রামাযান ও ছিয়াম

নফল ছিয়াম : পরকালীন মুক্তির পাথেয় – (২)

পূর্বের অংশ পড়ুন: নফল ছিয়াম : পরকালীন মুক্তির পাথেয় (১)

গত সংখ্যায় আরাফার দিনের ছিয়াম সম্পর্কিত আলোচনায় পরস্পর বিরোধী হাদীছ দু’টির সমাধান কল্পে ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন, صوم يوم عرفة لغير الحاج مستحب، ‘যারা হজ্জব্রত পালনকারী নন আরাফার ছিয়াম তাদের জন্য মুস্তাহাব’। আল্লামা মুজহির বলেন, ‘যারা হাজী নন (অর্থাৎ হজ্জের উদ্দেশ্যে আরাফায় অবস্থান করছেন না) তাদের জন্য আরাফার দিনের ছিয়াম সুন্নাত’। ইমাম শাফেঈ, মালেক (রহঃ) ও অন্যান্যদের মতে হাজীদের জন্য এই ছিয়াম সুন্নাত নয়। এটাই উত্তম মত। হাদীছের ভাষ্যও তাই। সুতরাং আরাফার দিনে আরাফায় অবস্থানকারী হাজীগণ ছিয়াম পালন করবে না। এছাড়া অন্যান্য সকল মুসলমান নফল ছিয়ামের মধ্যে সর্বাধিক নেকী সম্পন্ন এই ছিয়াম পালন করে অশেষ নেকী অর্জনে সচেষ্ট হবেন।

৪. আশূরার ছিয়াম :

নফল ছিয়ামের মধ্যে আশূরার ছিয়াম তথা মুহাররমের ১০ তারিখের ছিয়ামও বেশ ফযীলতের দাবীদার। অতি আগ্রহের সাথে ইহুদীরাও এইদিন ছিয়াম পালন করত। ফেরাঊনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শুকরিয়া স্বরূপ এ ছিয়াম রাখা হয়। কারবালার প্রান্তরে হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে এ ছিয়াম পালন করলে শুধু কষ্ট করাই সার হবে। কারণ তার অর্ধ শতাব্দী পূর্বেই ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদীনায় এসে ইহুদীদেরকে আশূরার ছিয়াম পালন করতে দেখে এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللهُ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوْسَى- ‘এই দিন উত্তম দিন। এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুদের কবল থেকে মুক্তি দান করেছিলেন, ফলে মূসা (আঃ) এই দিনে ছিয়াম পালন করেছেন’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوْسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ‘আমি তোমাদের চেয়ে মূসা (আঃ)-এর (আদর্শের) অধিক হক্বদার’। অতঃপর তিনি এ দিনে ছিয়াম পালন করেন ও ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন।

ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন,

 مَارَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلاَّ هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِىَ شَهْرَ رَمَضَانَ-

‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে আশূরার ছিয়ামের ন্যায় অন্য কোন ছিয়ামকে এবং এই মাস অর্থাৎ রামাযান মাসের ন্যায় অন্য কোন মাসকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি’।

সালামাহ ইবনু আকওয়া বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে বলেন যে, مَنْ كَانَ أَكَلَ فَلْيَصُمْ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ أَكَلَ فَلْيَصُمْ فَإِنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ- ‘যে খেয়ে ফেলেছে সে যেন দিনের বাকী অংশ ছিয়াম পালন করে। আর যে খায়নি সেও যেন ছিয়াম রাখে। কারণ আজ আশূরার দিন’।

অবশ্য পরে যখন ২য় হিজরী সনে রামাযান মাসের ছিয়াম ফরয করা হয়, তখন রাসূল (ছাঃ) এই নির্দেশ শিথিল করে দেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) প্রথমে আশূরার ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। পরে যখন রামাযান মাসের ছিয়াম ফরয করা হয় তখন আশূরার ছিয়াম ছেড়ে দেয়া হ’ল। যার ইচ্ছা সে পালন করত, যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিত। রাসূল (ছাঃ) নিয়মিত এই নফল ছিয়াম পালন করতেন। এমনকি মৃত্যুর বছরও এই ছিয়াম পালন করার আশা প্রকাশ করেছিলেন। ইহুদী-নাছারাগণ ভক্তি সহকারে মুহাররমের ১০ তারিখ একদিন ছিয়াম রাখত। তাদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করার জন্য রাসূল (ছাঃ) আশূরার ছিয়াম মুহাররমের ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ পালনের নির্দেশ দান করেন। যেমন-  ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এই দিনকে তো ইয়াহুদী-নাছারাগণ সম্মান করে। তখন তিনি বললেন, যদি আমি আগামী বছর বেঁচে থাকি তবে অবশ্যই নবম তারিখেও ছিয়াম রাখব’।

অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, صُوْمُوْا يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَخَالِفُوا الْيَهُوْدَ وَصُوْمُوْا قَبْلَهُ يَوْمًا أَوْ بَعْدَهُ يَوْمًا- ‘তোমরা আশূরার ছিয়াম রাখ এবং ইহুদীদের বিপরীত কর। তোমরা আশূরার সাথে তার পূর্বে একদিন অথবা পরে একদিন ছিয়াম পালন কর’। উক্ত বর্ণনাটি মারফূ হিসাবে ছহীহ নয়, মাওকুফ হিসাবে ছহীহ। সুতরাং আশূরার ছিয়াম মুহাররমের ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখে রাখা যায়। তবে ৯, ১০ তারিখে রাখাই সর্বোত্তম।১০

এ ছিয়ামের ফযীলত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُوْرَاءَ اَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُّكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِىْ قَبْلََهُ- ‘আশূরার ছিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর নিকটে আশা রাখি যে, উহা বিগত এক বছরের পাপ মোচন করে দিবে’।১১

মাত্র দুই দিন ছিয়াম পালন করে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এত বড় সুযোগ হাতছাড়া হ’তে দেয়া কোন সচেতন মুমিনের জন্য উচিত হবে কি?

৫. প্রতি মাসে তিন দিন ছিয়াম :

প্রতি মাসে তিনদিন ছিয়াম রাখা রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত ও পসন্দনীয় আমল। তিনদিন ছিয়াম রাখার বিনিময়ে পুরো মাস ছিয়াম রাখার সমান নেকী পাওয়া যায়। আবূ যার (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

مَنْ صَامَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَذَالِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيْقَ ذَالِكَ فِىْ كِتَابِهِ: مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا اَلْيَوْمُ بِعَشْرَةِ أيَّامٍ-

আরও দেখুন:  এতেকাফ: তাৎপর্য, উদ্দেশ্য ও বিধান

‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন ছিয়াম রাখে তা যেন সারা বছর ছিয়াম রাখার সমান। এর সমর্থনে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নাযিল করেন, ‘যদি কেউ একটি ভাল কাজ করে তার প্রতিদান হ’ল এর দশগুণ’ (আন‘আম ১৬০)। সুতরাং এক দিন দশদিনের সমান।১২

চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে এই ছিয়াম রাখা সুন্নাত। যেমন- রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আবূ যার (রাঃ)-কে বলেন, হে আবূ যার! তুমি প্রতি মাসে তিন দিন ছিয়াম রাখতে চাইলে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রাখ’।১৩

অবশ্য কোন তারিখ নির্ধারণ না করেও মাসের যেকোন ৩ দিন এই ছিয়াম পালন করা যায়। মু‘আযাহ (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কি প্রতি মাসে তিনদিন ছিয়াম রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, কোন কোন তারিখে এই ছিয়াম রাখতেন? তিনি বললেন, তিনি যেকোন দিন এই ছিয়াম রাখতেন। এ ব্যাপারে কোন দ্বিধা করতেন না।১৪

উল্লেখ্য যে, بِيْض (বীয) শব্দের অর্থ ধবধবে সাদা, উজ্জ্বল। এটা চাঁদের চৌদ্দ তারিখে হয়ে থাকে। ১৩ তারিখে চাঁদ পূর্ণতার একেবারে নিকটে পৌঁছে যায়। ১৪ তারিখ পূর্ণতা লাভ করে। ১৫ তারিখ থেকে চাঁদ আবার সরু হ’তে শুরু করে। এই ছিয়াম চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখলে একে আইয়ামে বীযের ছিয়াম বলা হয়।১৫ অন্য দিনে রাখলে পৃথক কোন নামে অভিহিত করা হয় না। মাসের যেকোন তারিখে তিনদিন ছিয়াম রাখলেও এই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

৬. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ছিয়াম :

সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ছিয়ামের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম রাখেন। তিনি বলেন,

إِنَّ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيْسِ يَغْفِرُ اللهُ فِيْهِمَا لِكُلِّ مُسْلِمٍ إِلاَّ مُتَهَاجِرِيْنَ يَقُوْلُ دَعْهُمَا حَتَّى يَصْطَلِحَا-

‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহ তা‘আলা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যতীত প্রত্যেক মুসলমানকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ (ফেরেশতাদের) বলেন, তারা সমঝোতায় পৌঁছা পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দাও’।১৬ অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ والْخَمِيْسِ فأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِىْ وَأَنَا صَائِمٌ-

‘প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আমলনামা সমূহ আল্লাহর নিকটে পেশ করা হয়। আমি পসন্দ করি যে, ছিয়াম অবস্থায় আমার আমলনামা আল্লাহর নিকটে পেশ করা হোক।১৭

৭. দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়াম :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়ামকে সর্বোত্তম বলেছেন। তিনি বলেন, لاَصَوْمَ فَوْقَ صَوْمِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ شَطْرَ الدَّهْرِ صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا- ‘দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়াম সর্বোত্তম। তা হচ্ছে অর্ধেক বছর। (সুতরাং) একদিন ছিয়াম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও’।১৮

নিষিদ্ধ ছিয়াম :

ইসলাম একটি সুশৃংখল জীবন ব্যবস্থা হিসাবে এর প্রতিটি ইবাদতই নির্ধারিত, পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত। ছাওম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মনগড়া যেকোন দিনকে মানুষ এজন্য নির্দিষ্ট করতে পারে না এবং ইচ্ছামত ছিয়াম রাখতেও পারে না। নফল ছিয়াম পালনের যেমন দিন-ক্ষণ হাদীছে উল্লেখ আছে, অনুরূপভাবে কিছু কিছু দিনে ও পদ্ধতিতে ছিয়াম পালনে নিষেধাজ্ঞাও হাদীছে বিধৃত হয়েছে। নিম্নে যে সমস্ত ছিয়াম সিদ্ধ নয় এগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হ’ল-

(১) ছওমে বিছাল (বিরতীহীন ছিয়াম) :

ছাওমে বিছাল হচ্ছে ইফতার ও সাহারী গ্রহণ ব্যতীত দিনের পর দিন ছিয়াম পালন করা। এটি নিষিদ্ধ ছিয়াম। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিরতিহীন ছিয়াম (ছওমে বিছাল) করতে নিষেধ করলে মুসলমানদের এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনি যে ছওমে বিছাল করেন? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার মত কে আছে? আমি রাত যাপন করি আর আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। অতঃপর লোকেরা যখন অবিরত ছিয়াম পালন করা থেকে বিরত হ’ল না, তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে দিনের পর দিন অবিরত ছিয়াম পালন করতে থাকলেন। অতঃপর লোকেরা যখন চাঁদ দেখল, তখন তিনি বললেন, চাঁদ দেরীতে উঠলে আমি আরও বেশী বিছাল করতাম। যখন তারা ছিয়াম থেকে বিরত থাকতে অপসন্দ করল তখন শাস্তি স্বরূপ রাসূল (ছাঃ) এ কথা বলেছিলেন।১৯

উক্ত হাদীছ থেকে صوم وصال এর নিষেধাজ্ঞা প্রমাণিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অবশ্য অতি আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে সাহারী পর্যন্ত বিছাল করার সুযোগ দেন। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ বিছাল করতে চাইলে সে যেন সাহারী পর্যন্ত করে’।২০

(২) সারা বছরের ছিয়াম :

সারা বছর ছিয়াম পালন নিষিদ্ধ। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সারা বছর ছিয়াম পালন করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়ামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এর চেয়ে উত্তম ছিয়াম আর নেই’।২১ অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল, যে দিনের বেলায় পানাহার করে না (অর্থাৎ সারা বছর ছিয়াম থাকে)। তিনি বলেন, لاَصَامَ وَلاَ أَفْطَرَ ‘সে খায়ও না, পানাহারও করে না।২২ অন্যত্র এসেছে مَنْ صَامَ الْأَبَدِ فَلاَصَامَ ‘যে ব্যক্তি সারা বছর ছিয়াম রাখে, সে মূলতঃ ছিয়াম রাখে না’।২৩

আরও দেখুন:  রামাদানে অত্যাচার!

(৩) শনিবারের ছিয়াম :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমাদের উপর ফরযকৃত ছিয়াম ব্যতীত কেউ যেন শনিবারে ছিয়াম না রাখে। আঙ্গুরের লতার বাকল বা গাছের ডাল ছাড়া অন্য কিছু যদি না পায় তবে সে যেন (ভঙ্গ করার জন্য) তাই চিবিয়ে নেয়।২৪
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ومعنى كَرَاهَتِهِ فِىْ هَذَا أَنْ يَّخُصَّ الرَّجُلُ يَوْمَ السَّبْتِ بِصِيَامٍ، لِأَنَّ اليَهُوْدَ تُعَظِّمُ يَوْمَ السَّبْتِ- ‘এই ছিয়াম মাকরূহ হওয়ার কারণ হচ্ছে, কেবল শনিবারকে (নফল) ছিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করা। কারণ ইহুদীরা শনিবারকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকে’।২৫

(৪) শুক্রবারের ছিয়াম :

জুয়াইরিয়া (রাঃ) বলেন, তিনি ছিয়ামরত অবস্থায় রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি গতকাল ছিয়াম পালন করেছিলে? তিনি বললেন, না। আবার জিজ্ঞেস করলেন, আগামী দিন ছিয়াম পালনের ইচ্ছা রাখ? তিনি বললেন না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তাহ’লে ছিয়াম ভেঙ্গে ফেল।২৬

বৃহস্পতিবার অথবা শনিবার ছিয়াম রাখার নিয়ত না থাকলে শুধু শুক্রবার ছিয়াম রাখতে রাসূল (ছাঃ) অত্র হাদীছে নিষেধ করেছেন। সুতরাং নফল ছিয়ামের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র শনিবারকে যেমন নির্দিষ্ট করা যবে না, তেমনি শুক্রবারকেও নির্দিষ্ট করা যাবে না।

(৫) দুই ঈদের দিনের ছিয়াম :

ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) এই দুই দিন ছিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিতরের দিন) যেদিন তোমরা ছিয়াম ছাড়। আরেকদিন, যেদিন তোমরা কুরবানীর গোশত খাও। অর্থাৎ ঈদুল আযহার দিন।২৭

(৬) আইয়্যামে তাশরীক এর ছিয়াম :

যিলহজ্জ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখকে আইয়্যামে তাশরীক বলা হয়। ঈদুল আযহার দিনের পরের এই দিনগুলোতে আরবরা গোশত শুকাত বলে এই দিনগুলোকে আইয়্যামে তাশরীক বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আইয়ামে তাশরীক হ’ল পানাহার ও আল্লাহর যিকরের দিন।২৮

নফল ছিয়াম রাখার পদ্ধতি :

নফল ইবাদতে শরীরের হক্ব, স্ত্রী-পরিবারের ও মেহমানের হক্বের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। শরীরকে শাস্তি দিয়ে, পরিবার-পরিজনের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা না করে শুধু ছিয়াম পালনকে মুখ্য করা যাবে না। হ’তে পারে বার্ধক্যে গিয়ে অথবা কোন সমস্যার কারণে সে নিজের আমলকে ধরে রাখতে পারবে না অথচ নিয়মিত স্বল্প আমলও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট পসন্দনীয়।২৯ আবার অন্যদিকে রাসূল (ছাঃ) সাধ্যানুযায়ী নফল আমল গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, فَاكْلَفُوْا مِنَ الْعَمَلِ مَاتُطِيْقُوْنَ ‘তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আমল গ্রহণ করো’।৩০

এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলেন, হে আব্দুল্লাহ! আমি এই সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন ছিয়াম পালন কর, সারা রাত ছালাত আদায় কর। আমি বললাম, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। রাসূল (ছাঃ) তখন বলেন, فَلاَ تَفْعَلْ صُمْ وَأَفْطِرْ، قُمْ وَنَمْ فَإِنَّ لِجَسَدِك عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِزَوْرِك عَلَيْكَ حَقًا وَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُوْمَ كُلَّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ لَكَ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا فَإِنَّ ذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ- ‘তুমি এরূপ করবে না। তুমি ছিয়াম রাখ, আবার ছেড়ে দাও। ছালাত আদায় কর আবার ঘুমাও। কারণ তোমার উপর তোমার শরীরের হক্ব রয়েছে। রয়েছে চোখের হক্ব, তোমার স্ত্রী ও মেহমানের হক্ব। এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রতি মাসে তিনদিন ছিয়াম পালন করবে। কেননা প্রত্যেক নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকী। এভাবে সারা বছরের ছিয়াম হয়ে যায়’। (আব্দুল্লাহ বলেন) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি আরো বেশী করতে সক্ষম। আমাকে তখন আরও কঠিন আমলের অনুমতি দেয়া হ’ল। আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল! আমি আরো বেশী শক্তি রাখি। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়াম পালন কর। এর চেয়ে বেশি করতে চেয়ো না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়াম কেমন? তিনি বললেন, অর্ধ বছর (একদিন পর পর ছিয়াম রাখা)। আব্দুল্লাহ বৃদ্ধ বয়সে বলতেন, আহা! আমি যদি নবী (ছাঃ) প্রদত্ত সহজতর বিধান কবুল করে নিতাম।৩১

অত্র হাদীছে দু’টি বিষয় লক্ষণীয়। একটি হচ্ছে নফল ইবাদতের দিকে ছাহাবায়ে কেরামের আগ্রহ ও মনোবল। দ্বিতীয়তঃ নিজের সক্ষমতার কথা চিন্তা করা। সুতরাং নিজের মনোবল দৃঢ় করে যথাসাধ্য নফল আমলে ব্রতী হওয়া আমাদের জন্য উচিত হবে।

নফল ছিয়ামের নিয়ত, নফল ছিয়াম ভাঙ্গা ও উহার ক্বাযা :

‘নিয়ত’ অর্থ সংকল্প। যা মুখে উচ্চারণ করতে হয় না। মনে মনে সংকল্প করাই যথেষ্ট। নফল ছিয়ামের নিয়ত সাহারীর পূর্বে করা শর্ত নয়। পরেও নিয়ত করা যায়। কোন ওযর ব্যতীত নফল ছিয়াম ভাঙ্গা যায়। পরে তার কোন কাযা করারও আবশ্যকতা নেই।
আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার নিকট এসে বললেন, তোমাদের নিকট কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, তবে আমি ছিয়াম রাখলাম। অন্য একদিন তিনি আমাদের নিকট আসলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ছাঃ)! আমাদেরকে ‘হায়স’ (খেজুর, পনির ও ময়দা মিশ্রিত হালুয়া) দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন, উহা আমাকে দেখাও! আমি ছিয়ামের নিয়ত করেছি। আয়শা (রাঃ) বলেন, অতঃপর তিনি উহা খেলেন।৩২

আরও দেখুন:  শিশুদের রোজা রাখতে উৎসাহ দিন

আনাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) (আমার মা) উম্মু সুলাইম এর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি তাঁর সামনে ঘি ও খেজুর পেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ঘি পাত্রে ও খেজুর ঝুঁড়িতে রেখে দাও। কারণ আমি ছায়েম। তিনি ঘরের এক পাশে গিয়ে নফল ছালাত আদায় করলেন ও উম্মু সুলাইম ও তাঁর পরিজনের জন্য দো‘আ করলেন। সেই সাথে আনাস (রাঃ)-এর জন্য দো‘আ করেন এই বলে যে, اَللَّهُمَّ ارْزُقْهُ مَالاً وَوَلَدًا وَبَارِكْ لَهُ فِيْهِ ‘হে আল্লাহ তুমি তাকে মাল ও সন্তান-সন্ততি দান কর ও তাতে বরকত দাও’। আনাস (রাঃ) বলেন, দো‘আর বরকতে তিনি হয়েছিলেন আনছারদের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের অন্যতম ও তার মৃত সন্তানের সংখ্যাই ছিল একশ বিশের অধিক’।৩৩

উল্লিখিত হাদীছগুলো প্রমাণ করে যে, নফল ছিয়ামের নিয়ত পরেও করা যায়। নফল ছিয়াম পালনকারীর সামনে খাবার পরিবেশন করলে ইচ্ছা করলে তিনি ছিয়াম ভাঙ্গতে পারেন। যদি তিনি ছিয়াম না ভাঙ্গেন তবে খাবার পরিবেশনকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণের দো‘আ করবেন। সুতরাং বিনা ওযরে নফল ছিয়াম ভাঙ্গা যায়। তার কোন কাযা করতে হয় না।

উল্লেখ্য, হাফছা ও আয়েশা (রাঃ)-এর নফল ছিয়াম ভাঙ্গার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছিলেন, ‘তোমরা উভয়ে এর পরিবর্তে একদিন ছিয়াম রেখে দিও’ মর্মে তিরমিযীতে যে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ।৩৪

সমাপনী :

নফল ছিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা এই ইবাদতের বিভিন্ন ধরনের ফযীলতের কথা জানতে পেরেছি। কিন্তু ক’জন গুরুত্ব দেয় এ সমস্ত ফযীলতের? যারা রামাযানের টানা একমাস ছিয়াম রাখেন তাদের মধ্যেও বা ক’জন উদ্বুদ্ধ হন এসব ফযীলত অর্জনের? নফল বা সুন্নাত পালন না করলে গুনাহ হবে না বলে উড়িয়ে দিলেও তা অনাদায়ে বিরাট কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হ’তে হবে- এতে কোন সন্দেহ নেই। জাহান্নাম থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে ও আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করতে নফল ছিয়াম তথা নফল ইবাদত বড় নিশ্চিন্ত পাথেয়। হাদীছে কুদসীতে এসেছে,

আল্লাহ বলেন,

وَمَا تَقَرَّبَ إِلَىَّ عَبْْدِىْ بِشَىْءٍ أَحَبَّ إِلَىَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ وَمَا يَزَالُ عَبْدِىْ يَتَقَرَّبُ إِلَىَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ اَلَّذِىْ يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِىْ يُبْصِرُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِىْ يَبْطِشُ بَهَا وَرِجْلَهُ الَّتِىْ يَمْشِىْ بِهَا وَإِنْ سَأَلَنِىْ لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِىْ لَأُعِيْذَنَّهُ.

‘আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, কেবল তা দ্বারাই কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না; বরং আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যায়, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই।৩৫

আসুন! ইবাদত-বন্দেগীর ভরা মৌসুম এই যৌবনকে আমরা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আরও রূপ লাবণ্য দান করি। আশা করা যায়, ক্বিয়ামতের সেই ভয়াল পরিস্থিতিতে অগ্নিসম খরতাপে ছায়াবিহীন প্রান্তরে আমরা আল্লাহর আরশের ছায়াতলে ছায়া গ্রহণ করতে পারব। কারণ ক্বিয়ামতের দিন যেই সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া পাবে, তাদের মধ্যে ঐ যুবক অন্যতম, যে তার যৌবনকে আল্লাহর ইবাদতে কাটায়’।৩৬ আল্লাহ আমাদের সঠিক ভাবে নফল ইবাদত করার তাওফীক দান করুন- আমীন!!

– শরীফা বিনতে আব্দুল মতীন


. মিরক্বাত ৪/১৪১৩ পৃঃ।
. ঐ, ৪/১৪১৩ পৃঃ।
. ঐ, ৪/১৪১৩ পৃঃ।
. বুখারী হা/২০০৪।
. বুখারী হা/২০০৬।
. বুখারী হা/২০০৭।
. বুখারী, হা/২০০২, ২/৩৭৬ পৃঃ।
. মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৪৩।
. বায়হাক্বী, ৪র্থ খন্ড, ২৮৭ পৃঃ।
১০. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়, পৃঃ ৩, টীকা-৮ দ্রঃ।
১১. মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৪৬, ৪/২৫১।
১২. তাহক্বীক্ব তিরমিযী, হা/৭৬২, তাহক্বীক্ব ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৮, সনদ ছহীহ।
১৩. তাহক্বীক্ব তিরমিযী হা/৭৬১, সনদ  হাসান ছহীহ।
১৪. তাহক্বীক্ব তিরমিযী হা/৭৬৩, সনদ ছহীহ।
১৫. তাহক্বীক্ব ইবনু মাজাহ, হা/১৭০৭, সনদ ছহীহ।
১৬. তাহক্বীক্ব ইবনু মাজাহ, হা/১৭৪০, সনদ ছহীহ।
১৭. তাহক্বীক্ব তিরমিযী হা/৭৪৭, সনদ ছহীহ।
১৮. বুখারী, হা/১৯৮০।
১৯. বুখারী, হা/১৯৬৫।
২০. বুখারী, হা/১৯৬২।
২১. বুখারী হা/১৯৭৬।
২২. তাহক্বীক্ব নাসাঈ হা/২৩৭৯।
২৩. তাহক্বীক্ব নাসাঈ হা/২৩৭৩।
২৪. তাহক্বীক্ব তিরমিযী হা/৭৪৪, সনদ ছহীহ।
২৫. ঐ, পৃঃ ১৮৪।
২৬. বুখারী, হা/১৯৮৬।
২৭. বুখারী, হা/১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯৩, ১৯৯৫।
২৮. মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫২।
২৯. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৪২।
৩০. বুখারী, হা/১৯৬৬, ২/৩৬১।
৩১. বুখারী, হা/১৯৭৫, ২/৩৬৫।
৩২. মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৭৬।
৩৩. বুখারী, হা/১৯৮২, ২/৩৭০।
৩৪. তাহক্বীক্ব তিরমিযী, হা/৭৩৫, সনদ দুর্বল।
৩৫. বুখারী হা/৬৫০২ ‘রিকাক’ অধ্যায়, ‘বিনীত হওয়া’ অনুচ্ছেদ।
৩৬. বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৬৪৯।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button