হারাম-হালাল

অছিয়ত দ্বারা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হারাম

শরী‘আতের একটি অন্যতম নীতি لاَ ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَ ‘নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হব না, অন্যের ক্ষতি করব না’।[1] এ জাতীয় ক্ষতি করার একটি উপমা হল, শরী‘আত স্বীকৃত ওয়ারিছগণের সবাইকে অথবা বিশেষ কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। কেউ এমন করলে সে নবী করীম (ছাঃ) প্রদত্ত হুঁশিয়ারীর আওতায় পড়বে। তিনি বলেছেন,

مَنْ ضَارَّ أَضَرَّ اللهُ بِهِ وَمَنْ شَاقَّ شَاقَّ اللهُ عَلَيْهِ

‘যে কারো ক্ষতি করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। আর যে শত্রুতা ও বিরোধিতা করবে আল্লাহ তাকে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করবেন।[2]

অছিয়তের মাধ্যমে নানাভাবে ক্ষতি হতে পারে। যেমন- কোন ওয়ারিছকে তার ন্যায্য অংশ হতে বঞ্চিত করা। অথবা একজন ওয়ারিছকে শরী‘আত যেটুকু দিয়েছে তার বিপরীতে তার জন্য অছিয়ত করা কিংবা এক তৃতীয়াংশের বেশী অছিয়ত করা ইত্যাদি।

যে সব দেশে ইসলামী বিচার ব্যবস্থা চালু নেই সেখানে একজন পাওনাদার অনেক ক্ষেত্রেই মানব রচিত বিধানের কারণে তার শরী‘আত প্রদত্ত অধিকার লাভে সমর্থ হয় না। মানব রচিত বিচার ব্যবস্থা তাকে উকিলের মাধ্যমে লিখিত অন্যায় অছিয়ত কার্যকর করতে আদেশ দেয় এবং সে তা কার্যকর করতে বাধ্য হয়। সুতরাং বড়ই পরিতাপ তাদের স্বহস্তে রচিত আইনের জন্য এবং বড়ই পরিতাপ তারা যে পাপ কামাই করছে তার জন্য!



[1]. ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০, সনদ ছহীহ।

[2]. আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/৫০৪২।

আরও দেখুন:  স্রষ্টা যেসব বস্ত্ততে যে কল্যাণ রাখেননি তাতে সে কল্যাণ থাকার বিশ্বাস পোষণ করা হারাম

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button