগী পরিচর্যার দো‘আ :

রোগীর মাথায় ডান হাত রেখে বা দেহে ডান হাত বুলিয়ে দো‘আ পড়বে-

أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَّ يُغَادِرُ سَقَمًا-

(১) উচ্চারণ : আয্হিবিল বা’স, রববান না-স! ওয়াশ্ফি, আনতাশ শা-ফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উকা, শিফা-আল লা ইউগা-দিরু সাক্বামা।

অনুবাদ : ‘কষ্ট দূর কর হে মানুষের প্রতিপালক! আরোগ্য দান কর। তুমিই আরোগ্য দানকারী। কোন আরোগ্য নেই তোমার দেওয়া আরোগ্য ব্যতীত; যা কোন রোগীকে ধোঁকা দেয় না’। [112]

(২) অথবা لاَ بَأْسَ طَهُوْرٌ إنْ شآءَ اللهُ ‘লা বা’সা ত্বহূরুন ইনশা-আল্লাহ’। ‘কষ্ট থাকবে না। আল্লাহ চাহে তো দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন’। [113]

(৩) অথবা দেহের ব্যথাতুর স্থানে (ডান) হাত রেখে রোগী তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। অতঃপর সাতবার নিম্নের দো‘আটি পাঠ করবে,

أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِه مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ আ‘ঊযু বি‘ইযযাতিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহি মিন শার্রি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু’ (আমি যে ব্যথা ভোগ করছি ও যে ভয়ের আশংকা করছি, তার অনিষ্ট হ’তে আমি আল্লাহর সম্মান ও শক্তির আশ্রয় প্রার্থনা করছি)’।

রাবী ওছমান বিন আবুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, আমি এটা করি এবং আল্লাহ আমার দেহের বেদনা দূর করে দেন।[114]

(৪) অথবা সূরা ফালাক্ব ও নাস পড়ে দু’হাতে ফুঁক দিয়ে রোগী নিজে অথবা তার হাত ধরে অন্য কেউ যতদূর সম্ভব সারা দেহে বুলাবে। [115]

১৭. নতুন কাপড় পরিধানকালে দো‘আ :

اَلْحَمْدُ ِللهِ الَّذِىْ كَسَانِىْ هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّىْ وَلاَ قُوَّةٍ-

উচ্চারণ : আলহাম্দুলিল্লা-হিল্লাযি কাসা-নী হা-যা ওয়া রাঝাক্বানীহি মিন গায়রে হাওলিম মিন্নী ওয়ালা কুওয়াতিন।

অনুবাদ : ‘যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি আমার কোন ক্ষমতা ও শক্তি ছাড়াই আমাকে এই কাপড় পরিধান করিয়েছেন ও এটি প্রদান করেছেন’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এটা পাঠ করে, আল্লাহ তার আগে-পিছের সকল গোনাহ মাফ করে দেন।[116]

(ক) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, গোড়ালীর নিচে কাপড় যতটুক যাবে ততটুকু জাহান্নামে পুড়বে। [117] কিন্তু মহিলারা গোড়ালীর নিচেও কাপড় পরিধান করতে পারবেন। [118]

(খ) তিনি বলেন, ‘তোমরা সাদা পোষাক পরিধান কর। কেননা এটি তোমাদের উত্তম পোষাক সমূহের অন্যতম’…।[119]

১৮. (ক) বিবাহের পর নবদম্পতির জন্য দো‘আ :

بَارَكَ اللهُ لَكُمَا وَبَارَكَ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ-

বা-রাকাল্লা-হু লাকুমা ওয়া বা-রাকা ‘আলাইকুমা ওয়া জামা‘আ বায়নাকুমা ফী খায়রিন। (এই বিবাহে আল্লাহ তোমাদের জন্য বরকত দান করুন ও তোমাদের উপর বরকত দান করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সাথে একত্রিত করুন)। [120] অথবা বলবে, اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম (হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে বরকত দাও)। বিয়ের খবর শুনে বরকে বলবে, بَارَكَ اللهُ لَكَ বা-রাকাল্লা-হু লাকা (আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন!)। [121]

উল্লেখ্য যে, ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেকে নবদম্পতির উদ্দেশ্যে উক্ত দো‘আ পড়বেন। এ সময় দু’হাত তুলে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করার প্রথাটি ভিত্তিহীন এবং এসময় বরের দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করার প্রথাটিও প্রমাণহীন।

(খ) বিবাহের পর স্ত্রীর জন্য স্বামীর দো‘আ :

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা জাবালতাহা ‘আলাইহি, ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রিহা ওয়া শার্রি মা জাবালতাহা ‘আলাইহি।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তার মঙ্গল চাই এবং তার সেই কল্যাণময় স্বভাব প্রার্থনা করি, যার উপর তুমি তাকে সৃষ্টি করেছ। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তার অনিষ্ট হ’তে এবং সেই মন্দ স্বভাবের অনিষ্ট হ’তে, যা দিয়ে তুমি তাকে সৃষ্টি করেছ’। এই সময় স্ত্রীর কপালের চুল ধরে স্বামী উক্ত বরকতের দো‘আটি করবে। [122] এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়াশীল হয়ে দাম্পত্য জীবন যাপন করার ইঙ্গিত রয়েছে।

১৯. সংকটকালীন দো‘আ :

(ক) يَا حَىُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ ‘ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীছ’ (হে চিরঞ্জীব! হে বিশ্বচরাচরের ধারক! আমি আপনার রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন কোন দুঃখ বা সংকটের সম্মুখীন হতেন, তখন এই দো‘আটি পড়তেন। [123]

(খ) ভূমিকম্প বা যে কোন আকস্মিক বিপদে বলবে, لآ إِلَهَ اِلاَّ اللهُ লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হ’ (নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত)।[124] অথবা এর সাথে উপরের দো‘আটি পড়বে। অথবা বলবে,আল্লা-হুম্মা হাওয়া-লায়না অলা ‘আলায়না (হে আল্লাহ! আমাদের থেকে ফিরিয়ে নাও। আমাদের উপর দিয়ো না)। [125]

(গ) اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُبِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلاَءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই, ওয়া দারাকিশ শাক্বা-ই, ওয়া সূ’ইল ক্বাযা-ই ওয়া শামা-তাতিল আ‘দা-ই’। (হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমকারী বিপদের কষ্ট হ’তে, দুর্ভোগের আক্রমণ হ’তে, মন্দ ফায়ছালা হ’তে এবং শত্রুর খুশী হওয়া থেকে)। [126]

(ঘ) اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيْعِ سَخَطِكَ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন যাওয়া-লি নি‘মাতিকা ওয়া তাহাউউলি ‘আ-ফিয়াতিকা ওয়া ফুজা-আতি নিক্বমাতিকা ওয়া জামী‘ই সাখাত্বিকা’ (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার থেকে আপনার নে‘মত চলে যাওয়া হ’তে, আপনার দেওয়া সুস্থতার পরিবর্তন হ’তে, আপনার শাস্তির আকস্মিক আক্রমণ হ’তে এবং আপনার যাবতীয় অসন্তুষ্টি হ’তে)।[127]

(ঙ) اَ للهُ اللهُ رَبِّي لاَ أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا আল্লাহ আল্লাহ রববী লা উশরিকু বিহী শাইয়ান (আল্লাহ আল্লাহ আমার প্রতিপালক! আমি তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করি না)’।[128]

২০. তওবা ও ইস্তেগফার (অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করা):

আল্লাহ তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, وَتُوْبُوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে ফিরে যাও। তাহ’লে তোমরা সফলকাম হবে’ (নূর ২৪/৩১)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাও। কেননা আমি দৈনিক একশ’ বার তওবা করি।[129] তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সবচেয়ে খুশী হন বান্দা তওবা করলে’। [130] তিনি আরও বলেন, كُلُّ بَنِى آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ ‘সকল আদম সন্তান ভুলকারী। আর ভুলকারীদের মধ্যে সেরা তারাই, যারা তওবাকারী’।[131]

তওবা শুদ্ধ হবার শর্তাবলী : আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয় হ’লে তওবা শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হ’ল তিনটি। (১) ঐ পাপ থেকে বিরত থাকবে (২) কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হবে (৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হবে। আর যদি পাপটি বান্দার সাথে সম্পৃক্ত হয়, তাহ’লে তাকে ৪র্থ শর্ত হিসাবে বান্দার নিকটে ক্ষমা চাইতে হবে। কোন হক বা কিছু পাওনা থাকলে তাকে তা বুঝে দিতে হবে। নইলে তার তওবা শুদ্ধ হবে না’।[132]

তওবার দো‘আ :

(১) أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহে’ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক এবং আমি তাঁর দিকেই ফিরে যাচ্ছি (বা তওবা করছি)।[133]

(২) لآ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যোয়া-লিমীন’ (হে আল্লাহ! তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি মহা পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যখন কোন মুসলিম কোন সমস্যায় এই দো‘আর মাধ্যমে তার পালনকর্তাকে আহবান করে, যা ইউনুস মাছের পেটে গিয়ে করেছিলেন, তখন আল্লাহ তার আহবানে সাড়া দেন। [134]

(৩) رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ রবিবগফিরলী ওয়া তুব ‘আলাইয়া, ইন্নাকা আনতাত তাউওয়া-বুর রহীম’ (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর ও আমার তওবা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী ও দয়াবান) ১০০ বার।[135]

২১. (ক) পিতামাতার জন্য দো‘আ :

(1) رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْراً، (الإسراء 24)-

‘রববীরহাম্হুমা কামা রববাইয়া-নী ছগীরা’ (হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের উপরে দয়া কর, যেমন তারা আমাকে ছোটকালে দয়ার সাথে প্রতিপালন করেছিলেন)’ (ইসরা ১৭/২৪)। কুরআনের আয়াত হওয়ার কারণে দো‘আটি সিজদায় পড়া যাবে না। তবে শেষ বৈঠকে দো‘আয়ে মাছূরাহর পরে পড়া যাবে।

(২) رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ-

রববানাগফিরলী ওয়ালিওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিলমু’মিনীনা ইয়াউমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব’ (হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর, যেদিন হিসাব কায়েম হবে’ (ইবরাহীম ১৪/৪১)

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ জান্নাতে তার নেককার বান্দাদের মর্যাদার স্তর উন্নীত করবেন। তখন বান্দা বলবে, হে আল্লাহ! কেন এটা আমার জন্য করা হচ্ছে? জবাবে আল্লাহ বলবেন, তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার কারণে (بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ)’। [136]

(খ) ঋণদাতা (বা যে কোন দাতার) জন্য দো‘আ :

بَارَكَ اللهُ تَعَالَى فِيْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ ‘বা-রাকাল্লা-হু তা‘আলা ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা’ (মহান আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন)। [137]

উল্লেখ্য যে, বহুল প্রচলিত দো‘আ بَارَكَ اللهُ فِيْكَ (أَوْ فِيْكُمْ) ‘বা-রাকাল্লা-হু ফীকা বা ফীকুম’ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছটি ‘যঈফ’। [138] তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বরকতের দো‘আ করেছেন বলে ছহীহ হাদীছ সমূহে প্রমাণ রয়েছে। সে হিসাবে এটি বলা জায়েয।

(গ) উপকারী ব্যক্তির জন্য দো‘আ :

جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا জাযা-কাল্লা-হু খায়রান (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন)।[139] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللهَ ‘যে ব্যক্তি মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না, সে ব্যক্তি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না’।[140] আল্লাহ বলেন, لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তাহ’লে অবশ্যই আমি তোমাদের বেশী বেশী দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহ’লে জেনো নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর’ (ইবরাহীম ১৪/৭)

(ঘ) নিজের জন্য দো‘আ [সোলায়মান (আঃ)-এর দো‘আর ন্যায়] :

رَبِّ أَوْزِعْنِيْ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِيْ أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِيْ بِرَحْمَتِكَ فِيْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ- (النمل 19)-

উচ্চারণ : ‘রবেব আওঝি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতী আন‘আমতা ‘আলাইয়া, ওয়া ‘আলা ওয়ালেদাইয়া, ওয়া আন আ‘মালা ছ-লেহান তারযা-হু, ওয়া আদখিলনী বি রহমাতিকা ফী ‘ইবা-দিকাছ ছ-লেহীন।

অনুবাদ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে যে নে‘মত তুমি দান করেছ, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি আমাকে দান কর এবং আমি যেন এমন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পসন্দ কর এবং আমাকে তোমার অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাগণের অন্তর্ভুক্ত কর’ (নমল ২৭/১৯)

(ঙ) ৪০ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর নিজের ও সন্তানদের কল্যাণের জন্য দো‘আ :

رَبِّ أَوْزِعْنِيْ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِيْ أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِيْ فِيْ ذُرِّيَّتِيْ إِنِّيْ تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ- (الأحقاف 15)-

উচ্চারণ : ‘রবেব আওঝি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতি আন‘আমতা ‘আলাইয়া, ওয়া ‘আলা ওয়া-লেদাইয়া, ওয়া আন আ‘মালা ছ-লেহান তারযা-হু, ওয়া আছলিহ লী ফী যুররিইয়াতী, ইন্নী তুবতু ইলাইকা, ওয়া ইন্নী মিনাল মুসলিমীন’।

অনুবাদ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে যে নে‘মত তুমি দান করেছ, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি আমাকে দান কর এবং আমি যেন এমন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পসন্দ কর এবং আমার জন্য আমার সন্তানদের মধ্যে তুমি কল্যাণ দান কর। আমি তোমার দিকে ফিরে গেলাম এবং আমি তোমার একান্ত আজ্ঞাবহদের অন্তর্ভুক্ত’ (আহক্বাফ ৪৬/১৫)।

আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এই দো‘আ আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ) করেছিলেন, যখন তিনি ৪০ বছর বয়সে উপনীত হন। ফলে তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যার সকল সন্তান ও পিতা-মাতা (পরবর্তীতে) ইসলাম কবুল করেছিলেন’ (কুরতুবী)। উল্লেখ্য যে, হযরত আবুবকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চাইতে বয়সে দু’বছরের ছোট ছিলেন।

২২. (ক) কোন গ্রামে বা শহরে প্রবেশের দো‘আ :

اَللَّهُمَّ إِنِّىْ اَسْأَلُكَ خَيْرَ هٰذِهِ الْقَرِيْةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا-

উচ্চারণ : ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস’আলুকা খায়রা হা-যিহিল ক্বারইয়াতি ওয়া খায়রা আহ্লিহা ওয়া খায়রা মা ফীহা। ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রিহা ওয়া শার্রি আহলিহা ওয়া শার্রি মা ফীহা।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে এই জনপদের ও এর অধিবাসীদের এবং এর মধ্যকার কল্যাণ সমূহ প্রার্থনা করছি এবং আমি এই জনপদের ও এর অধিবাসীদের এবং এর মধ্যকার অনিষ্ট সমূহ হ’তে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।[141]

(খ) বাজারে প্রবেশকালে দো‘আ :

হযরত ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশকালে নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করে, আল্লাহ তার জন্য ১ লক্ষ নেকী লিখেন, ১ লক্ষ ছগীরা গোনাহ দূর করে দেন, তার মর্যাদার স্তর ১ লক্ষ গুণ উন্নীত করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করেন’।-

لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيْتُ وَهُوَ حَيٌّ لاَ يَمُوْتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ-

উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়ুহ্য়ী ওয়া য়ুমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুন লা ইয়ামূতু, বেইয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর।

অনুবাদ : নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, যিনি একক, যার কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যই সকল রাজত্ব ও তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা। যিনি বাঁচান ও মারেন। যিনি চিরঞ্জীব, কখনোই মরেন না। তাঁর হাতেই যাবতীয় কল্যাণ। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাবান’।[142]

২৩. সারগর্ভ দো‘আ :

আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সর্বদা সারগর্ভ দো‘আ পসন্দ করতেন এবং বাকী সব ছেড়ে দিতেন’।[143] নিম্নে উক্ত মর্মে কয়েকটি দো‘আ বর্ণিত হ’ল :

(ক) اَللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، أو اَللَّهُمَّ آتِنَا فِى الدُّنْيَا…আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আযা-বান্না-র’অথবা আল্লা-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া …।

‘হে আল্লাহ! হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতে মঙ্গল দাও ও আখেরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অধিকাংশ সময় এই দো‘আ পাঠ করতেন।[144] ইবাদতের নামে নিজের উপর সাধ্যাতীত কোন কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি কেউ এটা করে, তবে তাকে ঐ কষ্টকর ইবাদত ছাড়তে হবে ও উপরোক্ত দো‘আটি পাঠ করতে হবে। তাতে সে ইনশাআল্লাহ স্বাস্থ্য ফিরে পাবে। [145]

আরও দেখুন:  ঈদায়নের ছালাত (ঈদের ছালাত)

(খ) ‘ইসমে আ‘যম’ সহ দো‘আ করা। যেমন, اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বেআন্নাকা আনতাল্লা-হুল আহাদুছ ছামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ’ (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে প্রার্থনা করছি; কেননা তুমি আল্লাহ। তুমি একক ও মুখাপেক্ষীহীন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি ও যিনি কারু থেকে জন্মিত নন এবং যাঁর সমতুল্য কেউ নেই)। জনৈক ব্যক্তিকে এটা পড়তে শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে তাঁর ‘ইসমে আযম’ (মহান নাম) সহ দো‘আ করেছে। যে ব্যক্তি উক্ত নাম সহকারে প্রার্থনা করবে, তাকে তা দেওয়া হবে। আর যখন এর মাধ্যমে দো‘আ করা হবে, তা কবুল করা হবে’।[146]

(গ) দুই সিজদার মাঝখানে বৈঠকের দো‘আটিও ‘সারগর্ভ দো‘আ’ হিসাবে গণ্য।[147]

২৪. সকাল-সন্ধ্যায় পঠিতব্য দো‘আ :

بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ إِسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ-

(ক) ‘বিস্মিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াযুর্রু মা‘আ ইসমিহী শাইয়ুন ফিল্ আর্যি ওয়া লা ফিসসামা-ই ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম’ (আমি ঐ আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোন বস্ত্তই কোনরূপ ক্ষতিসাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি উক্ত দো‘আ সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার করে পড়ে, কোন বালা-মুছীবত তাকে স্পর্শ করবে না’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত এবং সকালে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত আকস্মিক কোন বিপদ তার উপরে আপতিত হবে না’।[148]

(খ) اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুন্ইয়া ওয়াল আ-খিরাহ’ (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি)। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সকালে ও সন্ধ্যায় এই দো‘আ পড়া ছাড়তেন না। [149]

(গ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের ছালাতের পর বলতেন,

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَعَمَلاً مُّتَقَبَّلاً وَرِزْقًا طَيِّباً-

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস’আলুকা ‘ইলমান নাফে‘আন, ওয়া ‘আমালাম মুতাক্বাববালান, ওয়া রিঝক্বান ত্বাইয়েবান’ (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল ও পবিত্র রূযী প্রার্থনা করছি)।[150]

২৫. কুরআন তেলাওয়াত ও মজলিস শেষের দো‘আ :

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ-

উচ্চারণ : ‘সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা’।

অনুবাদ : ‘মহা পবিত্র তুমি হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকেই ফিরে যাচ্ছি (বা তওবা করছি)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, মজলিস ভঙ্গের পূর্বে এই দো‘আ পাঠ করলে মজলিস চলাকালীন তার ভাল কথাগুলি তার জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত মোহরাংকিত থাকবে এবং অযথা বাক্যসমূহের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে এবং এই দো‘আ উক্ত গোনাহ সমূহের কাফফারা হবে’।[151]

উক্ত দো‘আ সকলে ব্যক্তিগতভাবে পড়বে। উল্লেখ্য যে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত বা মজলিস শেষে দলবদ্ধভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করার প্রচলিত প্রথার কোন ভিত্তি নেই।

—০—

হে আল্লাহ! দীন লেখকের ত্রুটিগুলি তুমি ক্ষমা কর এবং তোমার পথে এই ক্ষুদ্র খিদমতটুকু কবুল কর। হে আল্লাহ! এ বই পড়ে যত মুমিন নর-নারী আমল করবেন, তোমার রাসূল (ছাঃ)-এর ওয়াদা মোতাবেক এ নাচীয লেখকের আমলনামায় তার ছওয়াব পূর্ণরূপে যুক্ত কর এবং এর অসীলায় লেখক ও তার পিতামাতাকে ও তার পরিবারবর্গকে এবং তার সকল শুভাকাংখীকে কবরে ও হাশরে মুক্তি দান কর- আমীন!! সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বেহামদিহী, সুবহা-নাল্লা-হিল ‘আযীম!

““

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلاَمٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَصَلَّي اللهُ تَعَالَي عَلَي نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانِ إِلَي يَوْمِ الدِّيْنِ- سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ- رَبَّنَا اغْفِرْلِى وَلِوَالِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ-

\ সমাপ্ত \



[1] . তিরমিযী, আবুদাঊদ প্রভৃতি, মিশকাত হা/২২৩০ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, পরিচ্ছেদ-২।

[2] . গাফের/মুমিন ৪০/৬০; ‘আওনুল মা‘বূদ হা/১৪৬৬-এর ব্যাখ্যা, ‘দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৩৫২।

[3] . ইবনু মাজাহ হা/৩৮২৭ ‘দো‘আ’ অধ্যায়-৩৪, ‘দো‘আর মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ-১।

[4] . তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাদীছ হাসান, মিশকাত হা/২২৩২, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, পরিচ্ছেদ-২।

[5] . আহমাদ, হাকেম, মিশকাত হা/২২৫৯ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯; সনদ হাসান -আলবানী; হাদীছ ছহীহ, আহমাদ হাসান দেহলভী, তানক্বীহুর রুওয়াত ফী তাখরীজি আহাদীছিল মিশকাত (লাহোর: দারুদ দা‘ওয়াতিস সালাফিইয়াহ, ১৯৮৩), ২/৬৯ পৃঃ।

[6] . আবুদাঊদ হা/১৪৮৬-৮৭, ৮৯; ঐ, মিশকাত হা/২২৫৬ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯।

[7] . আবুদাঊদ হা/১৪৮১; তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/৯৩০-৩১ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ ও তার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-১৬; আলবানী, ছিফাত ১৬২ পৃঃ।

[8] . আ‘রাফ ৭/৫৫।

[9] . আ‘রাফ ৭/৫৬, ২০৫; যুমার ৩৯/৫৩-৫৪; ইসরা ১৭/১১০।

[10] . আবুদাঊদ হা/১৪৮২; ঐ, মিশকাত হা/২২৪৬, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯।

[11] . গাফের/মুমিন ৪০/৬০।

[12] . মুসলিম, মিশকাত হা/২২২৮, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, পরিচ্ছেদ-১।

[13] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২২৫০, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, পরিচ্ছেদ-২; ছহীহাহ হা/৫৯৬।

[14] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৭৭২, ‘যাকাত’ অধ্যায়-৬, পরিচ্ছেদ-১।

[15] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৫৯, ৬১; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪২০২। উল্লেখ্য যে, ঔষধ সেবনের সময় ‘আল্লাহ শাফী, আল্লাহ কাফী’ বলা ভিত্তিহীন। ডাক্তার খানায় বা মেডিকেলে এগুলো লেখা দেখা যায়। যা বর্জনীয়।

[16] . বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৯৯, ৪২০০, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-১।

[17] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪২৯৪-৯৬, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, অনুচ্ছেদ-৫।

[18] . ইবনু মাজাহ হা/৩৮০৩, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৫; হাকেম, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৫।

[19] . বুখারী হা/৬২১৮-১৯, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৭৮, ১২১ অনুচ্ছেদ; ঐ, হা/৪৭৪১, ‘তাফসীর’ অধ্যায় সূরা হজ্জ (২২), অনুচ্ছেদ-১।

[20] . বুখারী হা/৩৫৯৮, ‘মর্যাদা সমূহ’ অধ্যায়-৬১, ‘নবুঅতের আলামত সমূহ’ অনুচ্ছেদ-২৫।

[21] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৮১, ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, পরিচ্ছেদ-১।

[22] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৬১৮, ‘জানায়েয’ অধ্যায়-৫, অনুচ্ছেদ-৩।

[23] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৭৪১, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘হাঁচি ও হাই তোলা’ অনুচ্ছেদ-৬।

[24] . তিরমিযী, দারেমী, হাকেম, মিশকাত হা/৪৭৩৯, ৪৭৪৪, অধ্যায়-২৫, অনুচ্ছেদ-৬।

[25] . বুখারী, মিশকাত হা/৪৭৩৩, অধ্যায়-২৫, অনুচ্ছেদ-৬।

[26] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৭৪১।

[27] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৩৫।

[28] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৭৪০।

[29] . বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৩২, অধ্যায়-২৫, অনুচ্ছেদ-৬।

[30] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৩৭। উল্লেখ্য যে, এ সময় ‘লা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ বলার কোন প্রমাণ নেই।

[31] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৯৯২; মুসলিম, মিশকাত হা/৯৭৮।

[32] . বুখারী, মুসলিম প্রভৃতি, মিশকাত হা/৪৬৩১, ২৯, ৩২, ৩৩, ৪৮, অধ্যায়-২৫, ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ-১।

[33] . আবুদাঊদ হা/৫২০০, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৫, অনুচ্ছেদ-১৪৯।

[34] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৬০, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ-১।

[35] . আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৬৪৬।

[36] . আবুদাঊদ হা/৫২১৫-১৭ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৫, অনুচ্ছেদ-১৫৮।

[37] . বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০২৯, তাহকীক আলবানী।

[38] . আবুদাঊদ হা/৫২২৮ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৫, অনুচ্ছেদ-১৬৭।

[39] . আবুদাঊদ হা/৫২৩৩ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৫, অনুচ্ছেদ-১৭০।

[40] . বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০২৫।

[41] . বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০২৪।

[42] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৪৪।

[43] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৪৫।

[44] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৫৫।

[45] . তিরমিযী, মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/৯৯১, ১০১৩, ‘ছালাতে অসিদ্ধ ও সিদ্ধ কর্ম সমূহ’ অনুচ্ছেদ-১৯।

[46] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৫৪, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ-১।

[47] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৩৪-৩৯; আহমাদ, মিশকাত হা/৪৬৪৭।

[48] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৩৭।

[49] . তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৬৫৩; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৮১৬।

[50] . বায়হাক্বী- শু‘আব; মিশকাত হা/৪৬৭৬, ‘অনুমতি প্রার্থনা’ অনুচ্ছেদ-২; ছহীহাহ হা/৮১৭।

[51] . বুখারী, মিশকাত হা/৪৬৭৭, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘মুছাফাহা ও মু‘আনাকা’ অনুচ্ছেদ-৩।

[52] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪০০ ‘তাহারৎ’ অধ্যায়-৩, ‘ওযূর সুন্নাত সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৪; বুখারী হা/১৬৮, ‘ওযূ’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৩১,(عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ فِي تَنَعُّلِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَطُهُوْرِهِ وَفِيْ شَأْنِهِ كُلِّهِ) মুসলিম হা/৬১৭ (২৬৮/৬৭), ‘ত্বাহারৎ’ অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-১৯।

[53] . ইবনু মাজাহ হা/৩৭০২; তিরমিযী হা/২৭২৮; ঐ, মিশকাত হা/৪৬৮০, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘মুছাফাহা ও মু‘আনাকা’ অনুচ্ছেদ-৩।

[54] . আবুদাঊদ হা/৫২১২; আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৬৭৯।

[55] . তিরমিযী হা/২৭৩৩; ইবনু মাজাহ হা/৩৭০৪-০৫; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৯৭৫-৭৬, ‘কদমবুসি’ অনুচ্ছেদ।

[56] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৪৩, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[57] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৪৩৫।

[58] . তিরমিযী হা/৩৪৪৪; মিশকাত হা/২৪৩৭।

[59] . আহমাদ হা/২২১০৫; ঐ, মিশকাত হা/৫২২৭ ‘হৃদয় গলানো’ অধ্যায়-২৬, পরিচ্ছেদ-৩।

[60] . আবুদাঊদ হা/২৪৯৮; তিরমিযী, মিশকাত হা/২২৪৮ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯।

[61] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬১৯৯, ‘মর্যাদা সমূহ’ অধ্যায়-৩০, ‘সমষ্টিগত মর্যাদা সমূহ’ অনুচ্ছেদ-১২।

[62] . ইবনু মাজাহ হা/১৯০৬-০৭; নাসাঈ, মিশকাত হা/২৯২৬।

[63] . বুখারী, মিশকাত হা/২৪৫৩ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[64] . আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৪৩৪ ‘দো‘আসমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[65] . যুখরুফ ৪৩/১৩-১৪।

[66] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২০, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[67] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২২।

[68] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২৩; তিরমিযী হা/৩৪৩৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪২৭।

[69] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৪২৫, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[70] . বুখারী, মিশকাত হা/২৪৫৩ ‘দো‘আসমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[71] . বুখারী হা/৪৪৩, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৮, অনুচ্ছেদ-৫৯; ঐ, হা/৪৬৭৭ ‘তাফসীর’ অধ্যায়-৬৫, অনুচ্ছেদ-১৮।

[72] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৬১, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-১।

[73] . নূর ২৪/২৭-২৮; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৬৭, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, অনুচ্ছেদ-২।

[74] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৬৯।

[75] . নূর ২৪/২৭; মুসলিম, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৬৬৮, ৪৬৭৫; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৮১৭-১৮।

[76] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪১৫৯; তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪২১১, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১।

[77] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৬৩।

[78] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৬৫, ৪১৬৭।

[79] . আবুদাঊদ হা/৩৮৫২, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, অনুচ্ছেদ-৫৪।

[80] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৪২৬৪, ৪২৬৬; ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, ‘পানীয় সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৩; মুসলিম হা/৫২৭৫ (২০২৪/১১৩) ‘পানীয় সমূহ’ অধ্যায়-৩৬, অনুচ্ছেদ-১৪; তিরমিযী হা/১৮৭৯।

[81] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, বুখারী, মিশকাত হা/৪২৬৮-৬৯, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, ‘পানীয় সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৩।

[82] . আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪২৭৭; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪২৬৩।

[83] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪২৭৩, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, ‘পানীয় সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৩।

[84] . তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৫১৯২, ‘হৃদয় গলানো’ অধ্যায়-২৬, পরিচ্ছেদ-২।

[85] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৭৮, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-১।

[86] . বুখারী, মিশকাত হা/৪১৭৩।

[87] . বুখারী, মিশকাত হা/৪১৬৮।

[88] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৬০, ৪২৩৭, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-১ ও ৩।

[89] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, হা/৪২০২, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-২।

[90] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪২০০, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১; তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৩৪৩, ‘পোষাক’ অধ্যায়-২২।

[91] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৩; ইরওয়া হা/১৯৮৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬০৮৬। উল্লেখ্য যে, এ সময় আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানা ওয়া সাক্বা-না…. বলা মর্মে প্রচলিত দো‘আটি যঈফ (আবুদাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪২০৪, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-২ সনদ যঈফ)।

[92] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪২৮৩, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, ‘পানীয় সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৩।

[93] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪২৮৩, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, ‘পানীয় সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৩; ছহীহাহ হা/২৩২০; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৮১।

[94] . বুখারী, মিশকাত হা/৪১৯৯, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১।

[95] . বুখারী, মিশকাত হা/৪১৮২।

[96] . মুসলিম হা/৫৩৬২ (২০৫৫/১৭৪), ‘পানীয় সমূহ’ অধ্যায়-৩৬, অনুচ্ছেদ-৩২; আহমাদ হা/২৩৮৬০ ‘সনদ ছহীহ’।

[97] . আবুদাঊদ হা/৩৮৫৪; ইবনু মাজাহ হা/১৭৪৭; শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৪২৪৯।

[98] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২৭, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘বিভিন্ন সময়ের দো‘আ সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭।

[99] . বুখারী হা/৬৩১৫, ৬৩২৪; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৮২, ২৩৮৪, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৬।

[100] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৯৯৩, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-৭, অনুচ্ছেদ-২। উল্লেখ্য যে, ‘আল্লা-হুম্মা লাকা ছুমতু… মর্মে প্রচলিত দো‘আটির হাদীছ যঈফ। (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৯৯৪; যঈফুল জামে‘ হা/৬৩১) ও ‘আল্লা-হুম্মা ছুমতু লাকা…’ মর্মে দো‘আটির প্রমাণ পাওয়া যায় না।

[101] . আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২০৯১, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-৭, অনুচ্ছেদ-৮।

[102] . আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৪৪১, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭।

[103] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪৬২, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৮।

[104] . মুসলিম, মিশকাত হা/৭৭, ‘ঈমান’ অধ্যায়-১, পরিচ্ছেদ-৩।

[105] . বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪।

[106] . দারেমী হা/১৬৮৭-৮৮; তিরমিযী হা/৩৪৫১; মিশকাত হা/২৪২৮; ছহীহাহ হা/১৮১৬।

[107] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৫১৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ঝড়-ঝঞ্ঝা’ অনুচ্ছেদ-৫৩।

[108] . ছহীহ ইবনু হিববান, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২০৫৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৬৭০।

[109] . রা‘দ ১৩/১৩; মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/১৫২২, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ঝড়-ঝঞ্ঝা’ অনুচ্ছেদ-৫৩।

[110] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/২১৬২-৬৩ ‘কুরআনের ফাযায়েল’ অধ্যায়-৮, পরিচ্ছেদ-২।

[111] . আহমাদ তিরমিযী, মিশকাত হা/১৫২১, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ঝড়-ঝঞ্ঝা’ অনুচ্ছেদ-৫৩।

[112] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৫৩০; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৫৫২, ‘চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক’ অধ্যায়-২৩।

[113] . বুখারী, মিশকাত হা/১৫২৯, ‘জানায়েয’ অধ্যায়-৫, ‘রোগী পরিচর্যা ও তার ছওয়াব’ অনুচ্ছেদ-১।

[114] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৩৩।

[115] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৫৩২, ‘জানাযেয়’ অধ্যায়-৫, অনুচ্ছেদ-১।

[116] . আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৩, ‘পোষাক’ অধ্যায়-২২; ছহীহুল জামে‘ হা/৬০৮৬।

[117] . বুখারী, মিশকাত হা/৪৩১৪, ‘পোষাক’ অধ্যায়-২২।

[118] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৩৩৪-৩৫, ‘পোষাক’ অধ্যায়-২২।

[119] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৬৩৮, ‘জানায়েয’ অধ্যায়-৫, ‘মাইয়েতকে গোসল করানো ও কাফন পরানো’ অনুচ্ছেদ-৪।

[120] . ইবনু মাজাহ হা/১৯০৫; আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৪৪৫, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘বিভিন্ন সময়ের দো‘আ সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭ ।

[121] . ইবনু মাজাহ হা/১৯০৬-০৭।

[122] . আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৪৪৬, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭; মিরক্বাত ৫/২১৬।

[123] . তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৫৪, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৭৭৭।

[124] . তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৫৪, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৭৭৭; বায়হাক্বী হা/৩৫৯৮।

[125] . বুখারী হা/৯৩৩, ১০২১; আবুদাঊদ হা/১১৭৪; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৫৯০২, অধ্যায়-২৯, অনুচ্ছেদ-৭ ।

[126] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৪৫৭, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা’ অনুচ্ছেদ-৮।

[127] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪৬১।

[128] . আবুদাঊদ হা/১৫২৫ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘ইস্তিগফার’ অনুচ্ছেদ-৩৬১।

[129] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৩২৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘তওবা ও ইস্তেগফার’ অনুচ্ছেদ-৪।

[130] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৩৩২।

[131] . তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারেমী, মিশকাত হা/২৩৪১, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করা’ অনুচ্ছেদ-৪।

[132] . নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন ‘তওবা’ অনুচ্ছেদ।

[133] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৩৫৩, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৪; ছহীহাহ হা/২৭২৭।

[134] . আম্বিয়া ২১/৮৭; আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২২৯২, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘আল্লাহর নাম সমূহ’ অনুচ্ছেদ-২।

[135] . আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৩৫২, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৪।

[136] . আহমাদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৩৫৪ ‘ দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪; ছহীহাহ হা/১৫৯৮।

[137] . নাসাঈ, মিশকাত হা/২৯২৬, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ অধ্যায়-১১, অনুচ্ছেদ-৯।

[138] . বায়হাক্বী-দালায়েলুন নবুওয়াত, মিশকাত হা/১৮৮০; সনদ যঈফ, ‘যাকাত’ অধ্যায়-১১, অনুচ্ছেদ-৫।

[139] . তিরমিযী, মিশকাত হা/৩০২৪ ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়-১১, অনুচ্ছেদ-১৭; বুখারী হা/৩৩৬ ‘তায়াম্মুম’ অধ্যায়-৭, অনুচ্ছেদ-২।

[140] . আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩০২৫।

[141] . হাকেম, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭৫৯।

[142] . তিরমিযী হা/৩৪২৮, মিশকাত হা/২৪৩১, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘বিভিন্ন সময়ে দো‘আ সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭।

[143] . আবুদাঊদ হা/১৪৮২; ঐ, মিশকাত হা/২২৪৬ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, পরিচ্ছেদ-২।

[144] . বুখারী হা/৪৫২২, ৬৩৮৯; বাক্বারাহ ২/২০১; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৪৮৭ ‘দো‘আসমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯।

[145] . মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৫০২-০৩ ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯।

[146] . ইবনু মাজাহ হা/৩৮৫৭ ‘দো‘আ’ অধ্যায়-৩৪, ‘আল্লাহর ইসমে আযম’ অনুচ্ছেদ-৯; আবুদাঊদ হা/১৪৯৩; ‘আওনুল মা‘বূদ হা/১৪৮২-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

[147] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪৮৬ ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯; অত্র বইয়ের ‘দুই সিজদার মধ্যকার দো‘আ’ অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য, পৃঃ ১৬।

[148] . তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৩৯১ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর সময় যা পাঠ করতে হয়’ অনুচ্ছেদ-৬।

[149] . ইবনু মাজাহ হা/৩৮৭১।

[150] . আহমাদ, ইবনু মাজাহ, ত্বাবারাণী ছাগীর, মিশকাত হা/২৪৯৮, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯।

[151] . তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৪৩৩, ২৪৫০; ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯ ‘বিভিন্ন সময়ের দো‘আ সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button