পাকিস্তানের স্কুলে তালেবান হত্যাযজ্ঞ, নিহত ১৪৫

পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে তালিবান জঙ্গিদের পৈশাচিক হামলায় শতাধিক শিশুসহ ১৪৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১২২ শিশু। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় পাকিস্তানে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। জিম্মি উদ্ধার অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নয় জঙ্গি নিহত হয়েছে। সেখানে আর কোনো জঙ্গি নেই বলে জানানো হয়েছে। একটি ক্লাসরুমে ৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল এমন একটি ক্লাসরুমে ঢুকে নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দেয়। অন্য রুমের ছাত্রদের জিম্মি করে একজন শিক্ষককে পুড়িয়ে মারে তালেবানরা। আর এ দৃশ্য দেখতে বাধ্য করে কোমলমতি শিশুদের। তালেবানরা এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে জানিয়েছে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযানে শত শত তালেবানকে হত্যার বদলায় এটা একটা ট্রেইলার মাত্র। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এ নৃশংস হামলার নিন্দা ও শোক জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, নৃশংস হামলার পর অনেক শিক্ষার্থীকে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মঙ্গলবার সকালে এ হামলার সময় জঙ্গিরা সেনা পোশাকে স্কুলে ঢোকে। পাকিস্তানের তাহরিক-ই-তালিবান এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তালিবানের মুখপাত্র খোরাসানি জানান, ওই স্কুলে তাদের ছয়জন সদস্য হামলা চালায়। হামলাকারীদের স্কুলের বড় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর পরিচালিত ‘জারবে আজাব’ নামক অভিযানে তালেবান সদস্যদের হত্যা ও তাদের পরিবারবর্গকে নাজেহালের প্রতিবাদে এ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তালেবান। ফজলুল্লাহ গ্রুপের মুখপাত্র মুহাম্মাদ খোরাসানী এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন। গত জুন থেকে সেনাবাহিনীর পরিচালিত ‘জারবে আজাব’-এ ১৬শ’রও বেশি তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।
সেনাবাহিনী জানায়, ওই স্কুলে ছয়জন বন্দুকধারী পুলিশের পোশাক পরে ঢুকে হামলায় চালায়। আর পুলিশ জানায়, স্কুলের দেয়াল ডিঙিয়ে জঙ্গিরা সেখানে প্রবেশ করে। তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিবিনিময় হয়েছে। লেডি রিডিং হাসপাতালের কর্মকর্তা ইজাজ খান জানান, তাদের হাসপাতালে আহতদের অনেকের চিকিৎসা ও অপারেশন চলছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেখানে ‘ও’ গ্রুপের রক্তের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের সঙ্গে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কুলটির এক শিক্ষক বলেন, স্কুলে পরীক্ষা নেয়ার সময়টাতেই হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। জঙ্গিরা সেখানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানান, সেনারা চারদিক থেকে স্কুলটি ঘিরে ফেলে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্কুলটিতে তালেবান জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। সেনাসদস্যরা স্কুলটির শ্রেণীকক্ষ এক এক করে মুক্ত করেছেন।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খায়বার-পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে অবস্থিত স্কুলটি পাকিস্তানের আর্মি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। সারা দেশে এ ধরনের প্রায় দেড়শ’ স্কুল রয়েছে। সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করে। শিক্ষার্থীদের বয়স ১০ থেকে ১৮ বছর। স্কুলটির শিক্ষকদের বেশির ভাগ সেনাসদস্যদের স্ত্রী।
বন্দুক হাতে ওই আঙ্কেলরা খুব রাগি, খুব বাজে
পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলে তালেবান হামলায় শতাধিক মৃত্যু মিছিলের পর পাওয়া গেছে কিছু হৃদয়স্পর্শী মন্তব্য।
জঙ্গি কবল থেকে মুক্ত এক শিশু বললো, ‘বন্দুক হাতে ওই আঙ্কেলরা খুব রাগি আর বাজে।’ ছুটতে ছুটতে সেনাবাহিনীর কাছে এসেই পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েটার মুখে হাসি ফুটল। কাঁদতে কাঁদতে স্কুলে ২০ বছরের এক মৃত ছাত্রের বাবা বললেন, ‘ওদের বড় করতে আমাদের ২০ বছর লেগে গেছে, আর ওরা ২০ মিনিটে সব শেষ করে দিল’।
‘আজ একটু তাড়াতাড়িই ছুটি হয়ে গেল’- সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বললেন সেই স্কুলের একজন অভিভাবক। আর স্কুলটির একজন কর্মীর মন্তব্য ‘এটা কী ধরনের জিহাদ?”
সূত্র: ডন, জি নিউজ, রয়টার্স, এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমস। (ইনকিলাব)
Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া
Subscribe to get the latest posts sent to your email.






