হজ্জ ও ওমরাহ

হজ্জ পালনকালে কতিপয় ত্রুটি-বিচ্যুতি

মক্কায় :

(১) অনেক হাজী ছাহেব ত্বাওয়াফ শেষের দু’রাক‘আত ছালাত দীর্ঘ করেন। অতঃপর ছালাত শেষে বসে দীর্ঘ মুনাজাতে লিপ্ত হন। এটি একেবারেই সুন্নাত বিরোধী কাজ। বরং মাত্বাফে সুযোগ না পেলে মাসজিদুল হারামের যেকোন স্থানে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করেই তিনি বেরিয়ে আসবেন।

(২) অনেকে মনে করেন মাসজিদুল হারামে প্রবেশের পর প্রথমে দু’রাক‘আত তাহিইয়াতুল মাসজিদ পড়ে মাত্বাফে যেতে হবে। এটা ভুল। বরং তিনি মনে করলে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে ওযূ করে সোজা মাত্বাফে গিয়ে ত্বাওয়াফ শেষে দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করবেন। এটাই তাহিইয়াতুল মাসজিদের জন্য যথেষ্ট হবে। (৩) অনেকে ত্বাওয়াফ, সাঈ, ফরয ছালাত, সুন্নাত ও নফল ছালাত প্রতিটির জন্য পৃথক পৃথক নিয়ত মুখে পাঠ করেন। অথচ নিয়ত হ’ল হৃদয়ের সংকল্প। এটা মুখে বলা বিদ‘আত (৪) অনেকে অধিক নেকী ও দো‘আ কবুলের আশায় হাজারে আসওয়াদ, রুকনে ইয়ামানী, কা‘বার দরজা প্রভৃতি স্থানে মুখ-বুক লাগিয়ে উচ্চৈঃস্বরে কান্নাকাটি করেন। অথচ ঐদিকে কেবল ইশারা করাই যথেষ্ট। তাছাড়া সুযোগ না পেলে হাজারে আসওয়াদে চুমু দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতদ্ব্যতীত (৫) কা‘বা গৃহকে বা হাজারে আসওয়াদকে স্পর্শ করতে না পারলে কা‘বা গৃহের দেওয়ালে জায়নামায, রুমাল ইত্যাদি ছুঁড়ে দিয়ে সেটিতে বার বার চুমু খাওয়া (৬) বিদায়ী ত্বাওয়াফ শেষ করে ফেরার সময় কা‘বা গৃহের দিকে মুখ করে পিছন দিকে হেঁটে আসা (৭) ‘মসজিদে তান‘ঈম’ থেকে এহরাম বেঁধে বার বার বিভিন্ন জনের নামে ওমরাহ করা ও সবশেষে পুরুষদের মাথার দু’এক জায়গা থেকে সামান্য চুল কাটা (৮) দৌড়ে ও দল বেঁধে ত্বাওয়াফ করা এবং উচ্চৈঃস্বরে ও সমস্বরে দো‘আ পড়া (৯) মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে পুরুষের সারিতে ছালাত আদায় করা (১০) তামাত্তু হাজীদের ৮ তারিখে মিনা রওয়ানার পূর্বে ত্বাওয়াফ ও সাঈ করা (১১) যমযমের নিকট দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করা (১২) ছাফা পাহাড়ের মাথায় ওঠা, সেখানে অযথা ভিড় করা ও কুরআন তেলাওয়াত করা (১৩) রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ না করে চুমু খাওয়া (১৪) নামে নামে ত্বাওয়াফ করা। যেমন- মায়ের নামে, ছেলের নামে ইত্যাদি (১৫) যমযমের পানিতে নিজের কাফনের কাপড় ধোয়া (১৬) মুছল্লীদের সারির ভিতরে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করা (১৭) ত্বাওয়াফ শেষের দু’রাক‘আত ছালাতের জন্য মাত্বাফে বসে পড়া ইত্যাদি।

আরও দেখুন:  মক্কা-মদীনায় প্রসিদ্ধ স্থান সমূহ

মিনায় :

(১) আইয়ামে তাশরীক্বে দুপুরে সূর্য ঢলার আগেই কংকর মারা (২) জামরাতুল আক্বাবায় কংকর মারার সময় অযথা মানুষকে ধাক্কা দেওয়া ও শক্তি প্রয়োগ করা (৩) কংকরের বদলে জুতা-স্যান্ডেল, ছাতা ইত্যাদি নিক্ষেপ করা (৪) কুরবানী কবুল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নবী করীম (ছাঃ)-এর নামে কুরবানী করা (৫) ওযর ছাড়াই সূর্যোদয়ের পূর্বে আরাফা ময়দানে গমন করা (৬) পুরুষের সম্পূর্ণ মাথা না মুড়িয়ে দু’এক জায়গা থেকে সামান্য চুল কাটা ইত্যাদি।

আরাফায় :

(১) মসজিদে নামিরার ক্বিবলার দিকে চিহ্নিত অংশে অবস্থান করা, যা ‘আরাফা’র সীমানার বাইরে। এখানে যদি কেউ সূর্যাস্ত পর্যন্ত বসে থাকে, তাহ’লে তার হজ্জ বিনষ্ট হবে (২) বরকত মনে করে ‘জাবালে রহমত’-এর নিকটে অবস্থান নেওয়ার জন্য হুড়াহুড়ি করা ও সেখানে উঠে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করা (৩) নিম্নস্বরে ‘তালবিয়া’ পাঠ করা (৪) জাবালে রহমতের বিভিন্ন অংশ থেকে পলিথিনের ব্যাগে মাটি সংগ্রহ করা ও তাতে সিজদা দিয়ে ছালাত আদায় করা (৫) ৯ তারিখে সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আরাফা’ ময়দান ত্যাগ করা (৬) ‘মসজিদে নামিরা’তে এক আযানে ও দুই ইক্বামতে যোহর ও আছরের ছালাত আদায়কে সন্দেহ মনে করা ইত্যাদি।

মুযদালিফায় :

(১) মুযদালেফার সীমানা মনে করে বাইরে অবস্থান করা ও সেখানে ছালাত আদায় করা (২) মধ্যরাতের আগে মুযদালিফার সীমানা ত্যাগ করে মিনায় প্রবেশ করা (৩) কোন ওযর ছাড়াই ফজর না পড়ে মুযদালিফা ত্যাগ করা ইত্যাদি।

মদীনায় :

(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে বিদ‘আতী দরূদ পাঠ করা এবং সালাম পেশ ও কান্নাকাটি করে তাঁর নিকটে মনোবাঞ্ছা পেশ করা। দেওয়ালে হাত বুলানো ও ছবি তোলা (২) ‘আলী মসজিদ, আবুবকর মসজিদ ইত্যাদিতে বরকত মনে করে ছালাত আদায় করা (৩) মসজিদে নববীর খুঁটিকে ‘হান্না খুঁটি’, ‘আয়েশা খুঁটি’ ইত্যাদি মনে করে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করা ও এসবের অসীলায় দো‘আ করা (৪) মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা ইত্যাদি।

আরও দেখুন:  হজ্জের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button